জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তেই অটল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে)। যদিও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে অনেক। কিন্তু ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল রিয়াজুল হাসান (অব.) বলছেন, ‘আলোচনা-সমালোচনার বিষয়টি আমারও চোখে পড়েছে। একটা ব্যাপার হচ্ছে, কখনো কোনো সিদ্ধান্তে সবাইকে খুশি করা যায় না।’ তাই নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকার বার্তা তার কণ্ঠে, ‘এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের আগের সিদ্ধান্তেই আছি। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা ভাবিনি।’
হকি ফেডারেশনের আলোচিত এই সিদ্ধান্তটি হচ্ছে, ৩২ বছরের বেশি খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে ডাকা হবে না। যদিও সিদ্ধান্তটিকে চূড়ান্ত না বলে প্রাথমিক আলোচনা বলা হচ্ছে। তবে ফেডারেশনের কার্যক্রম ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। এপ্রিলের এএইচএফ কাপ হকির জন্য মার্চে জাতীয় দলের ক্যাম্প ডাকবে ফেডারেশন। তার আগে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি খেলোয়াড়দের কুপার টেস্ট নেওয়া হবে। ক্যাম্পে যোগ দিতে হলে কুপার টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে খেলোয়াড়দের। এরই মধ্যে অনেক খেলোয়াড়ই এই কুপার টেস্টের জন্য ডাক পেয়েছেন। তবে ডাক পাননি দেশের হকির অন্যতম বড় মুখ রাসেল মাহমুদ জিমি। যার বয়স এখন ৩৭।
ঠিক এই জায়গাটায় দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে যাচ্ছে। ফেডারেশন যে বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জিমি কুপার টেস্টে ডাক না পাওয়ায় বিষয়টি পরিষ্কার। কারণ পারফরম্যান্স বিবেচনায় জিমিকে জাতীয় দলে দেখেন হকিসংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই। এমনকি হকি অঙ্গনের অনেকে এমনও বলছেন, জিমিকে বাদ দিতেই ফেডারেশন বয়সসীমা বেঁধে দিচ্ছে।
বয়সের অজুহাতে খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে না রাখার এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। যাদের একজন জাতীয় দলের সাবেক তারকা রফিকুল ইসলাম কামাল। তার কথায়, ‘আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও এমন নিয়ম আছে। একটা নির্দিষ্ট বয়সের বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের নেওয়া হবে না বলা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন এখানে না নেওয়ার পেছনে যুক্তিটা কী? ফিটনেস লেভেলের জন্য? হকিতে তো সারা বছর খেলাই থাকে না। যেখানে মাঠে খেলা থাকে না, সেখানে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে এভাবে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।’
কামাল আরও বলেন, ‘আমাদের দেশেই তো এর চেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়রা খেলে যাচ্ছে। ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকের কথা বলতে পারি। তারা তো অন্য অনেক তরুণের চেয়ে ভালো খেলে যাচ্ছেন। আর এই যে সিদ্ধান্ত, এই সিদ্ধান্তটি আসলে কে নেবে? এই সিদ্ধান্তটা আসতে পারে কোচের কাছ থেকে। কোচ চাইলে একজন বেশি বয়সী খেলোয়াড় দলের স্বার্থে নিতেই পারেন। আবার বাদও দিতে পারেন। কিন্তু ফেডারেশন হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নিলে সেটি হকির জন্য মোটেও ভালো কিছু হবে না। আমি মনে করি ফেডারেশনের এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। এমন কিছু হলেও একটা সঠিক প্রসেসের মাধ্যমে হওয়া উচিত।’
ফেডারেশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা যেকোনো কোচের মাথা থেকে আসেনি, সেটা ধরে নেওয়াই যায়। কারণ এই মুহূর্তে জাতীয় দল বা কোনো বয়সভিত্তিক দলের কোনো কোচ নেই। জাতীয় দলের কোচ চূড়ান্ত করতে কদিন ধরে বিভিন্ন কোচদের সাক্ষাৎকার নিয়ে যাচ্ছে হকি ফেডারেশন, যা আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক।
এদিক ঘরোয়া হকি শুরু বিষয়ে কোনো ইতিবাচক বার্তা নেই ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদকের কণ্ঠে। আদালতে দুটি ক্লাবের মামলা থাকায় প্রথম বিভাগ লিগ আটকে আছে বলে জানিয়েছেন লে. কর্নেল রিয়াজুল হাসান (অব.)। এই জট না খোলা পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাবনাও ক্ষিণ। ২০২২ সালে প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করেছিল ফেডারেশন। বর্তমান অ্যাডহক কমিটি আপাতত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়েও ভাবছে না। রিয়াজুল হাসান সরাসরিই বলছেন, ‘এটা নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা নেই।’










