ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা ১৫মিনিটে শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসেন তিনি।
ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমে মাসুদুর বলেন, ‘আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে আমার অ্যাজেন্টদের পরিকল্পিতভাবে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু অনৈতিকই নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত। শুধু তাই নয়, অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের প্রকাশ্যে বিএনপির পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। ভোটারদের স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ব্যত্যয় গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে এনেছি এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাই, তারা যেন অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ এবং ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করেন।’
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা চান তিনি।
এ আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ১২৮টি ভোটকেন্দ্র এবং ৭৫১টি ভোট কক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও সাধারণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৬৯টি।
জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
শাকিল মুরাদ/অমিয়/