আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর দ্রব্যমূল্য নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী, কৃষি, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তার পরও বাজারে ঠাণ্ডা হাওয়া নেই।
শীতের ভরা মৌসুমেও আগুন লেগে গেছে বেগুনে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। বাজারে ৮০-১২০ টাকার কম বেগুন নেই। করলা, পটোল সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। টমেটোর দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে ৬০-৭০ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজের দামও ১০-২০ টাকা বেড়ে ৮০-৯০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ডিমের দামও ডজনে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ১৩৫-১৪০ টাকা হয়ে গেছে। বিভিন্ন গুদামে অভিযান চালানোর পরও চালের দাম কমেনি। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে কমেনি দাম। তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মাছ ও মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।
সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে বেগুন-করলা-পটোল
সবজি বিক্রেতারা জানান, কিছু দিন আগে বৃষ্টি এবং শীতের ঘন কুয়াশায় সবজির ফলন কমে গেছে। তাই মোকামেই দাম বেশি। দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে টাউনহল বাজারের কালু খবরের কাগজকে বলেন, এ সপ্তাহে বেড়ে গেছে সব সবজির দাম। গত সপ্তাহে বেগুন ৬০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও এ সপ্তাহে ৮০-১২০ টাকা হয়ে গেছে। ভালোটা ১২০ টাকার কম না। ৪৫-৫০ টাকা কেজির টমেটো ৬০-৭০ টাকা। পটোল ও করলার দামও বেশি ১০০-১২০ টাকা কেজি। তবে পাতা ও ফুলকপি ৪৫-৫০ টাকা পিস। এ সপ্তাহে গাজর ও শসা ৫০-৬০ টাকা, মরিচ ৮০-১০০ টাকা, কলার হালি ৩০ টাকা। লালশাক, পালংশাকের আঁটি ১০-১৫ টাকা বলে বিক্রেতারা জানান। সব বাজারেই সবজির দাম বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, দাম কমাতে হলে মোকামকে ধরতে হবে। সেখানে কমলে বাজারে কমতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কমলেও এ সপ্তাহে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। কারওয়ান বাজারের হালিম বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকা বিক্রি করা হলেও কয়েক দিন থেকে দাম বেড়েছে। তা ৮০-৯০ টাকা কেজি। একই অবস্থা আলুর। গত সপ্তাহে আলুর দাম কেজিতে ১০ টাকা কমলেও এ সপ্তাহে ৫ টাকা বেড়েছে। অন্য খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ‘বর্তমানে ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন মোকামে পাইকারিতে দাম বেশি। এ জন্য আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আদা ও রসুন আগের মতো ২২০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।’
একটুও কমেনি চালের দাম
ভোটের পর বিভিন্ন অজুহাতে চালের দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা বাড়লেও সরকারের বিভিন্ন হুঁশিয়ারির পরও কমেনি চালের দাম। খাদ্যমন্ত্রী বিভিন্ন মিলমালিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, চালের দাম আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। কোনো কারসাজি চলবে না। তার নির্দেশের পরও খুচরা পর্যায়ে এক টাকাও কেজিতে কমেনি। বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, আগের মতো মিনিকেট ৬৮-৭০ টাকা, আটাশ চাল ৫২-৫৫ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা এবং আগের মতোই পোলাওয়ের চাল ১৪০-১৫০ কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে ডিমের দাম, স্থিতিশীল মাছ-মাংস
ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ১০ টাকা বেড়ে সাদা ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা ও লাল ডিম ১৪০ টাকা হয়েছে। টাউনহল বাজারের বিসমিল্লাহ ডিমের আড়তের মালিক মহিউদ্দিন বলেন, ‘আড়তে দাম বেশি। তাই বেশি দামে কেনা হয়েছে। এ জন্য বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’ অন্যান্য বাজারের ডিম ব্যবসায়ীরাও জানান, ডিমের দাম বেড়েছে। কাজী ফার্মসের ডিমের ডজন ১৮৫ টাকা।
বিভিন্ন বাজারের মাংস বিক্রেতারা জানান, গরুর মাংস রেট হয়ে গেছে, ৭০০ টাকা কেজি। এই দামেই সব ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন। আর খাসির মাংসও রেট করা। ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। এর কমে কেউ গরু-ছাগলের মাংস বিক্রি করতে পারবেন না। করলে তা লোকসান হবে।
তবে সামান্য কমেছে মুরগির দাম। কারওয়ান বাজারের ভাই-বন্ধু ব্রয়লার ও অতিথি ব্রয়লার হাউসের মুরগি বিক্রেতা এবং টাউনহল বাজারের প্যারাডাইস পোলট্রি হাউসের বিক্রেতারা জানান, এ সপ্তাহে পোলট্রির দাম ৫-১০ টাকা কমে ১৯০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকা। তবে আগের মতো দেশি মুরগি ৫০০-৫৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকার খাল-বিলের মাছের সরবরাহ বাড়লেও কমেনি মাছের দাম। আগের মতোই রুই-কাতলা মাছ আকারভেদে ২৬০-৫০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা, শিং ৫০০-৬৫০, মলা মাছ ৪০০-৫০০, বাইন ৪০০-৬০০, পাঙাশ ২০০-২৫০, তেলাপিয়া ২২০-২৫০, কৈ ২৫০-৪০০, ট্যাংরা ৪৫০-৭০০, মাগুর ৪০০-৬০০ ও ইলিশ মাছ আকারভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি। তবে বড় সাইজের ইলিশ মাছের কেজি আরও বেশি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা বলে বিক্রেতারা জানান।
মুগ ডালের কেজি ১৭০ টাকা
ভোটের আগে ছোলার দাম বেড়ে গেছে। তা কমেনি। সাদা ছোলা ১১০-১২০ ও কালোটা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ১১০-১৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও মুগ ডাল ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে বলে টাউনহল বাজারের আকাশ স্টোরের নিখিল জানান। তিনি আরও বলেন, মুগ ডালের হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। ১৭০ টাকা কেজি। আগের মতো খোলা চিনি ১৪০ টাকা, প্যাকেটেরটি ১৪৫ টাকা কেজি, দুই কেজি প্যাকেট আটা ১২০-১৩০ টাকা, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৮২০-৮৪৫ টাকা, দুই লিটার ৩৪০ ও এক লিটার ১৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।