আজ থেকে সতেরো বছর আগের ঘটনা। একটি খাঁচায় দুটি বাজেরিগার পাখি কিনে আনেন মিফতাহুর রাহাত। পাখিগুলো ছিল বিদেশি। মানুষের সে কী আজেবাজে কথা। খাঁচায় কেউ পাখি পালে। পাখি থাকবে বনে। রাহাত বোঝাতে চেষ্টা করলেন, এগুলো খাঁচার পাখি। সারা বিশ্বে এগুলো খাঁচাতেই পোষে। খাঁচায় ডিম দেয়, বাচ্চা ফোটায়। বাইরে ছেড়ে দিলে বাঁচবে না।
কেউ শুনল না তার কথা। সময় গেছে বহতা নদীর মতো। এমবিএ করা রাহাত পাখি নিয়ে পড়ে থাকলেন। অল্প ক’দিনেই সফল হলেন তিনি। পাখি ডিম, বাচ্চা দিল। আরও পাখি কিনলেন। ককাটেইল, লাভবার্ড, ফিঞ্চ। এলাকায় সাড়া পড়ে গেল। খাঁচার পাখি পালনের মাধ্যমে রাহাত স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেলেন। এর পর মাছ চাষ। সর্বশেষে করেছেন টার্কি মুরগির খামার।
পেশা হিসেবে খাঁচার পাখি পালনকে বেছে নেওয়া সম্ভব। খাঁচার অধিকাংশ পাখি পালন লাভজনক। শুধু পাখি পালনকে পেশা হিসেবে নিয়ে সফল হয়েছেন অনেকেই।
খাঁচার পাখি পালন করতে চাইলে করণীয়
১. পাখির খাঁচা রাখার জায়গা ঠিক করতে হবে আগেভাগে। খেয়াল রাখতে হবে জায়গাটা যেন ইঁদুর, বিড়াল, তেলাপোকা ও পিঁপড়ামুক্ত হয়।
২. কোন পাখি পুষবেন, খাঁচা বানানো তার ওপর নির্ভর করবে। হার্ডওয়ারের দোকান থেকে খাঁচা তৈরি করে নেওয়া যাবে। পাখির দোকানেও খাঁচা কিনতে পাওয়া যায়। পাখি দোকান থেকে কিনলে অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নেওয়া ভালো।
৩. পাখি সম্পর্কে ধারণা থাকা উত্তম। অসুখ-বিসুখ, খাবার-দাবার, বাচ্চা ফুটলে তার যত্ন, ডিম পাড়ার পরে করণীয়, বাচ্চাকে মা-বাবা না খাওয়ালে করণীয়, ডিম থেকে বারবার বাচ্চা না ফুটলে করণীয় ইত্যাদি বিষয়। ফেসবুকে অসংখ্য পাখির গ্রুপ আছে। সে সব গ্রুপ থেকে অনেক কিছু জানা যাবে।
পাখি পালনে সফল হওয়ার উপায়
১. অল্প করে হলেও প্রতিদিন পাখিকে সময় দিতে হবে। অভিজ্ঞ ব্রিডারদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে সুবিধা হবে বিপদে-আপদে।
২. অবশ্যই পাখিকে মানসম্মত খাবার দিতে হবে। সিড মিক্স (অনেকগুলো আইটেমের সংমিশ্রণ) অনুপাতগুলো সঠিক হতে হবে। শীতকালে, গ্রীষ্মকালে খাবারে অনুপাত পরিবর্তন হয়।
৩. পেট খারাপ, বদ হজম, সর্দি, জ্বর, ঠাণ্ডার ওষুধ হাতের কাছে রাখতে হবে। ওষুধ সহজলভ্য। পাখি বিক্রির দোকানে পাওয়া যায়।
৪. কম বয়সি (মানে উপযুক্ত বয়স হয়নি) পাখিকে কখনই ব্রিডিংয়ে (ডিম বাচ্চা করতে) দেওয়া যাবে না। এতে পাখির মৃত্যু হতে পারে। পাখির মেইল-ফিমেইল ঠিক আছে কি না, সেটা লক্ষ রাখতে হবে।
৫. বনের পাখি প্রকৃতি থেকে ভিটামিন, মিনারেল সংগ্রহ করে নেয়। যেটা খাঁচার পাখির ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাই শাকসবজি, এগ ফুড খাইয়ে খাঁচার পাখির প্রয়োজনীয় ভিটামিনের জোগান দিতে হবে। সেটা সম্ভব না হলে ক্যালসিয়াম, মাল্টি ভিটামিন, জিংক বাজার থেকে কিনে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অবশ্যই পরিমাণ এবং কখন খাওয়ানো যাবে জেনে নিতে হবে।
৬. ডিম পাড়া, বাচ্চা ফোটা এবং বাচ্চা বড় হওয়ার সময়টাতে পাখিকে একদমই বিরক্ত করা যাবে না। যেমন বারবার বাচ্চা হাত দিয়ে ধরা, খাঁচার কাছে শব্দ করা, ছবি তোলা, হই-হট্টগোল করা ইত্যাদি।
লেখক: দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি পাখি খাঁচায় পালন করেন

