‘শয়তানের নিশ্বাস’– এই যুগল শব্দটি অদ্ভুদ শোনালেও এখন অপরাধ জগতের পরিচিত এক শব্দ। এটি একধরনের কেমিক্যাল (রাসায়নিক) স্প্রে, যাকে বলা হচ্ছে শয়তানের নিশ্বাস বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’। ভুতুড়ে নামকরণের সঙ্গে এর ব্যবহার এবং কার্যকারিতা খানিকটা ‘ভৌতিক’। এই শয়তানের নিশ্বাসে এখন অঙ্গার হচ্ছেন একশ্রেণির সহজ-সরল মানুষ।
ভুক্তভোগীদের করুণ গল্প শুনলে কারও কারও মনে হতে পারে, কোনো কাল্পনিক ঘটনা বলছে। কিন্তু বাস্তবে কখনো কখনো এমন ঘটনাই ঘটছে আমাদের চারপাশে। গত সপ্তাহে খবরের কাগজের কাছে এই বাস্তবতা তুলে ধরেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এসব ভুক্তভোগীর তথ্যমতে, চিহ্নিত অপরাধী চক্র ‘স্কোপোলামিন’ জাতীয় একধরনের কেমিক্যালের ব্যবহার ঘটাচ্ছে টার্গেট করা ব্যক্তির ওপর। এরপর তার কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডসহ সবকিছু হাতিয়ে নিচ্ছে। আসল ব্যাপার হচ্ছে, কোনো চক্র শয়তানের নিশ্বাস ছাড়ার (স্প্রে করার) সঙ্গে সঙ্গে টার্গেট হওয়া ব্যক্তি তার বশীভূত হয়ে যান। চক্রের সদস্য তখন যে নির্দেশ দেয়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি একান্ত অনুগত হয়ে সেটাই করতে থাকেন। ফলে শুধু টাকা বা মুঠোফোন নয়, কেউ কেউ আরও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দেয়, আদৌ কি শয়তানের নিশ্বাস বলে কিছু আছে? সেই শয়তানটি কে? এই নিশ্বাস কীভাবে ছাড়ছে বা এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে কীভাবে? এমন সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে চমকপ্রদ বা চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
যা বলছেন ভুক্তভোগীরা
গত বছরের একেবারে শেষের দিকে, অর্থাৎ গত ৩০ ডিসেম্বর চিহ্নিত অপরাধী চক্রের ‘শয়তানের নিশ্বাস’-এর শিকার হন মিরপুরের বাসিন্দা মুর্শিদা খন্দকার। দীর্ঘ আলাপে মুর্শিদা খবরের কাগজকে বলেন, ওই চক্রের হাতে তিনি তার মুঠোফোন, নগদ টাকা, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট খুইয়েছেন। ঘটনার পর ২১ দিন পর্যন্ত তিনি শয়তানের নিশ্বাসের ঘোরের (ক্রিয়া) মধ্যে ছিলেন। স্বাভাবিক হওয়ার পরই মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের দারস্থ হন মুর্শিদা। কিন্তু থানা পুলিশ সেভাবে গুরুত্ব না দেওয়ায় এই তরুণী নিজেই একধরনের তদন্ত বা অভিযানে নেমে পড়েন। মুর্শিদার পীড়াপীড়িতে মামলার তদন্ত চলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডিতে)। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি নিজেও ওই চক্রের নানা দিক উন্মোচিত করে সহায়তা করেন। চক্রের যে সদস্যের মাধ্যমে তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন তার কাল্পনিক চেহারা এঁকে তাকেও শনাক্ত করা হয়। এমনকি অপরাধীর এনআইডিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ঘাটন করেন। শনাক্ত হওয়া চক্রের সেই হোতা সম্রাটকে গত জুনে একটি ডাকাতির মামলায় মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি মুর্শিদা জানতে পেরে নিজ উদ্যোগে তার মামলা ও যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ দিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখাতে সহায়তা করেন।
কিন্তু কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে মুর্শিদা খন্দকার খবরের কাগজকে বলেন, আসামিরা ছিনতাইকারী বা ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত অপরাধী হলেও তাদের ধরতে থানা-পুলিশকে গরিমসি করতে দেখা গেছে। এরপর সম্রাট গ্রেপ্তার হলেও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। তার চক্রের অনেক সদস্য এখনও তৎপর রয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই অন্যদেরও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারত।
ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগী মুর্শিদা খন্দকার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম শ্যামলীর শ্যামলী স্কয়ারের সামনে। কয়েকটি বাস এসে চলেও যায়। ভিড়ের কারণে বাসে না উঠে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ কেউ একজন কাছাকাছি এসে কথা বলার চেষ্টা করলেন। চারদিকে আরও দু-তিনজন। খুব অল্প কথার মাঝেই আমি যেন আর আমার মধ্যে নেই। আমি যেন ওই চক্রের হাতের পুতুল! মোবাইল ফোন চাইলে সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিলাম। এমনকি সেই ব্যক্তি যা যা বলছিলেন, একান্ত অনুগত হয়ে সেসবই করছিলাম। ব্যাংকের এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড, ফোনে আসা ‘ওটিপি’ সবকিছুই দিয়ে দিই। একপর্যায়ে সেখানে আমার এক বন্ধু হঠাৎ হাজির হলে তখনই ওই চক্র সটকে পড়ে। পরে সেই বন্ধু আমার পরিবারকে জানানোর পাশাপাশি আমাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।’
ঘটনার পর ওই রাতেই মুর্শিদার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে তার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে চক্রটি ২ লাখ টাকার বেশি তুলে নেয়। এমনকি মুর্শিদার সিমকার্ডটি ওই চক্র বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করতে শুরু করে, যা তিনি পরে বুঝতে পারেন।
শ্যামলীর প্রায় একই এলাকায় ওই চক্রের খপ্পরে পড়েন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু জাফর মুকুল। তিনি গতকাল মুঠোফোনে খবরের কাগজকে বলেন, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি ক্যাম্পাস থেকে আদাবরের বাসায় ফিরছিলেন। এমন সময় ওই চক্র তাকে টার্গেট করে। একপর্যায়ে ওরা চাপাতি দিয়ে আমার হাতে কোপ দেয়। এতে হাতে থাকা মুঠোফোন নিচে পড়ে গেলে সেটা নিয়েই তারা দ্রুত সটকে পড়ে। পরে মোবাইল ফোনে থাকা আমার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাপস ব্যবহার করে ৬০ হাজার টাকা তুলে নেয়। ঘটনার পর চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণসহ মোহাম্মদপুর থানায় গেলেও পুলিশ চরম উদাসীনতার পরিচয় দেয়।
আবু জাফর বলেন, মামলা করায় চিহ্নিত ওই ছিনতাইকারীরা তার বাসার সামনে কয়েক দিন ধরে হুমকিমূলক মহড়া দেয়। এসব বিষয়ে পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে সেই সময়ে থানার ওসির দায়িত্বে থাকা আলী ইফতেখার হাসানের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক কারণে উদাসীন। যদিও নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পরে তাকে ওই থানা থেকে বদলিও করা হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী এই শিক্ষক আরও বলেন, চক্রটি মূলত পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা শয়তানের নিশ্বাস বা বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল স্প্রে, চেতনানাশকসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করে অপকর্ম চালায়। তার ওপর এসব উপকরণ বা স্প্রে প্রয়োগের সুযোগ না পেয়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। তার মামলায়ও প্রধান আসামি সেই চিহ্নিত ছিনতাইকারী সম্রাট। কেবল মুর্শিদা খন্দকার বা শিক্ষক আবু জাফর মুকুল নন, এ রকম আরও অনেক ভুক্তভোগী রয়েছেন, যারা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের চক্রের টার্গেটে পড়ছেন।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান খবরের কাগজকে বলেন, ‘‘স্কোপোলামিন মূলত শত বছর আগের একধরনের ওষুধ হিসেবে বাংলাদেশে চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। এটি ‘মোশন সিকনেস’ এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী বমি বমি ভাব বা বমি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হতো। চিকিৎসায় এখন তেমন ব্যবহার নেই। তবে বর্তমানে স্কোপোলামিনের অপব্যবহার হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে, যাকে ডেভিলস ব্রেথ বা শয়তানের নিশ্বাস বলে নামকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে যেমন দেখা যাচ্ছে, টার্গেট ব্যক্তি বশীভূত হয়ে যাচ্ছেন; এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্কোপোলামিনের কার্যকারিতা এত দ্রুত হয় না। হতে পারে স্কোপোলামিনের সঙ্গে আরও অন্য কোনো উচ্চমাত্রার উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।’’
একই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের একজন চিকিৎসক জানান, স্কোপোলামিন সাধারণত মানুষের নাকের চার থেকে ছয় ইঞ্চি কাছাকাছি এলেই নিশ্বাসের আওতায় চলে আসে। নিশ্বাসের সঙ্গে এটি গ্রহণ করলেই মাত্র ১০ মিনিট বা তারও আগে প্রভাব শুরু হয়ে যায়। স্মরণশক্তি বা মস্তিষ্ক তখন স্বাভাবিক বা সচেতনভাবে কাজ করতে পারে না। পরে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক হতে ১ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
স্কোপোলামিন বা শয়তানের নিশ্বাসের অস্তিত্ব
তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আবদুল্লাহ আল মামুন নামে নর্দান ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক খুন হন। ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ঘটনার এক মাস পর দুজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে একজনের কাছে প্রথমবারের মতো স্কোপোলামিন বা ডেভিলস ব্রেথ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। বলতে গেলে বাংলাদেশে সেই ঘটনার সূত্রে প্রথম শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ বিষয়টি জানাজানি হয়।
ওই সময় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ জানিয়েছিল, বোতলের ভেতর সাদা পাউডার আকারে কয়েক গ্রাম স্কোপোলামিনসহ আরও কয়েক ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে। পরে আদালতের আদেশে সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষা করা হলে সেখানে স্কোপোলামিন বা ডেভিলস ব্রেথ শনাক্ত হয়। এটিই শয়তানের নিশ্বাস নামে পরিচিত; যা দিয়ে খুব দ্রুত মানুষকে বশীভূত করে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া যায় বলেও জানিয়েছিল পুলিশ।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, স্কোপোলামিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে ব্যবহারের নজির আছে। তখন এর ব্যবহার হতো লিকুইড (তরল) হিসেবে। ইনজেকশনের মাধ্যমে সেটি শরীরে প্রবেশ করানো হতো। বর্তমানে মেক্সিকোর কিছু মাদকচক্র স্কোপোলামিন উৎপাদন করে বিভিন্ন দেশে পাচার করে থাকে বলে জানা যায়।
মানসিক ও শারীরিক প্রভাব পড়ে যেভাবে
ভুক্তভোগী অন্তত দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ যার ওপর প্রয়োগ করা হয়, তার শরীর ও মানসিকতায় বেশ কয়েক দিন এর বিরূপ প্রভাব বিরাজ করে থাকে।
একজন ভুক্তভোগী খবরের কাগজকে জানান, ওই কেমিক্যালের শিকার হওয়ার পর তার বাসার বাইরে বের হতে ভয় লাগত। কারও সঙ্গে কথা না বলে তিনি একাকী চুপচাপ থাকতেন। সারাক্ষণ ঘরেই থাকতেন, বাসার লোকজনকে নিয়ে চলতেন। তার ভেতর আতঙ্ক কাজ করত সব সময়।
শয়তানের নিশ্বাসের উৎস ‘ধুতরার ফল’
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কোপোলামিন একটি ‘সিনথেটিক ড্রাগ’ বা ওষুধ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধ তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে। তবে এটা প্রাকৃতিক কোনো উপাদান নয়, বরং প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে আরও কিছু যোগ করে কৃত্রিমভাবে স্কোপোলামিন তৈরি করা হয়। এটা তরল এবং পাউডার (গুঁড়ো) দুই রূপেই পাওয়া যায়। তবে এর গুরুত্বপূর্ণ বা মূল উপাদান আসে ‘ধুতরা’র ফল বা ফুল থেকে। ধুতরা ফুল বা ফলকে বিষ হিসেবেও ধরা হয়। ওই ধুতরা থেকে উপাদান নিয়ে ‘সিনথেটিক্যালি’ স্কোপোলামিন বানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ধুতরা ফল বা ফুল থেকে এই স্কোপোলামিন তৈরি করা হতো। তবে এখন সেভাবে আর চিকিৎসাক্ষেত্রে স্কোপোলামিনের ব্যবহার হয় না, বরং আরও অনেক উন্নত ও ভালো মানের ওষুধে ব্যবহৃত হয়। স্কোপোলামিন বা ডেভিলস ব্রেথ বর্তমানে মাদক হিসেবেই বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়ে অপরাধীদের হাতে চলে যাচ্ছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা বলছে
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গতকাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা শয়তানের নিশ্বাস নামের কেমিক্যাল ব্যবহার সম্পর্কে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এটি ছিনতাইকারী ও প্রতারক চক্রের মধ্যেই বেশি ব্যবহৃত হয়। এ জাতীয় অভিযোগ পেলে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। অনেক সময় পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়েও এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তদন্ত ও অভিযান চালায়। এর মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, কেউ এর ভুক্তভোগী হলে স্থানীয় থানা-পুলিশ এবং প্রয়োজনীয় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে একটু সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।