ভোট দেওয়াকে আমরা সাধারণত নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখি, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি ‘আমানত’ এবং ‘সাক্ষ্য’। সুরা নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতগুলো তার হকদারদের (যোগ্য ব্যক্তিদের) কাছে পৌঁছে দাও।’
ভোটের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিই। যদি কোনো অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ বা জনবিরোধী ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হয়, তবে তা আমানতের খেয়ানত হবে। অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মানে সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া, যার দায়ভার পরকালে ভোটারকেও নিতে হবে।
ভোট মূলত একটি সুপারিশ। সুরা নিসার ৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা পরিষ্কার করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভালো কাজের সুপারিশ করবে, তাতে তার অংশ থাকবে; আর যে মন্দ কাজের সুপারিশ করবে, তাতেও তার অংশ থাকবে।’
আপনি যদি একজন সৎ মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন এবং তিনি যদি জনহিতকর কাজ করেন, তবে সেই সওয়াবের একটি অংশ আপনার আমলনামায় যুক্ত হবে। বিপরীতভাবে, আপনার ভোটে নির্বাচিত হয়ে কেউ যদি জুলুম, দুর্নীতি বা আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তবে সেই গুনাহর ভাগীদার ভোটারকেও হতে হবে।
পবিত্র কোরআন আমাদের শিখিয়েছে একজন আদর্শ শাসক বা নেতার কাজ কী হবে। সুরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, যাদের আমি ক্ষমতা দান করি তাদের প্রধান কাজ হবে চারটি—১. নামাজ কায়েম করা—আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সমাজ গঠন। ২. জাকাত আদায় করা—অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে দারিদ্র্য বিমোচন। ৩. সৎকাজের আদেশ—সমাজ থেকে অন্যায় দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। ৪. অসৎ কাজ থেকে নিষেধ—দুর্নীতি, মাদক ও পাপাচার রোধ করা। সুতরাং এই চারটি কাজ করার মানসিকতা যিনি রাখেন, তাকে ভোট দেওয়া উচিত।
ইসলামি শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর। সুরা ইউসুফের ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘বিধান বা হুকুম দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহরই।’ এই মূলনীতি অনুযায়ী আমাদের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা আল্লাহর দেওয়া সীমা লঙ্ঘন করে না।
মুমিন হিসেবে মনে রাখতে হবে, শরিয়তের স্পষ্ট পথ ছেড়ে কোনোভাবেই অজ্ঞদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করা যাবে না। রাজনীতিতে নীতির বিসর্জন দিয়ে কেবল ভোটের জন্য আদর্শচ্যুত হওয়া মুমিনের কাজ নয়। আরও মনে রাখতে হবে—ভোট একটি আমানত। এর খেয়ানত করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সততাই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ প্রার্থীর যোগ্যতা ও তাকওয়াকে প্রাধান্য দিতে হবে।
সর্বোপরি ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েমে সাহায্যকারী হতে হবে।
লেখক: প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক