শীতের ভরা মৌসুমে সারা দেশে খেত থেকে সবজি উঠেছে। খুবই সহজেই অল্প সময়ের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে তা পৌঁছে যাচ্ছে। এ জন্য আলুসহ অধিকাংশ সবজির দামও কমেছে। দুই মাস আগে আলুর কেজি ছিল ৭০ টাকা। বর্তমানে ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। বেগুনের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। ১২০ টাকার বেগুন বর্তমানে ৫০-৬০ টাকা কেজি। ১৬০-২০০ টাকার টমেটো ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে ভোক্তারা কিনতে পারছেন। ৪০-৫০ টাকা ফুলকপির পিস ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় একই দাম বাঁধাকপির। ১০০-১২০ টাকার শিম ৩০-৫০ টাকায় নেমেছে। এভাবে অধিকাংশ সবজির দাম অর্ধেকে নেমেছে। গতকাল সোমবার বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পথে সবজি বহনকারী ট্রাকে চাঁদাবাজি না হলে ঢাকায় ভোক্তারা আরও কম দামে সবজি পাবেন। কারণ ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় অনেক কম দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে।
সার্বিক ব্যাপারে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার খবরের কাগজকে বলেন, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি না হওয়ায় এবার সারা দেশে প্রচুর সবজির উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না। এটা সরকারের দেখা দরকার। দেশের সব জায়গা থেকে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রচুর সবজি আসছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহও বেশি হচ্ছে। এ জন্য দামও অনেক কমেছে। কোনো কোনো সবজির দাম গত দুই মাসের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমেছে। পথে ঝামেলা না থাকলে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে আরও কম দামে সব বিক্রি করা যেত। ভোক্তারাও কম দামে খেতে পারতেন।
দামের ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখন সবজির ভরা মৌসুম। সব সবজির দাম কমেছে। এ জন্য ভোক্তারা কম দামে খেতে পারছেন। অনেক সবজির দাম অর্ধেকে নেমেছে। তবে সিজন না হওয়ায় করলা, পটোলের দাম বাড়তি।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বেগুনের কেজি ছিল ৮০-১২০ টাকা কেজি। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ১০০-১২০ টাকার শিম ৩০-৫০ টাকায় নেমেছে। ৪০-৫০ টাকার কপির পিস ২৫-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও কমেছে। দুই মাস আগে ১৩০-১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে।
শাকের দামও কমেছে। নভেম্বরে পুঁইশাকের আঁটি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা কমে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০-২৫ টাকা আঁটি লালশাক, পালংশাক, কলমি ও পাটশাক বর্তমানে ১০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। একসঙ্গে কয়েক আঁটি কেনা হলে আরও কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। গাজরের দামও অর্ধেকে নেমেছে অর্থাৎ ১৫০ টাকার জায়গায় ৬০ টাকায় নেমেছে। তবে ১২ মাসে পাওয়া যায় এমন সবজি আগের মতোই পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫০-৭০ টাকা, লাউ, চালকুমড়ার পিস ৪০-৫০ টাকা, বরবটি, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৌসুম না হওয়ায় ৫০-৭০ টাকার টাকা পটোল ১৬০ টাকায়, ৮০ টাকার করলা ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
কয়েক মাস আগে বিভিন্ন অজুহাতে আলুর দাম ঠেকানো যায়নি। নভেম্বরে ৭০ টাকা কেজি ভোক্তাদের কিনতে হয়েছে। তবে নতুন আলু ওঠায় বর্তমানে দাম কমে কেজি ৫০ টাকায় নেমেছে। দুই মাস আগে পেঁয়াজের দামও ছিল চড়া। মৌসুম শেষের অজুহাতে বিভিন্ন মোকামের পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দেন। এর প্রভাব পড়ে রাজধানীতে। বিভিন্ন বাজারে নভেম্বর মাসে তা ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এরপর সরকার আমদানি শুল্ক কমালে এবং নতুন করে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে থাকলে একটু স্বস্তি ফিরে আসে। গতকাল বিভিন্ন বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয় বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা অলি আহমেদসহ অন্য বিক্রেতারা বলেন, আগে বেশি দামে বিক্রি হলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ওঠায় দামও কমছে। বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই রসুন ২২০-২৪০ টাকায় ও আদা ১৩০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা ১৪০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা কেজি, মসুর ডাল ১১০-১৩৫ টাকা, ২ কেজি ওজনের প্যাকেট আটা ১০০-১৩০ টাকা, খোলা আটা এক কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা, চিনি ১২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।