দ্বিতীয় ধাপে গণ-অভ্যুত্থানে ১০ জন শহিদ ও আহত ১ হাজার ৭৫৭ জনকে জুলাইযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ হয়।
প্রকাশিত গেজেটে ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ১০ জন শহিদ, ‘খ’ ক্যাটাগরিতে আহত (অতি গুরুতর) হিসেবে আছেন ১০৯ জন ও গুরুতর হিসেবে একই ক্যাটাগরিতে আহত হিসেবে আছেন ২১০ জন। এ ছাড়া ‘গ’ ক্যাটাগরিতে গুরুতর থেকে একটু কম এমন আহত রয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন।
এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪০৫ জন, খুলনা বিভাগের ১৬৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২২৬ জন, বরিশাল বিভাগের ১১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১১১ জন, রংপুর বিভাগের ৯০ জন, রাজশাহী বিভাগের ২৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগের ৮৮ জন রয়েছেন।
এর আগে প্রথম ধাপে ১২ হাজার ৮৭৭ জন জুলাই শহিদ ও জুলাইযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়।
বিধিমালা অনুযায়ী সরকার প্রত্যেক শহিদ পরিবারকে সঞ্চয়পত্রের আকারে এককালীন ৩০ লাখ টাকা অনুদান দেবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭২টি শহিদ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে (স্বামী বা স্ত্রী, ঔরসজাত বা গর্ভজাত সন্তান/মাতা ও পিতা) উত্তরাধিকার আইন অনুসারে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। মোট ৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র হয়েছে। অবশিষ্ট ৭২টি শহিদ পরিবারের মধ্যে পারিবারিক ও ওয়ারিশগত জটিলতা নিরসন করে সঞ্চয়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান। শহিদ পরিবারের এককালীন অনুদানের অবশিষ্ট ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিধিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক শহিদ পরিবার মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
বিধিমালা অনুযায়ী শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তির কর্মসংস্থানের জন্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উপার্জনের উপযুক্ত কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহিদ পরিবার এবং আহত জুলাইযোদ্ধাদের ভাতা কার্যক্রম অনলাইনে দেওয়া এবং সমৃদ্ধ তথ্যভাণ্ডারের জন্য ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) তৈরির কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানা গেছে।