অস্ট্রিয়ার জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টি-এফপিও। নির্বাচনে সর্বাধিক ২৯.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে দলটি। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন রুশপন্থি হিসেবে পরিচিত হার্বার্ট কিকল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত পিপলস পার্টি-ওভিপি। দলটি পেয়েছে ২৬.৫ শতাংশ ভোট। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এফপিওকে ক্ষমতায় আসতে হলে অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কণ্টক পথ পাড়ি দিতে হবে দলটিকে, কারণ অন্য দলগুলো কট্টর ডানপন্থিদের সঙ্গে জোট গঠন করতে অনীহা দেখাচ্ছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংসদের ১৮৩টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে এফপিও পেয়েছে ৫৮টি আসন।
ওভিপি পেয়েছে ৫২টি আসন এবং সামাজিক গণতন্ত্রী দল পেয়েছে ৪১টি আসন। এবারের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৭৪.৯ শতাংশ।
নির্বাচনে দুটি বিষয় মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তা হচ্ছে, অভিবাসী ও শরণার্থী প্রসঙ্গ। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও ইউক্রেন যুদ্ধে অস্ট্রিয়ার ভূমিকা। কিকলের বিজয় ইউরোপজুড়ে অতি ডানপন্থিদের আরও উৎসাহিত করেছে।
বিজয়ের পর ৫৫ বছর বয়সী কিকল বলেছেন, ‘আমরা আজ ইতিহাসের একটি টুকরো রচনা করেছি, আমরা একটি নতুন যুগের দ্বার উন্মোচন করেছি।’
এদিকে, অন্যান্য দল ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে জোট সরকার গঠন করতে অসম্মতি জানিয়েছে। এর কারণ, ১৯৫০ সালে নাৎসি দলের সাবেক সংসদ সদস্যরা এই দলটি গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। তাছাড়া দলটির রাশিয়াপ্রীতিও একটি বড় কারণ। অন্য দলগুলোর কোনো নেতাই ফ্রিডম পার্টির নেতা হার্বাট কিকলকে পছন্দ করেন না।
ফ্রিডম পার্টির অভূবপূর্ব বিজয় প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থমাস হোফার বলেছেন, ‘ফ্রিডম পার্টির বিজয় নিশ্চয়ই একটি ভূমিকম্পের মতো ঘটনা। এ ঘটনা অন্যান্য দলের জন্য একটা আঘাতের মতোই বটে।’ ২০২১ সাল থেকে ফ্রিডম পার্টির হাল ধরেছেন হার্বাট কিকল। তিনি বলেছেন, সংসদে আসন আছে এমন প্রত্যেকের সঙ্গেই তিনি সরকার গঠন করতে রাজি। সূত্র: আল-জাজিরা