ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লা রোজার সামনে রূপকথার নায়ক! ১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পেছনে যুদ্ধ, সামনে বিশ্বকাপ মরুর সাহস, উরুগুয়ের ইতিহাস দুর্দান্ত বেলজিয়ামের সামনে সালাহর মিসর নেদারল্যান্ডসকে জিততে দিল না জাপান প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে কুরাসাওয়ের কোচের বিশ্বরেকর্ড প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙাতে চায় সুইডেন গোলশূন্য থেকে বিরতিতে জাপান-নেদারল্যান্ডস কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ
Nagad desktop

যুবকদের অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরানো সম্ভব! করণীয় কী?

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
যুবকদের অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরানো সম্ভব! করণীয় কী?
প্রয়োজন প্রযুক্তির 'নিয়ন্ত্রিত ও কল্যাণকর' ব্যবহার। ছবি: সংগৃহীত

সকাল বেলা চোখ মেলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটা বিশাল অংশ বন্দি হয়ে আছে পাঁচ ইঞ্চির একটা ডিজিটাল স্ক্রিনে। ফেসবুকের স্ক্রোলিং, টিকটকের রিলস, আর ইনস্টাগ্রামের ভার্চুয়াল লাইক-কমেন্টের দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি আজ আমাদের যুবসমাজকে এক গভীর ও অন্ধকার নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ক্ষয় শুধু কোনো ব্যক্তিবিশেষের নয়, এটি গ্রাস করছে আমাদের পরিবার, সমাজ এবং সামগ্রিক জাতীয় চেতনাকে।

আজকের তরুণ সমাজ বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল জীবনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। লাইক আর ভিউ পাওয়ার সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে কিশোর-কিশোরীরা লিপ্ত হচ্ছে নানাবিধ অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। টিকটক, লাইকি বা ফেসবুক রিলসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে সস্তা বিনোদনের আড়ালে এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সমাজ ও পরিবারের ভিত্তিমূলে সরাসরি আঘাত করছে। কৃত্রিম ফিল্টারের চাকচিক্য আর সস্তা পরিচিতির মোহে পড়ে তরুণ মন আজ হারিয়ে ফেলছে আপন সত্ত্বা।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই ভার্চুয়াল অবাধ মেলামেশা ও নৈতিক শিথিলতা আজ আমাদের পবিত্র পারিবারিক বন্ধনগুলোকে চরম ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনায়াসে ছড়িয়ে পড়ছে পরকীয়ার মতো সামাজিক মহামারী, যার বিষাক্ত ছোবলে ভেঙে যাচ্ছে হাজারো সাজানো সংসার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইনবক্স আর গোপন চ্যাটিংয়ের আড়ালে মুহূর্তের মধ্যে একজনের মন আটকে থাকছে অন্যের স্ত্রী বা স্বামীর ভার্চুয়াল আইডিতে। এই গোপন ও অবৈধ মেলামেশা সমাজে এক ধরণের অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে পারিবারিক কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং কখনো কখনো নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

আরো পড়ুন: এতিম ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের অপচেষ্টা

এই অন্ধকার সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় এবং নির্মম শিকার হচ্ছে আমাদের কোমলমতি শিশুরা। মাত্র ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী যে শিশুদের হাতে থাকার কথা ছিল খেলার সামগ্রী কিংবা পাঠ্যবই, অনিয়র্তিত ইন্টারনেটের নীল ছোবলে তারা আজ ডুবে থাকছে পর্নোগ্রাফি আর মাদকের মরণনেশায়। শৈশবের পবিত্রতা হারিয়ে অপরিণত বয়সেই তারা শিকার হচ্ছে নানাবিধ অপরাধের, হারাচ্ছে তাদের সতীত্ব ও নৈতিক চরিত্র। এই অকাল নৈতিক স্খলন ও মানসিক পচন কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি একটি পুরো প্রজন্মের নিঃশব্দ আত্মহনন। বাস্তব জীবনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করার যে চিরন্তন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতি ছিল, তা আজ কমেন্টের ঘরের সস্তা ট্রোল, সাইবার বুলিং আর অনৈতিকতার নিচে চাপা পড়ে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া তরুণদের মাঝে এক ধরণের কৃত্রিম একাকীত্ব এবং 'ডিপ্রেশন' বা মানসিক অবসাদ তৈরি করছে। বাস্তব জগতের বন্ধুদের সাথে আড্ডা কিংবা পরিবারের সাথে সময় কাটানোর চেয়ে স্ক্রিনের ওপাশের অচেনা মানুষের 'লাইক' পাওয়াটা আজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যের বানিয়ে রাখা চাকচিক্যময় জীবন আর কৃত্রিম হাসির ছবি দেখে নিজের জীবনের ওপর তৈরি হচ্ছে চরম ক্ষোভ ও গভীর হতাশা।

আর এই মানসিক ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তরুণ প্রজন্ম জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং কালচার, জুয়া, কিংবা মারাত্মক অপরাধ জগতের সাথে। ভার্চুয়াল জগতের এই সাময়িক তৃপ্তি তরুণদের বাস্তব জীবন থেকে এতটাই দূরে সরিয়ে দিচ্ছে যে, তারা যেকোনো ছোট ব্যর্থতাতেই আত্মহত্যার মতো আত্মঘাতী পথ বেছে নিতে দ্বিধাবোধ করছে না।

আরো পড়ুন: পশুর হাটের হাসিলের বিধান

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে না পারলে একটি জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। এই নৈতিক ধস রুখতে হলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারকে এখনই সম্মিলিতভাবে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. সন্তানদের নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার। মা-বাবাকে নিশ্চিত করতে হবে তারা যেন সন্তানকে শুধু একটি ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে একা ঘরে বসিয়ে না রাখেন। ডিভাইস দেওয়ার চেয়ে নিজেরা সন্তানের সাথে মূল্যবান সময় কাটান, তাদের সাথে মনোযোগ দিয়ে কথা বলুন এবং চমৎকার কিছু পারিবারিক মুহূর্ত উপহার দিন। সন্তান ইন্টারনেটে কী দেখছে, কার সাথে মিশছে, সেদিকে গোয়েন্দার মতো নয়, বরং বন্ধুর মতো স্নেহশীল নজরদারি রাখতে হবে।

২. সুস্থ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে ধর্মীয় অনুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। ইসলাম ধর্মে যে আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিকতার কথা বলা হয়েছে, তরুণদের মাঝে তার বাস্তব চর্চা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে কওমি ও আলিয়া মাদরাসা এবং ওলামায়ে কেরামদের এই বিষয়ে একধাপ এগিয়ে আসতে হবে। আধুনিক তরুণ প্রজন্ম যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি সময় কাটায়, তাই ওলামায়ে কেরামদেরও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে যুবসমাজকে সচেতন করার জন্য আকর্ষণীয় ও আধুনিক ইসলামিক কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।

৩. প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তীব্র অভাবে তরুণদের ঘরের কোণে মোবাইলমুখী করে তুলছে। যুবসমাজকে ডিজিটাল আসক্তি থেকে মুক্ত করতে হলে তাদের মাঠমুখী করতে হবে, পাড়ায় পাড়ায় বই পড়ার ক্লাব গড়ে তুলতে হবে এবং বিভিন্ন সৃজনশীল সামাজিক ও সেবামূলক কাজে তাদের যুক্ত করতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম ও সুস্থ বিনোদন তাদের মস্তিষ্ককে এই ডিজিটাল মাদক থেকে দূরে রাখবে।

৪. সাইবার বুলিং, পর্নোগ্রাফি, অশ্লীলতা কিংবা কিশোর গ্যাং কালচারকে উস্কে দেয়,এমন কন্টেন্ট, গ্রুপ ও আইডির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। যে সমস্ত প্ল্যাটফর্ম বা পেজ যুবসমাজের নৈতিক চরিত্র হরণের ব্যবসা ফেঁদে বসেছে, রাষ্ট্রকে অবিলম্বে সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ বর্জন করা এই আধুনিক যুগে সম্ভব নয়, আর তার প্রয়োজনও নেই। প্রয়োজন প্রযুক্তির 'নিয়ন্ত্রিত ও কল্যাণকর' ব্যবহার। আমাদের মনে রাখতে হবে, ভার্চুয়াল জগতের কৃত্রিম আলো যেন তরুণের ভেতরের আসল মনুষ্যত্ব, মেধা আর বিবেকের আলোকে চিরতরে নিভিয়ে না দেয়। সোশ্যাল মিডিয়া যেন আমাদের যুবসমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, বরং যুবসমাজ যেন সোশ্যাল মিডিয়াকে দেশের এবং মানবতার কল্যাণের কাজে নিয়ন্ত্রণ করে,সেই পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

ক্ষণস্থায়ী লাইক-ভিউয়ের মোহ আর ভার্চুয়াল জগতের দাসত্ব থেকে আমাদের সন্তানদের ফিরিয়ে এনে পারিবারিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন আর মায়া-মমতার এক সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলি। তবেই রক্ষা পাবে আমাদের ভবিষ্যৎ, সুগঠিত হবে একটি আদর্শ, স্বাবলম্বী ও নৈতিকতাসম্পন্ন অপরাজেয় প্রজন্ম। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ও সুন্দর বিবেচনাবোধ দান করুন।

লেখক: ভাইস প্রিন্সিপাল, জামিয়া ইমাম বুখারী উত্তরা ঢাকা

১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৬ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ডাকের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর ভালোবাসা
ছবি: সংগৃহীত

আমরা প্রতিনিয়ত পাপ করি, আবার নিজেই নিজের ভাগ্যের ওপর দোষ চাপাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহান আল্লাহ আমাদের ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের ভুলগুলো অনুধাবন করার তাগিদ দিয়েছেন?

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু বাণী আছে যা সরাসরি আল্লাহর কথা, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জবানীতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে; পরিভাষায় একে বলা হয় ‘হাদিসে কুদসি’। হযরত আবুজর গিফারি (রা.) বর্ণিত সহিহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হাদিসে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে এক অদ্ভুত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

এই বাণীর শুরুতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজের ওপর জুলুম বা অন্যায়কে হারাম করেছেন এবং মানুষের সমাজেও একে নিষিদ্ধ করেছেন। এর পর মানুষের চরম অসহায়ত্ব ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক চমৎকার বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের হিদায়াত, খাদ্য ও বস্ত্রের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই; সবই আল্লাহর দান। মানুষ দিন-রাত পাপ করলেও আল্লাহর দরবার ক্ষমা করার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত।

তবে এই হাদিসের সবচেয়ে চোখ খোলার মতো অংশটি হলো আল্লাহর ‘অমুখাপেক্ষী’ হওয়ার ধারণা। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ ও জিন যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পুণ্যবান বা সবচেয়ে বড় পাপী হয়ে যায়, তাতে আল্লাহর রাজত্বের এক চুলও লাভ বা ক্ষতি হবে না। সৃষ্টির সব চাওয়া একসঙ্গে পূরণ করলেও আল্লাহর ভাণ্ডারে কোনো কমতি পড়ে না।

আসলে আল্লাহ মানুষের এই পুরো জীবনটাকে একটি পরীক্ষার খাতা হিসেবে দেখছেন। তিনি আমাদের সমস্ত আমল বা কর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করছেন। দিনশেষে মানুষ যে ভালো বা মন্দ ফলাফল পাবে, তা তার নিজের কর্মেরই ফল। তাই প্রাপ্তিতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আর ব্যর্থতায় নিজেকেই সংশোধন করার বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই ঐশী সংলাপ।

প্রচলিত ধারণা হলো, আমাদের ইবাদত বোধহয় আল্লাহর রাজত্বকে বড় করে। কিন্তু এই হাদিস আমাদের সম্পূর্ণ নতুন এক দর্শন শেখায়–আল্লাহর আমাদের প্রয়োজন নেই, আমাদেরই আল্লাহকে প্রয়োজন। আমরা সফল হলে তা আল্লাহর দয়া, আর ব্যর্থ হলে তা আমাদের নিজেদের কর্মের ত্রুটি।

লেখক: আলেম ও সাংকবাদিক 

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

কোনো মানুষের দুনিয়ায় জনপ্রিয় হওয়া বা মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া কি কেবলই তার বাহ্যিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো আসমানী রহস্য? সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের ধরন কীভাবে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে–তা নিয়ে ইসলাম এক অভিনব দর্শন দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রামাণ্য হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে সামাজিক বন্ধন ও আত্মিক শুদ্ধির এক অনন্য রূপরেখা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।

দুনিয়ার বুকে মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এক গোপন সূত্র রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি চমৎকার হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, তিনি অমুককে ভালোবাসেন। ফলে জিবরাঈল (আ.) এবং আকাশের সমস্ত ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এর পর: সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/৫০০৫)।বিপরীতে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে ঘৃণা করলে আসমানী ফেরেশতাদের মাধ্যমে জমিনের মানুষের হৃদয়েও তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

মানুষের জীবনে বন্ধু বা সঙ্গীর প্রভাব কতটা গভীর, তা বোঝাতে রাসুল (সা.) এক অনন্য উদাহরণ দিয়েছেন। আবু মুসা আশয়ারী (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, ভালো ও মন্দ বন্ধুর দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে আতর বিক্রেতা ও কামারের হাঁপড়ের মতো। আতর বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু না কিনলেও সুঘ্রাণ পাওয়া যায়, আর কামারের কাছে গেলে জামা-কাপড় না পুড়লেও তার ধোঁয়ার দুর্গন্ধ সহ্য করতেই হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০১০)।

নিছক পার্থিব স্বার্থের বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা সম্পর্কের মূল্য অপরিসীম। মুয়ায ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, সমাবেশে মিলিত হয়, সাক্ষাৎ করে এবং সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা অবধারিত (মালেক, মিশকাত হা/৫০১১)। আর এই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখতে মিকদাদ ইবনু মা‘দীকারাব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) এক মনস্তাত্ত্বিক ফর্মুলা দিয়েছেন–কেউ তার কোনো ভাইকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয় (আবু দাঊদ, হা/৫০১৬)।

সামাজিক এই সুসম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় পরকালের শান্তিতে। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এমন একদল মানুষের সুসংবাদ দিয়েছেন যাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ–যাদের মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং আচরণ অত্যন্ত সরল সহজ (তিরমিজি, হা/৫০৮৪)। আসমানী ভালোবাসা অর্জন, সৎসঙ্গের সান্নিধ্য এবং মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব, যা মানুষকে পরকালের কঠিন আগুন থেকে রক্ষা করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

শামায়েল কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)
ছবি: সংগৃহীত

সত্যের সন্ধানে পারস্য থেকে মদিনায় আসা এক ক্রীতদাস। কোন তিনটি অলৌকিক চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ইনিই শেষ নবি? হজরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন একজন সত্যসন্ধানী সাহাবি। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের জ্ঞান থেকে তিনি জানতেন, শেষ নবির তিনটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকবে–তিনি সদকা (দান) খাবেন না, হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ‘মোহরে নবুওয়াত’ বা নবি হওয়ার বিশেষ সিলমোহর থাকবে।

মদিনায় হিজরতের পর সালমান (রা.) কাঁচা খেজুরের একটি পাত্র নিয়ে নবিজি (সা.)-এর সামনে এসে বললেন, ‘এগুলো সদকা।’ রাসুল (সা.) সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা খাও, আমরা সদকা খাই না।’ সালমান (রা.) মনে মনে বললেন, ‘এটি প্রথম নিদর্শন।’ পরের দিন তিনি আবার খেজুর এনে বললেন, ‘এটি আপনার জন্য হাদিয়া।’ তখন রাসুল (সা.) নিজে খেলেন এবং সাহাবিদেরও খেতে বললেন। সালমান (রা.) ভাবলেন, ‘এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।’

এরপর সালমান (রা.) নবিজি (সা.)-এর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁর পিঠের মোহরটি দেখার জন্য। রাসুল (সা.) তাঁর মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে পিঠের চাদরটি সামান্য সরিয়ে দিলেন। সালমান (রা.) সেখানে নবুওয়াতের অলৌকিক চিহ্নটি দেখতেই কেঁদে ফেললেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। (মুসনাদে আহমাদ, ২৩৪৭; মুসনাদুল বাজজার, ৪৪০৭)

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-কে যখন এই মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, ‘তা ছিল তাঁর পৃষ্ঠদেশের ওপর এক টুকরো বাড়তি গোশত।’ (জামেউস সগির, ৮৯৩৯; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৯৩)
অন্য এক বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বলেন, নবিজি যখন তাঁর চাদর সরিয়েছিলেন, তখন তিনি দুই কাঁধের মাঝে সেই মোহরটি দেখেন। তাঁর ভাষায় ‘তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙুলীর মতো (উঁচু) এবং এর চারপার্শ্বে আঁচিলের মতো কতগুলো তিলক শোভা পাচ্ছিল।’ (সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, ১১৪৩২)

সালমান (রা.) এক ইহুদির দাস ছিলেন। তাঁর মুক্তির শর্ত ছিল একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ এবং মনিবের জন্য একটি খেজুর বাগান তৈরি করা, যেখানে ফল না আসা পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হবে। রাসুল (সা.) নিজ হাতে সেই বাগানের চারা রোপণ করলেন। কেবল একটি চারা হজরত ওমর (রা.) রোপণ করেছিলেন। অলৌকিকভাবে সে বছরই সব গাছে খেজুর এল, শুধু ওমরের (রা.) রোপণ করা গাছটি ছাড়া।

 নবিজি (সা.) কারণ জানতে পেরে সেই চারাটি উপড়ে আবার নিজ হাতে রোপণ করলেন এবং অলৌকিকভাবে সে বছরই তাতে ফল চলে এল। এভাবেই সালমান (রা.) দাসত্ব থেকে মুক্তি পান। নবিজি (সা.)-এর এই অবয়ব ও অলৌকিকতা কেবল সৌন্দর্যই প্রকাশ করে না, বরং তা ছিল সত্যের এক জীবন্ত দলিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৫ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন