আজ থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। জীবনের প্রথম বড় এই পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যেমন ব্যাপক প্রস্তুতি থাকে, তেমনি শেষ মুহূর্তের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পরীক্ষার হলের নিয়মকানুন এবং জানা বিষয় ভুলে যাওয়ার ভয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো:
১. শেষ মুহূর্তের চেকলিস্ট ও প্রস্তুতি
পরীক্ষার্থীদের শেষ ২৪ ঘণ্টার প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অরিজিনাল অ্যাডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং অন্তত ৩টি ভালো মানের কালো কলম আগের রাতেই ফাইলে গুছিয়ে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্বচ্ছ ফাইলে রাখলে হলের ভেতরে প্রবেশের সময় এবং শিক্ষকদের পরিদর্শনে সুবিধা হয়। পরীক্ষার আগের রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় পরীক্ষার হলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হবে।
২. পরীক্ষার হলে বিস্মৃতি রোধে ইসলামি আমল
পরীক্ষার হলে জানা বিষয় ভুলে যাওয়া মূলত মানসিক চাপ বা উত্তেজনার ফল। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু বিশেষ আমলের পরামর্শ দিয়েছেন, খাতা ও প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর 'বিসমিল্লাহ' বলে শুরু করা। মনোযোগ ফেরাতে এবং মেধা বৃদ্ধির জন্য ‘রাব্বি জিদনি ইলমা’ পাঠ করা। কোনো কিছু ভুলে গেলে দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তা মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করেন।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো কিছু ভুলে গেলে মহান আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বা ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করলে মানসিক প্রশান্তি আসে। আর সে সময় দুশ্চিন্তা কাটাতে ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জলিমীন’ পাঠ করা যেতে পারে।
৩. ওএমআর (OMR) পূরণে ভুল হলে করণীয়
একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক শিক্ষার্থী মনে করে ওএমআর শিটে একবার ভুল হলে আর কিছু করার নেই। কিন্তু অভিজ্ঞদের মতে, ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে সমাধান সম্ভব।
ঢাকার একটি স্বনামধন্য কলেজের এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, তিনি একবার পরীক্ষার হলে ওএমআর শিটে বড় ধরণের ভুল করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তিনি আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত শিক্ষককে বিষয়টি জানান। শিক্ষকের কাছে অতিরিক্ত (Extra) ওএমআর শিট থাকায় তিনি সেটি পরিবর্তন করে সঠিক করার সুযোগ পান। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ—রোল, রেজিস্ট্রেশন বা সেট কোড পূরণে ভুল হলে সেটি গোপন না করে বা কাটাকাটি না করে সরাসরি শিক্ষককে জানান।
৪. সময় ব্যবস্থাপনা
প্রথমে নিশ্চিত প্রশ্নগুলো দাগিয়ে নিতে হবে, এরপর একটু কঠিনগুলো এবং সবার শেষে যেগুলো একদম অজানা সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। এমসিকিউ বৃত্ত ভরাট করার সময় সিরিয়াল ঠিক আছে কি না তা বারবার চেক করতে হবে। একটি ভুল হলে পুরো উত্তরপত্র ওলটপালট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রশ্ন পাওয়ার পর পুরো প্রশ্নটি একবার দ্রুত পড়ে নিয়ে সহজ প্রশ্নগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে।
৫. পরীক্ষা শেষে যা করবেন না
পরীক্ষা দিয়ে এসে বন্ধুদের সাথে উত্তর মেলানো বা কত নম্বর পাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা একধরণের সময় অপচয়। যেটি শেষ হয়ে গেছে তা পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাই পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ