ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

পহেলা বৈশাখ আজ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০০ এএম
পহেলা বৈশাখ আজ

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। 

জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে এ আহ্বান জানায় বাঙালি। 

পহেলা বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমুণ্ডকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। 

আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়।

অন্যদিকে পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলা নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।

বৈশাখের বর্ণিল উৎসবে মেতেছে সারাদেশ। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে ওঠে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনায়। 

রাজধানী এবং সারাদেশ জুড়ে রয়েছে বর্ষবরণের নানা আয়োজন। ‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩১’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছায়ানটে ভোরে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন চলছে। 

বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। এর তাৎপর্য এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস ও ইউনেস্কো কর্তৃক এটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। 

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা চলবে। 

বাংলা নববর্ষে সকল কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের আয়োজন করা হবে।

এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির। কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। পরে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলা সন গণনার শুরু হয়। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন।

অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের শুরুতে তাদের পুরনো হিসাব-নিকাশ শেষ করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তারা নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়।

১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে। পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। 

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। এ সময় ঢাকায় নাগরিক পর্যায়ে ছায়ানটের উদ্যোগে সীমিত আকারে বর্ষবরণ শুরু হয়।

স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই উৎসব নাগরিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

শুধু তাই নয়, উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।

জোবাইদা/অমিয়/

এভারেস্টে বাবরের ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ০১:২৫ এএম
এভারেস্টে বাবরের ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট
বাবা-মায়ের সঙ্গে এভারেস্ট ও লোৎসে পর্বতজয়ী চট্টগ্রামের বাবর আলী। ছবি : খবরের কাগজ

এভারেস্ট ও লোৎসে পর্বত জয় করে চট্টগ্রামে ফিরে এসেছেন বাবর আলী। ৩৩ বছর বয়সী এ যুবক পেশায় চিকিৎসক। পর্বতারোহণ তার নেশা। দেশে ফিরে এভারেস্ট জয়ের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। 

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এক অভিযানে মাউন্ট এভারেস্ট ও লোৎসে পর্বত জয় করে আপনার অনুভূতি কী? বাবর আলী জানান, আমি বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম ১ এপ্রিল। এটা ছিল দুই মাসের অভিযান। এক অভিযানে দুটি পর্বত জয় করা অনেক কঠিন আর চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, এতেই খুশি। 

তিনি বলেন, এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার আগে আমার পূর্বপ্রস্তুতি ভালো ছিল। সে জন্য পুরো অভিযানটা উপভোগ করেছি। এভারেস্ট থেকে নামার সময় তুষার ঝড়ে পড়ি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা একটা জায়গায় বসেছিলাম। ওখানে টানা বাতাস এবং তুষারের ঝাপটায় ভয় পেয়েছি। সেটা আমাকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। 

পর্বতের ৮ হাজার মিটার ওপরে উঠে পৃথিবীটা দেখার অনুভূতি কেমন ছিল? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সবারই একটা স্বপ্ন থাকে এভারেস্টের চূড়া থেকে পৃথিবী দেখার। আমি খুব সৌভাগ্যবান এবং গর্বিত এই ভেবে যে, আমার সে সুযোগটা হয়েছে। এভারেস্টের চূড়ায় উঠে আমি সেখানে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট অবস্থান করি। চারপাশ দেখছিলাম। কারণ এমন মুহূর্ত তো জীবনে আর আসবে না। 

এভারেস্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধাটা কী? 

বাবর আলী বললেন, যাওয়ার বড় বাধা হলো সেখানে যাওয়ার জন্য অর্থ জোগাড় করা। আমার মনে হয়, অর্থ জোগাড় করা এভারেস্ট জয়ের চাইতেও কঠিন। আমি নিজের অর্থ খরচ করেছি, স্পন্সর নিয়েছি। আবার ঋণও করেছি। এই বাধা অতিক্রম করাটাই আমার মনে হয় মূল চ্যালেঞ্জ। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাবর আলী বলেন, পৃথিবীতে আরও অনেক পর্বত আছে। অনেক পর্বত রয়েছে, যেখানে কেউ যেতে পারেনি। আমি যদি ওসব পর্বতের চূড়ায় নিজেকে দেখতে পাই, সেটা আমার জন্য বড় অর্জন হবে। 

এভারেস্টে ওঠানামার পথে দেখা মৃতদেহ সম্পর্কে বাবর আলী বলেন, আমি বেস ক্যাম্পে প্রথম মরদেহ দেখি। এটা অনেক পুরোনো মরদেহ ছিল। সম্ভবত ২০১৪ বা ১৫ সালের। ওই সময় আমার খুব ভয় লাগেনি। সহজভাবে নিয়েছি। কিন্তু ৮ হাজার ২০০ মিটার ওপরে চূড়ায় ওঠার সময় যখন মৃতদেহ দেখি, সেগুলো একদম নতুন। আমি সেখানে থাকা অবস্থায় তিন দিন আগে দুজন মঙ্গোলিয়ান মারা গেছেন। এটা তাদের একজনের মৃতদেহ ছিল। আবার পর্বতের চূড়া থেকে নিচে নামার সময়ও কিছু মৃতদেহ দেখেছি। 

তাকে প্রশ্ন করলাম আপনি ফেসবুকে লিখেছেন, পেশায় ডাক্তার, নেশায় পাহাড়ি। ডাক্তারি পেশাটা চালিয়ে যাবেন কি না? নাকি নেশায়ই মজে থাকবেন?

উত্তরে বাবর আলী বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এসব অ্যাক্টিভিটিজের জন্য অভিযাত্রীরা ছুটি পেয়ে থাকেন। আমাদের দেশে এসব কঠিন ব্যাপার। আমি কখনো কোনো স্পন্সরের কাছে যাইনি। এবারই প্রথম গিয়েছি। কারণ, এভারেস্টে যাওয়াটা ব্যয়বহুল। আমার তো আয়-রোজগার করার ভিন্ন কোনো সুযোগ নেই। আমাকেও তো রোজগার করে খেতে হবে। তাই ডাক্তারি পেশাটাই চালিয়ে যেতে চাই। 

বাবর আলীর কাছে প্রশ্ন ছিল, যারা এভারেস্টে যেতে চান তাদের উদ্দেশে কী বলবেন? 

বাবর আলী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে থাকে। তবে এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমার চার কেজি ওজন কমে গেছে। যাওয়ার আগে বাজেটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাওয়ার পর সেখানকার আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় মাথায় রাখলে যে কেউই এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হবেন। 

 

উপজেলা নির্বাচন : ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, আহত ১৩, আটক ১৪

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১০:৪০ পিএম
উপজেলা নির্বাচন : ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, আহত ১৩, আটক ১৪
ছবি : খবরের কাগজ

ভোটার উপস্থিতি কম এবং সংঘাত-সহিংসতাসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ। বুধবার (২৯ মে) ভোট গ্রহণের সময় অন্তত সাতটি উপজেলায় কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘাত, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। সংষর্ঘ, সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাই ও কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে প্রিসাইডিং অফিসারসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের দায়ে চার সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে দুই উপজেলায় পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এদিকে নির্বাচনের পরিবেশ বিবেচনায় বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। অনেক কেন্দ্র ছিল প্রায় ফাঁকা। কিছু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অতি নগণ্য। তবে কোথাও কোথাও উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

ফেনীতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ আটক ১০

ফেনী: ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে গিয়ে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টসহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, সকালের দিকে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে সদর উপজেলার ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ছয়জন, পিটিআই কেন্দ্র থেকে একজন পোলিং এজেন্ট ও একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, দাগনভূঞা উপজেলার গজারিয়া কেন্দ্রে একজন এবং সোনাগাজী উপজেলার রাজাপুর মাস্টার মুজিবুল হক একাডেমি কেন্দ্র থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। 

অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (কুমিল্লা অঞ্চল) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করায় তাদের আটক করা হয়েছে।’ 

কোম্পানীগঞ্জে ওবায়দুল কাদেরের ভাইসহ ৪ প্রার্থীর ভোট বর্জন

নোয়াখালী: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেনসহ (টেলিফোন) দুই চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল (দোয়াত-কলম), ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. মামুন হোসেন (তালা) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার পারুল (প্রজাপ্রতি)। ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে একযোগে ভোট বর্জন করেন। ফলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সমর্থিত প্রার্থীরা অনায়াসে জয়লাভ করেন।

শ্রীমঙ্গলে ৪ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শ্রীমঙ্গলে চারজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি দিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু তালেব। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন ভোটকেন্দ্র ও হাউজিং স্টেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মীরা শীল, অঞ্জন দেব, সিরাজুন নেহার চৌধুরী ও হাউজিং স্টেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার প্রশান্ত কুমার দেব।

রাজশাহীর দুই উপজেলায় হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১৩

রাজশাহী: রাজশাহীর দুই উপজেলা পবা ও মোহনপুরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। দুই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষে জড়ালে এ আহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মোহনপুরে ১২ জন ও পবায় একজন আহত হন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের পারিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফারুক হোসেন ডাবলু ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এমদাদুল হকের সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বেলা ১১টার দিকে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন ছুরিকাহত হলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল মোমিন (৩০)। তিনি পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের মো. শুকটার ছেলে। আব্দুল মোমিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এমদাদুল হকের সমর্থক। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী-সমর্থক অটোরিকশায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন। এ সময় ভোটকেন্দ্রের সামনে আনারস প্রতীকের সমর্থক পাভেল, পুলক, স্বদেশ, সাইম, শাওন, ফরহাদুল, সাগর, হৃদয়, জাকির, মনি, মোসাব্বির, সোহানসহ প্রায় ২০-২৫ জন মোমিনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। 

এ বিষয়ে ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘কেন্দ্রের বাইরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। কেন্দ্রের ভেতর কিছু হয়নি।’ 

অন্যদিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা, হাটরা, মহিশকুণ্ডি কেন্দ্রের বাইরে আনারস ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। তবে এসব ঘটনার পরও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রায় প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রেই ভোট গ্রহণ চলে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ জানান, তারা সকাল থেকেই পবা-মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখছেন। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন হয়েছে। তবে কয়েকটি এলাকায় কিছু অতি উৎসাহী মানুষ গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয়ের মাধ্যমে ঘটনাগুলো প্রতিহত করছেন।

কলারোয়ায় সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে আটক ৪

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় নির্বাচনি সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বেলা ১টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন কলারোয়া উপজেলার বয়ারডাঙ্গা গ্রামের সাঈদ হোসেন, সুলতানপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম, বাঁধন হোসেন ও আকাশ হোসেন। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। 

সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আসাদুজ্জামান জানান, আমিনুল ইসলাম লাল্টুর ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক নজরুল ইসলাম সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বসেছিলেন। এ সময় এস এম আলতাফ হোসেন লাল্টুর আনারস প্রতীকের সমর্থক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন যুবক পুলিশের কাছে তাদের বিরুদ্ধে নালিশের অভিযোগ এনে নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। এ সময় সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে বয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ সাঈদ হোসেন নামের একজনকে আটক করেছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামে ব্যালট ছিনতাই, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, কেন্দ্র স্থগিত

চট্টগ্রাম: কম ভোটারের উপস্থিতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনার মধ্যে চট্টগ্রামে তৃতীয় ধাপে চার উপজেলায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে পটিয়ায় একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ রেখেছে নির্বাচন কমিশন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব পিংগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৯টি ব্যালট বই, ৫৫১টি ব্যালট পেপার, মার্কিং সিল ও অফিশিয়াল সিল ছিনতাই হয়। একসঙ্গে আড়াই শ লোক হামলা চালিয়েছিল। এতজনকে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন।
 
বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে ছুরি নিয়ে প্রবেশ করায় এক যুবককে আটক করে পুলিশ। সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ রজভিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে রেজাউল নামের ওই যুবককে আটক করা হয়। তিনি কধুরখীল ইউনিয়নের নুরুল আলমের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালখালী থানার ওসি আছহাব উদ্দিন।

পটিয়া বাহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। সকাল থেকে ধীরগতিতে চলে ভোট গ্রহণ। 

আনোয়ারায় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির জেরে হাইলধর ইউনিয়নের বশিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল দেড় ঘণ্টা। এ কেন্দ্রে প্রার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয় কেন্দ্রটি। দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এহসানুল হক বলেন, প্রার্থীর সমর্থকরা পরস্পর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের চার উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পটিয়ায় একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।’

দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন

কুমিল্লা: শতাধিক কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগ করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা আক্তার। বুধবার বিকেলে ভোটের শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের প্রার্থী মামুনুর রশিদের সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদানের মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করেছেন। শাহিদা আক্তার কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টারের সহধর্মিণী। অপর প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই।

ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে শাহিদা আক্তার বলেন, ‘ভোট চলাকালে উপজেলার শতাধিক কেন্দ্রে আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে জাল ভোট দিয়েছেন। আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার মেয়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রশাসন তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ দেবিদ্বারে ছিল না। তাই আমি এই নির্বাচন বর্জন করলাম।’

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৭:৪৫ পিএম
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে মায়ানমারের মাওলাইকে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। তাৎক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। 

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্যানুযায়ী, মায়ানমারের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১১০ কিলোমিটার গভীরে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। উঁচু ভবনের অনেকেই সড়কে নেমে আসেন। রাস্তায় জড়ো হয়ে অপেক্ষা করেন। অনেকেই ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। 

সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল (রবিবার) বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্প হয়। রাত ৮টা ৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তমপুরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় সেসময় কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০ এপ্রিল চট্টগ্রামে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ৩.৭ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প বন্দরনগরী থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। মৃদু ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ভারত সীমান্ত থেকে ৩৪ কিলোমিটার ও মায়ানমার থেকে ৬৬ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। 

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ৭ মিনিটে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে চুয়াডাঙ্গা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৬। এর উৎপত্তিস্থল পাবনা জেলার আটঘরিয়া। ওই ভূমিকম্পে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালে দেশে ১১টি হালকা ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গণমাধ্যমকে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:৪৬ পিএম
গণমাধ্যমকে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

গণমাধ্যমকে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। 

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডের তথ্য ভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক ২০২৩ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা আমাদের সবার। এদেশের স্বার্থের বিপক্ষে যেসব ষড়যন্ত্র হবে, সেগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে একটা অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে, এ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে প্রচেষ্টা সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সবাইকে সম্মিলিত ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অংশ। যে স্বপ্ন নিয়ে এদেশ তৈরি হয়েছিল সে স্বপ্নের একটি বড় জায়গায় গণতন্ত্র, মানবাধিকারের সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। 

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা আছেন তারা যাতে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, সে কারণে সরকার বিভিন্নভাবে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। গণমাধ্যম সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে সরকারের সমালোচনাও যদি করে সেগুলো বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার স্বাগত জানাতে চায়। সরকারের চোখ হিসেবে কাজ করে গণমাধ্যম। কোথাও কোনো বিচ্যুতি-ব্যর্থতা থাকলে, সমস্যা থাকলে গণমাধ্যম সেটি নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে। এর মাধ্যমে সরকার মনে করে গণমাধ্যম সরকারের সহযোগিতাই করছে। 

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাজী কেরামত আলী এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক ২০২৩ এর জুরি বোর্ডের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবুল মনসুর আহাম্মদ।

অনুষ্ঠানে ৬টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক ২০২৩ প্রদান করা হয়। আজীবন সম্মাননা ক্যাটাগরিতে সাপ্তাহিক বেগম সম্পাদক মরহুম নুরজাহান বেগম, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা ক্যাটাগরিতে দৈনিক ভোরের কাগজ, আঞ্চলিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা ক্যাটাগরিতে দৈনিক কক্সবাজার, উন্নয়ন সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক (বার্তা) মো. ইকবাল হোসেন, গ্রামীণ সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে সময় টেলিভিশনের পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা সিকদার জাবীর হোসেন এবং নারী সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে দৈনিক ভোরের কাগজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ঝর্ণা মনিকে পদক প্রদান করা হয়।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রাপ্তি রোধে সতর্ক থাকার সুপারিশ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:৪৪ পিএম
রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রাপ্তি রোধে সতর্ক থাকার সুপারিশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের আশ্রয়ে থাকা কোনো রোহিঙ্গা যেন পাসপোর্ট না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। 

বুধবার (২৯ মে) সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।

আলোচনায় সদস্যরা বলেন, জনগণের সুবিধার্থে ঢাকায় পাসপোর্ট অফিসের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কোনো রোহিঙ্গা যেন পাসপোর্ট না পায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু চুরি রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। এ সময় বর্ডার গার্ড এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিবেদন উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদের সভাপতিত্ব সভায় কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সামছুল হক দুদু, ময়েজ উদ্দিন শরীফ, চয়ন ইসলাম, মো. সাদ্দাম হোসেন (পাভেল) এবং হাছিনা বারী চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন। সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক ও এনটিএমসির মহাপরিচালকসহ দুই বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।