তৃণমূলের রাজনীতি না করেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদ পেয়েছেন ড. সেলিম মাহমুদ। আর এই পদই একসময় তার টাকা বানানোর মেশিন হয়ে যায়। কারণ তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও দপ্তর সম্পাদক (সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী) বিপ্লব বড়ুয়ার সঙ্গে। এই সুযোগে তার যাতায়াত বাড়ে গণভবনে। সখ্য তৈরি হয় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে। একপর্যায়ে দলটির নির্বাচনি পরিচালনা কমিটি, গুজব মনিটরিং সেল, প্রচার কমিটিসহ একাধিক কমিটিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নতুন নতুন প্রজেক্ট তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতেন। কারণ নতুন প্রজেক্ট মানেই তার কাছে টাকা বানানোর রাস্তা।
এভাবেই নিয়োগ-বাণিজ্য, পদ-বাণিজ্য ও মনোনয়ন-বাণিজ্যের ভাগিদার হন সেলিম মাহমুদ। অবৈধ পথে কামান কয়েক শ কোটি টাকা। এই অবৈধ অর্থের বড় অংশই ওমান ও লন্ডনে পাচার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সেলিম মাহমুদ। নিজের এলাকা চাঁদপুরে একক আধিপত্য তৈরি করতে তিনি হেন কোনো পন্থা নেই যা বেছে নেননি। কিন্তু স্থানীয় নেতারা ‘হঠাৎ এই নেতা’র আধিপত্য মেনে নিতে পারেননি। তাই মতের মিল না হলেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে তিনি মামলা দিতেন।
আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও গণভবনের বাইরে কোনো কার্যক্রমে দেখা যায়নি সেলিম মাহমুদকে। রাত হলেই রাজধানীর অভিজাত ক্লাবপাড়ায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেনদরবার করতেন তিনি। গুলশান ও বনানী ক্লাবে সব সময় তার নামে রুম বুক করা থাকত। বিষয়টি তার স্ত্রীরও পছন্দ হতো না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
দেশে ও বিদেশে অঢেল সম্পত্তি
ড. সেলিম মাহমুদ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব আসে। একনেকের পর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়। এ অনুমোদন দিতে গিয়ে সেলিম মাহমুদের সিন্ডিকেটের ৩ হাজার কোটি টাকা কমিশন খাওয়ার একটি অভিযোগ আসে। এই টাকা দিয়ে তিনি ইউসিবি, সিটি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ডিরেক্টর হয়েছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে নামে-বেনামে বিল, ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আয় করেন। এর বাইরেও বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এমডি ও ডিরেক্টর পদে থেকে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা আয় ছিল তার। দেশের অভিজাত এলাকা বারিধারায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। রাজধানীর ধানমন্ডি, ৩০০ ফিট, গুলশানসহ একাধিক স্থানে ফ্ল্যাট, প্লটও রয়েছে তার।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে স্ত্রীসহ লন্ডনে ছিলেন সেলিম। দলটি ক্ষমতায় আসার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রয়াত এইচ টি ইমামের হাত ধরে আওয়ামী লীগে জায়গা করে নেন তিনি। এর পর থেকে নামে-বেনামে ব্যবসা করে আয়ের বড় অংশ লন্ডনে নিজের স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। ২০১৬ সালের পর লন্ডনে তিনি বাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সেলিমের শ্যালিকা ও তার স্বামী ওমানে থাকেন। সেখানে টাকা পাচার করে ব্যবসা গড়ে তোলেন। ওমানে এমপি সেলিম বড় মূলধন বিনিয়োগ করেছেন বলে চাঁদপুরের আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন।
নেতা-কর্মীদের ঠেকাতে দিতেন মামলা
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদ পাওয়ার পর এমপি হওয়ার বাসনা জাগে সেলিম মাহমুদের। এ কারণে নিজ এলাকা চাঁদপুরের কচুয়ায় যাতায়াত বাড়ান তিনি। এলাকায় ‘হঠাৎ’ নেতা হিসেবে পরিচিত পান। কেন্দ্রীয় নেতা হলেও কচুয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নিতে পারেননি। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঠেকাতে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের সঙ্গে নিয়ে নিজেই একটি বাহিনী তৈরি করেন। দলীয় নেতাদের মুখ বন্ধ করতে তাদের ‘আইসিটি’ আইনে মামলা দেওয়া শুরু করেন। কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দুবারের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ দলীয় ৫০ জন নেতা-কর্মীকে তিনি আইসিটি আইনে মামলা দেন।
এভাবে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয় লাভ করেন ড. সেলিম। এরপর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার অত্যাচারে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২০ জন নেতা ও ১৩ জন ব্যবসায়ী বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হন। পাড়ার চায়ের দোকানে তার বিরুদ্ধে কেউ টুঁ শব্দ করলেও রাতে তার বাড়িতে পুলিশ পাঠাতেন সেলিম মাহমুদ। তবে এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকায় পুলিশ প্রটোকলে চাঁদপুরে যেতে হতো তাকে। পুলিশ সঙ্গে না নিয়ে তিনি সভা-সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা ভাবতেও পারতেন না।
তার মামলা ও হামলার শিকার হওয়া ছয়জন দলীয় নেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সেলিমের করা মামলায় ছয় মাস জেল খাটেন নৌকার মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান ও কচুয়ার দুবারের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান শিশির। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘সেলিম মাহমুদ আমাদের এই আসনের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার বদলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। নিজের অনুসারী বাড়াতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের আওয়ামী লীগের কমিটিতে জায়গা দিয়েছেন। কেউ তার বিরোধিতা করলেই আইসিটি মামলা দিতেন।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫০ জন নেতা-কর্মীর নামে তার করা মামলা চলমান রয়েছে। তার কথায় না চলায় আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিষ্কারও করেছেন সেলিম মাহমুদ। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে পদ ফিরে পেয়েছি।’
সেলিমের রোষানলে পড়ে মামলা ও হামলার শিকার হন চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ইব্রাহীম খলিল। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সেলিম মাহমুদ আমাকে ২০১৮ সালে ফোন করে চাঁদপুর-১ আসনে তার অনুসারী হয়ে রাজনীতি করতে বলেন। আমি বলেছিলাম, আপনার রাজনীতি মানে? আমি তো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। জবাবে সেলিম মাহমুদ আমাকে বলেছেন, এই এলাকায় রাজনীতি করতে হলে আমার রাজনীতি করতে হবে। এখন ওবায়দুল কাদের আর সেলিম মাহমুদের যুগ! আমার রাজনীতি না করলে সে রাজনীতিও করতে পারবে না, এলাকায়ও থাকতে পারবে না। আমি তার ব্যক্তিরাজনীতি করতে অস্বীকার করি। এরপর শুরু হয় আমার ও আমার পরিবারের ওপর নির্যাতন।’
খলিল বলেন, “আমার এবং আমার ছোট ভাই শরিফের নামে কোনো কারণ ছাড়া মামলা দিয়ে রাতে তার ক্যাডার বাহিনী ও পুলিশ পাঠাতেন। আমি তখন ‘নাভানা গ্রুপে’ কাজ করতাম। সেলিম মাহমুদ একদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়াকে নিয়ে আমার অফিসে হাজির হয়ে ওপরে চাপ দিয়ে আমার চাকরিটা খেয়ে দেন। সবার দ্বারে দ্বারে গিয়েও কোনো বিচার পাইনি। এখন আমরা ঠিকই মাঠে আছি, সেলিম মাহমুদ ও বিপ্লবরা পালিয়ে গেছেন।”
মাদক সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখল
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দূরে ঠেলে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে টানেন সেলিম মাহমুদ। তিনি কচুয়া উপজেলায় সাচার ইউনিয়নে চিহ্নিত মাদক কারবারি মনিরকে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। ক্রমে ক্রমে সেলিম মাহমুদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন মনির। এর ফলে নিরাপদে তার মাদক ব্যবসা চালানোর বিনিময়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের অর্থ সেলিমের পকেটে যেত। এ ছাড়া স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী লাদেল, ভুষ, সাদ্দাম এদের দিয়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, কচুয়া এলাকার সাচার ইউনিয়ন মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। তাদের ভয় দেখাতেন মাদক ব্যবসায়ী ও তার অনুসারীরা। সেলিমের কথা বলে চাঁদা নিতেন তারা। চাঁদার ভাগ পেতেন সেলিমও।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির সঙ্গে মিলে বালুখেকো সেলিম খানকে দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করাতেন সেলিম মাহমুদ। চাঁদপুরে দীপু মনি ও সেলিম মাহমুদ একটা সিন্ডিকেট ছিলেন বলে জানা গেছে। বালুখেকো সেলিমকে দিয়ে তারা নদীর আশপাশের কয়েক একর জমি দখল করান। বালু উত্তোলনের টাকা দীপু মনি ও সেলিম সমান ভাগ পেতেন। বালুখেকো সেলিমের অবৈধ অর্থের বড় অংশ দীপু মনি ও সেলিমের পেছনে ব্যয় হতো। বিনিময়ে বালুখেকো সেলিমকে প্রশাসনিক সব সুবিধা দেওয়া হতো। গত ৫ আগস্ট বালুখেকো সেলিম ও ও তার ছেলে শান্তকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ছাড়া কলেজের নামে ভূমি দখল করেছেন এমপি সেলিম। কচুয়ায় পালাখাল ডিগ্রি কলেজটি নিজের বাবার নাম ব্যবহার করে ‘পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ’ নাম করেন তিনি। কলেজের পাশে থাকা জমিটিও কলেজের নাম ব্যবহার করে দখল করেন তিনি। ওই জায়গায় ভবন না তুলে মাছ চাষ শুরু করেন। এ ছাড়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তিন মাস আগে নিজের এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেন সেলিম। নামে-বেনামে এলাকায় ভূমি দখল করে মার্কেট গড়ে তোলেন তিনি।
মনোনয়ন-বাণিজ্য ও অর্থের বিনিময়ে পদ
মানব পাচার করে পাওয়া অর্থ এবং প্রবাসীদের উপার্জনের টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন জালিয়াতি ও ভিসা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের বিতর্কিত সাবেক এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সেলিনা ইসলাম এমপি। স্বামী-স্ত্রী এমপি হওয়ার পেছনে সেলিম মাহমুদের বড় অবদান রয়েছে। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ পাপুলের পক্ষে কাজ করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। তবে পাপুলের সঙ্গে ৫ কোটি টাকায় সমঝোতা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ নোমান। কারণ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নোমানের পক্ষে কাজ না করার ঘোষণা দেন। আর এই প্রেক্ষাপট তৈরি করেন পাপুল নিজে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিজের পক্ষে টানতে লক্ষ্মীপুর জেলার দলীয় সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঙ্গে পরামর্শ করেন পাপুল। নয়ন পরামর্শ দেন, দলীয় নেতাদের যদি পাপুলের জন্য কাজ করতে হয় তাহলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি চিঠি প্রয়োজন। সুযোগটা হাতে এলে পাপুল কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা সেলিম মাহমুদ ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার শরণাপন্ন হন। তখন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন ড. সেলিম মাহমুদ। আর ওই কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন এইচ টি ইমাম। এই সুযোগে সেলিম মাহমুদ ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে পাপুলের পক্ষে নেতা-কর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় দলীয় চিঠি পাঠান। টাকার ভাগাভাগি হয় সেলিম ও বিপ্লবের মধ্যে। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সেলিম মাহমুদ। আওয়ামী লীগের দলীয় চিঠিতে তার স্বাক্ষর করা নিয়মের বাইরে ছিল। ওই সময় সেলিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সম্মতিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাপুলের স্ত্রীকেও এমপি বানানোর জন্য টাকা নিয়েছেন সেলিম ও বিপ্লব।
১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে চাঁদপুর-১ আসন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় আটজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য ওবায়দুল কাদেরের কাছে সরাসরি তদবির করেন সেলিম মাহমুদ। প্রত্যেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে ‘ইউনিয়নের গুরুত্ব অনুযায়ী ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছেন সেলিম। পৌরসভা মেয়রপ্রার্থী নাজমুল আলম স্বপনের জন্য ওবায়দুল কাদেরের কাছে বিপ্লব বড়ুয়াকে দিয়ে তদবির করান সেলিম মাহমুদ। স্বপন ৪০ লাখ টাকা নিয়ে চট্টগ্রামে বিপ্লব বড়ুয়ার বাসায় যান। সেখানে বিপ্লব বড়ুয়া স্বপনকে মেয়র নির্বাচন করতে নৌকার মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে বিনিময়ে সেলিম মাহমুদের পক্ষে কাজ করার জন্য স্বপনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।
জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে গোয়েন্দা প্রতিবেদন কোন নেতার পক্ষে দেওয়া হবে, তাও বিপ্লব ও সেলিম ঠিক করতেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকে মনোনীত ব্যক্তির নাম দপ্তরে জমা পড়ার পর বাদ দেওয়া বা অন্য নাম সংযোজন করার কাজও করতেন এই দুই নেতা। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে ওবায়দুল কাদেরের কাছে সরাসরি তদবির করেন সেলিম ও বিপ্লব।
আওয়ামী লীগের উপকমিটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিএনপি-জামায়াতের নেতারা পদ পেয়েছেন ড. সেলিম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে। কমিটির অন্য নেতাদের অভিযোগ, সেলিম মাহমুদ তৃণমূল রাজনীতি না করায় তার কর্মী নেই এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গেও সম্পর্কও তার কম। তাই নিজের অনুসারী তৈরি করতে সুবিধা ও অর্থের বিনিময়ে উপকমিটিতে অনুপ্রবেশকারীদের পদ দিয়েছেন সেলিম মাহমুদ।