ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০ মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রেপ্তার নিয়ে সিএমপির ব্যাখ্যা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ হস্তান্তর আজ

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ হস্তান্তর আজ
প্রতীকী ছবি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ আজ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টােবর) দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়া হবে। 

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই সুপারিশে সনদ বাস্তবায়নের আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের সমাপনী বৈঠকে এই সুপারিশ চূড়ান্ত হয়। ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সব কূল রক্ষা করেই সনদ বাস্তবায়নের এই রূপরেখা তৈরি করা হয়। সনদ বাস্তবায়নের এই সুপারিশ জমা দেওয়ার মাধ্যমে আগামী ৩১ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আজই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তার দায়িত্ব শেষ করবে। এ সময় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নেও সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান কমিশনের সদস্যরা। 

বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ
সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আট মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞ। গতকাল বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় কমিশনের সমাপনী বৈঠক। এতে সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন ও মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় যেসব ডকুমেন্ট, আলোচনা ও ছবি-ভিডিও তৈরি হয়েছে, সেগুলো ইতিহাসের সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা কীভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, তা জানানোই হবে গণতান্ত্রিক বিকাশের শিক্ষণীয় অধ্যায়।’

কী থাকছে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে?
ঐকমত্য কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, সুপারিশে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রধান কাঠামোকে পাঁচটি ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- 
১. প্রথমে ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হবে, যা গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি হিসেবে নেবে।
২. সেই আদেশের অধীনে গণভোটসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি হবে; এর মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়া হবে।
৩. গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত সংস্কার প্রস্তাবই সরাসরি বাস্তবায়ন হবে।
৪. আগামী জাতীয় সংসদ ২৭০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে এবং এই সময়ের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো পাস করতে হবে।
৫. গণভোটে পাস হলে সংসদে দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে- সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবও এতে আছে।

এ ছাড়া কমিশনের খসড়ায় বিকল্প একটি পথও রাখা হয়েছে- সংস্কার প্রস্তাবগুলো বিল আকারে সংসদে পেশ করে তার ভিত্তিতেই গণভোট আয়োজন করা। তবে উভয় পথেই মূল লক্ষ্য একই- আইনি বৈধতা ও গণসমর্থনের ভিত্তিতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন।
 
সুপারিশ প্রস্তুতে দফায় দফায় বৈঠক
কমিশনের একাধিক সূত্র জানায়, রবিবার বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কমিশন বৈঠকে সুপারিশের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এরপর গতকাল সকাল ১০টায় কমিশন পুনরায় বসে শেষ মুহূর্তের সংযোজন-বিয়োজনে। এরপর বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সামনে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশপত্র’ উপস্থাপন করে কমিশন। আগামী ৩১ অক্টোবর কমিশনের মেয়াদ শেষ হলেও প্রয়োজনে সদস্যরা পরামর্শমূলকভাবে সরকারের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

গণ-অভ্যুত্থানের পর জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় গত আগস্টে। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, আইনবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে কমিশন টানা তিন মাসে ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করে- এর মধ্যে ৪৭টি সরাসরি সংবিধানসংক্রান্ত।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয় বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির কাজ। গণভোটের আইনি ভিত্তি, সংসদের ভূমিকা, বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা- সব দিক নিয়েই দফায় দফায় বৈঠক করেছে কমিশন। একপর্যায়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আইনজীবীদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

শেষ মুহূর্তের সংযোজন-বিয়োজন
কমিশন সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর খসড়ায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন যুক্ত করা হয়- গণভোটের সময় নির্ধারণ এবং আদেশ কে জারি করবে এই দুটি বিষয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে (২৭০ দিন) সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে সংসদ বিলুপ্ত হবে না; বরং একটি ‘ইতিবাচক বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থা’ থাকবে, যাতে সংসদ দ্রুত সংস্কার শেষ করে।

বাস্তবায়নের সুপারিশে সব কূল রক্ষার চেষ্টা
ঐকমত্য কমিশনের সমাপনী বৈঠকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি এমন একটি বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করতে, যাতে রাজনৈতিক ঐক্য অক্ষুণ্ণ থাকে, আবার আইনি বৈধতাও নিশ্চিত হয়। সব কূল রক্ষা করে এই সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের যে ঐক্যের ভিত্তি দিয়েছে, সেটাকে সংরক্ষণ করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সংস্কারের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক।’

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, আজ সরকারের হাতে সুপারিশ হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম কার্যত শেষ হবে। তবে কমিশন সদস্যদের আশা- এই প্রক্রিয়া শুধু সরকারের কাজকে নয়, জনগণের প্রত্যাশাকেও প্রতিফলিত করবে। তিনি আরও বলেন, ‘কমিশনের কাজ শেষ, কিন্তু সংস্কারযাত্রা শুরু হচ্ছে এখন। আমরা চাই, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সেই পথেই এগিয়ে যাক, যে পথে জনগণ একবার হেঁটে দেখেছে স্বাধীনতার নতুন অর্থ।’

কমিশনের শেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই কমিশনের কাজ শুধু আজকের নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করেছে। আলোচনা, মতভেদ, সমঝোতা- সবকিছুই নথিবদ্ধ করা হোক। কারণ এই নথিগুলো হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের ইতিহাস। 
কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক বলেন, ‘কমিশনের বৈঠকগুলোতে যেমন সৌহার্দ্য ছিল, গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও তেমন ঐক্য ছিল। এটাই আশার জায়গা।’ সফর রাজ হোসেন (পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান) বলেন, ‘প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এই সংস্কৃতি টিকে থাকুক।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই সনদের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারও জরুরি। সরকার যেন এ সুযোগ কাজে লাগায়।’ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘শহিদ পরিবারের প্রত্যাশা একটাই- সংস্কার বাস্তবায়ন। সেটাই হবে জুলাই আন্দোলনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।’

জুলাই সনদ তৈরির ইতিহাস
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যার নেতৃত্বে ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই কমিশনের দায়িত্ব ছিল একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য জাতীয় সনদ তৈরি করা; যা ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার ও নাগরিক অধিকারের দিকনির্দেশনা দেবে। 

এরপর ধারাবাহিক সংলাপ ও কর্মশালার মধ্য দিয়ে কমিশন দেশের ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত সংগ্রহ করে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়, যার মধ্যে ৪৭টি সরাসরি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাকিগুলো প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারবিষয়ক। রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তাব দেয় সংসদীয় ব্যবস্থার জবাবদিহি বাড়ানো, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা, পুলিশের জবাবদিহিমূলক পুনর্গঠন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তার বিষয়ে।

গত ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দলের নেতারা। এক দিন পর ১৯ অক্টোবর জুলাই সনদে সই করে গণফোরাম। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সিপিবির নেতৃত্বাধীন ছয়টি বাম দল এখনো সনদে সই করেনি। তাদের মধ্যে এনসিপি এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া তারা স্বাক্ষর করবে না। 

সনদ স্বাক্ষরের পর কমিশন মনোযোগ দেয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণে, যেখানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা। কমিশন প্রথমে বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নিয়ে বিভাজিত ছিল- ২৭০ দিনের মধ্যে সংসদ সংস্কার শেষ না করলে কী হবে, তা নিয়ে ছিল মতপার্থক্য। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে ‘ইতিবাচক প্রণোদনাভিত্তিক’ বাস্তবায়ন মডেলই বেছে নেয় কমিশন। এরপর বহু পর্যালোচনা শেষে ঐকমত্য কমিশনের তৈরি করা সমন্বিত প্রস্তাবে আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।ন ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ হাজার মামলা জটের কারণে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সভায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বোর্ড, মাদ্রাসা ও কাৃরিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের এক আইনি জটিলতায় ৩২ হাজার ৫০০ জনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া আটকে আছে। তবে আগামী ২ জুলাই আপিল বিভাগে এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। তার প্রত্যাশা, ওই দিন কাঙ্ক্ষিত রায় পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই শূন্য পদগুলো পূরণের জট খুলবে।

সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৬ সালে আমরা নকলের কবর দিয়েছি। তবে এখন নকল ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে অবশ্যই সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে ডিজিটাল ভিজিল্যান্স।’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এমপিওভুক্তির বিশাল ব্যাকলগ পূরণে আরও ৭৭ হাজার শিক্ষক প্রয়োজন।

শিক্ষাব্যবস্থায় অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার জায়গায় জায়গায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুপ্ত অনুসারীরা রয়েছে, যারা আমাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগী হতে চাইছে না।’

অন্তরা/

নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সুযোগ পেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা করার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া শোক মিছিল উপলক্ষে হোসাইনী দালান ইমামবাড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার জানান, নিষিদ্ধ দলটির নেতারা বা কর্মীরা যেন কোনো নাশকতা করতে না পারে তাই তিন দিনের বিশেষ নিরাপত্তা নিয়েছিল ডিএমপি। বিভিন্ন মেস ও হোটেলে তল্লাশি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সরকারকে বিপদে ফেলতে চায় তারা।

তিনি জানান, এরই মধ্যে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে ধানমণ্ডি ৩২, গুলিস্তানসহ সারা ঢাকায়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। ককটেল ফুটিয়েছে তারা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।

এ সময় পবিত্র আশুরা ও তাজিয়া মিছিল ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

একই সঙ্গে তাজিয়া মিছিলে ধারালো বস্তু না আনা এবং মিছিলের দিন কিছু রোড ডাইভারশনের কারণে এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অমিয়/

‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিকদলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না- এটা পরিষ্কার করা দরকার যে, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে।’ 

যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনও কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। তারা প্রতীকী কারণে হয়তো মাঠে আছেন, বলছেন অনেক কিছু করে ফেলবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

রিফাত/

বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

ছয় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

অন্তরা/

আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৩ এএম
আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ মিছিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরী (২৬ জুন ২০২৬ খ্রি.) পবিত্র আশুরা উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতংক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ।

আরও বলা হয়, তাছাড়া মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

আরও উল্লেখ করা হয়, এই আদেশ তাজিয়া মিছিল শুরু হতে শেষ সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।

অন্তরা/