থিবো কর্তোয়া। ছবি: সংগৃহীত
সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ শিবিরে চলছে মিশরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি। এর মাঝেই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখগুলোর একজন, থিবো কর্তোয়া ভাবিয়ে তুললেন বেলজিয়ান ফুটবল সমর্থকদের। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হতে পারে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ বড় টুর্নামেন্ট।
২০১১ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া কর্তোয়া এখন বেলজিয়ামের অন্যতম নির্ভরতার নাম। ১০৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্বীকার করেছেন, নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় হয়তো চলে এসেছে, ‘এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা উচিত কি না জানি না, তবে এই টুর্নামেন্টের পর আমি জাতীয় দলে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি, থাকার সম্ভাবনার চেয়ে। আমি এখনো আরও কয়েক বছর খেলতে চাই। কিন্তু তখন নিজের শরীরেরও যত্ন নিতে হয়। আমার পরিবার এখানে এসেছে, কারণ এটি আমার শেষ টুর্নামেন্টও হতে পারে।’
তবে অবসরের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় বলেও জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক। বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, ‘যদি আমাদের বিশ্বকাপ ভালো যায়, আর যদি দলের ভেতরের ইতিবাচক পরিবেশটা বজায় থাকে। এর পর আমাকে কোচ, (টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) ভিনসেন্ট মানার্ট এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’
কর্তোয়ার ভাবনায় পরিবর্তন আনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি মৌসুমও। সাবেক কোচ ডোমেনিকো তেদেস্কোর সময়ে কিছু আন্তর্জাতিক বিরতিতে না খেলেও চলত তার। সেই অভিজ্ঞতা তাকে উপলব্ধি করিয়েছে বিশ্রামের গুরুত্ব, ‘আমি লক্ষ্য করেছি, ওই আন্তর্জাতিক বিরতিগুলোতে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া যায় এবং জিমে শান্তভাবে কাজ করা যায়। এ ছাড়া গত দেড় বছরে আমার বেশ কিছু ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা ও চোট হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি ভাবতে শুরু করেন। আমি দায়িত্ব নতুনদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভাবছি। সেনে (ল্যামার্স) এবং মাইক (পেন্ডার্স)-এর মতো অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে।’
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে শরীরের সঙ্গে সমঝোতা করেই এগোতে হচ্ছে কর্তোয়াকে। গত বসন্তে চোট কাটিয়ে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, বিশেষ করে কোয়াড্রিসেপসের চোট তাকে বেশ ভুগিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত বেলজিয়ান গোলরক্ষক, ‘হ্যাঁ, আমি খুবই ক্ষুধার্ত (সফল হওয়ার জন্য), দলের অন্য সবার মতোই। আমি খুব ভালো অনুভব করছি এবং ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছি। বসন্তে ফেরার জন্য আমি খুব কঠোর পরিশ্রম করেছি। চোটটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। কারণ তখন আমি নিজেকে প্রায় অপরাজেয় মনে করছিলাম। কিন্তু এখন আমি আমার মান ধরে রাখতে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে প্রস্তুত।’
আগামী বৃহস্পতিবার বেলজিয়াম তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউজিল্যান্ড।