ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের গোপন সভা, গ্রেপ্তার ২ রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক ভেঙে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ ,ভরসা বাঁশের সাঁকো বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত টাঙ্গুয়ার হাওরে অপরিকল্পিত হাউজবোট চলাচল: বেলার উদ্বেগ প্রকাশ পীরগাছায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনের পটিয়ায় ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন দিল স্থানীয়রা পদ্মায় আবারও বাসডুবি, আগেই নেমে যাওয়ায় যাত্রীদের প্রাণরক্ষা গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর নৌকাঘাট ব্যবহারের নির্দেশ
Nagad desktop

সিন্ডিকেটের থাবায় এবারও চামড়ায় ধস

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
সিন্ডিকেটের থাবায় এবারও চামড়ায় ধস
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনার পর গতকাল লালবাগের পোস্তার একটি গুদামে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

শিল্পমন্ত্রী আবুল মুক্তাদির ঈদুল আজহার আগে জোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এবার কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মন্ত্রীর সেই আশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়নি। কোরবানির মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো এবং হতাশাজনক।

বিগত বছরের তুলনায় এবার পশুর চামড়া আরও কম দামে বিক্রি হয়েছে। ন্যায্য মূল্য পাওয়া তো দূরের কথা, বহু মানুষের চামড়া পরিবহনের ন্যূনতম খরচও ওঠেনি। ক্রেতা না পেয়ে অনেকে চামড়া রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে চামড়া মাটিচাপা দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক যুগ ধরে কোরবানির চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট কৌশলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেট সরকারের বেঁধে দেওয়া দামকে তোয়াক্কা করে না। তারা অনেক কম দামে চামড়া কেনে। ফলে প্রতিবছর প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়। মূলত সঠিক সংরক্ষণের অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে তার মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়। সরকারকে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। সরকার বিভাগীয় শহরগুলোতে বিসিকের শিল্প প্লট ব্যবহার করতে পারে। সেখানে চামড়া সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা চামড়া কেনার পর সেখানে তা সংরক্ষণ করবেন। পরবর্তী সময় ভালো দাম পাওয়া গেলে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের কাছে তা বিক্রি করা যাবে। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। একই সঙ্গে কম দামে দ্রুত চামড়া বিক্রি করার তাড়াও থাকবে না।

চামড়ার বাজারের এই অস্থিরতা দূর করতে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই প্রতিবেদনেও সরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কারখানাগুলোর অব্যবহৃত জায়গায় সংরক্ষণ কেন্দ্র করা সম্ভব। এসব কেন্দ্রে আশপাশের এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে সহজেই সংরক্ষণ করা যাবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের পরেই চামড়া খাতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতের ওপর ভিত্তি করে দেশের লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সম্ভাবনাময় খাতের জন্য সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেই। খোদ শিল্পমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, চামড়া খাতের উন্নয়নে সরকারের বর্তমানে কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। তবে তিনি জানিয়েছেন, অতি শিগগির একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

অথচ ঈদুল আজহার আগে শিল্পমন্ত্রী কয়েক দফায় গণমাধ্যমে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এবার চামড়া বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে। মাঠপর্যায়ে কোথাও যেন অনিয়ম না হয়, সে জন্য প্রশাসন কঠোর নজরদারি করবে। চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য বাজারে প্রচুর পরিমাণে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী এমন সব বড় বড় উদ্যোগের কথা বললেও মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। খবরের কাগজের ব্যুরো অফিস, প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদকদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কোথাও কোরবানির চামড়ার ন্যায্য দাম মেলেনি।
ঈদের দিন বিকেলে বরিশাল নগরের পদ্মাবতী ও পেঁয়াজপট্টি এলাকার চামড়ার পাইকারি আড়তগুলোতে গিয়ে চরম মন্দা দেখা যায়। সেখানে গরুর চামড়া অত্যন্ত কম দামে কেনাবেচা হচ্ছিল। তবে ছাগল ও বকরির চামড়ার দিকে ব্যবসায়ীরা ফিরেও তাকাচ্ছিলেন না। রিকশা, ভ্যান ও ট্রাকে করে চামড়া নিয়ে আসা কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েন। আড়তদাররা অনেক ক্ষেত্রে তাদের চামড়া ফেরত নিয়ে যেতে বলেন। উপায় না পেয়ে চামড়া সংগ্রহকারীরা আড়তের সামনেই চামড়া ফেলে রেখে চলে যান।

বরিশাল নগরের কাউনিয়া বিসিক সড়ক এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম রিপন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগে অন্তত ১০ থেকে ২০ টাকায় হলেও ছাগলের চামড়া বিক্রি করা যেত। কিন্তু এ বছর চামড়া নিয়ে আড়তে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। শেষ পর্যন্ত অবিক্রীত চামড়া দোকানের সামনেই ফেলে আসতে বাধ্য হয়েছি।

চামড়া ফেলে দেওয়ার এই চিত্র দেখা গেছে বগুড়াতেও। বগুড়া সিটি করপোরেশন থেকে বাঘোপাড়া ডাম্পিং স্টেশনে নিয়োগ করা ট্রিপ গণনাকারী মো. মনিরুল ইসলাম তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ঈদের দিন রাত ২টা থেকে রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই ডাম্পিং স্টেশনে প্রচুর চামড়া ফেলা হয়েছে। ছাগল, ভেড়া ও গরুর চামড়া নিয়ে প্রায় ২০টি ট্রাক সেখানে আসে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ৫০০টি করে চামড়া ছিল। মো. মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, এই ডাম্পিং স্টেশনের বাইরেও বেশ কিছু এলাকায় চামড়া মাটিতে চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস তার লোকসানের কথা জানান। তিনি বলেন, ঈদের দিন নগরের চকবাজার এলাকা থেকে ৩৫০ টাকা দামে বড় আকারের গরুর চামড়া কিনেছিলাম। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে চামড়াগুলো বিক্রির জন্য নগরের আতুরার ডিপোতে নিয়ে যাই। কিন্তু আড়তদাররা প্রতি পিস চামড়ার দাম মাত্র ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। ভেবেছিলাম এবার চামড়া বিক্রি করে ভালো লাভ পাব। কিন্তু এভাবে বড় অঙ্কের লোকসান দিতে হবে, তা কখনো ভাবিনি।
জয়পুরহাটেও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। সেখানকার ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকে ৩০০ টাকায় চামড়া কিনে আড়তে মাত্র ১০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এই দামে চামড়া বিক্রি করে তাদের লাভ তো দূরের কথা, যাতায়াত ও গাড়ি ভাড়ার টাকাই ওঠেনি। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে আড়তদাররা চামড়া কিনছেন না। তারা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে চামড়া কিনছেন। জয়পুরহাটের বাজারে প্রতিটি গরুর চামড়া মাত্র ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ছাগলের চামড়া কেনার প্রতি ব্যবসায়ীদের কোনো আগ্রহই ছিল না।

জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন এবং জামালগঞ্জ বাজারের মেহেদী হাসানসহ একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী একই কথা বলেন। তারা জানান, কোরবানির চামড়ার বাজারে আকস্মিক এই দরপতন তাদের দিশেহারা করে ফেলেছে।
লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে এবার কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এক নজিরবিহীন লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। সরকারের নানামুখী আশ্বাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মাঠপর্যায়ে চামড়া বিক্রি হয়েছে একেবারে পানির দামে। অনেক জায়গায় চামড়া কেনার জন্য কোনো ক্রেতাই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এতে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।

জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রামনগর মাদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ক্রেতার অভাবে ১৫০টি চামড়া মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা শহীদ উল্যাহ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানান, বিপুল উৎসাহ নিয়ে তারা বাড়ি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু দিনভর অপেক্ষা করেও কোনো পাইকারি ক্রেতার দেখা মেলেনি। কেউ চামড়া কিনতে রাজি হয়নি।

তিনি আরও জানান, শ্রমিক ও গাড়ি ভাড়া দিয়ে এই চামড়াগুলো সংগ্রহ করতে মাদ্রাসার কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তীব্র গরমে একপর্যায়ে চামড়াগুলো পচতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত পরিবেশ রক্ষার্থে গত শুক্রবার রাতে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এর ফলে মাদ্রাসার এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের ফান্ডের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। শুধু চন্দ্রগঞ্জেই নয়, লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার চিত্রও ছিল প্রায় একই রকম।

পবিত্র ঈদুল আজহার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় চামড়া সংগ্রহের তোড়জোড় দেখা যায়। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার অর্থের জোগান দিতে লোকজন গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। মাধবদী, পাঁচদোনা, ভেলানগর ও ইটাখোলা মোড়ে এসব চামড়া এনে জড়ো করা হয়।

মাধবদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দামের চরম বিপর্যয়। সেখানে খাসির চামড়া মাত্র ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর একটি চামড়া সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে এক মাদ্রাসার হুজুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সময়ে একটি গরুর চামড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। কিন্তু আজ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে চামড়াগুলো একেবারে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ফলে মাদ্রাসার গরিব ও এতিম ছাত্রদের হক চরমভাবে নষ্ট হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের চামড়া ক্রেতা কবির হোসেন ও আকবর আলী নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, তারা খাসির চামড়া ২০ টাকায়, গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় এবং মহিষের চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে কিনছেন।

তারা আরও বলেন, এসব চামড়া সংগ্রহ করে ঢাকায় নেওয়ার পর ট্যানারি মালিকরা আরও কম দাম নির্ধারণ করেন। ট্যানারি মালিকদের এমন খামখেয়ালিপনা ও আচরণের কারণে মাঠপর্যায়ে তাদেরও লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে হয়। মূলত পুরো চেইন জুড়েই এক ধরনের অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের প্রভাব কাজ করছে। এর ফলে প্রান্তিক কোরবানিদাতা থেকে শুরু করে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

বর্তমান সরকার সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না। অতীতের মতো গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ নিয়ন্ত্রণের কোনো মানসিকতা সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সিএমউজের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনস্থ কার্যালয় উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণ, অধিকার বাস্তবায়ন এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সফলতায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অতীতে সাংবাদিক কল্যাণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদের অবদান অপরিসীম। তিনি স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিতায় সাংবাদিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছিলেন। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই সাংবাদিকদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল অঞ্চলের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সাংবাদিককে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। চলতি বছরে যারা সুযোগ পাবেন না, তাদের আগামী বছর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উদ্বোধকের বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ও সংবাদমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেমন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন, তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের পথ সুগম করেন। দীর্ঘদিন ধরে যারা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন, তাদের সবাইকে একটি বৃহত্তর সাংবাদিক পরিবারের অংশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে বিভেদ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

এসএন/

পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে, তবে সেটি যথেষ্ট নয়। আজ বাংলাদেশ আলু ও পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়। অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে।’

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি আয়োজিত ‘লিচু উৎসব ও কৃষক বাণিজ্য মেলা’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর সার্বিকভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে কৃষিকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কৃষির উন্নয়নে যেকোনো চ্যালেঞ্জ সরকার যেমন মোকাবিলা করতে পারে, তেমনি কৃষকেরাও পারে। সরকার কৃষকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।’

পাবনা ও ঈশ্বরদীতে প্রচুর লিচু ও পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে লিচু সংরক্ষণাগার ও একটি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা যায় কি না, তা সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হবে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

এ ছাড়া কৃষক সমিতির দাবিগুলো নিয়েও কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘সারা বাংলাদেশকে আপনি যেভাবে দেখেন, তার চেয়ে একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে ঈশ্বরদী ও লালপুরকে দেখতে হবে। উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে যদি আরও সমুন্নত করা যায়, তাহলে গোটা বাংলাদেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাটোর সুগার মিলকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে নাটোর, বাগাতিপাড়া, লালপুর ও ঈশ্বরদীর বহু বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ 

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু।

সভায় সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ (কুল ময়েজ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল মণ্ডল (লিচু কেতাব)।

এ সময় শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক, বাংলাদেশ সুগারক্রপ, আঞ্চলিক কৃষি ও ডাল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা এবং সরকারি ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লিচু উৎসব ও কৃষক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী লিচু উৎসব ও কৃষক বাণিজ্য মেলায় শত শত কৃষক অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থল বিভিন্ন ফল ও সবজি দিয়ে সাজানো হয়। মেলায় কৃষি উপকরণ প্রদর্শনের জন্য কয়েকটি স্টলও স্থাপন করা হয়।

জাহাঙ্গীর হোসেন/রিফাত/

সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান। ছবি: খবরের কাগজ

দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত তৎপরতা ও পূর্বপ্রস্তুতির কারণেই কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবার সহযোগিতা, সচেতনতা এবং তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে আজকের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বাসডুবিতে ২৬ জনের প্রাণহানির পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা ছিল, ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে দিতে হবে। সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করায় আজকের ঘটনায় বাস নদীতে পড়ে গেলেও যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি।’

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব রফিকুল করিমের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, বাংলাদেশ কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়াসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে ফেরিতে ওঠার আগেই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর আবারও বাস ডুবির ঘটনায় এই নৌরুটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সুমন বিশ্বাস/রিফাত/

নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল
ছবি: সংগৃহীত

জনবান্ধব বাজেট না হলে জনগণ আরও বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি আয়োজিত ‘কেমন বাজেট চাই?’ শীর্ষক গোলটেবিল ও ছায়াবাজেট-এর উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

শুক্রবার (৫ জুন) সকারে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আয়োজনে অতিথিবৃন্দ আরও বলেন, নির্মম হলেও সত্য গত ৫৫ বছরের একটি বাজেটও স্বাস্থ্য-শিক্ষা-খাদ্য-ধর্ম-মানবতা বা সভ্যতাবান্ধব হয়নি কেবলমাত্র আমলাদের পাশাপাশি সর্বস্তরের রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের অসাধু কর্মকাণ্ডের কারণে। স্বাধীনতার পর থেকে ক্রমশ আমরা রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা যেভাবে প্রতারিত হয়েছি, ঠিক সমান্তরালভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি কিছু লুটেরাশ্রেণির কারণে। এরা রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-কূটনীতি-ধর্ম এবং অর্থনীতির রন্দ্রে রন্দ্রে নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির ক্ষতি করেছে সবসময়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই দেশ ও জনবিরোধী-স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। সেই ষড়যন্ত্রে কারণে আজ বন্দর, সেন্টমার্টিন এমনকি বাণিজ্য খাতটা পর্যন্ত আমেরিকাসহ দেশবিরোধী চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে; তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো। 

এতে অতিথি ছিলেন ডেইলি নিউ নেশন-এর উপদেষ্টা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ তোশারফ আলী।

সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ তরিকত-এ ইসলামের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মঈনুদ্দীন টিপু।

বক্তব্য রাখেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী মুন্নি আলম, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন বৈরাগী, হরিদাস সরকার, রাজনীতিক শহিদুল ইসলাম রতন, তৌহিদুল ইসলাম শাহীন নূরী, নতুনধারার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির জীবন, আফতাব মন্ডল, জাতীয় শ্রমিকধারার আহ্বায়ক বাবুল মিয়া, আলেয়া বেগম আলো প্রমুখ। 

সভাপতির বক্তব্যে মোমিন মেহেদী বলেন, ২২ পরিবারের হাত থেকে ২২ হাজার আমলার খপ্পড়ে পরেছে বাংলাদেশ। যেই আমলাদের গাড়ি-বাড়ি-কাড়িকাড়ি টাকা করার নেশায় আমাদের শিক্ষা ধ্বংস হয়েছে; তাদের সন্তানরা পড়ালেখা করছে উন্নত বিশ্বের দেশে; আমাদের সমাজ ধ্বংস হয়েছে, তাদের সন্তানরা বাড়ি করছে দেশের বাইরে; মাদকে সয়লাব হয়েছে বাংলাদেশ আর তারা তাদের পুরো পরিবারকে স্যাটেল করেছেন উন্নত দেশগুলোতে। তাদের পাশাপাশি কিছু অসাধু রাজনীতিকও পুরো গোষ্ঠিসহ দেশের বাইরে গিয়ে উঠেছেন দেশকে দেউলিয়া করে। আসন্ন বাজেটের আগে এই সব লুটেরা রাজনীতিক ও প্রশাসনিক সাবেক ও বর্তমান কর্তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে তাদের অবৈধ অর্থ-সম্পদ সব দেশের রাজস্বখাতে যুক্ত করাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি তা করতে না পারে সরকার; তাহলে সেই বাজেট জনগণের কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। 

এসএন/

জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: খবরের কাগজ

ফ্যাসিবাদের সময়ে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির শিকার হয়েছে। সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া ঘাটে ঘাটে, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তাঁর যে অবস্থান- সেটা বাংলাদেশকে অনেক বেশি আলোড়িত ও সমৃদ্ধ করেছে। জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এ স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরটি আজ পরিদর্শনে এসেছি। তবে পরিপূর্ণভাবে দেখতে পারিনি। এখানে অনেক রুম আমরা খালি দেখেছি। কারণ এটা রেনোভেশন হচ্ছে। সুন্দর করে রেনোভেট করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত জিনিসগুলো সংরক্ষণ করা হবে। 

তিনি বলেন, জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে ফ্যাসিবাদের সময়ে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করা হয়েছিল সম্পূর্ণভাবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি ঈর্ষা করে। এটা একটা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির ছোবল। ভবিষ্যতে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স আমরা নতুন করে করব ইনশাআল্লাহ। জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যে মহান ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, সেই ঘোষণার পর একটার পর একটা উনার পদক্ষেপ ছিল। উনি যুদ্ধ করেছেন, বীরউত্তম হয়েছেন। উনি সেনাপ্রধান হয়েছেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য একসময় বাংলাদেশের চিত্রই পাল্টে ফেলেছিলেন। যদিও ফ্যাসিবাদ এসে বারবার সেটি ভূলুণ্ঠিত করেছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিগুলো সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সবকিছু করবে। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, জেলা প্রশাসক, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।  

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মেরামত কাজ কবে শেষ হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আজ জাদুঘরটি পরিদর্শনে এসেছি। এ স্থাপনাটি এবং জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স যেটিকে পরবর্তীতে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ঘোষণা করা হয়েছিল। এগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন। আগামী প্রজন্মের আসলে এগুলো জানতে হবে। তাদের এখানে আসতে হবে, দেখতে হবে। ইতিহাস যদি না জানি তাহলে জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব না। ভূমিকম্পের কারণে এখানে কিছু ডেমেজ হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে মেরামত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেব ইনশাআল্লাহ। 

এসএন/