রাশিয়ার ওপর ভারতের ভারী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে বড় ধরনের কৌশলগত উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল’ নামের একটি বিল পাস করে যেসব দেশ রাশিয়ার তেল বা ইউরেনিয়াম কিনবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন।
ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে এই নিষেধাজ্ঞা বিলে ইতোমধ্যে ‘সবুজসংকেত’ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অপরাধে এই বিলের মাধ্যমে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো মস্কোর বাণিজ্যিক অংশীদারদের শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার আনা হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, এবার ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এখন সেই তেল ভারতের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই বাণিজ্য কোনো মুক্ত বাজার নীতিতে নয়, বরং পরিচালিত হবে সরাসরি মার্কিন সরকারের তত্ত্বাবধানে এবং একটি কঠোর নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মাধ্যমে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আটক করার পর লাতিন আমেরিকার এই দেশটির তেল-খাতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
চলতি সপ্তাহে কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের (প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল) অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে।
যুক্ত্ররাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই তেল বিশ্ববাজারে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত এবং ভারতসহ এশিয়া ও ইউরোপের প্রায় সব দেশের জন্যই এই সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। তবে শর্ত একটাই—পুরো বিক্রয় প্রক্রিয়াটি যুক্ত্ররাষ্ট্রের ডিজাইন করা কাঠামোর ভেতর দিয়ে হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা এই বিশেষ ব্যবস্থায় তেল বিক্রির অর্থ সরাসরি ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছাবে না।
ক্রিস্টোফার রাইট পরিষ্কার করে জানান, তেল বিক্রির সমস্ত অর্থ নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই অর্থ এমনভাবে ভেনেজুয়েলায় বরাদ্দ করা হবে যাতে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের মানবিক প্রয়োজনে ও দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়। লক্ষ্য হলো অর্থ যাতে কোনোভাবেই দুর্নীতি বা পূর্বতন ‘রেজিম’-এর স্বার্থে ব্যবহৃত হতে না পারে।
নিষেধাজ্ঞার আগে ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার তেলের অন্যতম প্রধান বাজার। এই নতুন প্রস্তাব ভারতের জন্য বেশ কিছু কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ভারতের জামনগর বা পারাদ্বীপের মতো অনেক আধুনিক রিফাইনারি ভেনেজুয়েলার ভারী ও সালফার সমৃদ্ধ অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে ভারত এই তেল গ্রহণে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।
এছাড়া, বর্তমানে ভারত তার চাহিদার বড় অংশ রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মেটায়। ভেনেজুয়েলার প্রবেশাধিকার ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুড়িকে আরও শক্তিশালী করবে।
সুলতানা দিনা/