ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম
বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

কোরিয়া বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক। একই সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উপযুক্ত আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক স্পিকারকে কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সংসদের ইতিবাচক অনুশীলন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যেতে পারে। সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ বাংলাদেশ ও কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ যেমন নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে, তেমনি বিদেশি অর্থায়নেও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের এ দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ 

স্পিকার আরও বলেন, ‘সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ দেশের আরএমজি (তৈরি পোশাক) সেক্টরসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।’

এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আছাদুজ্জামানের দুর্নীতির অনুসন্ধান হবে কি না, সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১১:৩০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১১:৩০ পিএম
আছাদুজ্জামানের দুর্নীতির অনুসন্ধান হবে কি না, সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিমএপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিমএপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন)। কাল সকাল ১০টায় কমিশনের নিয়মিত বৈঠক নির্ধারিত আছে। এ বৈঠকে তার দুর্নীতির অনুসন্ধান হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও দুদকে আসা অভিযোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইতোমধ্যে কমিশনে মতামত দাখিল করেছে দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি। এতে অনুসন্ধান করার অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে অনুসন্ধান শুরু হবে। তবে কমিশন চাইলে আছাদুজ্জামানের দুর্নীতি বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা টিমকেও কাজে লাগাতে পারে। সেক্ষেত্রে কমিশনের পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। 

যদিও গতকাল রবিবার দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেছেন, ‘তার (আছাদুজ্জামান) বিষয়ে আসা অবৈধ সম্পদের অভিযোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুসন্ধান করা হবে কি না, সেটা কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের পর জানানো যাবে।’ 

অস্বাভাবিক অর্থ-সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে কিছুদিন ধরেই ব্যাপক আলোচনায় আছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। এখন বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে এলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিমএপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তার অবৈধ সম্পদ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় ঈদুল আজহার আগের দিন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট, ছেলের নামে একটি বাড়ি এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এই তিন জেলায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের লেন-১-এ ১৬৬ এবং ১৬৭ নম্বরে ১০ কাঠা জমির ওপর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামানের মালিকানায় ছয়তলা একটি বাড়ি রয়েছে। 

রাজধানীর ইস্কাটনেও তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে ধানমন্ডিতে। এর বাইরে সিদ্ধেশ্বরীতে মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জের চাঁদখোলা মৌজায় ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সর্বমোট ১০৬ শতক জমি কেনা হয় স্ত্রী আফরোজা জামানের নামে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কৈয়ামসাইল-কায়েতপাড়া মৌজায় আফরোজার নামে ২৮ শতক জমি কেনা হয়। একই বছর একই মৌজায় আরও ৩২ শতক জমি কেনা হয় তার নামে। পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি রয়েছে আছাদুজ্জামান মিয়ার নামে। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর আফতাবনগরে ২১ কাঠা জমি রয়েছে। নিকুঞ্জ-১-এ ছোট ছেলের নামেও একটি বাড়ি রয়েছে।

এই প্রতিবেদন নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা শুরু হওয়ায় এখন দুদকের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

সংসদে রাশেদ খান মেনন আজিজ-বেনজিরের দুর্নীতির চিত্র হিমশৈলের ক্ষুদ্র উপরিভাগমাত্র

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১০:৪৫ পিএম
আজিজ-বেনজিরের দুর্নীতির চিত্র হিমশৈলের ক্ষুদ্র উপরিভাগমাত্র
ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক পুলিশপ্রধানের দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, ‘সাবেক পুলিশপ্রধান (বেনজীর আহমেদ) ও সাবেক সেনাপ্রধানের (আজিজ আহমেদ) দুর্নীতির চিত্র হিমশৈলের ক্ষুদ্র উপরিভাগমাত্র, এ কথা এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। এখনই বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতির এই বিস্তার রোধ করা না গেলে হিমশৈলের ধাক্কায় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির সলিলসমাধি হবে’।

সোমবার (২৪ জুন) সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। 

এসময় ‘দুর্নীতির মচ্ছব’ বন্ধ করতে এখনই বিশেষ কমিশন গঠন, দুর্নীতিবাজদের অর্থসম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ঋণখেলাপি, অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করার দাবি জানান রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, বিএনপি আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পাঁচ-পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশ এখন সে কলঙ্ক থেকে মুক্ত হলেও এখনো শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে। বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির যে চিত্র সম্প্রতি বেরিয়ে আসছে, তা দেশের ভাবমূর্তি কেবল নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা সৃষ্টি করছে। দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়শনের দেওয়া বিবৃতিরও সমালোচনা করেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য, আমরা এখানে দেখলাম, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন থেকে দুর্নীতির খবর প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের ধমক দেওয়া হয়েছে।’ 

ঝালকাঠির সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে মেনন বলেন, এই দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বর্ণ-মাদক চোরাচালানি ও অপরাধজগতের যে চিত্র বেরিয়ে আসছে, তাতে সংসদ সদস্য ও সংসদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে সরকারকে আত্মসমালোচনার পরামর্শও দেন তিনি।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর প্রসঙ্গে মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তার পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি কোথায় গেল, আমরা জানি না। তিস্তার পানি চুক্তি না করে এই সহযোগিতা গাছের গোড়া কেটে ওপর দিয়ে পানি ঢালার শামিল। এই সফরে গঙ্গা চুক্তির নবায়নের কথা এসেছে। কিন্তু গঙ্গার পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির জন্য সংকোশ নদী থেকে খাল কেটে গঙ্গার পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির যে বিষয়টি ছিল, তা ৩০ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি; বরং এখন ফারাক্কার ওপরে আরেকটি ব্যারেজ তৈরির কথা এসেছে। তিস্তা নিয়ে যেন আমরা ভূ-রাজনীতির দ্বৈরথের শিকার না হই। প্রয়োজনে পদ্মা সেতুর মতো নিজেদের অর্থায়নে তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শও দেন তিনি। 

কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘নিষ্ঠুর অলিগার্কিরা দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। লুটের টাকাকে যখন সাদা করার জন্য সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের চেয়ে অর্ধেক কর দিয়ে সাদা করার প্রস্তাব করা হয়, তখন সেটা সততার জন্য তিরস্কার ও অসততার জন্য পুরস্কারের শামিল হয়ে দাঁড়ায়। এ সম্পর্কে যেসব যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা কেবল অসারই নয়, এ প্রসঙ্গে সরকারের অতীত অবস্থানের বিপরীত। খালেদা জিয়ার জন্য যেটা অনৈতিক, বর্তমানেও সেটা অনৈতিক।’ বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান মেনন। 

তিনি বলেন, সেই অলিগার্কির স্বার্থ রক্ষার্থে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা যায়নি। দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, ব্যাংকিং খাতে লুট ও নৈরাজ্য, খেলাপি ঋণের বিশাল পাহাড় দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থায় উপনীত করেছে’।  

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি ইনস্টিটিউশনের তথ্য অনুযায়ী বছরে ৭ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে কানাডার বেগমপাড়ায়, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমে, সিঙ্গাপুর, দুবাইয়ের আধুনিক শপিং মল, রিয়েল এস্টেট ও হুন্ডি ব্যবসায়। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে ‘ব্যাংক কমিশন’ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরের অর্থমন্ত্রী তাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। আর এখন ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তুঘলকি কাণ্ড করছে। 

সরকারি দলের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম মামলা–জট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ঝিনাইদহ-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন মিয়াজী বলেন, তার নির্বাচনি এলাকা সীমান্তবর্তী। তারকাঁটাবিহীন প্রায় ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে সোনা চোরাচালান, নারী-শিশু পাচার ও মাদকদ্রব্যের চোরাচালানের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। এসব তৎপরতা বন্ধে তিনি জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনীকে সমন্বয় করে একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান। 

এলিস/এমএ/

আছাদুজ্জামানের তথ্য ফাঁস করায় এডিসি জিসানুল হক বরখাস্ত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:৪৫ পিএম
আছাদুজ্জামানের তথ্য ফাঁস করায় এডিসি জিসানুল হক বরখাস্ত
আছাদুজ্জামান মিয়া ও জিসানুল হক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

রবিবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে আছাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে অনলাইনে গেল, সেটি নিয়ে তদন্ত করে পুলিশ। এই কর্মকর্তা ছাড়াও পুলিশের আরও দুই নন-ক্যাডার সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. জাহাংগীর আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জিসানুল হকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ধারা ৩৯ (১) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর বিধি ১২ (১) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশ সার্ভিস রুল অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংসদ ভবনে ‘মুজিব ও স্বাধীনতা’ জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম
সংসদ ভবনে ‘মুজিব ও স্বাধীনতা’ জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনে নির্মিত ‘মুজিব ও স্বাধীনতা’ জাদুঘরের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে সংসদ ভবনের ১ম লেভেলে স্থাপিত ওই জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জাদুঘরে প্রদর্শিত বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবহিত করেন। 

পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন এবং জাদুঘরের সংগ্রহশালার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে এ ধরনের জাদুঘর নির্মাণে উদ্যোগের জন্য স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ জাতীয় সংসদের সদস্যরাও জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন। 

‘মুজিব ও স্বাধীনতা’ জাদুঘরের প্রথম কক্ষে বাংলার প্রাচীন ইতিহাস থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর শৈশব ও কৈশোর, খোকা থেকে শুরু হয়ে তারুণ্যে মুজিব ভাই হয়ে ওঠা, ভারত ভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা, উত্তাল ভাষা আন্দোলন ও ১৯৫০-এর দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচন পর্যন্ত প্রদর্শিত হয়েছে। 

সত্তরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয়ের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে ঘটনাপ্রবাহ এগিয়ে গেছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের দিকে। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ২৫ মার্চের গণহত্যা, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অকাতর সংগ্রাম এবং মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগের ধারাবর্ণনাও স্থান পেয়েছে এই কক্ষে। একাত্তরে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ অবদানের সঙ্গে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের পরিচিতি করার ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থান পেয়েছে জাদুঘরে।

এলিস/এমএ/ 

মুখে বললেও বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:২০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:২০ পিএম
মুখে বললেও বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের দল নয়, কর্মীদের দল। এখানে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র আছে। এখানেই অন্য দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য। বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু তাদের নিজের দলেই গণতন্ত্র নেই। সেই কারণে যখনই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সাধারণ কর্মীরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২৪ জুন) বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির জন্মটাই অগণতান্ত্রিকভাবে। বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলে, সেখানে সিদ্ধান্ত আসে দেশের বাইরে থেকে, পদায়ন-মনোনয়ন হয় রাতের আঁধারে। আর পত্রিকায় ‘মহাসচিবের খোঁজে বিএনপি’ শিরোনাম আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কান্নার ছবি ছাপা হয়। যদিও তারা বলে, মির্জা ফখরুল সাহেবের কান্না বেগম জিয়ার অসুস্থতার জন্য, কিন্তু আমরা জানি, বেগম জিয়া তো দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ।” 

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের ৭৫ বছরের পথচলায় যেসব নেতা বেসুরে কথা বলেছেন, দল ছেড়ে চলে গেছেন, তারা রাজনীতি থেকেও হারিয়ে গেছেন। ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা করেছেন। শেখ হাসিনা সেই দ্বিধাবিভক্তি থেকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করে সুসংযত করেছেন। গত ৪৩ বছর ধরে দলকে অসামান্য নেতৃত্ব দিয়ে পরপর চারবারসহ মোট পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছেন। দেশকে বিশ্বের বুকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছেন।

এ সময় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে কাউকে যেন ‘ইনোসেন্ট ভিক্টিম’ বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হবে। আমাদের সরকারের নীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস হিসেবে যদি ধারাবাহিকভাবে সংবাদ পরিবেশিত হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি ষড়যন্ত্রের অংশ। ইনভেস্টিগেশনের আগেই গণমাধ্যমের সামনে কাউকে দুর্নীতিবাজ বলাও সমীচীন নয়।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অবশ্যই দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হবে এবং সেটি দুর্নীতি দমনে সহায়ক। কিন্তু কেউ যেন ‘ইনোসেন্ট ভিক্টিম’ না হয় এবং কোনো প্রতিষ্ঠানকে যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না করা হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানার সঞ্চালনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।