রাজধানীর পল্লবীতে সম্প্রতি ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন সাক্ষ্যগ্রহণ করছেন।
এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহত শিশুর বাবা ও মা।
নিহত শিশুর বড় বোন রাইশা (১৬) নাবালিকা হওয়ায় আইনের বিধান অনুযায়ী ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এবং আসামিপক্ষের রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী ছাড়া সব আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের এজলাস থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।
সোমবার (১ জুন) এ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও অপর আসামি তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
মামলাটি পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) মোহাম্মদ আজিজুর রহমান দুলু জানিয়েছেন, চার্জশিটভুক্ত অধিকাংশ সাক্ষী আদালতে হাজির আছেন।
সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে আসামিদের আদালতে আনা হয়। বেলা সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে আসামিদের আদালতের এজলাসে আনা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
গত ২৪ মে মামলার চার্জশিট দাখিলের পর ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ (চার্জ) গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ফ্ল্যাটটির শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পরদিন, ২০ মে, শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/