আফ্রিকার দেশ কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। তাই এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
রবিবার (১৭ মে) জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানায়, এই প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোও এখন উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের তিনটি এলাকায় ইতোমধ্যে ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া আটজন রোগীসহ মোট ২৪৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার হার এবং রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আসল প্রাদুর্ভাব আরো বড়ো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবকে ব্যতিক্রমী বলে উল্লেখ করেছে। কারণ, এবারের সংক্রমণটি ঘটেছে বুন্দিবুগিও নামক ইবোলা ভাইরাসের একটি ভিন্ন রূপ দিয়ে। সাধারণত ব্যবহৃত ইবোলা-জাইর রূপের জন্য টিকা বা চিকিৎসা থাকলেও, এই বুন্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি বা টিকা নেই।
ইতোমধ্যে এই ভাইরাস আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কিছু প্রমাণ মিলেছে। কঙ্গো থেকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় আসা দুই ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আক্রান্ত দেশ ও তাদের প্রতিবেশীদের বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিটি দেশকে তাদের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকা ও প্রধান অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা ছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বন্ধ রাখতে হবে।
রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন পর্যন্ত নজরে রাখতে হবে এবং এই সময়ে তারা দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশগুলোকে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ না করতে বা বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা না দিতে আহ্বান জানিয়েছে, কারণ সীমান্ত বন্ধ করে দিলে মানুষ লুকিয়ে নজরদারিহীন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারে, যা ঝুঁকি আরও বাড়াবে। সূত্র : রয়টার্স
আমান/