বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে এই খবর জানায়।
এর আগে ওমানের রাজধানী মাসকাটে অষ্টম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন তৌহিদ হোসেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় তিনি জানান, আগামী এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারত দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে অভ্যস্ত ছিল, যা হঠাৎ করেই বদলে গেছে। ফলে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে ছয় মাসের মধ্যে এসব দূর হওয়া উচিত।’
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যে সাময়িক মন্দা দেখা দিলেও তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। উভয় দেশের জনগণ একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী, যা পারস্পরিক স্বার্থরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
বাংলাদেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী বাদে অন্য সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী বা অন্য সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাংলাদেশের সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যা সরকার যথাযথভাবে পালন করছে।’
সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছেন, যার অর্ধেকই বিগত সরকারের আমলে হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য সীমান্তে অপরাধ হলেও এভাবে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয় না। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত, হত্যা নয়।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। যদি ভারত তাকে ফিরিয়ে না দেয়, তবে অন্তত তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত, যাতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়।
আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চুক্তির শর্তাবলি পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে। যদি উভয় পক্ষ সম্মত হয়, তা হলে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নির্দিষ্ট কোনো সরকার বা দলের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘অতীতেও বিএনপি সরকারের সময় (১৯৯৬-২০০১) দুই দেশের বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত, যা কোনো নির্দিষ্ট সরকারের ওপর নির্ভর করবে না।’ সূত্র: দ্য হিন্দু
তাওফিক/