নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন নির্বাচনে ব্যস্ত হয়ে উঠবে। রাজনীতিকরা কীভাবে দেখছেন এ নির্বাচনকে? এ নিয়ে খবরের কাগজের নিজস্ব প্রতিবেদক জয়ন্ত সাহা সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো:
খবরের কাগজ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কেমন হতে পারে এবারের নির্বাচন? নির্বাচনের আগে পরিবেশ কেমন দেখছেন? আপনার প্রত্যাশা কী?
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: নির্বাচনের আগে যে ধরনের ব্যবস্থা দেখছি তাতে অনেকে বলতে শুরু করেছেন, এবারের নির্বাচনেও টাকার খেলা চলবে। টাকা খরচ করার একটা সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার আগে দেখা গেছে, সেই সীমার ১০ গুণ অর্থ খরচ করা হয়ে গেছে। এর জন্য আমি মনে করি, তফসিলের অন্তত এক মাস আগে প্রত্যেক প্রার্থী কত টাকা খরচ করেছেন সেটার হিসাব নেওয়া উচিত। আগে থেকেই ঘোষণা দেওয়া থাকবে, সে যদি কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন করে তবে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জামানতের টাকা বাড়িয়েছে। এর অর্থ হলো গরিব মানুষ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচনের আগে কয়েকটা দল, নবগঠিত কিছু পার্টি প্রচুর টাকা খরচ করছে। ইলেকশন কমিশনের একটা নিয়ম আছে। প্রত্যেক বছর অডিট রিপোর্ট দিতে হয়। আয়-ব্যয় এবং এসব টাকার উৎস কোথায় তার বর্ণনা দিতে হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী দলগুলো যদি তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
খবরের কাগজ: অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন। তাদের এই পদত্যাগকে আপনি কীভাবে দেখেন?
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: তাদের আরও আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তারা যদি রাজনীতিই করবেন, এটাই যদি তাদের মনের ইচ্ছা হয়ে থাকে, তাহলে তাদের নির্দলীয় হিসেবে পরিচয় করানো হলো কেন? এটা জনগণের সঙ্গে একটা প্রতারণা।
খবরের কাগজ: আপনি প্রায়ই বলেন, একটা নয়া বন্দোবস্তের দিকে যেতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দেশ সেই বন্দোবস্তের দিকে কতটা যেতে পেরেছে?
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: জুলাই অভ্যুত্থানের পরে গত ১৮ মাসে বৈষম্য আরও বেড়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, তারও আগে জাতীয় পার্টির শাসনামলে যে ব্যবস্থা ছিল, এখনো সেই ব্যবস্থাই আছে। এখনো লুটপাটতন্ত্র চলছে। এখনো জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকের ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ঘোষণা করা হয়নি। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই নতুন বন্দোবস্ত তো মানুষ চায়নি।
খবরের কাগজ: গণভোটের বিষয়ে আপনি সবসময়ই নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট আয়োজনের সব বন্দোবস্ত সম্পন্ন করছে। গণভোট কি সংকট নিরসন করতে পারবে?
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: এই গণভোট হলো একটা ভাঁওতাবাজি; একটা মিথ্যাচার, ভুয়া। বলা হয়েছিল যে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণভোট করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাম দলগুলো কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, জুলাই সনদে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হলে আমরা স্বাক্ষর করব না। সরকারই আমাদের স্বাক্ষর করা অসম্ভব করে তুলেছে। আমরা যেসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছি, সেসব বিষয় তারা জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
খবরের কাগজ: দেশে এখন কোন কোন রাজনৈতিক ধারা বিরাজ করছে? তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: আমি তিন ধরনের ফোর্সের কথা বলব। একটা হলো উগ্র দক্ষিণপন্থি ও উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি, তারা জামায়াতে ইসলামী। তারা পরিবর্তন করতে চায়; কিন্তু পরিবর্তনটা উল্টোপথে। তারা আমাদের মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চায়। আরেক ধরনের শক্তি আছে, যারা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাসী; মানে যা ছিল তাই থাকবে। তারা অতীতের ব্যবস্থার নতুন সংস্করণ করতে চায়; যেমন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এনসিপি। আরেকটা ফোর্স হলো বামপন্থিরা। আমরা বলি সমাজতন্ত্রের কথা। আমরা বলি, পরিবর্তনের কথা। যে পরিবর্তন হবে সামনের দিকে, পেছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।