গুলশান-বনানীর পেটের মাঝে কোনোমতে টিকে ছিল কড়াইল বস্তিসংলগ্ন লেকটি। অবৈধ দখলে সেই লেক বা জলাশয় এখন ছোটখাটো ডোবায় রূপ নিয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, সেই ডোবাও দখলের আয়োজন শুরু হয়েছে। পানির উপরেই বাঁশ-কাঠ ও টিন দিয়ে একের পর এক ঘর বা স্থাপনা তোলা হচ্ছে। ডোবার ওপরেই গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাড়া বা মহল্লা।
এভাবেই বাড়ছে গুলশান-বনানীর বিষফোঁড়া হিসেবে পরিচিত কড়াইল বস্তির পরিধি। লেক দখল ও ভরাট করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এখানে গড়ে তুলছেন নিজেদের আধিপত্য। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাঁদাবাজি, মাদকের কারবারসহ নানা অপরাধ। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী ও মহাখালীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কড়াইল বস্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অন্ধকার জগৎ। বস্তিটি এখন যতটা না নিম্ন আয়ের মানুষের বসতি এলাকা, তার চেয়ে বরং এটি পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে। এক সময়কার স্বচ্ছ নীল পানির বনানী লেক এখন দখলের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে বনানী লেকের পাড় দখল শুরু হয়। প্রথমে স্বল্প পরিমাণে দখল হলেও বছরের পর বছর ধরে লেকের পানি ভরাট করে তৈরি হয়েছে বস্তি। ২০২৫ সালে এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। লেকের ওপর ভাসমান ঘরবাড়ি উঠছে। গোডাউন পাড়ার অংশটুকু বনানী লেকের মাথা। এখন পুরো লেক থেকে মাথার এই অংশ একদমই আলাদা হয়ে গেছে। আর বেঁচে থাকা অবশিষ্ট ডোবাও মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। দখলদাররা লেকের মাথার পুরোটাই খেতে বসেছেন। প্রকাশ্যে দিন-রাতে সমান তালে চলছে ভরাট। কেউ কেউ ঘর বানানোর জন্য বাঁশ পুঁতে জায়গা চিহ্নিত করে রাখছেন। কেউ আবার নিজে তৈরি করবেন বলে বাঁশ পুঁতে নিশানা দিয়ে রেখেছেন।
স্থানীয়রা জানান, লেক দখল করে তৈরি হয়েছে বাইদাপাড়া, গোডাউন পাড়া, কুমিল্লা পট্টি, বেলতলা, পশ্চিমপাড়া, পূর্বপাড়া, উত্তরপাড়া, মোসা, এরশাদনগরের মতো বস্তি। অথচ দুই দশক আগেও এখানে নৌকা দিয়ে বনানী-মহাখালী যাতায়াত করা যেত। এখন পুরো অংশ ডোবা এবং অবৈধ বসতিতে পরিণত হয়েছে।
আলাপকালে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেছেন, অপরাধী চক্রকে প্রতিরোধ না করায় লেক বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের নীরবতা, প্রশাসনের উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক দখলদারদের লালসা- সব মিলিয়ে এই অপরাধ রাজ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। তারা বলছেন, এখানে আগে বেশি চুরি হতো, কিন্তু এখন হচ্ছে ডাকাতি। এ অবস্থায় লেকের আশপাশের গুলশান-বনানী এলাকার নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনজীবনও এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
লেক দখলের মহোৎসব
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ বা অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা কড়াইল বস্তিসহ আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্য চালিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই নেতা-কর্মীরা পালিয়ে গেলে অন্য দলের লোকজন বসতির নিয়ন্ত্রণ নেন। বলতে গেলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে লেক দখল করতে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বিএনপির স্থানীয় নেতারা এই দখলযজ্ঞে মদদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা ঘর তুলেছেন, আবার সেসব ঘর ভাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা তুলছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নেতাদের উদ্যোগে বস্তিতে বেড়েছে বিভিন্ন ক্লাব, ইউনিট ও সংগঠন। তাদের নিয়োজিত সন্ত্রাসীরা বস্তির প্রতিটি ঘর থেকে বখরা, পানির বিল, বিদ্যুতের বিল থেকে শুরু করে টয়লেট ব্যবহারের ‘ফি’ নেয়। আর এসব যায় রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের পকেটে।
লেকের বাইদাপাড়া ও গোডাউন পাড়ের মাঝে চলে গেছে বনানী ১ নম্বর সড়ক। এক সময়ের স্বচ্ছ পানির ওপর দিয়ে নৌকা দিয়ে মহাখালী, গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যেত। দখলের কারণে মূল লেক থেকে গোডাউন পাড়ের অংশ একদম আলাদা হয়ে গেছে। লেক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গোডাউন পাড়া এখন ডোবায় পরিণত হয়েছে। সেটুকুও এখন গিলে খাওয়ার প্রতিযোগিতা হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে।
বাইদাপাড়া ও গোডাউন পাড়ের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ টিনশেড ঘর তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক ঘর পানির ওপরে ভাসমান। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির অবৈধ সংযোগ দিয়ে অনেক ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ থাকলে রুমপ্রতি ভাড়া ৫ হাজার টাকা। না থাকলে রুম ভাড়া দিতে হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। দুই রুমের ভাড়া ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু। শুধু তাই নয়, সরকারি এই লেক এখন বিকল্পভাবে স্ট্যাম্পেও কেনাবেচা ও হাতবদল হচ্ছে বলেও জানা যায়।
সম্প্রতি ওই এলাকা পরিদর্শনে যাই। গোডাউন বস্তি পাড় হয়ে বনানীর এক নম্বর সড়কের শুরুতেই চোখে পড়ে ঢাকা হাইকোর্টের ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেনের বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লেক রক্ষার আন্দোলন করছেন। তার বাড়ির সামনের রাস্তায় বস্তির কিছু ছেলেকে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। বাড়ির দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি মালিক সরোয়ার হোসেনের কার্ড দেন।
ফোন করলে সরোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব তো বটেই, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও রাজউক কর্মকর্তারাও দখল-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের অনুমতি ছাড়া বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংযোগ নেওয়া সম্ভব নয়। গত মঙ্গলবার তিনি বন, পরিবেশ, রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেছেন। এর একটি অনুলিপি তিনি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। আগামী সপ্তাহে রিট করার পরিকল্পনাও রয়েছে ব্যারিস্টারের।’
কারা এর সঙ্গে জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামগুলো ঠিক বলতে পারব না। তবে তাদের অনেকে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। আবার থানায় অভিযোগ দিলে ওসি সাহেব অপারগতা জানান। অথচ এই বস্তিতে সব অবরাধ চলছে। অনেকগুলো ‘ব্রোথেল হাউস’ তৈরি হয়েছে। কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অপরাধের রাজ্য: সন্ত্রাস-মাদক-আতঙ্ক
কড়াইল বস্তি বহুদিন ধরেই রাজধানীর সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এখানে অপরাধ দ্বিগুণ বেড়েছে। এলাকায় প্রতিদিনই ঘটছে সংঘর্ষ, হামলা, ডাকাতি, অস্ত্রের মহড়া আর চাঁদাবাজির ঘটনা।
বস্তিতে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং, অস্ত্র গ্যাং, মাদক গ্যাং- যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। রাতে চলছে গুলির শব্দ, দিনে চলছে লুটপাট। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
অপরাধীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু বস্তিতেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের আবাসিক এলাকায়ও। কথা হয় বনানী ১ নম্বর সড়কের এক বাড়ির দারোয়ান সোহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আগে ছেলেপেলেরা বস্তিতে নেশা করত। এখন আমাদের এদিকে (বনানী) এসে নেশা করে। আগে তাদের রাতে দেখা যেত, এখন দিনে-দুপুরেই দেখা যাচ্ছে। রাতে অস্ত্রের মহড়া দেয় কিশোর বয়সীরাও। এতটা ভয়ানক অবস্থা আগে দেখিনি।’
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কড়াইল বস্তিসংলগ্ন লেকের ভাসমান ঘরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে মাদকের কারবার। দিনের বেলা কিছুটা নীরবতা থাকলেও দুপুর গড়াতেই বদলে যায় পুরো পরিবেশ। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভাসমান ঘরগুলো মাদক কেনাবেচা ও সেবনে সরগরম হয়ে ওঠে। ঘরগুলোর ভেতরেই গড়ে উঠেছে মাদক কেনাবেচার ছোট-বড় অসংখ্য স্পট। যেখানে খোলামেলাভাবেই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় মদ।
স্থানীয়রা জানান, একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর ছায়ায় মাদক কারবারিরা এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না কেউ। প্রতিবাদ করলেই হুমকি, ভয়ভীতি ও টার্গেট করে হামলা চালান তারা।
স্থানীয়দের ‘মুখ খুললেই বিপদ’
এই বস্তিতে বেড়ে ওঠা রাবেয়া সুলতানা বেগম (৪০) বলেন, এক সময় এখানে কিছুই ছিল না। গোডাউন পাড় থেকে নৌকায় উঠলে গুলশান চলে যাওয়া যেত। ২০০০ সাল থেকে লেক দখল শুরু হয়। প্রথমে রিকশাশ্রমিকরা থাকতে শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে লেক দখল করে ঘর-বাড়ি তৈরি করে। লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, এই যে সব ঘর-বাড়ি- সবই লেকের জায়গা। এখন তো ডোবায় থাকা পানির ওপরেও ঘর-বাড়ি তুলছে। আবার ভাড়াও দিচ্ছে।
দখলকারীদের পরিচয় প্রসঙ্গে সুলতানার অভিযোগ, যারা আগামীতে সরকারে আসবে- তাদের লোকেরাই এসব করছে। এটা এখানকার সবাই বুঝে। কিন্তু এসব নিয়ে মুখ খুললে বিপদে পড়তে হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের
কড়াইল বস্তির গোডাউন পাড়ে দিনে দখল আর রাতে প্রকাশ্য চলে মাদকের কারবার। লেকের পাড় ঘেঁষে প্রতিদিনই দখল হয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন জায়গা। ঠিকাদারি চক্রের মতো কয়েকটি গোষ্ঠী দিনের আলোয় এসব দখল কার্যক্রম চালালেও এসব প্রতিরোধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই।
রাতের পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর। সরু গলি, ঘাটের পাশে কিংবা ভাসমান ঘরগুলোতে চলে খোলামেলা মাদক বিক্রি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুবকদের আনাগোনা বাড়ে। কিছু জায়গায় দেখা যায় প্রকাশ্য সেবনও। রয়েছে পতিতালয়ও। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে ভয়ভীতি এখানে তৈরি হয়েছে, তাতে মুখ খুলতে সাহস পান না কেউই। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে অপহরণ, হামলা বা ঘর ভাঙচুরের হুমকি।
প্রশাসন আগে মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও এখন কোনো তৎপরতা নেই। সবই অদৃশ্য কারণে থমকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে একটি বড় অঙ্কের টাকা প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির পকেটে যায়। বস্তির ভাষায় যাকে বলা হয় ‘মাসুয়ারা’ যারা মাস শেষে টাকা নিয়ে নীরব থাকেন।
বস্তি দখল ও নিয়ন্ত্রণে যারা:
বস্তিগুলো এখন অন্তত ১০ টুকরো। প্রতিটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন আলাদা নেতা। প্রতিটি নেতার নিজস্ব বাহিনী আছে, যারা ভাড়া তোলে, চাঁদা নেয় এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে। লেকের গোডাউনপাড়ায় আধিপত্য রয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা খররুমের। একসময় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে চললেও এখন ভোল পাল্টে বিএনপির নেতা বনে যান খররুম। এই খররুমের চার ভাই রয়েছে। চার ভাই মিলে বস্তির বড় একটি অংশ দখল ও মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন। খররুমের সহযোগী বিএনপির আরেক নেতা মো. রাজা এখন বেলতলা, গোডাউন পাড়া, এরশাদনগর, আদর্শনগর, বেদে বস্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন। পানি-বিদ্যুতের বিলও তারা সংগ্রহ করেন। তাদের গ্যাং সদস্য হচ্ছে সবুজ, ইসরাফিল, মোমিন, পারভেজ, রব মিয়া, বাবু, কালন, মণ্ডল হোসেন ও শাহজালাল, মোমিন, সাগর, নাসির ও বাবু মহাখালী। দখল ও অপরাধীদের সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতারা আগে আওয়ামী লীগে থাকলেও ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপি ট্যাগ লাগিয়ে ফেলেন।
উত্তর সিটি করপোরেশন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা খান মো. সবুজ এখন এলাকাটি নিজের দখলে নিতে চাইছেন। খররুম বনাম সবুজ- এই দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষ হচ্ছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগপন্থি ইসরাফিলের সহযোগী জাহির, সোহেলের গ্যাং- সবাই এখন বিএনপি পরিচয় ব্যবহার করে লেক দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
প্রকাশ্যে এমন দখল ঠেকাতে কী করছে সিটি করপোরেশন? জানতে চাইলে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ নিজে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিষয় ও প্রশ্ন তাদের গণসংযোগ কর্মকর্তাকে পাঠাতে বলেন। মেসেজ পাঠানো হলে জবাব আসে, ‘শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ফুটপাত দখল করা হচ্ছে। যেকোনো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি, উচ্ছেদের পর পুনরায় অবৈধ দখল বা স্থাপনা নির্মাণ রোধে আনসার সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর খবরের কাগজকে বলেন, ‘দখলের এই বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপর খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কাউকে কোনো কিছু করার সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি এর সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে গত বুধবার বনানী থানার ওসির দায়িত্বে থাকার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘কড়াইল বস্তি সংলগ্ন ওই লেকের মাঝখানে বা জলাশয়ের ওপরে টিনশেডের বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির বিষয়টি পুলিশের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। তবে জায়গাটি বা জলাশয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন। পাউবো কর্তৃপক্ষ যদি ওইসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পুলিশের সহায়তা চায় তবে অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করা হবে।’