ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

কুসিকে মেয়র পদে উপনির্বাচন: প্রচারে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৮:২৯ পিএম
কুসিকে মেয়র পদে উপনির্বাচন: প্রচারে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবি : খবরের কাগজ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার ততই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে অভিযোগ-পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিরামহীন প্রচারের ফাঁকে গণমাধ্যমের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রার্থীই পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারে বাধা, হুমকি-ধমকি ও হামলার অভিযোগ এনেছেন। 

তবে তাদের বেশির ভাগ অভিযোগই যাচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘বাস’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী তাহসিন বাহার সূচনা ও তার কর্মী-সমর্থকদের দিকে। 

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সূচনা বলছেন, বিএনপি ঘরানার দুই প্রার্থী নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে উল্টো তার দিকে অভিযোগ ছুড়ছেন, বিষয়টি সত্য নয়। কুমিল্লায় নির্বাচনি প্রচার মাঠ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

আগামী ৯ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারে সরগরম হয়ে উঠেছে কুমিল্লা মহানগরী। প্রার্থীদের গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও গানে গানে প্রচারে সর্বত্রই নির্বাচনি উৎসবের আমেজ। পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। প্রচারের ৯ম দিনে গতকাল শনিবার গণসংযোগসহ ৪ প্রার্থী প্রচার ও উঠান বৈঠক করছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। 

শনিবার (২ মার্চ) সকাল থেকে ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বিএনপির সাবেক নেতা ও দুবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু নগরীর চকবার থেকে কান্দিরপাড় এলাকায় গণসংযোগ করেন। প্রচারে নেমে মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেন, আগের দিন শুক্রবার বিকেলে নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিলের উপস্থিতিতে বিকেলে নগরীর কাটাবিল ও বালুধুম এলাকায় উঠান বৈঠকে হামলা করে চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর ও পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। 

যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে কাউন্সিলর জলিল বলেন, ‘আমি বাস মার্কার প্রচার চালানোর সময় হঠাৎই চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ পাই। গিয়ে দেখি দেয়াল ঘড়ি প্রতীক আর ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীরা মারামারিতে জড়িয়েছেন। আমি কাউন্সিলর হিসেবে সেখানে গিয়ে বিষয়টি শান্ত করি।’

এ বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর কোনো সমর্থক ছিলেনই না। মূলত বাস প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক সাইফুলসহ অন্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমার কাছে সবকিছুর প্রমাণ আছে, আমি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করব।’

‘ঘোড়া’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার গতকাল প্রচার চালান নগরীর ফৌজদারি এলাকায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্ন জায়গার আমার ‘ঘোড়া’ প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ওই জায়গায় আরেকটা প্রতীকের পোস্টার লাগানো হচ্ছে। রাতের বেলায় মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি দোখানো হচ্ছে। আমরা চাই এসব বন্ধ হোক, নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকুক।” 

‘হাতি’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম গতকাল প্রচার চালান নগরীর রাজগঞ্জ এলাকায়। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভয়-ভীতি দেখানো এবং হুমকি প্রদর্শন দিন দিন বাড়তে থাকবে। এই সময়ে এসে যদি নির্বাচন কমিশন দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ৯ তারিখের নির্বাচন একটি প্রহসনে পরিণত হবে। আমার দাবি, যারা ভাঙচুর করছে, পোস্টার ছিঁড়ছে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তারা সবাই চিহ্নিত, তারাই ঘুরে ঘুরে সব জায়গায় হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমি জানি না তাদের প্রার্থী তাদের এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন কি না। আমার মতে কোনো প্রার্থীই চান না নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হোক।’ 

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মহানগর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘বাস’ প্রতীকের প্রার্থী তাহসিন বাহার সূচনা বলেন, ‘প্রচারে আমি কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখের পড়িনি। কিন্তু দেখছি, আমার বিরুদ্ধেই সবার অনেক বেশি অভিযোগ। আমি সারা দিন কাজ করছি, অতিথি পাখির মতো হঠাৎ করে আসিনি। আগেও জনসম্পৃক্ত ছিলাম, এখনো আছি।’ 

সূচনা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা মারামারি করে অভিযোগ তোলেন আমার ওপর। এখানে দুই প্রার্থী একই দলের। তারা একজন আরেকজনকে কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন। তাদের সেসব অভিযোগ ঘুরেফিরে আমার ওপর আসছে। আমার মনে হয়, তাদের নির্বাচনি প্রচার বন্ধ করে আগে গোলটেবিলে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করা উচিত আসলে তাদের অভিযোগটা কার দিকে। প্রকৃত পক্ষে এ নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৫ এএম
বিজিপির আরও ৫ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে
ছবি : সংগৃহীত

মায়ানমার চলমান সংঘাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে টিকতে না পেরে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও ৫ সদস্য। এ নিয়ে এখন ১৪ জন বিজিপি সদস্য বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে এই ৫ বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

এর আগে রবিবার ভোরে অস্ত্রসহ ৯ বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে রবিবার সকাল ও রাতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালী ও খারাংখালী সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার ১৪ জন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

এদিকে, গত ৩০ মার্চ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার জামছড়ি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে ১৭৭ জন বিজিপি সদস্য। এরপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ৩ জন সদস্য তুমব্রু সীমান্ত এলাকা কোনাপাড়া দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির স্কুলে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ নিয়ে সর্বমোট ১৯৪ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারে চলমান অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মায়ানমার সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জনকে ১৫ দিন পর কক্সবাজারের ইনানী নৌবাহিনীর জেটি দিয়ে সাগরপথে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শাহীন/অমিয়/

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৫ পিএম
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এবং আমরা চাই ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা কার্যকর ভূমিকা নিক এবং গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক।’

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার বদলা হিসেবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে তেল আবিব, পশ্চিম জেরুজালেমসহ ইসরায়েলজুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মত জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় ড. হাছান বলেন, ‘ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে হামলা করায় ইরান এ আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, অন্যথায় এটি হতো না। ইরান ‘রিটালিয়েট’ করেছে-ইরানের বক্তব্য তাই।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে এবং গাজায় যে নির্বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে, অবিলম্বে সেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা কখনোই যুদ্ধ-বিগ্রহের পক্ষে নই, আমরা শান্তির পক্ষে।’

অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক তৎপরতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিম্মি নাবিক ও জাহাজ নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১০০ নটিক্যাল মাইল এগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর সহযাত্রী হয়েছে।’

সক্রিয় ভূমিকার জন্য জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরঅএম গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দক্ষিণ সীমান্তে মায়ানমারের আরও ৯ বিজিপি সদস্যের দেশে প্রবেশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের ১৮০ জনসহ সবাইকে ফেরত পাঠানো নিয়ে কাজ চলছে।’

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/ 

 

কত মুক্তিপণে ছাড়া পেলেন নাবিকরা, জানাল সোমালি গণমাধ্যম

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
কত মুক্তিপণে ছাড়া পেলেন নাবিকরা, জানাল সোমালি গণমাধ্যম
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিকরা। ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিপণ দিয়ে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও ২৩ নাবিককে মুক্ত করা হয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তি করতে কত টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে তা নিয়ে মুখ খুলেনি জাহাজটির মালিকপক্ষ। 

মুক্তিপণ নিয়ে আলোচনা না করতে কনফারেন্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে বলে জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম জানিয়েছেন।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় কেএসআরএমের করপোরেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্ধার প্রক্রিয়া হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধার করেছি। আমাদের সঙ্গে তাদের কনফারেন্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে মুক্তিপণের বিষয়ে আলোচনা না করার জন্য। সেই অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী আমি আপনাদের সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে পারব না। কারণ এটা আমি সই করেছি।’ 

তবে সোমালি সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। 

দ্য ডেইলি সোমালিয়া জানিয়েছে, দস্যুরা মুক্তিপণ পেয়ে সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুটল্যান্ডের উপকূলে যায়। সোমালিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন তাদের ধরতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশি জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তি করতে জলদস্যুদের ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে। দুই দস্যুর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছে তারা। 

এদিকে ওই দুই দস্যু রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই দিন আগেই মুক্তিপণের অর্থ পেয়ে যায় তারা। পরে সেগুলো আসল নাকি নকল সেটি যাচাই করে তারা। এরপর মুক্তিপণের অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে পালিয়ে যায় তারা। 

গত ১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিককে জিম্মি করে দস্যুরা। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দীর্ঘ ৩২ দিন পর মুক্তি পেল জাহাজ ও নাবিকরা। সূত্র : দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও রয়টার্স

সালমান/  

ছুটি শেষে অফিস-আদালত খুলছে সোমবার

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১০ পিএম
ছুটি শেষে অফিস-আদালত খুলছে সোমবার
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটি শেষে আগামীকাল সোমবার (১৫ এপ্রিল) খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার।

গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দেশে উদযাপিত হয় মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল সরকারি ছুটি ছিল। ঈদের পর ১৩ এপ্রিল শনিবার সপ্তাহিক ও ১৪ এপ্রিল রবিবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষের ছুটি। 

ফলে ১০ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি কাটাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। টানা পাঁচ দিন ছুটি শেষে সোমবার অফিস পাড়ায় যোগ দেবেন কর্মজীবীরা। তবে যারা ঢাকার বাইরে ঈদ করতে গেছেন তাদের অনেকে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। তাদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অফিস-আদালতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হতে আরও কয়েকদিন লেগে যাবে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজও আগামী সপ্তাহে খুলবে। তখন স্বাভাবিকরূপে ফিরবে রাজধানী ঢাকা।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রথমবারের মতো টানা ৬ দিন ছুটি কাটাচ্ছেন সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ৯ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছুটি ঘোষণা করে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সূত্র : বাসস

সালমান/

এত অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি নজিরবিহীন : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৫ পিএম
এত অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি নজিরবিহীন : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা (জিম্মি থেকে উদ্ধার) নজিরবিহীন। নববর্ষের প্রথম দিনে হয়েছে আমরা আনন্দিত। শুধু তাদের আত্মীয় স্বজন নয়, পুরো দেশবাসী খুবই আনন্দিত। আমরা আমাদের নাবিকদের মুক্ত করতে পেরেছি।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও এর ২৩ নাবিক মুক্ত হয়েছেন। জলদস্যুদের মুক্তিপণ দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘টাকা-পয়সা কিংবা মুক্তিপণের সঙ্গে আমাদের কোনো ইনভলমেন্ট নেই। টাকা দিয়ে জাহাজ ছাড়িয়ে আনা হয়েছে, এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখাচ্ছেন, এসব ছবির কোনো সত্যতা নেই। ছবিগুলো কোথা থেকে আসছে, কীভাবে আসছে- সেটি আমরা জানি না।’

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা যতটুকু হয়েছে আমাদের ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ইউরোপিয়ান নেভাল, ভারতীয় নৌবাহিনী, সোমালিয়ান পুলিশ... আমি সোমালিয়া পান্টল্যান্ড পুলিশকে ধন্যবাদ দিতে চাই, তারা সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইমের যে উইংগুলো রয়েছে, তারা আমাদের খুবই সহায়তা করেছে।’

মুক্তিপণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করেছি দীর্ঘদিন। এখানে মুক্তিপণের কোনো বিষয় নেই। আমাদের আলাপ-আলোচনা এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ আছে। সেই চাপগুলোও এখানে কাজে দিয়েছে।’

খালিদ মাহমুদ বলেন,‘জলদস্যুরা একেবারে সর্বশক্তিমান, ব্যাপারটা তো এমন নয়। তারা ভীষণ চাপের মধ্যে ছিল, সোমালিয়ান পুলিশের বিরাট একটা চাপ ছিল। জলদস্যুদের কারণে একটি দেশের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে, এটা তারা (সোমালিয়ান পুলিশ) উপলব্ধি করছে, সেই উপলব্ধি থেকে তারা খুবই সজাগ ছিল এবং জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য খুবই তৎপর ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপ ও নেগোসিয়েশনও আছে। তাদেরও (জলদস্যু) জীবনের নিরাপত্তার ব্যাপার ছিল। চাপটাতো তাদের ওপর সার্বক্ষণিকই ছিল।’

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটা চরম পর্যায়ে গিয়েছিল, সেই কারণেই তারা সেখান (জাহাজ) থেকে নেমে গেছে। চাপ এত ছিল, তারা যখন জাহাজটা নিয়ন্ত্রণে নেয় সেখানে ২০ জন ছিল জলদস্যু, গতকাল তারা যখন জাহাজ ছেড়ে যায় ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজে অবস্থান নিয়েছিল। মূল ভূখণ্ডে তাদের কী পরিমাণ চাপ ছিল, সেটা বুঝতে হবে। গতকাল সবাই একসঙ্গে সেখান (জাহাজ) থেকে চলে গেছে। দুই নটিক্যাল মাইলের মধ্যে তাদের ঘিরে ফেলা হয়েছিল। অন্যান্য ফ্লিকগুলো (বিভিন্ন বাহিনী) অবস্থান করছিল যখন তারা চলে যায় সেই মুহূর্তে। তারা বুঝতে পেরেছিল আমাদের জীবন নিরাপদ না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর সেই মুহূর্তে তাদের সঙ্গে কথা বলে ফ্লিকগুলোকে একটু দূরে দিয়ে তাদের যেতে সহায়তা করেছে। আমি জানি না ভুল ভূখণ্ডে যাওয়ার পর জলদস্যুদের কী অবস্থা হয়েছে না হয়েছে।’

পুরো বিষয়কে বিশাল কর্মযজ্ঞ উল্লেখ করে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যতগুলো মেইল করেছি সেগুলো এক জায়গায় করলে বড় একটা বাস্কেট ভরে যাবে। প্রতি মুহূর্তে আমাদের করসপন্ডেন্ট রাখতে হয়েছে। আমরা এত তৎপর এবং এত সিরিয়াস ছিলাম- এটা সবাই উপলব্ধি করেছে।’

ভবিষ্যতে যাতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এম মাকসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

৩১ দিন পর জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশি নাবিকরা। গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে তারা। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/