বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস আজ ১৭ মে। ১৮৬৫ সালের এই দিনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠিত হয়। দিনটিকে স্মরণী করে রাখতে ১৯৬৯ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
নামকরণ ও উদ্দেশ্য:
শুরুতে এটি কেবল ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘ ও আইটিইউর যৌথ সিদ্ধান্তে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’ করা হয়।
দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য:
দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) অপার সম্ভাবনা তুলে ধরা। সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ডিজিটাল বিভাজন বা বৈষম্য হ্রাস করা। নিরাপদ ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা।
১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আইটিইউর সদস্যপদ লাভ করে।
হাইপার-ডিজিটালাইজড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এই দিনটির তাৎপর্য নতুন জ্ঞানতাত্ত্বিক মাত্রা লাভ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ কেবল তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, ভূ-রাজনীতি এবং নাগরিক অধিকারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ৫জি ও পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) বর্তমান উল্লম্ফন বিশ্বকে একটি অভিন্ন ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করেছে, যেখানে সংযোগের অধিকার এবং তথ্যের নিয়ন্ত্রণই বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করছে। এই বিশেষ দিবসটি ডিজিটাল বৈষম্য (ডিজিটাল ডিভাইড) দূর করে উপাত্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বিশ্ব সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমকালীন পুঁজিবাদ বা ‘সার্ভেইল্যান্স ক্যাপিটালিজম’-এর যুগে ডেটাই এখন প্রধান বৈশ্বিক সম্পদ। বৃহৎ বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ব্যক্তিগত উপাত্ত সংগ্রহ করছে, তা রাষ্ট্রের নিজস্ব রাজনৈতিক কাঠামো এবং জনমত গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত এবং ভুয়া তথ্যের (ডিসইনফরমেশন) অবাধ প্রবাহ আজ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসটি আন্তর্জাতিক মহলে একটি সমন্বিত ডিজিটাল এথিকস প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেয়।