ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি ১৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের অজিদের আজ ধবলধোলাই করার লগন হাতি বনাম লা ত্রির লড়াই বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল
Nagad desktop

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ বিপদ ঘনিয়ে আসছে ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ পিএম
বিপদ ঘনিয়ে আসছে ট্রাম্পের
প্রতীকী ছবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। মাদুরোকে সহজে আটক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজসম্পদের ওপর প্রভাব বাড়াতে পারেনি, একই সঙ্গে কিউবার জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি করেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে থাকা কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে তার যৌথ সামরিক অভিযানও একইভাবে সফল হবে। ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালেও ট্রাম্পের বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হবেন।

জ্বালানি বাজারে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এই ধাক্কা সামাল দিতে পারবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে এবং নিরাপত্তা ও শান্তির তুলনায় সাময়িক উচ্চমূল্য খুবই ছোট বিষয়।

ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসের আরেকটি কারণ হলো, তার কিছু বিতর্কিত নীতির পরও অর্থনীতিতে এখনো বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা যায়নি। শুল্ক বৃদ্ধি, সরকারি কর্মী ছাঁটাই, অভিবাসী শ্রমিকদের বহিষ্কার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পরও কয়েক সপ্তাহ আগেও অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে পারে।

জ্বালানিতে সুবিধাজনক অবস্থান
জ্বালানির দাম বাড়লেও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে। ২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে তেল উৎপাদন বেড়েছে, ফলে তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস এখন জ্বালানি সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখছে, যার দাম বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামায় তুলনামূলক কম প্রভাবিত হয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে তেল থেকে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের সময় এই হার ছিল আরও বেশি। তখন ইসরায়েলকে সমর্থনের কারণে আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করায় এবং কাতার এলএনজি স্থাপনা বন্ধ করায় ইউরোপীয় বাজারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এখনো রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি রয়েছে।

জনমতের চাপ বাড়ছে
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু থেকেই দেশটিতে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে এই বিরোধিতা আরও তীব্র হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানিতে অনেকটা স্বনির্ভর, তবু বৈশ্বিক বাজারের কারণে তেলের দাম দেশটির অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৫০ ডলারের বেশি, যা ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সর্বোচ্চ।

সরকারি পূর্বাভাস বলছে, পেট্রলের দাম ২০২৫ সালের স্তরে ফিরতে ২০২৭ সালের শরৎ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ডিজেলের দামও অন্তত আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের আগের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।

এতে পরিবহন খরচ বাড়বে এবং ট্রাকিং কোম্পানিগুলো শেষ পর্যন্ত সেই খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপাবে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, ফলে খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। খুচরা ব্যবসা ও বিমান পরিবহন খাতও উচ্চ জ্বালানি মূল্যের চাপে পড়বে।

এর প্রভাব মুদ্রাস্ফীতিতেও পড়তে পারে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ২ দশমিক ৪ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়লে তা আবার বাড়তে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলবে। একই সঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য আমেরিকানদের জনপ্রিয় এসইউভি গাড়ির বিক্রিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সামনে কঠিন পথ
পরিস্থিতির ঝুঁকি ট্রাম্প প্রশাসনও বুঝতে পারছে। তাই তেলের দাম কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তেলবাহী জাহাজকে বিমা সুবিধা দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পার করে দেওয়ার পরিকল্পনা। পাশাপাশি রাশিয়ার কিছু তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন দশকের মধ্যে তেলের দামের এই বড় উল্লম্ফন সামাল দেওয়া সহজ হবে না। এর জন্য হয় যুদ্ধ শেষ করতে হবে, নয়তো ইরানের এমন সামরিক সক্ষমতা নষ্ট করতে হবে, যাতে তারা আর হরমুজ প্রণালিতে হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে। ট্রাম্প একদিকে ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন, আবার অন্যদিকে বলছেন যুদ্ধ প্রায় শেষ। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে কোনো দেশের অবকাঠামো ধ্বংস করলেই দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ জেতা যায় না।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও বাসিজ বাহিনীর মতো শক্তিগুলো সহজে আত্মসমর্পণ করবে না। অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে এখনো বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছেন, যারা লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। এ অবস্থায় ট্রাম্প চাইলে বিজয়ের দাবি করে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারেন, কিন্তু তাতে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে স্থল বাহিনী মোতায়েন বা দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালানোর মতো পথও খোলা রয়েছে, যার কোনোটিই দ্রুত সমাধান নয়।

ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়া জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার (১৩ জুন) এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে একটি বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠানের পর খামেনির মরদেহ সেখানে দাফন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুতেই তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে খামেনি নিহত হন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন তারই ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ/ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ধীরাজ শেঠ। বর্তমানে তিনি ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ (ভিসিওএএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগামী ৩০ জুন বিকেলে বর্তমান সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল শনিবার এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। 

ধীরাজ শেঠ ১ এপ্রিল ২০২৬ সালে উপ-সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও বিদ্রোহ দমন কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি মরু অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট, একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু-কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ সুদর্শন চক্র কোরের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তীতে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। খুব কম কর্মকর্তাই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রচলিত যুদ্ধ পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং কৌশলগত নেতৃত্বে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ধীরাজ শেঠ এমন এক সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট
ছবি: সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করার পরিকল্পনা হ্যাঁ ভোটের পোস্টার

কোনো দেশ কি তাদের জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিতে পারে? সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা আজ রবিবার ঠিক এই প্রশ্নটিরই মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশটির জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ১ কোটিতে (১০ মিলিয়ন) সীমিত করার একটি প্রস্তাবের ওপর আজ (১৪ জুন) গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই প্রস্তাবের পেছনে মূল সমর্থন রয়েছে দেশটির ডানপন্থি দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’র। তারা এটিকে একটি ‘স্থায়িত্বের উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করছে। যার লক্ষ্য হলো আবাসন, সরকারি সেবা এবং পরিবেশের ওপর তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপ কমানো।

তবে সুইস সরকার, অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী নেতা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই প্রস্তাবকে একটি ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্যোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের যুক্তি, এই প্রস্তাব পাস হলে দেশের হাসপাতাল ও হোটেলগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মীর তীব্র সংকট দেখা দেবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের কষ্টার্জিত সম্পর্কে ফাটল ধরবে।

২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা দ্রুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ লাখে, যার মধ্যে ২৭ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, ফ্ল্যাটের চড়া দাম এবং স্বাস্থ্য খাতের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশই এখন বেশ উদ্বিগ্ন।

সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই গণভোটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের ৫২ শতাংশ এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ৪৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছেন এবং একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

অনিন্দ্যসুন্দর এই দেশটির ভোটারদের বড় অংশই এখনো নিশ্চিত নন যে এই জনসংখ্যা সীমা ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে। কোনো দেশের জনসংখ্যার ওপর এমন কঠোর আইনি সীমা আরোপের নজির বিশ্বের কোথাও নেই। যদিও চীন অতীতে তাদের ‘এক সন্তান নীতি’র মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীর করার চেষ্টা করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করে।

সুইস এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের আগে দেশটির জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটি অতিক্রম করতে পারবে না এবং জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছামাত্রই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে থাকতে পারে সুইজারল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) মঞ্জুরের সংখ্যা সীমিত করা এবং বিদেশি শ্রমিকদের পরিবারকে সঙ্গে রাখার অধিকার বাতিল করা।সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরান গতকাল শনিবার বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কাঠামোতে সই করতে পারে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী আজ রবিবার চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও তা হবে না বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই গত শুক্রবার জানায়, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষ একটি খসড়া পাঠে সম্মত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গতকাল বলেন, দুই পক্ষ একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে একমত হয়েছে এবং ইসলামাবাদ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক চুক্তিটি আজ রবিবারই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বাঘাই বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক ঠিক কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আজ হবে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এর আগেও একাধিকবার দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা শান্তিচুক্তির যতটা কাছে এখন আছি, আগে কখনো ছিলাম না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তিনি শরিফের পোস্টটি রিপোস্ট করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং লেবাননে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।

এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে।

যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জানাজাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই আলী খামেনিকে জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। সূত্র: রয়টার্স

ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ
ধীরাজ শেঠ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সরকার বর্তমান ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশটির পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর সহপ্রধান (ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এ খবর জানিয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি অপারেশন, কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি রয়েছে তার।

সামরিক জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ধীরজ শেঠ। তার কমান্ড দায়িত্বের মধ্যে ছিল মরু অঞ্চলে একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মিরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর নেতৃত্ব।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দেন। পরে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব তদারকি করেন।

আর্মি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতির পর ধীরাজ শেঠ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে দুইটি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলে কৌশলগত তদারকির দায়িত্বও পালন করেন।

সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিভিন্ন কোর্সে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের স্নাতক। এছাড়া প্যারিসের মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশ নিয়েছিলেন ধীরাজ শেঠ।

এসএন/