ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন-সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির

সবুজের খোঁজে লাউয়াছড়া, সড়কে দীর্ঘ অপেক্ষায় থমকে গতি

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ এএম
সবুজের খোঁজে লাউয়াছড়া, সড়কে দীর্ঘ অপেক্ষায় থমকে গতি
ছবি: খবরের কাগজ

ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শনিবার ঈদের দিন থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে লেগেই আছে দীর্ঘ যানজট। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন সবুজের খোঁজে লাউয়াছড়ায়। বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু পথ, উঁচু-নিচু টিলা আর ঘন সবুজ অরণ্যের স্নিগ্ধতায় সময় কাটিয়ে উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠেন দর্শনার্থীরা।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই দেখা দিয়েছে ভোগান্তির চিত্র। শনিবার থেকে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই উদ্যানের ভেতর দিয়ে চলা শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে দীর্ঘ যানজট, যা বিকেল পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। এতে আটকে পড়ে পর্যটকবাহী যানবাহন, দীর্ঘ সময় সড়কেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে এমন যানজটে পড়া তাদের ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।

টুরিস্ট পুলিশ ও বনবিভাগের কিছু সদস্য যানজট নিরসনে কাজ করলেও এর সমাধান হচ্ছেনা।

সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সংকীর্ণ পার্কিং ব্যবস্থা ও সড়কের দুই পাশে সিএনজি, টমটম ও জিপ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এতে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা যানজটে আটকা পড়েন।

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা আরিফ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। কিন্তু লাউয়াছড়ায় প্রবেশের আগেই দীর্ঘ যানজটে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে। এতে বাচ্চারা খুব বিরক্ত হয়ে পড়ে।

হবিগঞ্জের নুসরাত জাহান বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশটা খুবই সুন্দর। কিন্তু যানজটের কারণে ঠিকভাবে উপভোগ করা যাচ্ছে না। অনেকটা সময় রাস্তাতেই নষ্ট হয়ে গেছে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বাসিন্দা মাহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় ভিড় হবে, এটা স্বাভাবিক। তবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আরও ব্যবস্থা থাকলে মানুষের ভোগান্তি কমত। বন বিভাগ ও টুরিস্ট পুলিশ এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

সিএনজি অটোরিকশা চালক সাব্বির আহমেদ বলেন, পর্যটক নিয়ে আসা বড় বড় বাস আসা-যাওয়ার সময় যানজট সৃষ্টি হয়। এর কারণ বিভিন্ন যানবাহন সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়।

বনবিভাগের এক কর্মী জানান, অতিরিক্ত পর্যটকের আগমনের কারণে এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বনবিভাগ ও টুরিস্ট পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।

টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যানজট নিরসনে টুরিস্ট পুলিশ সবসময় কাজ করছে। সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ি থাকায় ও উদ্যানের সামনে বেশি গাড়ি থাকায় বিকেলে এই যানজট সৃষ্টি হয়।

পুলক পুরকায়স্থ/সুমন/

বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন
ছবি: খবরের কাগজ

বান্দরবানের কয়েকটি এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাসান।

তিনি জানান, জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতে এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক একটি বিজ্ঞপ্তি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এটি ভুয়া ও ভিত্তিহীন।

জনসাধারণকে এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

গত রবিবার বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্থানীয় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা শাখার সহকারী কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেনের সই করা একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেখা যায় ফেসবুকে।

এতে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেখিয়ে কয়েকটি এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানানো হয়।

এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারণ ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

অমিয়/

জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫২ এএম
জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে
হেলসিংকির কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্য।

ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম জুহান্নুস (Juhannus), যা ইংরেজিতে Midsummer নামে পরিচিত। প্রতিবছর জুন মাসের শেষভাগে পালিত এই উৎসব শুধু একটি ছুটির দিন নয়, বরং এটি ফিনিশ সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও পারিবারিক জীবনের এক অনন্য মিলনমেলা। অনেকের মতে, বড়দিনের পর এটিই ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।

২০২৬ সালে জুহান্নুস ইভ বা Midsummer Eve পালিত হচ্ছে ১৯ জুন শুক্রবার এবং মূল জুহান্নুস দিবস ২০ জুন শনিবার। এই সময়টিকে ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়।

শহর ফাঁকা, মানুষ প্রকৃতির কাছে
জুহান্নুসের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, এই সময়ে দেশের বড় বড় শহরগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়। রাজধানী Helsinki-সহ বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে যায় গ্রামের বাড়ি, হ্রদের তীর, বনাঞ্চল কিংবা গ্রীষ্মকালীন কটেজে। রাস্তাঘাট, অফিস, এমনকি অনেক দোকানপাটও বন্ধ বা সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকে।

বাংলাদেশে ঈদ বা পহেলা বৈশাখ যেমন জাতীয় আবেগের উৎসব, ফিনল্যান্ডে জুহান্নুসের গুরুত্ব অনেকটা তেমনই।

আগুন, হ্রদ আর মধ্যরাতের সূর্য
জুহান্নুসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঐতিহ্য হলো জুহান্নুস কোক্কো (Juhannuskokko) বা বিশাল অগ্নিকুণ্ড। হ্রদ কিংবা সমুদ্রের তীরে কাঠের স্তূপ জ্বালিয়ে রাতভর উৎসব চলে। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা একত্রিত হয়ে গান, আড্ডা এবং খাবারের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করেন।

ফিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে এ সময় সূর্য প্রায় অস্ত যায় না। রাত ১২টার পরও আকাশে আলো থাকে। এই মিডনাইট সান বা মধ্যরাতের সূর্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় জমে। দক্ষিণ ফিনল্যান্ডেও রাত পুরোপুরি অন্ধকার হয় না।

সাউনা ছাড়া উৎসব অসম্পূর্ণ
ফিনিশদের কাছে সাউনা শুধু বিনোদন নয়, এটি জীবনযাত্রার অংশ। জুহান্নুসের সময় পরিবারের সবাই একসঙ্গে সাউনায় যান। এরপর ঠান্ডা হ্রদের পানিতে ঝাঁপ দেওয়া কিংবা সাঁতার কাটা যেন উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অনেক পরিবার ঐতিহ্যবাহী ফিনিশ খাবার, গ্রিল করা মাছ, সসেজ এবং নতুন আলু দিয়ে উৎসবের ভোজের আয়োজন করে।

শত শত বছরের ঐতিহ্য
জুহান্নুসের ইতিহাস বহু পুরোনো। খ্রিস্টধর্ম আগমনের আগে এটি ছিল গ্রীষ্মকালীন অয়ন বা Summer Solstice উদযাপনের উৎসব। পরে এটি সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্টের স্মরণে "জুহান্নুস" নামে পরিচিতি পায়। তবুও প্রকৃতি, আলো এবং উর্বরতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে।

হেলসিংকিতেও উৎসবের আমেজ
যদিও অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে চলে যান, তবুও হেলসিংকির Seurasaari Open-Air Museum এলাকায় ঐতিহ্যবাহী জুহান্নুস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। লোকসংগীত, লোকনৃত্য, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং বিশাল অগ্নিকুণ্ড দেখতে হাজারো মানুষ সেখানে জড়ো হন। এই অনুষ্ঠান ১৯৫৬ সাল থেকে রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

অন্য দেশেও মিডসামার আছে, তবে ফিনল্যান্ড আলাদা
উত্তর ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে মিডসামার উদযাপিত হলেও ফিনল্যান্ডে এর ব্যাপ্তি এবং আবেগ ভিন্ন মাত্রার। পুরো জাতি যেন একসঙ্গে প্রকৃতির কাছে ফিরে যায়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি নিয়ে মানুষ পরিবার, বন্ধু, বন, হ্রদ এবং অসীম আলোর মাঝে কয়েকটি দিন কাটায়।

এই উৎসব তাই শুধু একটি ছুটির দিন নয়, বরং ফিনিশ জাতিসত্তা, প্রকৃতিপ্রেম এবং পারিবারিক বন্ধনের এক জীবন্ত প্রতীক।

জামান সরকার/তামান্না রুপা/

বাওয়াছড়া লেক পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন
বাওয়াছড়া লেক মূলত একটি কৃত্রিম জলাধার।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উঠলেই পাহাড়, ঝর্ণা, সমুদ্র কিংবা হাওরের কথা বেশি শোনা যায়। তবে প্রকৃতির নিভৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বাওয়াছড়া লেক হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশ, সবুজ বনভূমি এবং নীলাভ জলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই লেক প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে বাওয়াছড়া লেক হতে পারে আদর্শ ভ্রমণস্থল।

বাওয়াছড়া লেকের ইতিহাস
বাওয়াছড়া লেক মূলত একটি কৃত্রিম জলাধার। স্থানীয় মানুষের সেচ সুবিধা এবং পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লেকটির চারপাশে গড়ে ওঠে ঘন সবুজ বনভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে বাওয়াছড়া লেক শুধু একটি জলাধার নয়, বরং মিরসরাই অঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভ্রমণপ্রেমীদের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

কোথায় অবস্থিত
বাওয়াছড়া লেক চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত। এটি মূলত বাওয়াছড়া ইকোপার্ক ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত একটি মনোরম জলাধার। চারপাশে পাহাড়, বন আর নীরব পরিবেশ লেকটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে খুব বেশি দূরে নয় বলে এখানে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। ফলে একদিনের ভ্রমণের জন্যও অনেক পর্যটক এই স্থানটি বেছে নেন।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে যেতে চাইলে প্রথমে চট্টগ্রামমুখী বাসে করে মিরসরাই পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে মিরসরাই যেতে সাধারণত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে, যা যানজটের ওপর নির্ভর করে।
মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বা বারইয়ারহাট এলাকায় নেমে স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে বাওয়াছড়া লেকের দিকে যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকেও বাস বা স্থানীয় পরিবহনে মিরসরাই এসে একইভাবে লেকে পৌঁছানো সম্ভব।
নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে যাত্রা আরও সুবিধাজনক হয়। তবে শেষ অংশে কিছু কাঁচা ও সরু রাস্তা থাকতে পারে, তাই সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো প্রয়োজন।

 

ভ্রমণ অভিজ্ঞতা
বাওয়াছড়া লেকে পৌঁছানোর আগেই ভ্রমণপিপাসুদের মন ভালো হয়ে যেতে শুরু করে। মিরসরাইয়ের গ্রামীণ পথ ধরে এগোতে এগোতে চারপাশে চোখে পড়ে সবুজ গাছপালা, ছোট ছোট পাহাড় এবং প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ। শহরের ব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহল পেছনে ফেলে যখন লেকের কাছে পৌঁছাবেন, তখনই অনুভব করবেন এক অন্যরকম প্রশান্তি। দূর থেকে নীলাভ জলরাশি আর সবুজ পাহাড়ের মিলন যেন চোখের সামনে একটি জীবন্ত ছবির মতো ধরা দেয়।
লেকের তীরে দাঁড়ালে প্রথমেই মন ভরে যায় নির্মল সৌন্দর্যে। বিশাল জলরাশির ওপর আকাশের নীল রং এবং আশপাশের পাহাড়ের ছায়া পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। হালকা বাতাস মুখে এসে লাগলে মনে হবে প্রকৃতি যেন আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে। চারদিকে এতটাই নীরব থাকে যে ঝিঁঝিঁর ডাক, বাতাসে পাতার মৃদু শব্দ কিংবা দূরের কোনো অচেনা পাখির সুরও স্পষ্ট শোনা যায়।
ভোরবেলা বা বিকেলের দিকে লেকের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। সূর্যের কোমল আলো যখন পানির ওপর পড়ে ঝিলমিল করে, তখন পুরো পরিবেশ আরও মোহময় হয়ে ওঠে। যারা ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। লেকের বিভিন্ন কোণ থেকে ছবি তুললে প্রতিটি ছবিই যেন পোস্টকার্ডের মতো সুন্দর দেখায়।

 


বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছু নিরিবিলি সময় কাটানো কিংবা একা বসে প্রকৃতিকে অনুভব করার জন্য বাওয়াছড়া লেক একটি চমৎকার জায়গা। এখানে বসে অনেকেই বই পড়েন, প্রকৃতির ছবি আঁকেন বা শুধু নীরবে চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। পাহাড়, বন আর জলরাশির সম্মিলিত দৃশ্য মনকে সতেজ করে তোলে এবং মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়।
বিশেষ করে যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে বাওয়াছড়া লেকের ভ্রমণ হবে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। দিনের শেষে যখন ফিরে আসবেন, তখনো লেকের শান্ত পরিবেশ, পাহাড়ের সবুজ রং আর জলের সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিতে ভাসতে থাকবে।

কখন গেলে সবচেয়ে ভালো
বাওয়াছড়া লেক ভ্রমণের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় লেক এবং আশপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্যও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। তবে চাইলে বছরের অন্যান্য সময়েও যাওয়া যায়।
বর্ষাকালেও লেকের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। চারপাশের পাহাড় ও বন আরও সবুজ হয়ে ওঠে এবং লেকে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তবে অতিবৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে, তাই বর্ষাকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

 

 

কী কী সঙ্গে নেবেন
ভ্রমণে বের হওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানীয়, হালকা খাবার, ক্যাপ, সানস্ক্রিন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা ভালো। মোবাইল ফোন ও ক্যামেরার জন্য পাওয়ার ব্যাংকও কাজে আসতে পারে। যদি দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে অতিরিক্ত পোশাক ও একটি ছোট ব্যাগ সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক হবে।

ভ্রমণের সময় সতর্কতা
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। লেকের গভীর অংশে অযথা নামা উচিত নয়। সঙ্গে শিশু থাকলে তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।
বর্ষাকালে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল থাকতে পারে, তাই ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত। বনের মধ্যে প্রবেশ করলে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করা ভালো।
এছাড়া প্লাস্টিক, বোতল কিংবা অন্যান্য আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও পর্যটকদের।

আশপাশের দর্শনীয় স্থান
বাওয়াছড়া লেকে ভ্রমণের পাশাপাশি মিরসরাইয়ের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় স্থান ঘুরে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে বাওয়াছড়া ইকোপার্ক, খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এবং মহামায়া লেক। সময় নিয়ে পরিকল্পনা করলে একই সফরে এসব স্থানও উপভোগ করা সম্ভব। বিশেষ করে মহামায়া লেক ও খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত
সম্মেলনের মঞ্চ।

উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোথান শহরে ২০২৬ সিনচিয়াং সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশি-বিদেশি আরও বেশি পর্যটককে সিনচিয়াং অঞ্চলে আকৃষ্ট করা।
সম্মেলনে সিনচিয়াংয়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সহজীকরণে গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সুবিধা উপস্থাপন করা হয়। 

 

আয়োজকরা জানান, এই সম্মেলন সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে পর্যটন পণ্যের উদ্ভাবন, আধুনিকায়ন এবং শিল্পের মানোন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।
সিনচিয়াং আঞ্চলিক সরকার এবং সিনচিয়াং প্রোডাকশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কর্পস যৌথভাবে এ  সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সিনচিয়াংকে সহায়তাকারী চীনের ১৯টি প্রদেশ ও পৌর এলাকার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সিনচিয়াংয়ের সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, সম্মেলনের মাধ্যমে অঞ্চলের পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার উদ্যোগ জোরদার করা হবে। সূত্র: সিএমজি

কুইচৌর থোংরেনে শুরু হলো ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
কুইচৌর থোংরেনে শুরু হলো ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা
ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুইচৌ প্রদেশের থোংরেন শহরে রবিবার শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য ড্রাগন বোট শোভাযাত্রা। আসন্ন এই নৌকা বাইচ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য উৎসবের আগাম আমেজ নিয়ে এসেছে।
রোববার সকালে একটি স্থানীয় ঘাটে শোভাযাত্রার সূচনা হয়। এ সময় প্রায় ২০০টি নৌকা বিভিন্ন বিন্যাসে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে ছিল ঐতিহ্যবাহী চীনা প্রমোদতরী, বাঁশের ভেলা, ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন বোট এবং স্থানীয় বিশেষ প্রতিযোগিতা নিউলং-এর নৌকা।
শোভাযাত্রার পথটি সিনচিয়াং নদীর প্রধান মনোরম অঞ্চল অতিক্রম করে, যা থোংরেন শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণকে সংযুক্ত করেছে।

 

প্রমোদতরীগুলোতে শিল্পীরা দর্শকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য পরিবেশন করেন। 
ঘন্টা ও ঢাকের শব্দের মধ্যে নাবিকরা একে অপরের ওপর জল ছিটিয়ে দেন। এই বিশেষ রীতির মাধ্যমে তারা পরস্পরের প্রতি শীতলতা, প্রাণবন্ততা ও আশীর্বাদ পৌঁছে দেন।
ড্রাগন বোট উৎসব যা তুয়ানউ উৎসব নামেও পরিচিত। এটি প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্যকালের (৪৭৫-২২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কবি ছু ইউয়ান স্মরণে উদযাপিত এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
চীনা চন্দ্র পঞ্জিকার পঞ্চম মাসের পঞ্চম দিনে পালিত এ উৎসব যা এ বছরের ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: সিএমজি