ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা সালমান (রা.) কীভাবে সত্যকে চিনলেন? মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি ১৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের
Nagad desktop

কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি বুলবুল

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি বুলবুল
ছবি: সংগৃহীত

বিসিবির গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতার জোরে সভাপতির কর্মকাণ্ড অনেকটা স্বেচ্ছাচারিতায় রূপ নেয়। নাজমুল হাসান পাপনের সময় তিনি এই ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়েছেন। এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেখানে পরিচালনা পর্ষদের অনেকে জানতেনই না। আবার তার সিদ্ধান্তে বিরোধিতাও করা যেত না। গঠনতন্ত্রে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়ার পরও নাজমুল হাসান পাপন গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে আরও অনেক কাজ করতেন। কখনো কখনো তিনি গঠনতন্ত্রই মানতে না। চার মেয়াদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি মেয়াদে তিনি দুজন সহসভাপতিই নির্বাচিত করেননি। আবার কোনো মেয়াদে দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত করলেও তাদের অকেজো করে রেখেছিলেন।

বিসিবির গঠনতন্ত্রে সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহসভাপাতি দায়িত্ব পালন করার কথা রয়েছে। বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১৪.২.২ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ‘সভাপতির অনুপস্থিতে সভাপতি কর্তৃক মনোনীত যেকোনো একজন সহসভাপতি সভাপতির দায়িত্ব পালন করিবেন। তবে সভাপতি পদে আকস্মিক শূন্যতা সৃষ্টি হলে অথবা সভাপতি কোনো কারণে স্বীয় পদে দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অপারগ হলে যথানিয়মে সভাপতি নিয়োগ না হওয়া অথবা সভাপতি পুনরায় দায়িত্ব পালন আরম্ভ না করা পর্যন্ত সভাপতি কর্তৃক মনোনীত ০১ (এক) জন সহসভাপতি সভাপতির দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।’ কিন্তু নাজমুল হাসান পাপন কখনো গঠনতন্ত্রের এই ধারায় হাঁটেননি। তিনি নেই, কিন্তু তারা ছায়া রয়ে গেছে।

বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও হাঁটছেন নাজমুল হাসান পাপনের দেখিয়ে দেওয়া পথেই। তিনিও গঠনতন্ত্রের ধার ধারেন না। যখনই তিনি দেশের বাইরে যাচ্ছেন, নাজমুল হাসান পাপনের মতো কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। দেশের বাইরে থেকে তিনি টেলিফোনে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়গুলো স্কেন করে ই-মেইল সমাধান করে নিচ্ছেন। অথচ বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদে দুজন সহসভাপতি আছেন মো. শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম মেয়াদের মতো দ্বিতীয় মেয়াদেও আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে কখনো বিসিবির কাজে, কখনো ব্যক্তিগত কাজে একাধিকবার দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। বিসিবির কাজে দেশের বাইরে গেলে খুব বেশি দিন থাকা হয়নি তার। কিন্তু ব্যক্তিগত কাজে গেলে বেশ কয়েক দিন থাকা পড়ে। তার পরিবার অস্ট্রেলিয়াতে থাকাতে প্রায়ই তাকে সেখানে যেতে হয়। বর্তমানে তিনি বেশ লম্বা সময় ধরে অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছেন। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই তিনি সবচেয়ে বেশি দিন অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছেন। গিয়েছেন ১৬ ফেব্রুয়ারি। যাওয়ার আগে কবে ফিরবেন এ ব্যাপারে তিনি সরাসরি কিছু না বলে গেলেও বিভিন্ন পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গিয়েছিল তিনি অল্প কিছুদিন থেকেই ফিরে আসবেন।

কিন্তু তার যাওয়ার ৩ সপ্তাহের বেশি হয়ে গেছে। এখনো ফিরেননি। শোনা যাচ্ছে তিনি ফিরবেন ঈদের পর। সে হিসেবে তার থাকা পড়বে প্রায় দেড় মাসের মতো। বিসিবির ইতিহাসে কোনো সভাপতি এভাবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকেননি। তিনি হয়তো তার কাজ অনলাইনে সেরে নিচ্ছেন। কিন্তু কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে না যাওয়াতে তার লম্বা সময় অনুপস্থিতিতে বিসিবিতে এক রকম অব্যবস্থাপনা ও শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘এতে করে কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ছে। সভাপতি স্বশরীরে উপস্থিত থাকলে কাজে অনেক বেশি গতিশীলতা আসে। চেইন অব কমান্ড বজায় থাকে। যা মারাত্মকভাবে অনুপস্থিত। সভাপতি না থাকাতে এখন বিসিবিতে সবাই সভাপতি। কেউ কাউকে মানছেন না!’

আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হতেন সহ-সভাপতি বরিশাল বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন। এ ব্যাপার তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যাননি।’ আরেক সহসভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমাকে কিছু বলে যাননি।’ আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রথম মেয়াদে ৪ মাসের খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালনকালে খুব একটা বিতর্ক ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেই চলেছেন। সেটা শুরু হয়েছে অবশ্য তার কাউন্সিলর হওয়ার প্রক্রিয়া থেকেই। দ্বিতীয় মেয়াদে তার এখন ৪ মাস পূর্ণ হয়ে ৫ মাস চলছে। এ সময়ে তিনি একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে নিজেকে আলোচনায় রেখেছেন।

বিসিবির ইতিহাসে তিনিই হতে যাচ্ছেন প্রথম সভাপতি, যার অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের মতো দেশের বিপক্ষে একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। এক পরিচালক বলেন, ‘এতদিন দেশের বাইরে থাকলে, তার সভাপতি হওয়ার দরকার কী! একটা আন্তর্জাতিক সিরিজ হবে। অথচ তিনি নেই। কত সমস্যা তৈরি হতে পারে। সব কিছু কি আর ওভার ফোনে করা যায়।’

এ নিয়ে বিসিবির সাবেক পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন, ‘ভেতরে কী হয়েছে আমি বলতে পারব না। তবে সভাপতির অনুপস্থিতিতে নেক্সট যে আছেন, তিনিই হতে পারেন। এতে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এটা অটোমেটিকই হওয়া উচিত।’ বিসিবির আরেক সাবেক পরিচালক ও সর্বশেষ নির্বাচনে জামালপুর থেকে কাউন্সিলর হয়ে আসা আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি- তার সভাপতি হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই। যেটি তার কর্মকাণ্ডেই বোঝা যায়। একটার পর একটা বিতর্ক তৈরি করেই যাচ্ছেন। আমি ভেবে অবাক হয়ে যাই, একজন সভাপতি কীভাবে এত দীর্ঘসময় দেশের বাইরে থাকতে পারেন? আবার কাউকে দায়িত্ব দিয়ে না যাওয়া-ও তিনি ঠিক করেননি। আসলে তিনি কী চান তা হয়তো তিনি নিজেই জানেন না বা বোঝেন না। তিনি খুবই লোভী প্রকৃতির একজন ব্যক্তি।’

বিসিবির সাবেক পরিচালক মঈনউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সংগঠককে হতে হয় উদার মনমানসিকতার। বিসিবির সভাপতির মাঝে তার ঘাটতি আছে। দেশের বাইরে গেলে সহসভাপতিকে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ফিরে আসার পর আবার নিজের দায়িত্ব তিনি পালন করবেন। এটি গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। কিন্তু তিনি তা না করে চরমভাবে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন। তাকে তো নিয়ম মেনে চলতে হবে। তিনি তো সারা জীবনের জন্য সভাপতি হয়ে আসেননি। সভাপতিই যদি নিয়ম না মানেন, সেখানে চেইন অব কমান্ড থাকে না। এটা তার স্বেচ্ছাচারী মনোভাব। এমন সভাপতির কাছে কী আশা করা যায়?’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘সভাপতি হওয়ার কোনো যোগ্যতাই তার (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) নেই। গঠনতান্ত্রিক বিষয়গুলো তার জানা আছে। দেশের বাইরে যাবেন। কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। দায়িত্ব দেওয়াটা বিশ্বাস করা। উনি ফারুক ভাইকে বিশ্বাস করেন না। আরেকজন যিনি আছেন মো. শাখাওয়াত, তার যোগ্যতা নিয়ে সভাপতি নিজেই সন্দিহান যে, তিনি এই পদের জন্য যোগ্য কি না? সব মিলিয়ে প্রশাসনিকভাবে ভঙ্গুর অবস্থা চলছে। এভাবে একজন অযোগ্য-অথর্ব লোকের বিসিবির মতো দায়িত্বের সভাপতি হওয়া আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আর তিনি এভাবে এক মাসের ওপরে দেশের বাইরে থাকার সুযোগই নেই। আসলে এভাবে একটি দেশের বোর্ড চলতে পারে না।

পলাশ/অনিক/

মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র!

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র!
প্রতীকী ছবি

নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো ও ব্রাজিলের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন মোট ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক। বিশাল এই দর্শক সমাগম ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম বৃহত্তম এই ভেন্যুর ভেতরে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে।

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই মরক্কো ও ব্রাজিলের সমর্থকেরা বিপুল সংখ্যায় স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। গ্যালারিজুড়ে পতাকা, নিজ নিজ দেশের জার্সি, স্লোগানের মাধ্যমে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যা ম্যাচ চলাকালীন সময়ে খেলোয়ারদের আলাদা অনুপেরণা যুগিয়েছে।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে 'অ্যাটলাস লায়ন' খ্যাত মরক্কো মাঠে শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে, আর গ্যালারিতে মরক্কোর সমর্থকেরাও প্রথম বাঁশি থেকেই নিজেদের জোরালো উপস্থিতির জানান দেন। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইসমাইল সাইবারি এক গতিময় আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে মরক্কোর প্রথম গোলটি করলে গ্যালারির গর্জন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

খেলার ৩২তম মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে ব্রাজিল সমতায় ফিরলেও মরক্কো সমানতালে লড়াই চালিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোনো দলই জয়সূচক গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাধারণ ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮২,৫০০। সেই হিসাবে মরক্কো-ব্রাজিল ম্যাচটি প্রায় পূর্ণ গ্যালারির সামনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করবে এই ভেন্যুটি, যার মধ্যে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালও রয়েছে।

নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পর সবচেয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস যার, সেই জার্মানির দিকে তাকালেই ফুটবল দুনিয়া এখনো দেখতে পায় এক অদম্য পরাশক্তিকে। চারটি বিশ্বকাপ, চারবার রানার্সআপ, চারবার তৃতীয় স্থান; পরিসংখ্যানের প্রায় প্রতিটি স্তরেই শক্ত অবস্থান জার্মানদের। কিন্তু ইতিহাস সব সময় বর্তমানের নিশ্চয়তা দেয় না। ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়; জার্মান ফুটবলের জন্য যা ছিল অকল্পনীয় এক ধাক্কা। এবার সেই বিকল হয়ে যাওয়া যন্ত্র আবারও চালু করার মিশন শুরু হচ্ছে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউসটনের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ রাত ১১টায় বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। প্রতিপক্ষ কুরাসাও; ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপদেশ, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। কাগজে-কলমে ব্যবধান আকাশ-পাতাল হলেও জার্মানি এবার কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানি মানেই বড় মঞ্চের দল। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪; চারটি বিশ্বকাপ তাদের শোকেসে। আছে চারবার ফাইনালে হারের আক্ষেপও। আবার চারবার তৃতীয় হওয়ার রেকর্ডও তাদের। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনবার শিরোপা জিতেছে তারা। তবে সব সাফল্যের মাঝেও সাম্প্রতিক স্মৃতি খুব সুখের নয়। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়, একই ঘটনা কাতারেও। এমন ব্যর্থতা জার্মানদের ইতিহাসে বিরল। তাই এবারের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয় বরং নিজেদের পুনরুদ্ধারের লড়াই।

সেই মিশনের নেতৃত্বে আছেন জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে নতুন ছন্দের দল গড়েছেন তিনি। এই দলটিতে আছে গতি, আছে সৃজনশীলতা, আছে আক্রমণের ধার। মাঝমাঠে জসুয়া কিমিচ, সামনে জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ; বর্তমান ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক জুটিগুলোর একটি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আক্রমণের কেন্দ্রে থাকবেন কাই হার্ভাটেজ, যিনি জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে ২২ গোল করেছেন।

সাম্প্রতিক ফর্মও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ৯ ম্যাচেই জয় পেয়েছে জার্মানি। এ বছর প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড, ঘানা, ফিনল্যান্ড এবং বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকেও। বাছাইপর্বেও ছিল দাপুটে পারফরম্যান্স।

তবু নাগেলসম্যান সতর্ক। ম্যাচের আগে জার্মান কোচ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ছোট দল বলে কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, বিশ্বকাপে নাম নয়, মানসিকতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। অধিনায়ক কিমিচও একই সুরে কথা বলেছেন। সমর্থকরা বড় ব্যবধানে জয় চাইতে পারেন, কিন্তু দলের প্রথম লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে কুরাসাওয়ের জন্য এটি রূপকথার মতো যাত্রা। মাত্র দেড় লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটি বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠে এসেছে। আয়তন ও জনসংখ্যা; দুই দিক থেকেই তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি।

বিশ্ব র‌্যাকিংয়ে ৮২ নম্বরে থাকা দলটির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে তাদের ভয় নেই। কোচ ডিক অ্যাডভোকেট ও অধিনায়ক কুকো মার্টিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন; তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে এসেছে। জার্মানি ও কুরাসাও এর আগে কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হয়নি। ফলে আজকের ম্যাচই হবে দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ। বিশ্বকাপে অনেক গল্প জন্ম নেয়। তবে জার্মানদের কাছে আজকের গল্পের নাম একটাই; প্রবল দাপটে ফিরে আসা।

১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের
ছবি: সংগৃহীত

ক্রেইগ বার্লির পর প্রথম স্কটিশ খেলোয়াড় হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়লেন জন ম্যাকগিন। রবিবার বস্টন স্টেডিয়ামে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে বল জালে জড়িয়ে তিনি এই ইতিহাস গড়েন।

অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে একটি শট নেন, যা ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে হাইতির গোলরক্ষককে ফাকি দিয়ে জালে জড়ায়। এই গোলের মধ্যদিয়ে স্কটল্যান্ড ১-০ এগিয়ে যায়।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর এটিই বিশ্বমঞ্চে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল। সেবার নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বার্লির করা গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল দলটি।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর আবারও বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে স্কটল্যান্ড। এবার তাদের মূল লক্ষ্য ইতিহাসের প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ এএম
সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের
ছবি: সংগৃহীত

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে ব্রাজিলকে। ফেবারিটদের রীতিমতো নাচিয়েছে তারা। ২১ মিনিটে পিছিয়ে পড়লেও ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের গোলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ম্যাচ। 

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুদলের লড়াই হয়েছে বেশ। 

মরক্কোর হাই প্রেসিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। বল দখলে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে মরক্কো। প্রথম ৩০ মিনিটেই ১২টি শট নেয় তারা। 

ম্যাচের ২১ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় মরক্কো। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ঠিক মাঝখান দিয়ে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস ধরে এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। তিনি ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে গোল করেন।

গোল হজমের পর দ্রুতই ম্যাচে ফিরে ব্রাজিল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে লেফট উইং ধরে এগিয়ে যান ভিনি। সেখান থেকে পাস দেন ব্রুনো গিমায়েরেসের কাছে। বক্সে ফিরতি পাস পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ শটে মরক্কোর জাল কাঁপান ভিনি। তাতে ১-১ গোলে সমতায় ফিরে ব্রাজিল। 

ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠ ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে। কাসেমিরো ও লুকাস পাকুয়েতা নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। যার প্রভাব পড়েছে ম্যাচে। এরপরও ভিনিসিয়ুসের করা গোলের সুবাদে ড্র নিয়ে মাঠে ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এসজি/

ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ এএম
ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-মরক্কো। ম্যাচের শুরু থেকে ব্রাজিলকে চেপে ধরে গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা। ম্যাচের ২১ মিনিটে গোল আদায় করে এগিয়ে যায় তারা। তবে ৩২তম মিনিটে মরক্কোর জালে বল জড়িয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয় দুদলের লড়াই।

ম্যাচের শুরু থেকেই হাই প্রেসিংয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের রক্ষণকে চাপে রাখে মরক্কো। ম্যাচের ১৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ইগর থিয়াগো। ভিনিসিয়ুসের দারুণ ক্রসে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় বল পান তিনি। কিন্তু তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। এর কয়েক মিনিট পরেই গোলের সুযোগ নষ্ট হওয়ার আক্ষেপে পুড়ে ব্রাজিল।  

২১ মিনিটে গোল হজম করে বসে তারা। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ঠিক মাঝখান দিয়ে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস ধরে এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। তিনি ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে গোল করেন।

গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে পড়ে ব্রাজিল। দ্রুতই ম্যাচে ফিরে তারা। ম্যাচের ৩২ মিনিটে লেফট উইং ধরে এগিয়ে যান ভিনি। সেখান থেকে পাস দেন ব্রুনো গিমায়েরেসের কাছে। বক্সে ফিরতি পাস পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ শটে মরক্কোর জাল কাঁপান ভিনি। তার গোলে ১-১ সমতায় ফিরে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। 

সালমান/