ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়ামের সামনে সংগঠিত ইরান ২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কুকুরেইয়ার ‘জেগে ওঠার ডাক’ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আইভরি কোস্টকে হারাল জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ে যে দলকে এগিয়ে রাখলেন ইব্রাহিমোভিচ দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ২৩২০ কোটি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৮ এএম
আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৯ এএম
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ২৩২০ কোটি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। প্রকল্প দপ্তর এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নানা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ব্যয় বৃদ্ধির ওই তথ্য পাওয়া গেছে। আইএমইডি বলছে, প্রকল্পের নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে।

এদিকে ওই প্রকল্পে ১৬ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও প্রকল্পে নিয়োজিত দেশীয় ঠিকাদারকে নানা অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। 

২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত নির্মাণ কাজের লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ শতাংশ নির্ধারণ করা ছিল। তবে বাস্তবে অর্জিত হয়েছে ৫৫ শতাংশ। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, বিলম্বের জন্য প্রকল্প ব্যয় বাড়বে যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় বোঝা হতে পারে। 

তিন বছরে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়। তখন প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুন মাসে এই প্রকল্প শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। পরে ডিপিপি সংশোধন করা হয় এবং প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে নির্ধারণ করা হয়। তখন মূল প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে ৬৫১ কোটি টাকা বেড়ে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায়। 

আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, গত তিন বছরে এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্পের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি পরিসঞ্চালন লাইন স্থানান্তর (ইউটিলিটি শিফটিং) করতে এখন ৫১৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে বলে খবরের কাগজকে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। 

এ ছাড়া ডলার বিনিময় হার পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলেছে প্রকল্প ব্যয়ে। অনুমোদিত মূল ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রাইস কন্টিজেন্সি ছিল ৬৩৭ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায় ৬৩৮ কোটি টাকা। (অপ্রত্যাশিত খরচ বৃদ্ধি বা দামের পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রকল্প চুক্তিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ থাকে, যা হলো প্রাইস কন্টিজেন্সি)। 

মূল উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণ করতে বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা, সংশোধনের পরে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪২২ কোটি টাকায়। এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৩১ কোটি টাকা।

র‌্যাম্প নির্মাণ করতে ৩৩ কোটি টাকা এবং ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে ১১ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে মূল ডিপিপিতে সংস্থান রাখা হয়েছিল ৬৪৬ কোটি টাকা। পরে এ খাতে ব্যয় বাড়ে ৪৩ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণ করতে ব্যয় বেড়েছে ২০ কোটি টাকা। টোল প্লাজা নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা এবং ট্যাক্স বা ভ্যাট পরিশোধে ৪০৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে। 

ঢাকা-আশুলিয়া উড়াল সড়ক প্রকল্পটি সরকার-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে চুক্তি হয় ২০১৫ সালে। ২০২১ সালে চায়না এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ২০২২ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হয়। ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর থেকে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। 

অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্কের দুটি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। তারা প্রকল্পের ঠিকাদারি কার্যক্রমের জন্য প্রাথমিক দর দিয়েছিলেন ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা। তবে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি তাদের প্রাক্কলিত দর দিয়েছে ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। সে হিসেবে সিএমসির প্রাথমিক দর অনুমানের চেয়ে ১০৮ কোটি টাকা বেশি। সবশেষে নানা আলোচনার পর প্রকল্পের কারিগরি কমিটি সব ভ্যাট বা কর বাদ দিয়ে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা দর নির্ধারণ করেছে।

বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট অডিট অধিদপ্তর বলেছে, চুক্তির শর্ত মোতাবেক প্রকল্পের নকশা ও প্রকল্প কার্যক্রম নজরদারির ওপর কোনো মূল্য সমন্বয় করে ঠিকাদারকে দেওয়া যাবে না। কিন্তু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে সেই অর্থ ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে। প্রাক্কলন মূল্য থেকে অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে চুক্তি করা হয়েছে বলে বৈদেশিক সংস্থাটি অডিট আপত্তিতে জানিয়েছে। 

অতিরিক্ত ৫১৬ কোটি টাকা চেয়েছে সেতু বিভাগ 
এ বছরের জুলাই মাসে সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ৫১৬ কোটি টাকা চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। সেতু বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনকে জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে এই অর্থ না পেলে ৯ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ থমকে যেতে পারে। এতে নির্মাণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে পারে।

তবে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি অর্থবছরে এই প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া নির্ধারিত অর্থ যথাসময়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তারপরও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্প কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে নির্মাণ কাজ যথাযথ গতি পায়নি। প্রকল্পের অবকাঠামোগত ৫৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেসব কাজেও বিস্তর অনিয়মের চিত্র আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

প্রকল্পের জন্য ঢাকা ও গাজীপুর জেলার কিছু অংশে এখনো ১০ দশমিক ১৬৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ বাকি রয়ে গেছে। ঢাকা ও গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রকল্প কর্মকর্তাদের দেনদরবার চলছে এ নিয়ে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পল্লি বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওয়াসা এবং তিতাস গ্যাসের সঙ্গেও ইউটিলিটি স্থানান্তর নিয়ে নানা জটিলতা আছে। এসব প্রতিষ্ঠান ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজে মোটা অঙ্কের বিল দাবি করেছে। তবে প্রকল্পের এই খাতে কোনো অর্থের সংস্থান রাখা হয়নি। অন্য খাত থেকে টাকা এনে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রকল্প কর্মকর্তাদের। এতে উড়াল সড়ক এখনো দৃশ্যমান হয়নি। 

১৬ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকার অডিট আপত্তি 
বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর প্রকল্পের নানা অনিয়ম নিয়ে অডিট আপত্তি তুলেছে। ১৫টি অডিট আপত্তিতে ১৬ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকার অনিয়ম উঠে এসেছে। 

প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঠিকাদার ওই প্রকল্পের ত্রুটির জন্য দায়ী থাকেন। এই সময়ের মধ্যে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে ঠিকাদারকে তা মেরামত করতে হবে বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ঠিকাদারের কিছু বিল পরিশোধ করা হয় না। কিন্তু প্রকল্প অফিস সেই বিল পরিশোধ করেছে। ঠিকাদারকে অযৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় ১৬ হাজার ৫১২ কোটি টাকার অডিট আপত্তি এসেছে। 

নির্মাণ কাজের চুক্তি লঙ্ঘন করে ঠিকাদারকে ৪২৯ কোটি ১৯ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অডিট আপত্তি এসেছে। বিদেশি পরামর্শকের ব্যক্তিগত আয়করের অর্থ সমন্বয় বা চালান জমা করার বিষয়ে ৪ কোটি ২২ লাখ টাকার অডিট আপত্তি এসেছে। প্রকল্পের নানা পণ্য কেনাকাটার হিসাবপত্রে গরমিল দেখা গেছে। তাতে ৫ লাখ টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে। 

চুক্তিতে বলা হয়েছে, চীনা ঠিকাদারি দুই প্রতিষ্ঠানের বাইরে কাউকে কাজ দেওয়া যাবে না। কিন্তু এ প্রকল্পে অনেক দেশি ঠিকাদারকে (সাব-কন্ট্রাক্টর) বিভিন্ন প্যাকেজে নির্মাণ কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে করে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

অডিট আপত্তি নিয়ে বেজায় নাখোশ প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইএমইডিতে সব অপেশাদার লোক। সরকারের অডিট বিভাগ প্রকল্পের নানা অসংগতি নিয়ে আপত্তি জানাবে, সংশোধনীর জন্য সুপারিশ করবে, এটা স্বাভাবিক। কিছু আইএমইডি বা বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিটের লোকজন অনেক কিছু না বুঝেই এত এত টাকার অডিট আপত্তি লিখে বসে আছে। অডিট আপত্তিতে অভিযোগ এলেই প্রকল্প কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত আসামি বলা যাবে না। আমরা অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করছি।’

বিশেষজ্ঞের ভাষ্য
যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামছুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘বৃহৎ প্রকল্পে বিদেশি ঠিকাদারকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া যেন খুব সাধারণ দৃশ্য হয়ে গেছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়ে আসে। তারা সরকারকে নানাভাবে চাপ দিয়ে নানা সুবিধা আদায় করে নেয়। তাই নতুন করে কোনো বড় প্রকল্পের চুক্তি করতে গেলে ডিপিপিতেই সে বিষয়গুলোর সুরাহা করা দরকার। কে কী সুবিধা নেবে, কীভাবে প্রকল্পের লগ্নি করা টাকা উঠিয়ে নেবে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা ভালো।’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে?
‘শহিদ রুদ্রসেন লেক’ ভরাট করে এভাবেই নির্মাণ করা হচ্ছে গাড়ির গ্যারেজ। ছবিটি মঙ্গলবার তোলা। ইনসেটে খননের পর খাল। ছবি: খবরের কাগজ

দেশজুড়ে যখন খাল খনন ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে, তখন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রাকৃতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে খনন করা একটি খাল ভরাট করে সেখানে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

খালটি দৃষ্টিনন্দন জলাধার রূপে দৃশ্যমান হওয়ার পর প্রথমে নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সাস্ট লেক’। পরে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শাবিপ্রবির একমাত্র শিক্ষার্থী শহিদ রুদ্র সেনের স্মরণে এর নামকরণ করা হয় ‘শহিদ রুদ্র সেন লেক’। কিন্তু বর্তমানে গ্যারেজ নির্মাণের কারণে লেকটির অস্তিত্বই প্রায় মুছে যেতে বসেছে। ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হওয়া লেকটি এখন আর চিহ্নিত করার মতো অবস্থায় নেই। গ্যারেজ করার মতো জায়গা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, একটি কার্যকর জলাধার ভরাট করে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে কার গরজে?

লেক সৃষ্টি যেভাবে

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এ সমস্যা প্রাকৃতিকভাবে মোকাবিলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে খাল খননের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে সেই খালকে কেন্দ্র করে একটি লেক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ছিল লেক, লেকপাড়ে ওয়াকওয়ে এবং মাঝখানের একটি টিলায় পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ৭ মে ‘শাবিপ্রবিতে হবে পাখির অভয়ারণ্য’ শিরোনামে খবরের কাগজে সচিত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২ জুন ‘শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা: খাল খননেই মিলল সুফল’ শিরোনামে ফলোআপ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। 

২০২৫ সালের ৩ জুলাই লেকটির উদ্বোধনকালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এটিকে ‘রুদ্র সেন লেক’ হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই ঘোষণার এক বছরের মধ্যেই লেকটি ভরাটের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে গাড়ির গ্যারেজ। লেকটি এখন গায়েব প্রায়।

কার গরজে গ্যারেজ?

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্যারেজ নির্মাণের জন্য লেকের বড় একটি অংশ ভরাট করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তবে তাদের অভিযোগ, প্রশাসন সে প্রতিবাদ আমলে নেয়নি। শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, যে লেক নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, এখন সেই লেকই অর্থ ব্যয় করে ভরাট করা হচ্ছে। তাদের মতে, এটি পরিকল্পনার সমন্বয়হীনতার স্পষ্ট উদাহরণ। মাত্র ২২টি গাড়ির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা নষ্ট করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অবিচারের শামিল।

গাড়ির গ্যারেজ তৈরিতে গরজ ছিল কার? এ প্রশ্নে অনুসন্ধানে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যারেজের পাশেই প্রায় শতাধিক গাড়ি রাখার মতো খালি জায়গা রয়েছে। গ্যারেজটি সেখানে স্থানান্তর করা হলে লেক রক্ষা পেত এবং খালি জায়গারও যথাযথ ব্যবহার হতো। কিন্তু বর্তমান স্থানে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে পেছনের খালি জায়গায় যাওয়ার পথ স্থায়ীভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং জায়গাটি ভবিষ্যতে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে। মাত্র ২২টি গাড়ি রাখার জন্য সাত কোটি টাকা ব্যয় কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-২’ এর আওতায় লেক ভরাট করে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের একটি দোতলা গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্যারেজ নির্মাণের জন্য পাশের টিলার কিছু অংশও কাটা হয়েছে। নির্মাণাধীন গ্যারেজটিতে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখা যাবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে বর্তমানে ৪২টি যানবাহন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এ ছাড়া নতুন নির্মিত গ্যারেজটিতে বড় যানবাহন প্রবেশের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গ্যারেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন পূরণে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রধান সৌন্দর্য হলো লেকটি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সেই লেক ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে! এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে। আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, তবে প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন উন্নয়ন আমরা চাই না। প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ–অবিলম্বে লেক ভরাটের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বন্ধ করুন এবং ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করুন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র সভাপতি জাহ্নবী দত্ত বলেন, ‘বর্তমানে যে লেকটি শহিদ রুদ্র সেন লেক বা ‘সাস্ট লেক’ নামে পরিচিত, সেটির যখন পরিকল্পনা ও নির্মাণ কাজ শুরু হয়, তখন এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কাছেই বেশ প্রশংসার বিষয় ছিল। লেকটি ছিল একাধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের উপাদান, পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর মাধ্যম। কিন্তু এখন যে ভরাটের কাজ চলছে, এটি সত্যিই দুঃখজনক। এখানে আমাদের উচিত প্রকৃতিকে না সরিয়ে মানবসৃষ্ট কাঠামোর বিকল্প উপায় ভাবা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেষ্টা করব, এর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি-না।’

কর্তৃপক্ষ কী বলে

যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেন ২০১৯ সালের জুলাইয়ে যখন ডিপিপি অনুমোদন হয়, তখন এই লেকটা ছিল না। গ্যারেজ নির্মাণের গরজ সম্পর্কে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘যখন এই লেক খনন করা হয় তখন আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কারণ ডিপিপিতে গ্যারেজের জন্য এই স্থানটা উল্লেখিত। এটা ছিল প্লেইন ল্যান্ড।  এখানে লেক কখনোই ছিল না। ডিপিপিতে যেটা আছে সেটা হলো একনেকে পাস করা প্রধানমন্ত্রী থেকে অ্যাপ্রোভড। এখানে কেন লেক করা হলো সেটা প্রকৌশল দপ্তরকে জানানোই হয়নি। কারণ আমরা করব না আগেই না করে দিয়েছিলাম। লেক খননের কাজে প্রকৌশল দপ্তরের কোনো অংশগ্রহণই ছিল না। কারণ শুরু থেকেই বলা হয়েছিল যে, এটা ডিপিপির অন্তর্ভুক্ত গ্যারেজের জায়গা।’

লেক যেহেতু খনন করা হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরাও এখানে গ্যারেজ করার বিরুদ্ধে দাবি জানিয়েছিলেন, তবু বিকল্প জায়গায় গ্যারেজ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চিফ ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন দাবি জানাল, তখন আমরা টিলার পেছনে গ্যারেজ করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু ওই সময় ভিসি স্যার (সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী) আমাদের জানান যে ভিসি বাংলোর আশপাশে এ ধরনের কোনো স্থাপনা করবেন না। যেখানে আছে সেখানেই করেন। এখন যেখানে আছে সেখানে তো লেক। তখন আমরা টিলার কাছ ঘেঁষে লেকের ঢালের কিছু অংশ ভরাট করে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে দিই, যাতে লেকের বাকি অংশের কোনো ক্ষতি না হয়।’

গ্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তের দায় সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর ওপর বর্তান চিফ ইঞ্জিনিয়ার। তবে এ বিষয়ে সাবেক উপাচার্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একদিকে লেক নির্মাণে ব্যয়, অন্যদিকে সেই লেক ভরাট করে নতুন ব্যয়—এই দ্বৈত আর্থিক ব্যয়ে রয়েছে অর্থের নয়ছয় ও অপচয়। এ নিয়ে তখনকার প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

জানতে চাইলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এখানে গ্যারেজ নির্মাণের কারণ ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস ৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
৯ বছরেও খোলেনি রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন রোহিঙ্গারা। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ

নিরাপদে নিজ ভূমিতে ফেরার আশায় দিন গুনছেন বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা এখনো অধরাই। একদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসার কারণে রোহিঙ্গা সংকট নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে দিবসটি পালিত হয়। তবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে দিনটি বছর বছর ফিরে আসে অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং স্বদেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে।

বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। পরবর্তী সময়ে নতুন করে আরও দেড় লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট এখন অর্থায়নের সংকটেও পরিণত হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তবু বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের প্রায় ৯ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু রাখাইন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা এখনো প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি।’

আরআরআরসি কার্যালয় জানায়, ২০১৮ সালে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা পরিবারের তথ্য মায়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ পরিবারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ে পরিবারগুলোর সদস্যসংখ্যা পরিবর্তিত হওয়ায় নতুন করে তথ্য হালনাগাদ ও যাচাইয়ের কাজ চলছে।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারাও। রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান দরকার। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষ এখন প্রত্যাবাসনের কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান।’
 
বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মাস্টার জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হলে আমরা স্বেচ্ছায় মায়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত।’
ক্যাম্পে থাকা সাধারণ রোহিঙ্গারাও একই দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘প্রায় ৯ বছর ধরে আমরা শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের সন্তানদের অনেকেই মায়ানমার দেখেনি। আমরা বাংলাদেশে নিরাপদে আছি, কিন্তু এটি আমাদের দেশ নয়। আমরা নিজের ভিটেমাটিতে ফিরতে চাই। তবে ফিরে গিয়ে যদি আবার নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা বৈষম্যের শিকার হতে হয়, তাহলে সেই প্রত্যাবাসনের কোনো অর্থ থাকবে না। আমাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘মায়ানমার ছেড়ে আসার সময় আমি সবকিছু হারিয়েছি। বাড়িঘর, জায়গা জমি, আত্মীয়স্বজন কিছুই আর আগের মতো নেই। একজন মা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া, সন্তানদের একটি স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ দেখতে চাই। আমরা ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল জীবন চাই না। নিজের দেশে সম্মান নিয়ে বাঁচার সুযোগ চাই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত আমাদের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া।’

টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের যুবক আবদুন নবী বলেন, ‘শরণার্থী শিবিরের জীবন সীমাবদ্ধতার জীবন। এখানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সব সময় তাড়া করে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই হতাশায় ভুগছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ, কিন্তু অনির্দিষ্টকাল ধরে ক্যাম্পে বসবাস কোনো সমাধান নয়। আমরা এমন একটি প্রত্যাবাসন চাই, যেখানে আমাদের পরিচয়, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।’

উখিয়ার জামতলী ক্যাম্পের জমিলা খাতুন বলেন, ‘নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে আছেন। অনেকেই স্বজন হারিয়েছেন, অনেকের পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবু আমরা আশা ছাড়িনি। আমরা আমাদের গ্রাম, আমাদের স্মৃতি, আমাদের শিকড়ে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু সেই ফেরাটা হতে হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। শুধু সীমান্ত পার করে পাঠিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।’

শালবাগান ক্যাম্পের ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমার জীবনের শেষ সময় চলছে। আমি শুধু মৃত্যুর আগে নিজের জন্মভূমি আরেকবার দেখতে চাই। আমরা কখনো বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকার দাবি করিনি। আমাদের দাবি একটাই, মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি এবং নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব।’
 
চাপ বাড়ছে স্থানীয় জনপদে

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে আশ্রয়দাতা এলাকার জনজীবনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে বনভূমি উজাড়, পরিবেশের ভারসাম্যহানি, শ্রমবাজারে মজুরি কমে যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিষয়টি সমর্থন করেন, তবে সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান দেখতে চান।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ক্যাম্প স্থাপনের শুরুতে হাজার হাজার একর পাহাড় ও বনভূমি কেটে ফেলা হয়েছিল। এখনো বনাঞ্চলের ওপর চাপ রয়েছে। আগে যেসব এলাকায় বন্যপ্রাণী দেখা যেত, সেসব জায়গার পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। আমরা চাই বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’

সমাজকর্মী জুবাইদা বেগম বলেন, ‘আগে গ্রামের অনেক নারী-পুরুষ দিনমজুরের কাজ করে ভালো মজুরি পেতেন। এখন শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই মজুরি কমে গেছে। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

কোটবাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘জনসংখ্যার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সড়ক, বাজার, পানি ও অন্য সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রাও নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি সহায়তা দিতে হবে।’

জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়েছে। মাদক, মানব পাচার ও অপরাধ চক্রের তৎপরতা নিয়ে আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। তাই নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সংকটের রাজনৈতিক সমাধান জরুরি।’
 
নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

রোহিঙ্গা শিবিরে নারী ও কিশোরীরা এখনো নানা ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন। মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য ও সীমিত সুযোগের কারণে বাল্যবিবাহ, মানব পাচার, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার মতো সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। বিশেষ করে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে পরিবারগুলোর মধ্যে।

উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পের বাসিন্দা রাশেদা খাতুন বলেন, ‘অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার কারণে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। মা-বাবারা মনে করেন, এতে মেয়েরা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু এতে তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।’

শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কিশোরী নুর আয়েশা বলে, ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু অনেক মেয়েই বিভিন্ন কারণে স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। কেউ বিয়ে করছে, কেউ পরিবারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। সুযোগ পেলে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’

কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক পরিবার উদ্বিগ্ন থাকে। সন্ধ্যার পর চলাফেরা, বিভিন্ন সেবা নিতে যাওয়া, সবকিছুতেই সতর্ক থাকতে হয়। আমরা চাই নারী ও শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।’

নয়াপাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘দালাল চক্র এখনো সক্রিয়। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অনেক নারী ও তরুণকে পাচারের চেষ্টা করা হয়। সচেতনতা বাড়লেও ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি। এই বিষয়টিতে আরও কঠোর নজরদারি দরকার।’

মোচনী ক্যাম্পের হাজেরা খাতুন বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা হয়। বছরের পর বছর ক্যাম্পে থেকে অনেক শিশুর পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো না গেলে একটি পুরো প্রজন্ম অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চলে যাবে।’
এদিকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কিছুটা স্বস্তির খবরও এসেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন অতিরিক্ত ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দিয়েছে। এই অর্থ মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

প্রায় এক দশক ধরে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন থমকে আছে অপেক্ষায়। বাংলাদেশ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাদের আশ্রয় দিয়ে গেলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগের দাবি ক্রমেই জোরালও হয়ে উঠছে। প্রশ্ন একটাই, কবে ফিরবে রোহিঙ্গারা?

নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা
ভোগ্যপণ্যে ঠাসা মুদি দোকানে দেখা যায়নি কোনো মূল্যতালিকা। ছবিটি চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে তোলা/ মোহাম্মদ হানিফ।

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে অধিকাংশ দোকানেই মূল্যতালিকা দেখা যায় না। ফলে একই পণ্য সব দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হতে না পেরে প্রতিদিনই বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, মূল্যতালিকা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। ফলে তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন জরুরি বলে মনে করছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, বহদ্দারহাট, হালিশহর, রিয়াজউদ্দিন বাজার এবং রাস্তার পাশের খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে মূল্যতালিকা নেই। কিছু কিছু দোকানে থাকলেও তারিখ ও পণ্যের দাম পরিবর্তনের দিকে বিক্রেতার খেয়াল নেই। আবার বিভিন্ন দোকানে একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু তার পাশে ব্যাটারি গলিতে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন অলিগলির খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ (হালি জাত) বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। অথচ রিয়াউদ্দিন বাজার থেকে বের হয়ে দেখা যায়, একই পেঁয়াজ ভ্যানগাড়িতে ৩ কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৩৩ টাকা। বাজারভেদে মাছ, মাংস, সবজির দামেও এ রকম হেরফের দেখা গেছে। 

এদিকে মূল্যতালিকা না থাকার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। ব্যবসায়ীদের একেক জনের রয়েছে একেক রকম যুক্তি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের কাছে একাধিক মূল্যতালিকা রয়েছে, কিন্তু বাজারে মূল্যতালিকা কেউ টাঙায় না। তাই তিনিও রাখেননি। আবার কেউ জানিয়েছেন, মূল্যতালিকা রাখলে বা কম দামে পণ্য বিক্রি করলে, যারা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। তাই ঝগড়া এড়াতে এবং যে যার মতো করে ইচ্ছামতো দামে পণ্য বিক্রি করতে মূল্যতালিকা রাখেন না। 

রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. শওকত বলেন, ‘আপনি পুরো বাজার ঘুরে দেখেন কোনো মূল্যতালিকা নেই। সবাই যেহেতু মানছে না, আমি আর একা মূল্যতালিকা রেখে লাভ কী!’

হালিশহর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, ‘আমার কাছে ৩টা মূল্যতালিকা আছে। কিন্তু রাখা হয়নি। কারণ একটি পণ্য একেক জায়গায় একেক দামে বিক্রি হয়। আমি একটি পণ্যের দাম পাশের দোকানদারের তুলনায় কম লিখলাম। তখন আমাদের ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হয়।’ 

নগরীর ফইল্যাতলী এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘এক লিটার গরুর দুধ কিনতে গেলাম। এক দোকানে ৮০ টাকা, পাশের আরেক দোকানে ৯০ টাকা। অন্য ভোগ্যপণ্যের দামেও একই অবস্থা। অর্থাৎ দামে কোনো স্বচ্ছতা নেই। তাই এখন বাজার করতে গেলে আগে পুরো বাজার ঘুরি। যেখানে কম দাম বলে সেখান থেকেই কিনি। কিন্তু এটা তো আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। সব জায়গায় একই দাম থাকলে যে যেখান থেকে ইচ্ছা কিনতে পারেন। ক্রেতারাও বিভ্রান্ত হন না।’ 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, যখনই কোনো বাজারে অভিযান চালানো হয়, সেখানে কেউ বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছে কি না, মূল্যতালিকা ও কেনা-বেচার পাকা রসিদ আছে কি না- ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। 

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘মূল্যতালিকা রাখা বা বেশি দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার করেও কোনো লাভ তো হচ্ছে না। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী দুজনই নানা কায়দায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়। বাজারকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। ফলোআপ করতে হবে। তাহলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।’

পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি!

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি!
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। এই বাজেটের কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। কিন্তু ইতোমধ্যে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বাজেটে মসলাসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের দাম কমাতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সাত দিন চলে গেলেও এক টাকা কমেনি এসব পণ্যের দাম। আগের মতোই বেশি দামে চাল, ডাল, মসলা বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাঙাশসহ অন্য মাছের দামও কমেনি। কোরবানি ঈদের পর চাহিদা কমলেও আগের মতো চড়া দামে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। বাজার সবজিতে ভরা থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, সরকার মুখে বললেও বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই তো কোনো জিনিসের দাম কমে না। ভরা মৌসুমেও এক কেজি পোলাওয়ের চাল  বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করে সরকার। তাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই রাজস্ব আদায়ে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পণ্য ও সেবায় দাম কমার প্রস্তাব করেছেন সাধারণ মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে। ধান, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি পণ্যের দাম কমাতে উৎসে কর এবং খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার মতো মসলার দাম কমাতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে এসব জিনিসের দাম এক টাকাও কমেনি।

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের মো. বাবু মিয়াসহ অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার যাই বলুক বাজার চলছে বাজারের মতো । মিল থেকে দাম না কমালে আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করব। কাজেই মিলে যাতে দ্রুত দাম কমে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারব। ভোক্তারাও কম দামে কিনতে পারবেন। বর্তমানে সব পণ্যের দাম ঝিম ধরে আছে।’

বেশি দামেই চাল বিক্রি

গতকালও আগের মতো মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, আমদানি করা ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ২ কেজির প্যাকেট আটা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।  

টাউন হল বাজারের মায়ের দোয়া রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘বোরো ধান ওঠা শেষ। তার পরও চালের দাম কমছে না। ব্যবসায়ীরা গোডাউনে ধান ভরে নিয়েছেন। মিল থেকে এখনো বেশি দামে পুরোনো চাল বিক্রি করছে। মিলমালিকদের না ধরলে চালের দাম কমবে না। প্রাণ, চাষি গ্রুপসহ অন্যরাও ইচ্ছামতো পোলাও চালের দাম বাড়িয়েছে, যা ১৯০ টাকা কেজি। আজব এ দেশ।’

কোরবানির ঈদের আগে আদার দাম বাড়লেও গতকাল তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আলু ৩০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। শুল্ক কমানো হলেও মসলার দাম কমেনি। আগের মতো গতকালও  লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০ টাকা, জিরা ৬৫০ টাকা ও এলাচ সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।’ খেজুর বিক্রেতারাও জানান দাম কমেনি। নিউ মার্কেটের মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আগের দামেই সব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বাজেটের পণ্য দেশে এলে কমতে পারে।’

অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ঘরে

বাজারে এখনো শীতের কপি, টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজিও ভরে আছে। তার পরও বেগুনসহ অধিকাংশ সবজি যেন ১০০ টাকা কেজিতে স্থির হয়ে গেছে। বিভিন্ন বাজারে টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১০০, বরবটি ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০, শজনেডাঁটা ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৬০, পটোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। গ্রীষ্মকালের ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গাও ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৬০ থেকে ৭০ টাকার কমে মেলে না। নিউ মার্কেট বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সবুজসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। আড়তে সব সবজিই বেশি দামে কেনা। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

কমেনি মাছের দাম

কোরবানির ঈদের পরও মাছের দাম কমেনি। তেলাপিয়া মাছও আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রুই, কাতল মাছও আগের মতো ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, নদীর চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে চাষ করা এসব মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহের মতোই গতকালও সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা, ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও  খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়।

পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের
রাজশাহীর কসাই রিপন আলীর সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার শিং ও মাথার খুলি দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

পেশায় তিনি কসাই। প্রতিদিন পশু জবাই ও মাংস বিক্রিই তার কাজ। কিন্তু এই পেশার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন এক ভিন্ন জগতের সন্ধান। অন্যরা যেখানে পশুর মাথা ও শিংকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেন, সেখানে রাজশাহীর রিপন আলী সেগুলোকে রূপ দিচ্ছেন দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পরিত্যক্ত মাথা সংগ্রহ করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি করছেন ব্যতিক্রমী শোপিস, যা এখন দর্শনার্থীদের কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

৪০ বছর বয়সী রিপন আলী রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকার বাসিন্দা। গত এক দশক ধরে তিনি এই ব্যতিক্রমী শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে শতাধিক নান্দনিক শোপিস জমা হয়েছে। বাড়ির একটি কক্ষজুড়ে সাজিয়ে রেখেছেন এসব শিল্পকর্ম। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ তার এই সংগ্রহ দেখতে ভিড় করছেন।

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রথমে কৌতূহল থেকে দেখতে এসেছিলাম। এখানে এসে আমি সত্যিই মুগ্ধ। সাধারণত যেসব জিনিস আমরা বর্জ্য হিসেবে দেখি, সেগুলোকে এত সুন্দর ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা কল্পনাও করিনি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংগ্রহের ছবি দেখে এখানে এসেছি। কাছ থেকে দেখে আরও ভালো লাগছে। প্রতিটি শোপিসের পেছনে যে শ্রম, ধৈর্য ও মেধা রয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা যায়। একজন কসাইয়ের হাতে এমন ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

জানা গেছে, রিপনের এই শিল্পযাত্রার শুরুটা হয়েছিল একেবারেই সাধারণ একটি ঘটনা থেকে। কসাইপট্টিতে কাজ করার সময় একটি বড় মহিষের শিং তার নজর কাড়ে। শিংটির সৌন্দর্য দেখে তিনি ভাবেন- এটি কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধান।

প্রথমদিকে কাজটি সহজ ছিল না। পশুর মাথা সংরক্ষণ ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখার কোনো কার্যকর পদ্ধতি তার জানা ছিল না। এ বিষয়ে জানতে তিনি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। এরপর নিজেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। বছরের পর বছর চেষ্টা, ব্যর্থতার পর তিনি একটি কৌশল বের করেন। এই কৌশলের ফলে পশুর মাথা ও শিং দীর্ঘদিন পচনমুক্ত রেখে শৈল্পিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়।

রিপন জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি পরিকল্পিতভাবে এই কাজ শুরু করেন। তবে সব ধরনের পশুর মাথা তিনি সংগ্রহ করেন না। যেসব পশুর শিং বা মাথার গঠন দেখতে আকর্ষণীয় ও নান্দনিক, সেগুলোই বেছে নেন। পরে সেগুলো পরিষ্কার, সংরক্ষণ ও শৈল্পিক উপস্থাপনের মাধ্যমে শোপিসে রূপ দেন।

এই কাজে তাকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে। পশুর হাড় ও মাথা সংগ্রহ করে বাড়িতে রাখার কারণে একসময় পরিবার ও প্রতিবেশীদের সমালোচনা শুনতে হয়। দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকে তাকে নিরুৎসাহিতও করেছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি  বদলে গেছে। একসময় যারা তার এই কাজকে অদ্ভুত ভাবতেন, তারাই এখন প্রশংসা করছেন। এই শিল্পকর্মের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রিপন আলী বলেন, আমি শুধু বাজার থেকে সংগ্রহ করা গৃহপালিত পশুর মাথা ও শিং ব্যবহার করি। কোনো সংরক্ষিত বা বন্যপ্রাণীর অঙ্গ ব্যবহার করি না। আমার বিশ্বাস, গৃহপালিত পশুর হাড় ও শিং দিয়ে তৈরি নান্দনিক শোপিস জনপ্রিয় হলে বন্যপ্রাণীর অঙ্গ দিয়ে ঘর সাজানোর প্রবণতা কমবে। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই উদ্যোগ একদিন ক্ষুদ্র শিল্পে পরিণত হবে।