ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৫ পিএম
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনসহ গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এবং আমরা চাই ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা কার্যকর ভূমিকা নিক এবং গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক।’

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার বদলা হিসেবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে তেল আবিব, পশ্চিম জেরুজালেমসহ ইসরায়েলজুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মত জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় ড. হাছান বলেন, ‘ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে হামলা করায় ইরান এ আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, অন্যথায় এটি হতো না। ইরান ‘রিটালিয়েট’ করেছে-ইরানের বক্তব্য তাই।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে এবং গাজায় যে নির্বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে, অবিলম্বে সেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা কখনোই যুদ্ধ-বিগ্রহের পক্ষে নই, আমরা শান্তির পক্ষে।’

অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক তৎপরতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিম্মি নাবিক ও জাহাজ নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১০০ নটিক্যাল মাইল এগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর সহযাত্রী হয়েছে।’

সক্রিয় ভূমিকার জন্য জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরঅএম গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দক্ষিণ সীমান্তে মায়ানমারের আরও ৯ বিজিপি সদস্যের দেশে প্রবেশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের ১৮০ জনসহ সবাইকে ফেরত পাঠানো নিয়ে কাজ চলছে।’

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র : ইউএনবি

সালমান/ 

 

জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় কক্সবাজারের আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম
জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় কক্সবাজারের আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার মানুষ
ছবি : খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তাতেই তলীয়ে গেছে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন গ্রাম। এসব গ্রামের প্রায় ৬ হাজার ৩৩২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

রবিবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টায় বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান। 

তিনি বলেন, আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে অধিকাংশ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে অনীহা জানাচ্ছে। এখনও অনেকেই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। 

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ৮ হাজার মানুষ। 

শহরের পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়-১নং ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরারটেক ও ফদনার ডেইল এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে আসছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। অনেকেই গবাদিপশুও নিয়ে এসেছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খাবার খাননি।

তবে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সালাউদ্দিন সেতু খবরের কাগজকে বলেন, কক্সবাজার পৌরসভা ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। সেখানে ৬ হাজার মানুষের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাত ৮টার পর বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে কক্সবাজারের তুলনায় এটি পটুয়াখালী, বরিশাল, খুলনা উপকূলে আঘাত হানবে বেশি।

মুহিববুল্লাহ মুহিব/এমএ/

পর্যটন কর্মীদের প্রশিক্ষণে মালয়েশিয়ার সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হবে: বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:৩২ পিএম
পর্যটন কর্মীদের প্রশিক্ষণে মালয়েশিয়ার সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হবে: বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে কর্মরত কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে  মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান।

রবিবার (২৬ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন শিল্পের কর্মীদের বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে। পর্যটন শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের  সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। জনশক্তি রপ্তানিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গত ১৫ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নেও আমাদের যৌথভাবে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

ফারুক খান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অসীম। পর্যটনের এই অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প সম্পর্কিত ব্যবসায় অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার পর্যটন শিল্পের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা রয়েছে। তারা চাইলে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। সরকার পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগকারীদের সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

সাক্ষাৎকালে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে টেলিকমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করার বিষয়টিও আমি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করতে পারাটা হবে আনন্দের। এছাড়াও মালয়েশিয়া ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে বৃত্তি প্রদান করে থাকে যার মধ্যে পর্যটন সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্যটন সম্পর্কিত বিষয়ে বৃত্তি যেন আরও বৃদ্ধি করা হয় সে বিষয়ে আমি চেষ্টা করবো।

হাইকমিশনার আরও বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য একটি ভালো শ্রমবাজার। আমরা আশা করব বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত কর্মী মালয়েশিয়া গমন করবেন তারা যথাযথ ভিসা নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সেখানে যাবেন এবং আইনগতভাবে অবস্থান করবেন। কর্মীদের দক্ষতা এবং সুনাম যত বাড়বে তত বেশি এই শ্রমবাজারের ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশ।

তিথি/এমএ/

ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষতির ওপর ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নির্ভরশীল: ইসি সচিব

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:৩০ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষতির ওপর ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নির্ভরশীল: ইসি সচিব
ছবি : সংগৃহীত

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ২৯ মে প্রায় ১০০ উপজেলায় এবং চতুর্থ ধাপের নির্বাচন আগামী ৫ জুন ৫৫টি উপজেলায় ভোটের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই দুই ধাপে ভোটের প্রচারও চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রিমালে উপকূলীয় এলাকায় আঘাতের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না বুঝে ওই সব অঞ্চলের উপজেলার নির্বাচন বাতিল হবে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। 

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে। সেই হিসাব অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার (২৭ মে) মধ্যরাতে শেষ হবে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে এ পর্যায়ে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন প্রার্থীরা। 

রবিবার (২৬ মে) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সংস্থাটির সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রবল আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাচন বাতিল করা হবে। তবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতির ওপর নির্ভর করবে ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। মাঠপর্যায়ে আমরা যোগাযোগ রাখছি। ঝড় এখনো আঘাত হানেনি। আঘাত হানার পর সিদ্ধান্ত হবে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন ঝড়টা মারাত্মকভাবে আঘাত না হানে।’

এদিকে উপজেলা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইসির তলবে হাজির হয়েছিলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আহমেদ চৌধুরী ও পাবনার ঈশ্বরদীর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. এমদাদুল হক। 

এদিন সকালে কমিশন শুনানিতে হাজির হওয়া অভিযুক্ত প্রার্থীদের জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় ওই দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রার্থিতা কমিশন বাতিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। 

এ ছাড়া নির্বাচনে অর্থ বিতরণসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুল হোসাইনকে (দোয়াত-কলম) তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় চেয়ারম্যান প্রার্থী এনামুলকে ইসিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। হ‌বিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রায়হান আহমেদের পক্ষে ভোট চাওয়া, অনুদান ঘোষণা এবং নগদ অর্থ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ওই অভিযোগ করেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবু তাহের।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ৩ হাজার ২৭৭ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা-২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে ইসির নিবন্ধিত ১৫ পর্যবেক্ষক সংস্থার কেন্দ্রীয়ভাবে ২২৯ জন ও স্থানীয়ভাবে ৩ হাজার ৪৮ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

এই ধাপের নির্বাচনে প্রায় ১০০ উপজেলায় মধ্যে ৯ জেলার ২১ উপজেলায় ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। বাকি উপজেলাগুলোতে ভোট হবে ব্যালট পেপারে। ১৩ মে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারের মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৪৩৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪৮৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৭১ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৭৮ জন। এসব উপজেলায় তিন পদে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ছয়জন। তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে একজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। 

সর্বশেষ চতুর্থ ধাপের ৫৫ উপজেলার নির্বাচনেও গত ২০ মে থেকে ভোটের মাঠের প্রচারে রয়েছেন প্রার্থীরা। মোট চার ধাপে অনুষ্ঠেয় ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এরই মধ্যে দুই ধাপের নির্বাচনে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। 

বাবা খুন হয়েছেন, প্রমাণ দেখাতে হবে: ডরিন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:২১ পিএম
বাবা খুন হয়েছেন, প্রমাণ দেখাতে হবে: ডরিন
এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। ছবি : খবরের কাগজ

‘আমার বাবাকে যে হত্যা করা হয়েছে, তা কীভাবে বিশ্বাস করব? বিশ্বাস করার মতো প্রমাণ তো দেখাতে হবে।’ 

রবিবার (২৬ মে) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরে নিজ বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ দাবি করেন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তার বাবাকে যে হত্যা করা হয়েছে, এ কথা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

ডরিন বলেন, ‘বাবার ব্যবহৃত স্বর্ণের দুটি আংটি, শার্ট-প্যান্ট, ব্রেসলেট, চশমা, জুতা ও পকেটে থাকা চিরুনির কিছু একটা প্রমাণস্বরূপ আমাদের দেখাতে হবে। তার ব্যবহৃত আরও অনেক কিছু ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বাবার শরীরের এক টুকরো মাংস ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ হিসেবে আমাকে দিতে হবে। আমার বাবাকে যে হত্যা করা হয়েছে, আমি বিশ্বাস করব কীভাবে। বাবার কিছু না কিছু একটা তো পাওয়া যাবেই।’

এমপি আনারের মেয়ে বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শ্বাসরোধ করে তাকে (আনার) মেরে ফেলা হয়। পরে চাকু বা ছুরি কিছু একটা দিয়ে তার শরীরের চামড়া ছাড়ানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত হিসেবে কোনো কিছুই উদ্ধার করতে পারেননি তারা।’

‘নারীর কাজের ৮১ শতাংশের কোনো মূল্যায়ন হয় না’

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
‘নারীর কাজের ৮১ শতাংশের কোনো মূল্যায়ন হয় না’
ছবি : সংগৃহীত

‘নারীর কাজের ৮১ শতাংশের কোনো মূল্যায়ন হয় না। পুরুষের ক্ষেত্রে মূল্যায়নের বাইরে থাকে শুধু ১৮ শতাংশ কাজ। ২০২১ সালে বিআইডিএস পরিচালিত একটি জরিপ অনুযায়ী, সে বছর নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজ ছিল ৫ হাজার ৩০৭ বিলিয়ন টাকা সমমূল্যের, যা জিডিপির ১৪ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। সে বছর জিডিপিতে পুরুষের অবদান ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ।’

রবিবার (২৬ মে) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত (এমজেএফ) এক সেমিনারে এসব কথা তুলে ধরেন বক্তারা। রাজধানীর মহাখালীতে ‘রিকগনিশন অব আনপেইড কেয়ার ওয়ার্ক: অ্যা স্টেপ টুওয়ার্ডস ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড সোশ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর অবৈতনিক কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশের অর্থনীতি স্মার্ট হবে না। নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজ জিডিপির বাইরে রাখার কোনো কারণ নেই। যেসব নারী গৃহস্থালি কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের অবদানকে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী গৃহকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, ‘আনপেইড কেয়ার ওয়ার্কের স্বীকৃতি না দেওয়া একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বাজেটে আনপেইড কেয়ার ওয়ার্ক অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করছি।’ 

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করছি, তার জন্য সামাজিক ও পুরুষতান্ত্রিক চিন্তাধারার পরিবর্তন অনেক বেশি জরুরি। আমাদের রীতিনীতি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ধারণায় পরিবর্তন আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি একটি বড় বাধা। এসবের জন্য আমাদের বাড়তি কিছু নীতিমালা তৈরি ও বাজেটে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈতনিক কাজের বড় একটি অংশ নারী। এই চিত্র পরিবর্তনের জন্য আমাদের নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। নারীদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা এবং দেশের প্রেক্ষাপটে ডে কেয়ার প্রোগ্রাম চালু করা দরকার।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের হার প্রায় ৪২ শতাংশ। বাল্যবিবাহ নারীদের অবৈতনিক কাজের মূল্যায়ন না হওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ। আরও একটা অন্যতম কারণ হলো লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা।’ 

শাহীন আনাম বলেন, ‘সিপিডির এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর বৈতনিক কাজের চেয়ে অবৈতনিক কাজের মূল্য তিন গুণ বেশি। এখন সময় এসেছে স্যাটেলাইট সিস্টেম অব অ্যাকাউন্টসের মাধ্যমে নারীর অবৈতনিক কাজগুলো অর্থনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া। এর আর্থিক মূল্য জাতীয় বাজেটের কত অংশ, তাও দেখতে হবে।’

ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলী সিং মনে করেন, স্বীকৃতির প্রক্রিয়াটি সম্মিলিত পদ্ধতিতে হতে হবে। অংশীদারত্ব ও সমন্বয় এখানে মূল বিষয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমজেএফের পরিচালক (কর্মসূচি) বনশ্রী মিত্র নিয়োগী। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে এমজেএফ ‘মর্যাদায় গড়ি সমতা’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নারীর গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন, জিডিপিতে অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় আয় পরিমাপের পদ্ধতি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে।