আনন্দপিপাসু মানুষ সৌন্দর্য ও আনন্দ খুঁজে নেয় মিলনে, উৎসবে। উৎসব মানুষকে করে তোলে মহিয়ান। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র দীন একাকী- কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ!’ উৎসব তাই একার নয়, সব মানুষের। সবার সঙ্গে একত্র হয়ে উৎসবের মধ্যদিয়ে মানুষ বৃহৎ হয়ে ওঠে। অনুভব করে মনুষ্যত্বের শক্তি। অনুভব করে প্রেম। উৎসব প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথই বলেছেন একথা, ‘উৎসবের দিনে আমরা যে সত্যের নামে বহুতর লোকে সম্মিলিত হই, তাহা আনন্দ, তাহা প্রেম।’ এই প্রেমের প্রকাশ ঘটে সৌন্দর্যে। উৎসবের দিনটি তাই ‘সৌন্দর্যের দিন’। এভাবেই ‘মিলনের দ্বারা, প্রাচুর্যের দ্বারা, সৌন্দর্যের দ্বারা আমরা উৎসবের দিনকে বৎসরের সাধারণ দিনগুলির মুকুটমণিস্বরূপ করিয়া তুলি।’ আজ বাঙালির সেরকমই একটা মিলনের দিন, উৎসবের দিন- পয়লা বৈশাখ।
২
বাঙালি মুসলমান একধরনের দ্বান্দ্বিকতার মধ্যদিয়ে জীবনযাপন করে। সংস্কৃতিকে লালন করে। ধর্ম তার কাছে সংস্কৃতি নয়, পারলৌকিক অধ্যাত্মসাধনা। অন্যদিকে সংস্কৃতির যে প্রকাশ বাঙালি মুসলমানের জীবনে দেখা যায়, যেমন সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলা ইত্যাদির স্থান ধর্মে নেই। কেননা, এসব পারলৌকিক নয় ইহজাগতিক। বাঙালি মুসলমান এই পারলৌকিক ও ইহজাগতিক দ্বন্দ্বের মধ্যদিয়ে জীবনযাপন করে বলে সংস্কৃতি তার কাছে ‘সাংঘর্ষিক’ হয়ে ওঠে। অনেকেই বলেন, ধর্ম সংস্কৃতির অংশ; কিন্তু সেই সংস্কৃতির মধ্যে সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলাকে স্থান দেওয়া হয় না। ফলে, অবিমিশ্র সংস্কৃতির বোধ বাঙালি মুসলমানের মধ্যে দেখা যায় না। বাঙালি মুসলমানের আরেকটি পরিচয় যেহেতু নৃতাত্ত্বিক, অর্থাৎ সে বাঙালি, ফলে, ধর্মবহির্ভূত বাঙালি সংস্কৃতির নানান অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়। ঐতিহাসিক ও ভূমিকেন্দ্রিক যে সংস্কৃতি সেসবও সে অগ্রাহ্য করতে পারে না। শুধু বাঙালি মুসলমান কেন, পৃথিবীর কোনো দেশের মানুষই তার ধর্মীয়, স্থানিক, নৃতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকে উদ্ভূত সংস্কৃতিকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। সেটা করতে গেলে সে হয় নৃতাত্ত্বিক দিক থেকে খারিজ হয়ে যাবে, অথবা তার ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে যাবে, অথবা ধর্মীয় পরিচয় লুপ্ত হয়ে যাবে। বাঙালি মাত্রই তাই উল্লিখিত নানান উৎসের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া এক মিশ্র জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীরই সর্বজনীন উৎসব নববর্ষ। এই উৎসবের উৎস ধর্ম নয়; উৎস নৃতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক। সর্বজনীন বলেই ধর্ম, শ্রেণি, সম্প্রদায়নির্বিশেষে বাঙালি এই উৎসবটি সম্মিলিতভাবে পালন করে।
বাঙালি কৃষিজীবী, বাংলাদেশ কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর দেশ। বাঙালির নববর্ষ উদ্যাপনের ইতিহাস এই বৃত্তি ও জনপদের সঙ্গে সম্পর্কিত। আধুনিককালে বাংলাদেশ পুঁজিবাদ ও মুক্তবাজার বিশ্বব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক সংস্কৃতিও তাই আমাদের প্রভাবিত করছে। বাঙালির নববর্ষ উদ্যাপনের রূপটিও মিশ্র রূপ ধারণ করেছে। তবে এর উৎসটি গভীরভাবে ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাঙালি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, সুপণ্ডিত মুহম্মদ এনামুল হক, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন প্রমুখ মনে করেন, বাংলা সনের উদ্ভাবক মুঘল সম্রাট আকবর। তিনি তার রাজ্যশাসনের ২৯ বছরে (হিজরি ৯৯২ ও ১৫৮৪ সাল) জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেউল্লাহ সিরাজির নেতৃত্বে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সনকে সৌর ও চান্দ্র বৈশিষ্ট্যে সমন্বিত করে পঞ্জিকা সংস্কার করান। ধারণা করা হয়, সেই কাঠামোর অনুসরণে বাংলা অঞ্চলের জন্য আকবর বাংলা সন চালু করেন।
‘আইন-ই-আকবরি’ থেকে জানা যায়, আকবর এমন একটি ত্রুটিমুক্ত বিজ্ঞানসম্মত সৌরসনের প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন যা জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সবার জন্য আদর্শ হয়ে উঠবে। বাংলা সনের মধ্যদিয়ে তার সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়েছিল। কেননা বাংলা সন হিজরি, ইলাহি ও শকাব্দ সন নয়। বাংলা সন স্বকীয় স্বতন্ত্র সন। আমাদের এই জনপদে ২৪টির মতো সন ছিল। সেসব সন ছিল রাজা, বাদশাহ, ধর্ম বা ছোট ছোট অঞ্চলের নামে। কিন্তু বাংলা সন, প্রখ্যাত লেখক শামসুজ্জামান খানের মতে, বাংলাদেশ ও জাতির নামে প্রবর্তন করা হয়। বাংলা সনটি তাই বাঙালির এত প্রিয়, এত গুরুত্ববহ।
নববর্ষ আমাদের বিদায়ি বছরের শেষে সমাগত বছরের আবির্ভাবের মুহূর্তে দাঁড় করিয়ে দেয়। এই সময় সুখ-দুঃখ-আনন্দে স্মৃতিবিজড়িত একটি বছর বিদায় নেয় আর অপার সম্ভাবনা নিয়ে আরেকটি বছর আবির্ভূত হয়। এই আবির্ভাবও আনন্দের। এর সবই আমরা আমাদের মনোলোকে অনুভব করি আর আবেগে-আনন্দে চঞ্চল হয়ে উঠি। সব জনপদে উৎসবের ঢেউ লাগে। ‘পয়লা বৈশাখ’ বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত চিত্তচাঞ্চল্যের বহুমুখী অভিব্যক্তি হিসেবে ছোট-বড় নানান অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদ্যাপিত হয়।
ড. মুহম্মদ এনামুল হক নববর্ষের অনুষ্ঠানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- সর্বজনীন ও স্থানীয়। অনুষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ নয়। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সবাই পালন করে। বাংলার আবহমান লোকসংস্কৃতিতে সর্বজনীন নববর্ষ উদ্যাপনের পরিচয় মেলে। এনামুল হক তার স্মৃতিচারণায় লিখেছেন, ‘তারা সেদিন প্রাত্যহিক কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে ঘরবাড়ি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে, আটপৌঢ়ে জামাকাপড় ছেড়ে, ধোপদুরস্ত পোশাক-পরিচ্ছদ পরে, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করে পানাহারে মেতে ওঠে; বটের তলায় জড়ো হয়ে গান গায়, হাতে তালি বাজায়, মুখে বাঁশি ফুঁকে, মাঠেঘাটে খেলায় বসে পড়ে, পুকুরে সাঁতার কাটে, ডুব দেয় ও নদনদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সবকিছু মিলে দেশটা যেন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।’
কখনো কখনো চৈত্রের শেষ ও বৈশাখের শুরুতে দাবদাহ দেখা দেয়। দেশজুড়ে চাতক পাখি ‘জল দে, জল দে’ বলে ডাকে আর আর উত্তরবঙ্গে ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে’ বলে যুবক-যুবতীরা সমস্বরে হাহাকার তোলে। মেঘের কাছ থেকে জল ভিক্ষা করা বাংলা নববর্ষের একটা সর্বজনীন অনুষ্ঠান। বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে জমজমাট সর্বজনীন অনুষ্ঠানটি হচ্ছে বার্ষিক মেলা। বাংলাদেশের নানা স্থানে বৈশাখ মাস ধরে, বিশেষ করে পয়লা বৈশাখে নানান মেলা বসে। স্থানীয়রাই এই মেলার আয়োজন করে থাকে।
পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষের আরও দুটি সর্বজনীন অনুষ্ঠান হচ্ছে ‘পুণ্যাহ’ ও ‘হালখাতা’। পুণ্যাহ হচ্ছে প্রজাদের কাছ থেকে জমিদারদের খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠান। হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা গ্রহীতার কাছে প্রাপ্য টাকা আদায় করে থাকেন। অনুষ্ঠান দুটির লক্ষ্য যদিও অর্থনৈতিক, তবে উভয় অনুষ্ঠানেই সামাজিকতা, লৌকিকতা, সম্প্রীতি ও সৌজন্য প্রকাশের ঐতিহ্য রয়েছে। নববর্ষ উপলক্ষে আরও কিছু সর্বজনীন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। ঢাকার (পুরান ঢাকা) ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব এরকমই একটি অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখে নববর্ষের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানটি (শোভাযাত্রা) হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনের প্রশস্ত সড়কে। চারুকলা ১৯৮৯ সালের পয়লা বৈশাখ থেকে প্রতি বছর এই শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসছে। শুরুতে এই আয়োজনের নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। পরে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলের আবাহন হিসেবে এর নামকরণ হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে। এ বছর বাংলাদেশ সরকার এর নামকরণ করেছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
৩
বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন নিছক ঐতিহ্য আর উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর তাৎপর্য অনেক গভীর; সেই তাৎপর্য সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক। এই ভূখণ্ডের মানুষ হিসেবে আমাদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান করতে গিয়ে আমাদের পয়লা বৈশাখ, অর্থাৎ বাংলা নববর্ষকে খুঁজে নিতে হয়েছিল। কোথায় আছে আমাদের ‘আমি’, আসল আমি, নববর্ষের উৎসব তারই সন্ধান দিয়েছে। দেশি উৎসবের ভেতর দিয়ে সেই আত্মপরিচয় প্রাণ পেয়েছে। আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে আমরা পৌঁছেছি জাতীয়তাবাদে, জাতিরাষ্ট্রে। পয়লা বৈশাখ সূক্ষ্মভাবে আমাদের জাতীয় চেতনায় প্রাণিত করেছিল। জাতীয়তাবাদের এই উন্মেষ ঘটেছিল গত শতকের ষাটের দশকে।
১৯৬৭ট্টি সাল। পাকিস্তানিদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে এই ভূখণ্ডের মানুষ। এর আগে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন’। তাদেরই ভাবনায় এল বাংলা নববর্ষ আবাহনের। গানে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের গানে গানে অনুষ্ঠিত হলো সংগীতশিল্পীদের ‘বন্ধুসম্মিলন’। এর পর প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতে থাকল নববর্ষের এই বন্ধুসম্মিলন। শুধু ছায়ানটই নয়, এর আগে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস, ঐকতান গোষ্ঠী, নিক্কন ললিতকলা কেন্দ্রের মতো অনেক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সংগীতের মধ্যদিয়ে নববর্ষ পালন করছিল।
১৯৬৭ সালের পয়লা বৈশাখ ছায়ানট প্রথম রমনার বটমূলে আয়োজন করে নববর্ষ উদ্যাপনের অনুষ্ঠান। ওই বছরই ছাত্র ইউনিয়ন, প্রেস ক্লাব, স্পন্দন, ক্রান্তি, নকশা, খেলাঘর, ফাল্গুনী, পূর্ণিমা বাসর ইত্যাদি সংগঠন ঢাকায় নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ অবজারভার ও দৈনিক আজাদ প্রকাশ করে বিশেষ সংখ্যা। সুতরাং আমাদের অনেকের যে ধারণা, ছায়ানটই এককভাবে নববর্ষ উদ্যাপনের সূচনা করেছিল, তা নয়। আসলে তখন ঢাকার সংস্কৃতি ও সংগীতপ্রেমী শিক্ষিত ও সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে খুঁজে পাওয়ার তীব্র অভিপ্রায় কাজ করছিল। এরও একটা সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল।
দেশভাগ হয়েছে, পূর্ব বাংলা পাকিস্তানি শাসনের অধীনে। পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালি সংস্কৃতিকে অগ্রাহ্য করে প্রথমে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু এবং পরে আরও নানা বিজাতীয় সংস্কৃতিকে বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পাকিস্তানি আর বাঙালিতে বেঁধে যায় দ্বন্দ্ব। কিন্তু বৈশাখের প্রথমদিনের উৎসব বাঙালি জাতিসত্তার ধারায় স্নাত হয়ে আমাদের স্বরূপ সন্ধানের সহায় হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সন্জীদা খাতুন লিখেছেন, ‘বাঙালির বৈশিষ্ট্যগুলো চিনে নিতে হলো তখন বাঙালিকে। কয়েকটি বিষয়কে ঘিরে বাঙালি মানস পরস্পর-সন্নিহিত হলো। প্রথমটি ভাষা। ভাষার জন্য ভালোবাসা। একুশে ফেব্রুয়ারির স্মারক শহিদ মিনারকে কেন্দ্র করে একত্র হলো বাঙালি। দ্বিতীয় বিষয় হলো পয়লা বৈশাখ। বাঙালির নববর্ষ বাংলা নতুন বছরের উৎসব আয়োজনটি বাঙালিকে আর একটি মিলনবিন্দুতে ঘনিষ্ঠ করল।’ এই মিলনবিন্দু, প্রথমত, আত্মপরিচয় বোধের; দ্বিতীয়ত, জাতীয়তাবোধের। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যদিয়ে পরবর্তীকালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের তাৎপর্য তাই অনস্বীকার্য ও অপরিসীম। কোনো একটা উৎসব যে একটা জাতির সাংস্কৃতিক চৈতন্যকে বিনির্মাণ করে জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ উদ্যাপনের অনুষ্ঠানগুলো তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই উৎসবটি ধীরে ধীরে তাই আমাদের জাতীয় উৎসব হয়ে উঠেছে। এটিই আমাদের একমাত্র জাতি-ধর্মনির্বিশেষ অন্তর্ভুক্তিমূলক অসাম্প্রদায়িক জাতীয় উৎসব। এই উৎসবেরই অংশ হিসেবে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ (নতুন নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’) ইউনেস্কোর সর্বজনীন স্বীকৃতির মধ্যদিয়ে বৈশ্বিক মর্যাদা পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছিলেন, আজ সেরকমই একটা দিন। মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভবের দিন। ঐক্যবদ্ধভাবে জাতিসত্তা অনুভবের দিন।