ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬ অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ কবর থেকে তোলা হচ্ছে না সালমান শাহর মরদেহ মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা

বাঙালির হজযাত্রার ৮০০ বছর সমুদ্রের ঢেউ থেকে বিমানের জানালায় আকাশ দেখা

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১০:৫২ এএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
সমুদ্রের ঢেউ থেকে বিমানের জানালায় আকাশ দেখা
এআই দিয়ে বানানো হজযাত্রার বিভিন্ন যুগের কোলাজ ছবি

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আত্মিক সমাবেশের নাম হজ। প্রতিবছর বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমান একটি গন্তব্যে ছুটে যান–পবিত্র মক্কায়। সেই মিছিলে বাংলাদেশের মুসলিমরাও ছিলেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। এই যাত্রার ইতিহাসটা শুধু ধর্মীয় আবেগের নয়, এটি একটি জাতির সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং টিকে থাকার গল্পও বটে। সুলতানি আমল থেকে আজকের ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত এই ৮০০ বছরের যাত্রায় পথ বদলেছে, জাহাজ বদলেছে, বিমান এসেছে কিন্তু বদলায়নি মনের সেই অদম্য টান। এই লেখায় সেই দীর্ঘ পথচলার বিনম্র দলিল-দস্তাবেজ তুলে ধরা হলো–

আল্লাহর ঘরের দিকে যাত্রার এই অনুভূতি কোনো ভাষায় পুরোপুরি তুলে ধরা অসম্ভব। হৃদয়ে যে টান, পায়ের যে তাড়া এবং চোখের যে জল–সবই এক অদ্ভুত আবেগের সুতায় গাঁথা। বাংলাদেশের মুসলমানরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেই টানেই ছুটে গেছেন পবিত্র ভূমির দিকে। পথ বদলেছে, জাহাজ থেকে বিমান হয়েছে, কাগজের জায়গায় এসেছে স্মার্টফোনের অ্যাপ–কিন্তু হৃদয়ের সেই ডাক আজও অটল। এই ভূখণ্ড থেকে হজযাত্রার সূচনাকাল নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ইতিহাসবিদদের মতে, সিন্ধু বিজয়ের (৬৬৪-৭১২ খ্রিষ্টাব্দ) আগে থেকেই মুসলমানদের এই সফর শুরু হয়েছিল। তবে লিখিত ইতিহাস বলছে, অন্তত ৮০০ বছর ধরে এই ভূমি থেকে মানুষ হজে যাচ্ছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সমুদ্রপথে হজযাত্রার সূচনা সুলতানি আমল থেকে, অন্তত ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রার সেই দীর্ঘ ইতিহাসকে ছয়টি যুগে জানা যায়–

 

পালতোলা নৌকায় মক্কার পথে: সুলতানি আমল (১২০৪-১৫৩৮)

সুলতানি আমলে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁও বন্দর ছিল পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস আরও প্রাচীন, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে এই বন্দরের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে এবং প্রাচীন গ্রিক ও রোমান মানচিত্রেও এর উল্লেখ রয়েছে। ঐতিহাসিক এই বন্দর থেকেই বাংলার মুসলমানরা পালতোলা জাহাজে চেপে পবিত্র ভূমির উদ্দেশে রওনা হতেন।
ইতিহাস গবেষক আবদুল হক চৌধুরী তার চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতির রূপরেখা গ্রন্থে লিখেছেন, সুলতানি আমলে (১৩৪০-১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলাদেশ তথা সমগ্র পূর্ব ভারতের হজযাত্রীরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে করে জেদ্দায় যেতেন। চট্টগ্রাম থেকে বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর আর আরব সাগরের গালফ অব এডেন পেরিয়ে জেদ্দায় পৌঁছানোর দূরত্ব প্রায় ৫ হাজার ৬০০ নটিক্যাল মাইল। এই বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিতে হাজিদের মাসের পর মাস লেগে যেত।
সেই যুগে হজে যাওয়া ছিল এক দুঃসাহসিক অভিযান–পথ ছিল দীর্ঘ, সময় ছিল বিপৎসংকুল। অনেকে ফিরে আসতেন না। তাই হজে যাওয়ার আগে মানুষ সবার কাছ থেকে শেষ বিদায় নিয়ে যাত্রা করতেন–যেন এটাই জীবনের শেষ সফর।
সুলতানি আমলে হজযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত জার্নাল অব দ্য বিহার রিসার্চ সোসাইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে–বিহারের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব হজরত মোজাফফর শাহ বলখী হজে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকে চিঠি লেখেন। সুলতান তাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সুলতানি আমলেও চট্টগ্রাম থেকে হজযাত্রা সুসংগঠিত ছিল।

 

আরও পড়ুন : রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে হজ করতেন - ১ম পাঠ

 

নৌবহরের গৌরবময় মুঘল যুগ (১৫৩৮-১৭৫৭)

মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে হজযাত্রাও পেয়েছে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা। সম্রাট আকবরই ছিলেন প্রথম মুঘল শাসক, যিনি সরকারি খরচে হজযাত্রার ব্যবস্থা করেছিলেন। সমুদ্রপথে পর্তুগিজদের আধিপত্যের কারণে কার্তাজ পাস সংগ্রহ করা ছিল তখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, পর্তুগিজরা তাদের পাস না থাকলে মুসলিম জাহাজ জ্বালিয়ে দিত বা লুট করত। ১৫৭৫ সালে পর্তুগিজদের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পর সম্রাট আকবর প্রতি বছর একটি করে হজ নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেন।
সেই সময় ভারতের সুরাট বন্দর বাব আল মক্কা বা বন্দরে মুবারক নামে পরিচিত ছিল। মুঘল আমলে সমৃদ্ধ এ বন্দর থেকেই হজযাত্রীরা যাত্রা করতেন। অটোমান সাম্রাজ্যের দলিলপত্রে ভারতীয় হজ মৌসুমকে বলা হতো মেভসিম-ই-হিন্দি বা ভারতীয় মৌসুম। তখন ভারতীয় উপমহাদেশের হজযাত্রীরা হিজাজের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
মুঘল পরিবার থেকে প্রথম যে নারী হজে গিয়েছিলেন, তিনি সম্রাট বাবরের কন্যা গুলবদন বেগম–তিনি ছিলেন সম্রাট আকবরের ফুফু। ১৫৭৬ সালে তিনি ১১ জন নিকটাত্মীয় নারী, বিশ্বস্ত সেবক ও সেনাসহ এক বিশাল কাফেলা নিয়ে হজে রওনা হন। পর্তুগিজ পাসের জন্য সুরাট বন্দরে প্রায় এক বছর অপেক্ষা করার পর তারা আরব সাগর পাড়ি দিয়ে জেদ্দায় পৌঁছান। গুলবদন বেগম মক্কায় চার বছর থেকে চারবার হজ ও কয়েকবার ওমরাহ পালন করেন। ইতিহাসে এ-ও পাওয়া যায়, মুঘল শাসকরা কাউকে নির্বাসন দিতে চাইলে হজে পাঠিয়ে দিতেন। তবে কোনো মুঘল সম্রাট নিজে হজ পালন করেছেন বলে কোনো প্রামাণিক রেকর্ড বা দলিল পাওয়া যায় না।

 

ঔপনিবেশিক ছায়ায় হজের পথ: ব্রিটিশ আমল (১৭৫৭-১৯৪৭)

ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার পর হজযাত্রায় এল এক নতুন বাস্তবতা। পালতোলা নৌকার জায়গায় এল বাষ্পচালিত জাহাজ–বিশেষত ১৮৫০ সালের পর থেকে স্টিমশিপের ব্যবহার বাড়ায় সমুদ্রপথে হজযাত্রীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল খুলে যাওয়ার পর ভারত থেকে আরবের পথে যাত্রা আরও সহজ হয়। কিন্তু এ সহজ যাত্রায় আরোপিত হয় ঔপনিবেশিক নজরদারি–স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কোয়ারেন্টাইন ও নিবন্ধনের নতুন বিধিমালায় হজযাত্রীদের নতুন বাধায় পড়তে হয়।
১৯ শতকের শেষদিকে হজযাত্রা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। এর মূল কারণ ছিল কলেরার প্রকোপ। ১৮৬৫ সালে ভারতীয় হজযাত্রীদের মাধ্যমে আরবে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে, সেখান থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে যায়। এই মহামারি এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল–১৮৬৬ সালের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যকে বাফার জোন ঘোষণা করে আলেকজান্দ্রিয়া ও কনস্টান্টিনোপলে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পর্ষদ গঠন করা হয়। ১৮৮৭ সালে ভিয়েনার আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কংগ্রেসে অধিকাংশ অ-ব্রিটিশ প্রতিনিধি মনে করতেন–ভারত থেকে ছড়ানো কলেরা পশ্চিমের জন্য একটি স্থায়ী হুমকি।
ভারত সরকার জাহাজ চলাচল ও কোয়ারেন্টাইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আইন পাস করে। তবে অধিক মুনাফার লোভে অনেক জাহাজ মালিক এই নিয়মগুলো মানতেন না এবং ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বোঝাই করতেন। জাহাজের নোংরা পরিবেশ ও ঠাসাঠাসি অবস্থায় হজযাত্রীদের থাকতে হতো। সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার ১৮৮৬ থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত টমাস কুক কোম্পানিকে হজের সরকারি ভ্রমণ এজেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করে। কিন্তু হজযাত্রায় যথেষ্ট মুনাফা না থাকায় কোম্পানিটি এ সেবা গুটিয়ে নেয়।
এ সময় প্রধান হজ বন্দর হয়ে ওঠে বোম্বে বা মুম্বাই। বার্মা, পাকিস্তান ও বাংলার মতো দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বোম্বেতে আসত হজে যাওয়ার উদ্দেশে। বাড়ি ছেড়ে ফিরে আসা পর্যন্ত ছয়-সাত মাস লেগে যেত। জাহাজের আসনের চেয়ে আবেদনকারী বেশি থাকায় লটারি করা হতো। লটারিতে নাম না উঠলে খালি হাতে ফিরতে হতো বাড়ির পথে। তখন অনেকে বাড়ি ফেরত হাজিদের মজা করে বোম্বাই হাজি নামে সম্বোধন করত!
১৯৩০ সালের শেষদিকে ভারতের ৭০ শতাংশ হজ জাহাজই মুঘল লাইন নামের একটি শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন ছিল। পূর্ব ভারতীয়রা যাতে কলকাতা বন্দর দিয়ে হজে যেতে পারেন, সে বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী সরকারের কাছে প্রস্তাব দেন। সরকার রাজি হলে, ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী আবদুল বারী চৌধুরীর শিপিং লাইনের ইংলিশতান জাহাজে করে ১৯৩৭ সালে কলকাতা বন্দর দিয়ে হজযাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়। ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রামে মোয়াল্লেমদের (হজযাত্রীদের সার্বিক ব্যবস্থাপক) সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। হজের কয়েক মাস আগে তারা মক্কা থেকে চট্টগ্রামে এসে স্থানীয়দের বাড়িতে থাকতেন এবং হজযাত্রীদের দল গঠন করতেন। সৌদি ভূখণ্ড থেকে আসা এই মানুষগুলোকে স্থানীয়রা এতটাই শ্রদ্ধা করতেন–বিভিন্ন বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে মোয়াল্লেমদের কুলিয়ে ওঠা-ই কঠিন হয়ে যেত।

 

আরও পড়ুন : রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে হজ করতেন - ২য় পাঠ

 

হজের জাহাজে পাকিস্তানি পতাকা (১৯৪৭-১৯৭১)

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্বপাকিস্তানে হজ ব্যবস্থাপনায় এল সরকারি রূপ। ১৯৪৮ সালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সরকারিভাবে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয়। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ৯ একর ৩৫ শতকের একটি স্থায়ী হাজি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্যাম্পের ভেতরে ছিল একটি বড় মসজিদ, একটি দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন ও যাত্রীদের থাকার জন্য সাতটি দ্বিতল ভবন। হজযাত্রার আগে অন্তত এক সপ্তাহ এই ক্যাম্পে থেকে প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ নিতে হতো।
সাফিনা-ই-আরব ও সাফিনা-ই-আরাফাত নামে দুটি জাহাজ প্রতি বছর দুই ট্রিপে হজযাত্রীদের জেদ্দায় নিয়ে যেত। দুই জাহাজ মিলিয়ে প্রথম ট্রিপে যেতেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ হজযাত্রী। রোজার ঈদের সাত দিন পরেই প্রথম জাহাজ ছাড়ত। ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জেদ্দায় গিয়েছিলেন মোট ৩ হাজার ৮৯৫ জন। পরে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানির সারধানা জাহাজও এই রুটে চলাচল শুরু করে।
জাহাজে ডেক শ্রেণির আসন পেতে হতো লটারির মাধ্যমে–চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিংয়ে এই লটারি হতো। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির আসন ব্যয়বহুল হওয়ায় সেগুলো অনেক সময় খালিই থাকত। সেই সময়ের খরচ সম্পর্কে আহমেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জাহাজের তৃতীয় শ্রেণিতে সব মিলিয়ে খরচ ছিল ১ হাজার ৯১৯ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রথম শ্রেণিতে ৭ হাজার টাকার কিছু বেশি।
সমুদ্রযাত্রার কষ্ট ছিল অবর্ণনীয়। তীব্র গরম ও প্রচণ্ড ভিড়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। তাই জাহাজে থাকতেন চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার ও নার্স। যাত্রাপথে মারা যাওয়া হাজিদের ক্যানভাসে মুড়ে ভারী পাথর বেঁধে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। কখনো টেলিগ্রামে স্বজনদের মৃত্যুর খবর দেওয়া হতো; কখনো জানানো সম্ভব হতো না।
এই সময়ের যাত্রার একটি হৃদয়স্পর্শী বিবরণ পাওয়া যায় আইরিশ টাইমসে লেখক নরম্যান ফ্রিম্যানের প্রবন্ধে। ১৯৫৪ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানির সারধানা জাহাজে কর্মরত ফ্রিম্যান লিখেছেন, ১ হাজার ৫০০ হজযাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে ফেরার পথে অসুস্থতায় চারজন মারা যান। তাদের লাশ ভারত মহাসাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। তবে এত কষ্টের পরও চট্টগ্রামে পৌঁছানোর সময় ক্লান্ত হজযাত্রীদের চোখেমুখে ছিল এক ধরনের গভীর তৃপ্তি আর মর্যাদার ছাপ।
বিদায়ের দিনটি ছিল এক আবেগময় উৎসব। বাসে করে হজযাত্রীদের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হতো। চট্টগ্রামের ১৭টি জেটির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও খোলামেলা চার নম্বর জেটি হজযাত্রীদের জন্যই বরাদ্দ থাকত। জাহাজ ছাড়ার পর কর্ণফুলী নদী পেরিয়ে সমুদ্রে প্রবেশের সময় অন্যান্য জাহাজ হুইসেল বাজিয়ে শুভেচ্ছা জানাত। হজ তখন এতটাই গৌরব ও সম্মানের বিষয় ছিল–পুরো চট্টগ্রাম শহরে এই মৌসুমে এক ধর্মীয় আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হতো।

 

স্বাধীনতার পর সংকট ও উত্তরণের হজযাত্রা (১৯৭১-১৯৮৫)

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশকে স্বাধীন করল। কিন্তু হজযাত্রা পড়ল গভীর সংকটে। যুদ্ধের সময় সাফিনা-ই-আরব ও সাফিনা-ই-আরাফাতের প্রথম ট্রিপ যেতে পারলেও দ্বিতীয় ট্রিপের যাত্রা সম্ভব হয়নি। এরপর দেখা দিল এক মানবিক সংকট। ১৯৭২ সালের আরাফাত দিবস ছিল ২৭ জানুয়ারি। হজযাত্রীরা দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই সৌদি আরবে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়ে গেলে তারা পড়ে গেলেন উভয়মুখী সংকটে–পাকিস্তানি কাগজপত্র থাকায় না পারছেন পাকিস্তানে ফিরতে, না পারছেন নতুন বাংলাদেশে ঢুকতে। এই মানবিক সংকটে তখনকার দায়িত্বশীল সরকার জাতিসংঘের মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ ফয়সালকে চিঠি পাঠালে অনুমতি মিলল। এরপর ভারতীয় মোহাম্মদী জাহাজে দুই দফায় হাজিদের দেশে ফেরানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে তখন অসংখ্য মাইন ও ডুবে যাওয়া জাহাজ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা ছিল বিপজ্জনক। মোহাম্মদী জাহাজ মোংলায় গেলেও নাব্যতার সমস্যায় সেখানেও নোঙর ফেলা সম্ভব হয়নি। অবশেষে নদীপথে ঘুরে ঘুরে চাঁদপুরে নোঙর করে জাহাজটি। হাজার হাজার স্বজন মোংলায় গিয়েছিলেন হাজিদের নিতে, পরে তাদের চাঁদপুরে ফিরতে হয়। এক হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যের দেখা মিলেছে বাংলার জমিনে।
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হজযাত্রী হজ পালন করেন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন হিজবুল বাহার নামে একটি জাহাজ কেনে। এর ধারণক্ষমতা ছিল, ১ হাজার ৮০০ জন, যাতায়াতে লাগত প্রায় দুই মাস। পরে ব্যয় সংকোচনের জন্য জাহাজটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়, তারা শহীদ সালাহউদ্দিন নাম দিয়ে কয়েক বছর হজযাত্রী পরিবহন করে। একসময় মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত হয়ে যায় জাহাজটি।
একই বছর সৌদি এয়ারলাইনসের ঢাকা-জেদ্দা ফ্লাইট চালু হলে সব পাল্টে যেতে শুরু করে। ওমরাহর আসা-যাওয়ার ভাড়া ছিল ৯ হাজার টাকার কিছু বেশি আর যাত্রার সময় কমে এল মাত্র ছয়-সাত ঘণ্টায়। বিমানের প্রতিযোগিতায় সমুদ্রপথে যাত্রী ক্রমশ কমতে থাকে। ১৯৮০ সালের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে শেষবারের মতো হিজবুল বাহারে সমুদ্রপথে হজযাত্রীরা বহন করে জেদ্দা যায়। এরপর ধীরে ধীরে বিমানই হয়ে ওঠে হজযাত্রার একমাত্র মাধ্যম। ১৯৮৫ সালের পর সমুদ্রপথে হজযাত্রা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

আরও পড়ুন : হাজিদের জন্য জরুরি টিপস

 

ডিজিটাল যুগে আল্লাহর মেহমান (১৯৮৫-বর্তমান)

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে হজ ব্যবস্থাপনার প্রাণকেন্দ্র চলে এল ঢাকার আশকোনায়। ১৯৮৯ সালের পর থেকে আশকোনা হাজি ক্যাম্পই হয়ে উঠল লক্ষাধিক হজযাত্রীর প্রথম গন্তব্য। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৯৭২ সাল থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে–এটি এখন তাদের করপোরেট পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
সৌদি আরব বাংলাদেশকে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি হজ কোটা বরাদ্দ করে। আজ একজন হজযাত্রী ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপ বা ইন্টারনেটে নিবন্ধন করতে পারেন। ই-হজ সিস্টেম, ই-হজ বিডি অ্যাপ, ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টার–সর্বত্র যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়া।

 

বিশ্বাসের পথ কখনো থামে না

৮০০ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রার দিকে তাকালে মনে হয়, পথ বদলেছে অনেকবার কিন্তু বিশ্বাস বদলায়নি একটুও। পালতোলা নৌকায় অনিশ্চিত সমুদ্রে যে মানুষটি ভেসেছিলেন, আজকের হজযাত্রী তার চেয়ে কতটুকুই বা আলাদা? কাবার প্রতি হৃদয়ের সেই আকর্ষণ, লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনির সেই কান্নামাখা ডাক–সব তেমনই আছে, যেমন ছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী আগে। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সংকটের পর চাঁদপুরের ঘাটে হাজার হাজার স্বজনের অপেক্ষার দৃশ্য একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়–হজ কেবল একজন ব্যক্তির অনুভব নয়, এটি একটি পরিবারের, একটি সমাজের, একটি রাষ্ট্রের যাত্রা। একটি জাতির পরিচয়ের নিশানা। 

 

লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

 

শামায়েল সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের রঙের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনাররা আজ কত গবেষণাই না করছেন! কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক রঙের পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা রুচিবোধ পবিত্রতার চূড়ান্ত প্রতীক

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন মার্জিত পোশাক পরতেন, তেমনই সাহাবিদের তথা গোটা মুসলিম উম্মাহকে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অনুসরণ অনুকরণের পাতায় রাখার মতো তাঁর সেই চমৎকার নির্দেশনা আপনাকেও ভাবাতে পারে

পোশাকের বহুবিধ রঙের ভিড়ে মহানবি (সা.) উম্মতের জন্য সাদা রংকে বিশেষভাবে নির্বাচন করেছেন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃতদেরকে সাদা কাপড় দিয়ে দাফন দেয় কেননা, সাদা কাপড় তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫৩২৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস: ৯৫৬৬)

রাসুল (সা.)-এর এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাদা পোশাক কেবল জীবিতদের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের শেষ বিদায়ের সম্বল কাফনের জন্যও এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ

সাদা রংকে কেন এত প্রাধান্য দেওয়া হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সাহাবি হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.)-এর বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো কারণ, তা সর্বাধিক পবিত্র উত্তম আর তা দিয়েই তোমরা মৃতদের কাফন দাও (আল-মুজামুল কাবীর, হাদিস: ৯৬৪; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস: ২০২৭)

সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সামান্য ময়লা লাগলেও তা দ্রুত চোখে পড়ে ফলে পোশাকটি দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করার তাগিদ তৈরি হয় ইসলাম যেহেতু ‘পবিত্রতা’কে ঈমানের অঙ্গ করেছে, তাই সাদা পোশাক পরার মনস্তাত্ত্বিক কারণ হলো মানুষকে সব সময় বাহ্যিক অভ্যন্তরীণভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কালজয়ী নির্দেশনা আমাদের শেখায় যে, আভিজাত্য বা ফ্যাশন মানেই চটকদার জমকালো রঙের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া নয় বরং সরলতা, শুভ্রতা পরিচ্ছন্নতার মাঝেই লুকিয়ে আছে পোশাকের আসল সৌন্দর্য জীবিত অবস্থায় সাদা পোশাকের শুভ্রতা ধরে রাখা এবং মৃত্যুর পর সেই একই শুভ্রতায় আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার মাঝে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

.৫১ মিনিট

এশা

.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোনো বড় দুর্ঘটনা বা কষ্টের খবর শোনার ঠিক প্রথম কয়েক সেকেন্ড আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান? আপনার সেই তাৎক্ষণিক আচরণই বলে দেবে আপনি আসলেই পরকালের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য কি না!

মানুষের জীবনে সুখের পাশাপাশি দুঃখ, কষ্ট বা বিপদ আসা এক অনিবার্য বাস্তবতা কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নিয়ে ইসলামের রয়েছে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা সম্প্রতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য আত্মিক সহনশীলতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রিয় নবিজি (রাসুল)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (রাসুল) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত ধৈর্য হলো কষ্টের প্রথমাবস্থায় বা প্রথম ধাক্কাতেই’ (বুখরি)

এই বাণীর পটভূমি বিশ্লেষণ করলে এক গভীর মানবিক সত্য উন্মোচিত হয় সাধারণত যেকোনো বড় বিপদ, স্বজন হারানো বা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হলে মানুষ শুরুতে চিৎকার, কান্নাকাটি বা ভাগ্যের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে এর পর দিন, মাস বা বছর কেটে গেলে সময়ের নিয়মে ক্ষতের তীব্রতা কমে আসে এবং মানুষ বাধ্য হয়েই শান্ত হয় কিন্তু হাদিসের গভীর দর্শন অনুযায়ী, সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি মেনে নেওয়াকে প্রকৃতসবরবা ধৈর্য বলা হয় না

আসল পরীক্ষাটি হয় ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন কষ্টের খবরটি প্রথম কান বা বুকে এসে আঘাত করে সেই প্রথম মুহূর্তটিতে যে ব্যক্তি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থেকে নিজের মুখ মনকে সংযত রাখে, ইসলাম তাকেই প্রকৃত ধৈর্যশীল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়

এই হাদিসটি আমাদের প্রচলিত জীবনবোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয় এটি শেখায় যে, ধৈর্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের নাম নয়, বরং এটি হলো আকস্মিক বিপদে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আধুনিক মনোবিজ্ঞানও বলছে, যেকোনো ট্রমার প্রথম কয়েক মুহূর্তের মানসিক প্রতিক্রিয়া মানুষের পরবর্তী সুস্থতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যার সমাধান ইসলাম বহু আগেই দিয়ে রেখেছে

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম
ছবি: সংগৃহীত

আজকের এই আধুনিক যুগে হাজারও মতবাদ, দর্শন আর মনগড়া জীবনরীতির ভিড়ে মানুষ প্রায়ই সঠিক পথের দিশা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মুক্তির আসল চাবিকাঠি কোথায়? হযরত জাবের (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত বা আদর্শ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর হেদায়াত। তিনি সতর্ক করেন, দ্বীনের মধ্যে যেকোনো নতুন সৃষ্টি বা মনগড়া উদ্ভাবনই হলো নিকৃষ্টতম কাজ, যা মানুষকে নিশ্চিত পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায় এবং যার শেষ পরিণতি জাহান্নাম (মুসলিম, ১৪১; সুনানে নাসাঈ, ১৫৭৮)।

সমাজে কিছু মানুষের মানসিকতা ও কাজ স্রষ্টার কাছে চরম ঘৃণিত রূপ নেয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত। তারা হলো–হারাম বা নিষিদ্ধ এলাকায় অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তি, ইসলামের ভেতর জাহেলি যুগের কুসংস্কার বা রীতিনীতি চালুর আকাঙ্ক্ষাকারী এবং স্রেফ অন্যায়ভাবে রক্তপাতের উদ্দেশ্যে অন্যের রক্ত কামনা করা ব্যক্তি (বুখারি, ১৪২)।

মানুষের মুক্তি ও অবাধ্যতার সমীকরণ বোঝাতে ফেরেশতারা এক অলৌকিক উপমা দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) যখন নিদ্রিত ছিলেন (যার চক্ষু নিদ্রিত হলেও অন্তর ছিল জাগ্রত), তখন ফেরেশতারা বলেন, যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন শেষে একজন আহ্বায়ক পাঠালেন; যে সাড়া দিল সে খেতে পারল, আর যে দিল না সে বঞ্চিত হলো। এই উপমার ব্যাখ্যায় তারা বলেন, গৃহটি হলো জান্নাত, আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মাদ এবং নির্মাতা স্বয়ং আল্লাহ। অতএব, মুহাম্মাদ (সা.)-এর আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য, আর তিনিই মানুষের মধ্যে ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী (বুখারি, মিশকাত ১৪৪)।

অনেকেই মনে করেন, সংসার বা স্বাভাবিক জীবন ত্যাগ করে কেবল বৈরাগ্য সাধনেই বুঝি পরম ধর্ম। একবার তিনজন ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাপ শুনে নিজেদের আমলকে কম মনে করে একজন সারা রাত নামাজ পড়া, একজন আজীবন রোজা রাখা এবং অন্যজন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। রাসুল (সা.) তাদের এই অতি-ধার্মিকতার ভুল ভেঙে দিয়ে বলেন, আমি তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহভীরু হওয়া সত্ত্বেও রোজা রাখি ও ছাড়ি, সালাত পড়ি ও ঘুমাই এবং বিয়েও করেছি। অতএব, যে আমার সুন্নাত বা জীবনপদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার শরিয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় (বুখারি, মুসলিম, ১৪৫)।

সাহাবি হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় বিদায়ী খুতবা দিলেন যে সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে গেল। তিনি ভবিষ্যৎ মতভেদের যুগে নিজের সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দেন (আবু দাউদ, ১৬৫)। একইভাবে হযরত আলি (রা.) বর্ণিত হাদিসে মদিনার পবিত্র ভূমিতে কোনো মনগড়া প্রথা বা বিদ‘আত চালু করা অথবা বিদ‘আতিকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানতের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ)।

দ্বীনের নামে নিজস্ব মনগড়া রীতি বা বিজাতিদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং রাসুল (সা.)-এর দেখানো সুন্নাহর সরল পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০ লাখ কওমি শিক্ষার্থী বাজেট বৈষম্যের শিকার। ছবি: সংগৃহীত

এবারের জাতীয় বাজেটেও কওমি শিক্ষাধারার জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখায় বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কওমি মাদরাসায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এই বৈষম্য দূর করে কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যে গতকাল ২১ জুন তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সাধারণ আলেম সমাজের ব্যানারে কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ আলেম সমাজের মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান। বৈঠকে কওমি অঙ্গনের তরুণ আলেম, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও নীতিগত বক্তব্য তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি অর্থনৈতিক ও বাজেট বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০২৬ সালে কওমি শিক্ষার্থীরা সেই একই ধরনের কাঠামোগত বঞ্চনার শিকার। দেশের মোট জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটে কওমি ধারার জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ না থাকা তাদের মৌলিক নাগরিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। 

বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আলেম মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম। তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে যারা ইসলামী দল করেন, তারা এক সময় বাজেট নিয়ে কথাই বলতেন না। এখন অবশ্য কথা বলেন, কিন্তু বাজেট নিয়ে তাঁদের উপস্থাপন অনেকটা বামপন্থীদের মতো। 

এবারের বাজেটে রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে আলাদা করার উদ্যোগ, করবহির্ভূত আয়ে গুরুত্বারোপ ও বাজেট বক্তব্য বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার বিষয়গুলোকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে তিনি কওমি শিক্ষার অনুপুস্থিতি ও ২০০৫-০৬ সালের সাথে তথ্যগত তুলনার বিভ্রান্তি তুলে ধরেন। 

উসুলে হাশতেগানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং হস্তক্ষেপ মুক্ত অবস্থায় সরকারি বরাদ্দ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তাবনা দাঁড় করাতে পারলে ভালো হবে। বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে প্রথম আলোর ধর্ম বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হক, ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় জাকাত তহবিল থেকে রাজস্ব খাতে সরকারের পক্ষে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা সম্ভব। ইসলামি অর্থনীতির এই শক্তিশালী খাতটি রাষ্ট্রীয় মূলধারার অর্থনীতিতে সন্নিবেশ হতে পারে। তবে এই তহবিলকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ বলেন, তিনি সামষ্টিক বাজার পরিস্থিতি ও তরুণদের দূরদর্শিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে ভর্তুকি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। কওমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পুরো রাষ্ট্র, বাজেটের প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনীতি বুঝতে পারছি কিনা, এটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়ক ও মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান কওমি তরুণদের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাষ্ট্রে শিক্ষার ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকারে কোনো ভিন্নতা থাকতে পারে না।
তিনি ঘোষণা করেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অধিকারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এই গোলটেবিল বৈঠক থেকে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেওয়া হবে।

সাধারণ আলেম সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইমাম সমাজ বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মিনহাজ উদ্দীন ওয়াকফ সম্পত্তির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা নাজেহাল। এই সম্পত্তির আধুনিকায়ন এবং আমানতদারির সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে মাদ্রাসার প্রয়োজন পূরণ তো হবেই, সরকারও রাজস্ব পাবে। কওমি মাদ্রাসার জন্য সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি পরিহার করে এখন বরাদ্দের জোরালো দাবি তুলতে হবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব সানাউল্লাহ খান রাষ্ট্রের সাথে কওমি অঙ্গনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘোচানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারেনি কওমি অঙ্গণ। সম্পর্ক তৈরি না হলে রাষ্ট্র কখনো কওমি মাদ্ নিয়ে ভাববে না। এতিম মানেই কওমি মাদ্রাসা, এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী সনদের প্রায়োগিক কার্যকারিতা নিশ্চিতের দাবি তুলে বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে কোনো কাজে আসছে না। এই স্বীকৃতি যাতে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজে লাগে, রাষ্ট্রকে সেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় বাজেট সম্পর্কে প্রথমবারের মতো কওমি তরুণরা বক্তব্য রাখছেন, বিষয়টা প্রশংসার। সাধারণ আলেম সমাজের দাবির সাথে তিনি একমত পোষণ করেন।

লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সদস্য সচিব মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ কওমি তরুণদের বড় পরিসরে ব্যবসার মূলধারায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ব্যবসা করি, তখন আমরা এটাকে আটা, মধু বা কালোজিরার মধ্যে সীমাবদ্ধ করি। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইসলামী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি গঠনের প্রচেষ্টার কথা জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাধারণ আলেম সমাজের সভাপতি মাছুম বিল্লাহ মাহমুদী, সাধারণ সম্পাদক আকিফ আবদুল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহদী, অনলাইন একটিভিস্ট জাওয়াদ আহমাদ, বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. মাকছুদুর রহমান প্রমুখ এবং সাধারণ আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ। 

বৈঠক থেকে কওমি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আইটি, কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার জন্য স্বকীয়তা রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য নিয়মতান্ত্রিক চাপ সৃষ্টির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।