এগিয়ে আসছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির বিশেষ দিনটি। তবে দেশে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের জনগোষ্ঠীর অনেকের মধ্যে কেউ কাউকে না মানার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে সামাজিক বিশৃঙ্খলাও কিছুটা বেড়ে গেছে। গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিরোধ এবং তাদের ভেতরকার অস্থিরতা এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের সুযোগে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্কার, নির্বাচন ইস্যুও জটিলতার আবর্তে পড়েছে। এই সরকারের পুরো সময়ে অফিস-আদালত, আইনশৃঙ্খলা, ট্রাফিক ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ যৌক্তিক-অযৌক্তিক দাবি আদায়ের চেষ্টা ছিল। সরকার অনেক কিছু সামাল দিলেও এখনো ঘটে চলেছে নানা ঘটনা। এতে দেখা দিচ্ছে অস্থিতিশীলতা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি যখন স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যায় তখনই এই ধরনের অস্থিরতা লক্ষ করা যায়। বাংলা একাডেমির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ফজলুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশ এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গেছে। সামনে কী হয়, দেখার বিষয়! আইনশৃঙ্খলা তো রক্ষা করতে হবে। তা না হলে জনজীবন অনিশ্চিত হয়ে যাবে। মানুষ চলাফেরা করতে পারবেন না। কষ্টে পড়বেন। উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব আছে। মানুষ চলাফেরা করতে গিয়ে যদি নিরাপদ বোধ না করেন, মানুষের মনে যদি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়, তাহলে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও র্যাবের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। মানুষ যাতে সুশৃঙ্খল থাকেন সে জন্য রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সাধারণ মানুষ নিজের অস্তিত্বের মধ্যে নড়াচড়া করেন। টাকা ছড়িয়ে সন্ত্রাসী দিয়ে উৎপাতের শাসন জনগণ চান না। নির্বাচন দেওয়াটাই ভালো। না দেওয়ার ফল খারাপ হবে।’
অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নানা উৎসকে টার্গেট করে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে অর্থ আয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগেছে। এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। পেশাজীবীদের কেউ কেউ ভালো জায়গায় চাকরি বা পদায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন। ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লবিংয়ে। তারা বলছেন, গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের আমলে তারা বঞ্চিত ছিলেন। এ কারণেও মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা এসব ঘটনাকে মানুষের মনোজগতের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, দেশের অনেকের মধ্যেই এমন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে, এখন তিনি স্বাধীন। তার যা ইচ্ছা পাওয়ার বা অর্জন করার অধিকার তৈরি হয়েছে। এসব কারণে কিছু জায়গায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা ঘটছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রেজাউল করিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইনের শাসন না থাকলে এ রকম হয়। মানুষের মনোজগতে যে পরিবর্তন এসেছে তা হলো, অপরাধ করলে কিছু হবে না। অপরাধ করে সহজেই পার পাওয়া যাবে। এর নানা দিক আছে। অনেকে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকার বেশি দিন থাকবে না। তারা শাস্তি দিলেও পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের সময় সব ঠিক করে ফেলব। আগে মানুষ স্বাধীনভাবে তার মতপ্রকাশ করতে পারেননি। এখন এই স্বাধীনতা পেয়ে অনেকে অন্যায়ভাবে এর অপব্যবহার করছেন।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ নিজেকে সুপিরিয়র ভাবছে। ইন্টেরিম সরকারকে পাওয়ারফুল মনে না করা, গুরুত্ব না দেওয়া, এসবই তাকে সুপিরিয়র ভাবাচ্ছে। আমাদের দেশে যদি আইনের শাসন থাকত, তাহলে কেউ এ রকম অপরাধ করার সাহস করত না। মূল্যবোধের অনেক অধঃপতন হয়েছে।’
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর্যালোচনায় দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে দেশের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সরকারি বিভিন্ন বিভাগ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বেশ সময় লাগে। প্রথম দিকে পুলিশের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। বিগত সময়ে বিভিন্ন অপরাধের কারণে পুলিশের ওপর জনগণের ক্ষোভ ছিল। অনেক স্থানে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
সেই সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ হয়েছে। আনসাররা সচিবালয় অবরুদ্ধ করেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা স্থগিত পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আন্দোলন করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে সে দাবিও মানা হয়।
সর্বশেষ দেখা গেল সরকারি চাকরি বিধিমালা নিয়ে সচিবালয়ের কর্মচারীরা নজিরবিহীন আন্দোলনে নামলেন। বিক্ষোভ-মিছিল, সমাবেশ কর্মসূচি ছিল অনেকটা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার মতো। একে চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলছেন বিশ্লেষকরা। সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে ভিন্ন পথ খোঁজার চেষ্টা করা হলো। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন ছিল নিয়মিত চিত্র। শিক্ষা প্রশাসনেও ছিল অস্থিরতা। জিম্মি করেও নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি নেন অনেক কর্মকর্তা।
আদালত প্রাঙ্গণেও আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চট্টগ্রামে মবের মাধ্যমে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে। এ ছাড়া বিচারকদের পদত্যাগের দাবি, আসামি হেনস্তাসহ অনেক নিয়মবহির্ভূত কাজ হয়েছে।
গণপরিবহনকে যেন কোনোভাবেই শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যাচ্ছে না। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি গোলাপি বাসের নামে নতুন একটি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়। নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে টিকিটের মাধ্যমে যাত্রী হয়রানি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এটি চালু করা হলে বাসচালকরা কোনো ঘোষণা না দিয়ে রাস্তায় বাস নামাননি। অনেকটা ধর্মঘটের মতো ঘটনা ঘটল। জনসাধারণকে ভোগান্তিতে পড়তে হলো। অথচ সার্ভিসটি চালু করা গেলে জনগণই উপকৃত হতেন। যত্রতত্র যাত্রী তোলার কারণে সৃষ্ট যানজট থেকেও মুক্তি মিলত। র্যাপিড পাস ব্যবহার করে সহজেই ভাড়া পরিশোধ করা যেত। কিন্তু নির্দেশ কিংবা আইন না মানার কারণে এটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা তো কোনো নিয়মনীতিরই তোয়াক্কা করছেন না। তারা এখন বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার কাউকে পাত্তা দেন না।
চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রধান সড়কে এই রিকশা বন্ধ করা যায়নি বা বন্ধ করার উদ্যোগ থেমে গেছে। চালকরা যেমন খুশি তেমন চলছেন। কোনো কোনো সড়কে রিকশার প্রবেশ ঠেকাতে ফাঁদ বসানো হলেও সেটিও কার্যকর হয়নি। বরং ওই ফাঁদে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলচালকরা আটকে যাচ্ছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা মিটারের চেয়ে বেশি ভাড়া নিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছিল বিআরটিএ। কিন্তু অটোরিকশাচালকরা সড়ক অবরোধ করা শুরু করলে সেই নির্দেশনাও বাতিল করতে হয়।
সংস্কার নিয়ে এনবিআরের কর্মকর্তারা নজিরবিহীন আন্দোলন করেন। যুদ্ধাবস্থা ছাড়া বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার রেকর্ড ছিল না। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন করেন কর্মকর্তারা। সরকার কঠোর হয়ে পরে সেই আন্দোলন দমন করে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিল নজিরবিহীন অস্থিরতা। অভ্যুত্থানে ছাত্রদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকায় তার প্রভাব পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অভ্যুত্থানের বিরোধিতা কিংবা সরাসরি হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা তোপের মুখে পড়েন। বয়কট করা হয় তাদের। অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘটে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন, ছাত্ররাজনীতিসহ নানা ইস্যু নিয়ে এখনো বিভিন্ন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে আছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেও একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। পরীক্ষায় ফেল করে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অরাজকতা তৈরি করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছে।
মব কিলিংয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ৯ জুলাই মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর নৃশংসভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে লাশের ওপর উঠে উল্লাস করেন দুষ্কৃতকারীরা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে রাজনৈতিক খুনের সংখ্যা ৬৫ জন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা দুর্বল হয়ে গেছে। যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না সরকার। অনেক মনে করছেন, অপরাধ করলে আইনের আওতায় আনা হবে না। এই মোটিভেশনের জায়গা থেকে পরম্পরাগতভাবে তারা ভায়োলেন্স করে যাচ্ছে। এর ফলাফল কী হতে পারে, বিবেচনা করছে না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা যদি দুর্বল হয় তখন এমনটা ঘটে। সরকারের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল তা তারা পূরণ করতে পারেনি। এর কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। সামাজিক-রাজনৈতিক অবক্ষয় অনেক বেড়ে গেছে, সেদিকে রাষ্ট্র নজরই দিচ্ছে না। সমাজব্যবস্থায় দরকার ছিল মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। কিন্তু অনেক কারণে তারা তা পারেনি।। অসহযোগিতাও ছিল। মূলত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় একাত্তরের পরে যেটা হয়নি, এখন তার দরকার ছিল। সংস্কার নয়, আমূল পরিবর্তন।
শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলাও বাড়ছে। পরিবারগুলোতে অশান্তি বাড়ছে। ছোটরা বড়দের মান্য করছে না। অসম্মান করছে। সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও অসামাজিক আচরণ দেখা যাচ্ছে। শিক্ষকদের নাজেহাল করছে ছাত্ররা। অপমানিত করছে। জোর করে পদত্যাগের ঘটনা ঘটিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানের উচিত নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা। কোড অব কন্ডাক্ট অনুসরণ করা। আমাদের দেশের বড় একটা অসুবিধা হচ্ছে, আমরা স্বাধীনতাকে মনে করি যা ভালো লাগে তা-ই করা। সেটা স্বাধীনতা নয়। নিয়ম মেনে চলাই স্বাধীনতা। সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেন যথাযথভাবে কাজ করে।’
সালমা আক্তার বলেন, ‘মিডিয়াকে কাজে লাগাতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগাতে হবে। সেখানে ইস্যুগুলো নিয়ে প্রচুর আলোচনা করতে হবে। তাহলে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। যেটা করছেন সেটা যেন গোছানোভাবে করা হয়। সেটাই হবে সবার জন্য ভালো। সোসাইটির জন্য ভালো। আমরা যে পরিবর্তন চাই তার জন্যও এটা করা জরুরি।’
সার্বিক বিষয়ে সমাধান হিসেবে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ইলেকশন শিডিউল ঘোষণা করা ভালো। ইলেকশন কীভাবে করা হবে এ-সংক্রান্ত কিছু বিধিবিধানের পরিবর্তন দরকার। তবে বেশি পরিবর্তন করলে সমস্যা হবে। নির্বাচিত সরকার এসে যেন ভালো কাজ করে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করে যেতে হবে।’
অধ্যাপক আবুল কাসেম বলেন, ‘আমাদের ভালো নির্বাচন হয় না। এখন বাংলাদেশে যা ঘটছে তা আইনি শাসনের দিক থেকে খুব দুর্বল। মানুষের মধ্যে অনিরাপত্তাবোধ কাজ করছে। উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যারা আইন অমান্য করে তাদের সংখ্যা বেড়েছে। জেলা, উপজেলা লেভেলেও দুষ্কৃতকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার, আমাদের গোটা পুলিশ, স্টাফ তাদের মধ্যেও অনিরাপদবোধ আছে। এর ফল ভালো হচ্ছে না।’