শেখ হাসিনা সরকারের পতন-পরবর্তী অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছিল সরকারের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়েও। ৫ আগস্টের পর সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত অনেক আমলা আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ পাড়ি দেন বিদেশে। অন্যদিকে সুবিধাবঞ্চিত ও উপেক্ষিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দাবি আদায়ে মাঠে নেমে পড়েন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সচিবালয় অস্থির করে তোলে বাইরের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। এদের মধ্যে আনসার বাহিনী, সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিছু শিক্ষার্থীর ‘অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সচিবালয় বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তবে পদোন্নতি, পদায়ন, বদলিসহ সংস্কারমূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পর চার মাসের মাথায় পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে ভয়ংকর এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই সুযোগে সরকার-সমর্থকদের কিছু বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব সচিবালয়ে পড়ে। সরকারি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সুবিধাভোগী অনেক কর্মকর্তাই আত্মগোপনে চলে যান। তাদের অনেকে, এমনকি সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা দেশত্যাগ করেন। আবার কয়েকজন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে আত্মগোপন করেন।
তবে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে সরকারকে। কারণ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই সরকারের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাসহ কর্মচারীরা চাকরিকালে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার- এমন দাবি করে সচিবালয়ের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনে বাদ যায়নি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও।
এসব আন্দোলনের মধ্যে ২৫ আগস্ট চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন আনসার সদস্যরা। একপর্যায়ে দুপুরে সচিবালয়ে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারী আনসারদের একাংশ।
সদ্য ক্ষমতায় আসা সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পর্যায়েই সচিবালয়ে বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির দাবি, বেতন বাড়ানোর দাবি, পদায়নের দাবিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একমাত্র সংগঠন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ বিগত সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত-সাময়িক বরখাস্ত ও অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদের মতো পাওনা ফেরত, বিভিন্ন ক্যাটাগরির পদ সংরক্ষণ, পদনাম পরিবর্তন, নতুন পে-কমিশন গঠনসহ ৯ দফা দাবি দিয়েছে সরকারকে।
এরই ধারাবাহিকতায় সচিবালয়ের আশপাশে বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবিদাওয়া নিয়ে মিছিল-মিটিং বন্ধ করার আদেশ জারি করে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ও সহযোগী অভিযোগ করে শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) নিয়োগ দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রাখে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান চালানোর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ২৫ বছর চাকরি পূর্তির নামে ৭ জন সিনিয়র সচিব ও সচিবকে অবসরে পাঠিয়ে দেয়। ১৯ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদের কর্মকর্তাকে ওএসডি, ৩ সিনিয়র সচিবের দপ্তর বদলের পাশাপাশি ২২ জন বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনে নিয়োগ দেয়।
তা ছাড়া চলতি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত গত সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বদলিসহ নতুন করে ৬১ জেলার ডিসি পদে উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নিয়োগদান করে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৮৭ জন অতিরিক্ত সচিবের দপ্তর বদল করে পদায়নসহ ১৩৫ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি, ২০৫ জন উপসচিব পদের কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি এবং ১২৭ জন সিনিয়র সহকারী সচিব পদের কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে।
এ ছাড়া প্রশাসনের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তাকে সিনিয়র সচিব থেকে উপসচিব ও উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে পদোন্নতির জন্য খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করে রেখেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
তবে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ের এই প্রস্তুতি নিতেও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে সরকারকে।
প্রশাসনে কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে ও শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে জানানো হয়, এ সময় ৭৬৮ জনকে পদোন্নতি, ১০১ জন কর্মকর্তার চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ বাতিল, ১ হাজার ৮৭০ জন কর্মকর্তাকে বদলি, ৮০ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
এ সময় প্রশাসনের চারজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, সাতজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করাসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্পাদিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম উল্লেখ করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে।
তাতে বলা হয়েছে, বিগত তিন মাসে (আগস্ট-অক্টোবর) সিনিয়র সচিব/সচিব পদে ১২ জনকে, গ্রেড-১ পদে ৩ জনকে, অতিরিক্ত সচিব পদে ১৩৫ জন, যুগ্ম সচিব পদে ২২৬ জন, উপসচিব পদে ১২৫ জন, অন্যান্য ক্যাডারে ২২১ জন, সিনিয়র সহকারী সচিব (নন-ক্যাডার) পদে ৯ জন এবং সহকারী সচিব (নন-ক্যাডার) পদে ৩৭ জনসহ সর্বমোট ৭৬৮ জনকে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার।
এ সময় সিনিয়র সচিব ও সচিব পদের ৪৩ জনের, গ্রেড-১ পদের ১১ জনের, অতিরিক্ত সচিব পদের ১৩৭ জনের, যুগ্ম সচিব পদের ১৭৩ জনের, উপসচিব পদের ৩৯১ জনের, বিভাগীয় কমিশনার ৪ জনের, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ৩ জনের, জেলা প্রশাসক ৫৯ জনের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ১১৮ জনের, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদের ১৬৫ জনের, সিনিয়র সহকারী সচিব/সহকারী সচিব পদের ৪১৪ জনের, সিনিয়র সহকারী কমিশনার/সহকারী কমিশনার ৮৩ জনের, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ১২৬ জনে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট/আইন কর্মকর্তা/মেরিন সেফটি অফিসার ৩৯ জনের, উপপরিচালক/পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ১৮ জনের, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী ৩০ জনের, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার ১৮ জনের, চার্জ অফিসার ৬ জনের, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ১৯ জনের, ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার ৩ জনের, অন্যান্য ১০ জনেরসহ সর্বমোট ১ হাজার ৮৭০ জনের দপ্তর বদল করা হয়েছে।
বিগত তিন মাসে ৪ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানসহ সহকারী সচিব থেকে সিনিয়র সচিব/সচিব পর্যায় পর্যন্ত ৮০ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। একই সময়ে ১০১ জন কর্মকর্তার চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ বাতিলসহ ৬৫ জনকে রাষ্ট্রীয় (যেমন- রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, বিভিন্ন সংস্থার চেয়ারম্যান, হাসপাতালসমূহের ডাক্তার, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ইত্যাদি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তা ছাড়া গত তিন মাসে ৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্পাদিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে প্রশাসনের (২০০৯-২০২৪ সাল) ৪ আগস্ট পর্যন্ত চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ, পদোন্নতিবঞ্চিত বা অন্য কোনোভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, এমন কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ‘পদোন্নতি বঞ্চনা নিরসন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কার-সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের মতামত সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহিদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করা, আহতদের চিকিৎসা এবং তাদের পরিবারবর্গকে সহায়তা দেওয়ার জন্য গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলের প্রধান হবেন একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ৪ জন উপসচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি দুই দিন করা হয়েছে। আগে এই ছুটি ছিল এক দিন। ঈদুল ফিতরের ছুটি পাঁচ দিন এবং ঈদুল আজহার ছুটি ছয় দিন করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে। বৈদেশিক সরকারের অর্থায়নে জাপানে ১ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৫ জন, চীনে ২ জন কর্মকর্তাসহ একই সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০৭ জনকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, এসিএডি কোর্সে ২৭ জন, পিপিএমসি কোর্সে ১৭ জন ও এসএসসি কোর্সে ৩০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া আইন ও প্রশাসন কোর্সে ১৫০ জন, সার্ভে অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোর্সে ১৮০ জন এবং এসডিপিএম কোর্সে ২০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো চলমান রয়েছে। ৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৪ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি ৪৭তম বিসিএসে ৩ হাজার ৪৬৭টি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়কে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বলা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষায় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ‘চারবার’ অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ডিজিটাল ডেটাবেজ হালনাগাদ করা হয়েছে। সমন্বিত সার্ভিস দিতে সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সব আইন, বিধি, নীতিমালা, পরিপত্র ও নির্দেশিকাসমূহের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রশাসনে পরিবর্তন ও সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, তার প্রধান লক্ষ্য জনপ্রশাসনে আমূল সংস্কার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিও প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে একগুচ্ছ সুপারিশ জমা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে, যেসব দাবির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত অবস্থানও অনেকটা মিলে যায়। এখন নতুন বছরে দেখার অপেক্ষা, প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ২০২৫ সালের নির্বাচনের আগে দেশের জনপ্রশাসনে পরিবর্তন ও সংস্কারের কতটা কার্যকর করা সম্ভব হবে।