ওয়ান ইলেভেনের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১১ মে) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
কয়েক দফায় পেছানোর পর ধার্য তারিখে শুনানির আগে মাসুদ চৌধুরীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার দেখানো সংক্রান্তে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত (সিআইডি) বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ সুপার আবদুল হাদী তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এরপর কয়েক দফা শুনানি পেছানো হয়।
গত বছরের ২৮ আগস্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ৩৩ জনকে আসামি করে রাজধানীর বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে সিআইডি।
মামলার এজাহারে বলা হয়,
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী 'ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল' নামক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকার নির্ধারিত ফি ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। তার প্রতিষ্ঠান প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা করে আদায় করে। এ ছাড়া পাসপোর্ট, কোভিড টেস্ট, মেডিকেল ও পোশাক বাবদ আরও প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়।
২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে ওই অর্থ আদায় করা হয়।
এ হিসেবে ৯ হাজার ৩৭২ জন কর্মীর কাছ থেকে জনপ্রতি অতিরিক্ত ১ লাখ ৭ হাজার ৫১০ টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১০০ কোটি ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
এর ফলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গ্রহণ, হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আসামিরা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় প্রথম রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে জুলাই আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় করা তিনটি মামলায় পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরই মাঝে মিরপুর থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা, পরে গত ১২ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ দিন চিকিৎসার পর একই মামলায় আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জলিল উজ্জ্বল/নাঈম