অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ৩১ নেতা-কর্মীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ও মো. মইনুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলায় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও থানার এক মামলায় পৃথক দুই ধারায় তাদের বিরুদ্ধে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আনোয়ার জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন লুৎফর রহমান, শাহীন ওরফে গান্ডু শাহীন, তরিকুল ইসলাম ওরফে ঝন্টু, আমিনুল ইসলাম জাকির, গোলাম কিবরিয়া শিমুল, বিল্লাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন। রায় ঘোষণার সময় সাইফুল আলম নীরব ও আনোয়ার আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাবুল নামে এক ট্যাক্সিচালক মহাখালী থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তার গাড়ি থামিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় বাবুল তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।
নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা অন্য এক মামলায় বিএনপির ১১ নেতা-কর্মীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১৮ সালের অক্টোবরে গুলশান থানায় করা মামলাটির রায়ও ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত ঘোষণা করেন।
তিনটি ধারায় তাদের দণ্ড দেন আদালত। এর মধ্যে দুটি ধারায় দুই বছর করে মোট চার বছর, আরেকটি ধারায় ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত গুলশান থানা এলাকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা হলেন মামুন চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, অসীম ওরফে অসীম আকরাম, নুরুল ওরফে নূর হোসেন, শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন, আমিনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম শাহীন, রফিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান প্রান্ত, জয়নাল ও মীর মোহাম্মদ স্বপন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম মজনুসহ ১০ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল ইসলামের আদালত। নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় ২ বছর ৬ মাস করে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিটভুক্ত অপর ৪৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১০ বছর আগে দায়ের করা পল্টন থানার এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদল নেতা খন্দকার এনামুল হক এনাম, মো. এরশাদুল, জোনাইদ, আব্দুল কাদের খন্দকার, মো. দুলাল হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির রওশন ও মিজানুর রহমান টিপু।
জানা যায়, বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করেন। তা ছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত।