একটা শ্রেণি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে: ডা. মুশতাক হোসেন
অধিকাংশই খুব ভালো প্রস্তাব। এগুলো দরকার। এগুলো আমাদের বহুদিনের সমস্যা। মৌলিক বিষয়ে তারা অ্যাড্রেস করেছেন। কিছু কিছু বিষয়ে হয়তো বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া লাগবে। মূল কাঠামো ঠিক আছে। তবে যারা স্বাস্থ্য খাত থেকে বিভিন্নভাবে লাভবান হন, তাদের একটা শ্রেণি নানা অজুহাতে হয়তো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। কাজেই এই বাধাগুলো অতিক্রম করতে হলে এখনই কিছু বিষয় বাস্তবায়ন করে ফেলা দরকার। দ্রুত কিছু বিষয় বাস্তবায়ন করা না হলে, বেশি দিন হয়ে গেলে তখন এটা নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা চলে আসবে। মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। মোটের ওপর আমি মনে করি, একটা ভালো সুপারিশ হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে এটা বাস্তবায়নে যেন বিলম্ব না হয়। বাস্তবায়নের জন্য যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করে দেওয়া দরকার।
কতগুলো আইনের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্তত এখনই সেগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সরকার করে ফেলতে পারে। অতিদ্রুত একটি স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করতে হবে। সেই কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা দেওয়া উচিত। এরপর ধাপে ধাপে বাকি কাজগুলোতেও হাত দেওয়া দরকার।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
সরকারের সাহস আর সদিচ্ছা থাকতে হবে: ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ
কমিশন অনেক বিষয় নিয়ে এসেছে। যদিও কিছু বিষয় আমরা ইন্টিগ্রেট করে ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে করতে পারতাম। কিছু পয়েন্ট একটু এলোমেলো আছে। সুপারিশগুলো সরকার যখন বাস্তবায়ন করবে, তখন বাস্তবায়নের জন্য যে কমিটি থাকবে, সেই কমিটির ওপর নির্ভর করবে যে এগুলোকে কীভাবে ইন্টিগ্রেট করবে। আমি কমিশনের কাছে আশা করেছিলাম যে তারা একটা বাস্তবায়ন উপযোগী রিপোর্ট দেবে। হ্যাঁ, এই জায়গা থেকে শুরু করা যেতে পারে। আমার চিন্তা যেটা, সেটা হলো যে নির্দিষ্ট একটা পয়েন্ট ধরে কাজটা শুরু করা উচিত। কিন্তু এ বিষয়ে তেমন দিকনির্দেশনা নেই। যা আছে তা বিক্ষিপ্ত। কিন্তু একটা কন্ট্রোল সুইচ যে এখান থেকে শুরু করব, সেটা নেই। অনেক বেশি সুইচ হয়েছে। অল্প কয়েকটি সুইচে সব নিয়ন্ত্রণ করা যেত। এখন আলাদাভাবে বহু জায়গায় সুই লাগাতে হবে এবং সব সুইচ টিপতে হবে- তেমনটা হয়ে গেছে। যতগুলো সুপারিশ আছে এগুলোকে আমি ৫-১০টা সুইচে যদি নিয়ে আসতে পারতাম, তাহলে সেটা বোঝা সহজ হয়ে যেত। এখনো সুযোগ আছে এই সুইচগুলোকে কিছু কিছু সুইচের সঙ্গে কানেক্ট করে সুইচের সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়। সব সুপারিশই বাস্তবায়নযোগ্য। বাস্তবায়নের সময় হয়তো একটা আরেকটার সঙ্গে ইন্টিগ্রেট করতে হবে। বাস্তবায়নের জন্য যে কমিটি থাকবে, সেই কমিটি খুবই সতর্কভাবে বাছাই করতে হবে। সেই কমিটি স্বাধীন হতে হবে। এটা বাস্থবায়নে যা সবচেয়ে দরকার তা হচ্ছে সরকারের সাহস লাগবে আর সদিচ্ছা থাকতে হবে। সরকার এখন যেটা করতে পারে- কিছু কিছু আইনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কমিয়ে এনে তা দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে ফেলতে পারে।
অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কয়েকটি সুপারিশ বাস্তবায়নের আশা করছি: ডা. বে-নজির আহমেদ
কিছু দুর্বলতা থাকলেও আশা করব অন্তর্বর্তী সরকার বড় বড় সুপারিশগুলোর কয়েকটি বাস্তবায়ন করে ফেলবে। কারণ যখন একটা রাজনৈতিক সরকার আসবে, তখন কিন্তু তাদের একটা এজেন্ডা থাকবে। সেই এজেন্ডা ধরেই তারা এগোবে। আমাদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি সব সময় অবহেলিত। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসা অথবা তাদের নির্বাচনি এজেন্ডায় যাতে সুপারিশগুলো তারা রাখেন সেই ব্যবস্থা করা। তাহলে এগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা থাকবে। আমাদের ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট দুর্বলতা আছে। এ দুর্বলতা শুরু হয় উপজেলা থেকে, তারপর জেলা, বিভাগ, অধিদপ্তর মন্ত্রণালয় এবং পুরো জায়গায়। ব্যবস্থাপনার অভাবে দুর্নীতি থেকে শুরু করে অনেক সমস্যা তৈরি হয়। এই ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সবার জন্য বিনামূলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার যে কথা বলা হয়েছে, এখন কি বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না? টিকা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সরকার অনেক টাকা ব্যয় করছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূলে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এগুলো তো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাই। কিছু কিছু বিষয়ে মনে হয়েছে গ্যাপ আছে। ২০ শতাংশের বিনামূল্যে সেবার যে বিষয়টি সুপারিশ করা হয়েছে, এটা খুবই ভালো দিক। এটার খুবই দরকার। এ ছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিষয়ে যে সুপারিশ করা হয়েছে- এটা সুপারিশে আসার মতো বিষয়ই না। এটা হাস্যকর।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক
প্রস্তাব অনেক লম্বা, বাস্তবায়নের রূপরেখা নেই: আবু জামিল ফয়সাল
প্রথম প্রতিক্রিয়া হচ্ছে খুব ভালো। অনেক বেশি অর্থাৎ ৩২টি সুপারিশ। অনেক লম্বা হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, পরিবার পরিকল্পনার জন্য কোথাও কিছু লেখেনি, পুষ্টির জন্য ভেতরের কিছু কিছু আছে। এই দুটির প্রতি নজর কম মনে হয়েছে। তবে তারা বলেছেন যে, একটা নতুন জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর তৈরি করতে হবে। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর এটা কী এখনকার এক্সজিস্টিং ফ্যামিলি প্ল্যানিং ডাইরেক্টরি, জিডি ফ্যামিলি প্ল্যানিং, এটা কি ওইখানে চলে যাবে কি না। এখন তো ন্যাশনাল নার্সিং কাউন্সিল আছে, ডিজি আছেন। ওটাও কি জনস্বাস্থ্য সেবার মধ্যে যাবে কি না- এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা নেই। তৃতীয়ত, সবকিছু বলছে, করতে হবে। এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। কিন্তু কে করবে তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো কিছু নেই। এটা কি হেলথ সার্ভিস গঠনের পরে করবে? নাকি এখন যে কাঠামো আছে, সেগুলোর মধ্য দিয়ে করবে? ডিজি হেলথ সার্ভিস আছে। ওনারা বলেছেন ক্লিনিক্যাল সেবা অধিদপ্তর। ডিজি হেলথ কি ক্লিনিক্যাল সেবা হলো কি না? এটা বোঝা গেল না। কে বাস্তবায়ন করবে, তার কোনো রূপরেখা নেই। বাস্তবায়নের একটা বড় অংশ হলো যে জিনিসই বাস্তবায়ন হবে সেটার ফলোআপ করতে হবে, সুপারভাইজ করতে হবে, মনিটরিং করতে হবে। ওই সম্পর্কেও কিছু বলা হয়নি। মনে হচ্ছে যে হয়ে যাবে, হয়ে যাবে। আদৌ হচ্ছে কি না এটা দেখবে কে? সুপারভাইজ করবে কে- এ সম্পর্কে কিছু নেই। নতুনত্ব আছে অনেক। এগুলোকে আদৌ আমরা করতে পারব কি না, সেটা সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে কমিশনের একজন বলেছেন, সরকার বাস্তবায়ন কবরে। সরকার তো বিশাল, বড় বিষয়। সরকারের কোন অংশ করবে? নতুন যে দুটি অধিদপ্তরের কথা বলেছে, কোনটার আন্ডারে সুপারভিশন থাকবে? কোনো কিছু লেখা নেই। আমি বলব, এটা ভালো মতো পড়ে বাস্তবায়নের কৌশলগুলো এখনই বলা উচিত।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ


