প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে নারীরা পিছিয়ে পড়তে পারেন—এমন সতর্কবার্তা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কারণে নারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ। প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ (বুককিপিং), ক্যাশিয়ার এবং অফিসের সাধারণ কর্মীর মতো যেসব পদে নারীদের আধিপত্য বেশি, অটোমেশনের ফলে সেসব পদই বিলুপ্ত হওয়ার বা এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি।
সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে এআই ব্যবহারে নারীদের অনাগ্রহের কারণে। দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় জেনারেটিভ এআই টুল ব্যবহারে নারীরা ২০ শতাংশ পিছিয়ে। ফলে এআই-নির্ভর চাকরিতে তাদের প্রবেশের সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রেডেরার ‘এআই জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এআই খাতে কর্মরত দক্ষ জনশক্তির মাত্র ২২ শতাংশ নারী।
নারীদের প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্যকারী সামাজিক উদ্যোগ ‘সুপারমামস’ সতর্ক করে বলেছে, প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, নারীদের পিছিয়ে পড়ার ‘বাস্তব ঝুঁকি’ তত বাড়ছে।
খবরে আরও বলা হয়েছে, চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে ব্যাংক লোন বা সঠিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও এআই নারীদের প্রতি এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার ‘দ্য মামস অন ক্লাউড নাইন’ নামক একটি ক্যাম্পেইন শুরু করছে সুপারমামস।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হেদার ব্ল্যাক বলেন, এআই-এর উত্থানে বিশেষ করে মায়েদের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, মায়েরা সাধারণত ঘর থেকে বা পার্ট-টাইমে যেসব নমনীয় (ফ্লেক্সিবল) কাজ করতে পছন্দ করেন, দুর্ভাগ্যবশত সেগুলোই অটোমেশনের মাধ্যমে সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় নারীদের দক্ষতা বাড়ানো বা নতুন দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এআই ব্যবহারে নারীদের দ্বিধা কাটাতে হবে। একে ভয় না পেয়ে বরং ভালোভাবে বুঝলে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ঘরের কাজ সামলাতেও এআই সহায়ক হতে পারে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্যমতে, আগামী বছরগুলোতে জেনারেটিভ এআই-এর কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি চাকরি প্রভাবিত হতে পারে। যুক্তরাজ্যের ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যারা কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন, তাদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছেছে। সূত্র: দি ইনডিপেনডেন্ট