ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমি গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বকাপে মরক্কোর নতুন বিস্ময় আয়ুব বুয়াদ্দি সংবাদ প্রকাশের জেরে বগুড়ার সাংবাদিক কারাগারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ব্রাজিল ম্যাচে থাকছে বিরল ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল লেখক শিবিরের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, স্বস্তির আশা ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার হিলি স্থবন্দরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম অস্ট্রেলিয়ার গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাকে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র নোয়াখালীতে মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো মা-ছেলের প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়: প্রতিমন্ত্রী টুকু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান রাজবাড়ীতে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার: পরীমনি ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগকবলিত উপকূলের সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

কান্দিস না আমার দায়

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
কান্দিস না আমার দায়
ড. লিপন মুস্তাফিজ

যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়
এমন একটা সময় ছিল যে, গলার স্বর শুনে আমরা বলে দিতে পারতাম কে খবর পড়ছেন বা কে গান গাইছেন। অর্থাৎ কণ্ঠস্বর শুনে বলে দেওয়া যেতো শিল্পীর নাম। সেটা টেলিভিশনে প্রচারিত কোনো নাটক বা সিনেমা বা রেডিওতে খবর পাঠ। এমনকি দূরের মাইকে ভেসে আসা কোনো গান। এইভাবে নাটক, সিনেমার অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের কণ্ঠস্বর আমাদের কাছে পরিচিত ছিল। সেই সঙ্গে পরিচিত ছিল বিজ্ঞাপনে যারা ভয়েস দিতেন। বেতারের ঘোষক ঘোষিকাদের কথা নাইবা বললাম। শুনে শুনে আমাদের কান দুটি চোখের কাজ করতো। এমনকি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারতাম কে কথা বলছেন। 

বাবা সরকারি চাকুরে ছিলেন, সেই কারণে দুই-তিন বছর পরপর বদলি হতেন। আর বদলি মানেই বিদায়ি অনুষ্ঠান। আর সেই অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল। সেই ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান থেকে বাবাকে একটি রেডিও দেওয়া হয়। আমার যতদূর মনে পড়ে, বাগেরহাটের হোমিওপ্যাথি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় সেটা দিয়েছিলেন। সত্তর দশকের শেষ দিকের কথা। আমরা মহকুমায় থেকেছি, ছোট শহরে সবাই কম বেশি সবাইকে চিনতেন। যখন রেডিও আমাদের বাসায় এলো, তখন থেকেই আমাদের বাসায় গানের আগমন ঘটল। মূলত বাবা খবর শুনতেন আর আমরা বিনোদনের জন্য রেডিও শুনতাম; আম্মা শুনতেন নাটক। আসলে এই গল্প আমাদের বয়েসের সবার কাছে ছিলো এক সাধারণ গল্প।

আমাদের সময় যোগাযোগব্যবস্থা এখনকার মতো ভালো ছিল না। তখন এক শহর থেকে আরেক শহরে খবরের কাগজ যেতে যেতে একদিন লেগে যেত। এত টিভি চ্যানেল, অনলাইন পত্রিকা, ইন্টারনেট ছিল না। প্রচারমাধ্যম বলতে অনেক পত্রিকা, রেডিও আর বাংলাদেশ টেলিভিশন। এমনকি সিনেমা ভিত্তিক যে পত্রিকা প্রকাশ হতো, সব বাড়িতে সেসব পত্রিকা রাখাও হতো না। টেলিভিশন সবার ক্রয়সীমার ভিতরে ছিল না। ফলে রেডিও ছিল একমাত্র সহজ যোগাযোগ ও বিনোদনের মাধ্যম। 

কেউ যদি ধুপ জ্বেলে দেয়, তাহলে এর সুবাস সারা ঘর জুড়ে মৌ মৌ করে। তিনি এই গানের মাধ্যমে আমাদের জীবনে ধুপ হয়ে এসেছিলেন সুবাস ছড়াতে। আগামী ৭ মে আমাদের অনেকেরই প্রিয় শিল্পী প্রয়াত সুবীর নন্দীর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী।

সে কথা নয়নে আগুন-আলপনা আঁকে
সুবীর নন্দী ছিলেন একজন বাংলাদেশি স্বনামধন্য জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। তার জন্ম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নন্দীপাড়া নামক মহল্লায় এক সম্ভ্রান্ত সংগীত পরিবারে। তার বাবা তেলিয়াপাড়া চা এস্টেটের চিকিৎসক ছিলেন। এই তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ছাত্রাবস্থায় অনেকবার গিয়েছি ঘুরতে, আর কানে ভেসে আসতো ‘সে কথা নয়নে আগুন-আলপনা আঁকে, সেখানে স্মৃতির পাপিয়া চোখ গেল বলে ডাকে …’। মনে হতো এই সবুজ ছায়ায় তিনি কোথাও আছেন, গুণ গুণ করে খান আতার এই গান গাইছেন। 

ছোটোবেলা থেকেই অন্য ৯ ভাইবোনের সঙ্গে ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিতেন তিনি। তবে সঙ্গীতে তার হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। খুবই চমৎকার গান করতেন তার মা, কিন্তু পেশাদার সঙ্গীতে আসেননি। বাংলাদেশের আধুনিক সংগীতের অবিস্মরণীয় এই কণ্ঠশিল্পী, আধুনিক গানের পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় প্লেব্যাকে। তার গাওয়া অনেক আধুনিক গান পরে চলচ্চিত্রে সংযোজিত হয়েছে। তার গাওয়া গান এ দেশে জনপ্রিয়তার আলাদা বলয় তৈরি করেছিল, যা এখনো চলমান। 

কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো
তিনি রেডিও, টিভি এবং মঞ্চে নিয়মিতভাবে গান করেছেন। বেশ কিছু সংগীত-ভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পাশাপাশি একটি রিয়েলিটি শো’র প্রধান বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। সুরকার হিসেবে বেশ কিছু গান বেঁধেছেন নিজের জন্য। আবার অনেকেই তার সুরে গান করেছেন। বয়সের সীমারেখা পেরিয়ে আধুনিক সংগীতের পাশাপাশি তিনি শাস্ত্রীয় সংগীত, ভজন, কীর্তন এবং পল্লীগীতিতেও যথেষ্ট পারঙ্গম ছিলেন।

১৯৮৫ সালে মারাত্মক অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘উসিলা’য় তিনি একটি গান করেছিলেন ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, সারা দেশ জুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল এটি। সে সময় বিটিভিতে ছায়াছন্দ অনুষ্ঠানে এই গান দেখানো হয়েছে অনেকবার। দর্শকদের অনুরোধ আসতো রেডিওতে প্রচার করার জন্য। এভাবেই তাকে ভালো বেসেছিলাম কত আপন করে, আমরা অনেকেই সে কথা জানি না।

হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে
একজন প্রিয় শিল্পীকে নিয়ে লিখছি, যিনি আর আমাদের মাঝে নেই। যদিও তার সঙ্গে আমি কাজ করিনি। তার গান সরাসরি দেখেছি, কিছু অনুষ্ঠানে টিকিট কিনে আবার কখনো বিনা টিকিটে। আমাদের দেখা হলেও আলাপ হয়নি, কোনোদিন কোথাও কথাও হয়নি। আমাদের কোনো সম্পর্কও নেই এই কথাটা অবশ্য বলা যায় না। আমাদের একটা সুসম্পর্ক আছে, সেটা যদিও একতরফা। সম্পর্কটা হলো আমি তার গানের ভক্ত। 

আমরা তার গানের ভক্ত এবং শ্রোতা। পেশাগতভাবে তিনি ব্যাংকে সুদীর্ঘ সময় চাকরি করেছেন। সেদিক থেকে অবশ্য আমার সঙ্গে তার মিল আছে। উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার, আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, এক যে ছিল সোনার কন্যা, দিন যায় কথা থাকে প্রভৃতি।

তিনি তার গানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৯ সালের  ৭ মে হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি পা রাখেন অন্তিম যাত্রায়। যার উত্তর আমাদের কারও কাছেই নেই। 

ভালোবাসা কখনো মরে না
১৯৭২ সালে তিনি ঢাকায় রেডিওতে লাইভ অনুষ্ঠানে গান করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে রেডিওতে এবং ১৯৭৪ সালে তিনি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে গান গাওয়া শুরু করেন।

আধুনিক ও চলচ্চিত্রের মোট গানের সংখ্যা আনুমানিক আড়াই হাজারের মতো হবে বা তারও কিছু বেশি। প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান আলমগীর কবির পরিচালিত ‘মহানায়ক’ ছবিতে গান গেয়ে। এরপর তিনি ‘শুভদা’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘মেঘের পর মেঘ’ ও ‘মহুয়া সুন্দরী’ ছবির সুবাদে এ সম্মাননা অর্জন করেন।

দুঃখের পর সুখ, প্রেম বলে কিছু নেই, ভালোবাসা কখনো মরে না, সুরের ভুবনে, গানের সুরে আমায় পাবে শীর্ষক অ্যালবাম আছে তার। 

একটা সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বাঘা বাঘা নায়কেরা তার গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন। ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’ এই গানের মতো তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা যেন না মরে যায়। তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তার কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। 

আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই
তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গান এর শিরোনাম লিখে শেষ করা যাবে না। কোনটা ভালো আর কোনটা ভালো না সেই বিচার করা খুব মুশকিল। তবে তার অনেক গান টিকে যাবে। অনাদিকাল ধরে মানুষ শুনবে সেই সব গান। তার বিখ্যাত কিছু গানের মধ্যে রয়েছে- আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়, নেশার লাটিম ঝিম ধরেছে, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার, আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, দিন যায় কথা থাকে, মাস্টারসাব, আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই, বন্ধু তোর বারাত নিয়ে আমি যাব, হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে, তুমি এমনই জাল পেতেছ সংসারে, পাহাড়ের কান্না দেখে, পাখিরে তুই, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার, কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, ও আমার উড়াল পংখিরে, মরিলে কান্দিস না আমার দায়, একটা ছিল সোনার কন্যা, কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়, তোমারি পরশে জীবন আমার ইত্যাদি। 

৫০ বছর ধরে তিনি নিজস্ব একটি ধারা তৈরি করে, শুদ্ধ সংগীত চর্চা করে আমাদের আনন্দ দিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন। আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই এই গানটির কথার মতো মনে হয় এত সহজ কী করে গান গাওয়া যায়? ইস যদি শিখতে পারতাম আমরা! আফসোস থেকেই যায় অনেকের। 

আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়
ইদানিং মৃত্যুর খবর শুনে আমার চিন্তার রেখা আরও লম্বা হয়। ভাবতে থাকি, এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ করব। প্রতি বছর আমরা আমাদের সংস্কৃতির অনেক গুণীজনকে হারিয়েছি। আরও কিছু গুণী বর্তমানে অসুস্থ। তাদের সর্ম্পকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কিভাবে জানবে? এ ধরনের গুণীজনদের আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে দরকার গবেষণা, পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা, শিল্পের প্রতি অগাধ ভালোবাসা- যাতে করে একটি বইয়ে বা এমন কোনো স্থান যেখানে প্রতিটি শিল্পীর রেখে যাওয়া শিল্পকর্ম নিয়ে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদেরকে সম্মৃদ্ধ করতে পারে। 

আমাদের দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও নতুনভাবে- এভাবে চলে যাওয়া শিল্পীদের নিয়ে আরও কাজের সুযোগ রয়েছে বলে ধারণা করায় যায়। গুণী শিল্পী সুবীর নন্দীর গানের কথার মত আমি গবেষণায় নাম দস্তখত শিখতে চাই, যাতে আমাদের সংস্কৃতি দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হয়। এই শিল্পীর মতো শিল্পীরা যুগে যুগে আসে। 

একবার এক সাক্ষাৎকারে মান্না দে বলেছিলেন, আরেকটা মান্না দে-র জন্ম দিতে ভারতকে ৭০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের ছোট দেশ কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। আমরা চাই তার মতো আরও শিল্পীর জন্ম হোক। আমরা পারি না কিছু সুযোগ তৈরি করতে? একথা যখন চিন্তা করি, তখন নেশার লাটিমের মতন আমি ঝিম ধরে বসে থাকি কিয়ৎক্ষণ। আমার চোখ দুটি তো আর পাথর নয় যে সে ভিজবে না। তাইতো ভিজে যায় বারেবার। স্মরণ করছি শ্রদ্ধাভরে তাকে।

মরিলে কান্দিস না আমার দায়
সম্প্রতি আমাদের দেশের এক বরেণ্য অভিনেতা, পরিচালকের ৬০ তম জন্মদিন উদযাপন হলো। আয়োজনটি নিয়ে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা এটাই প্রত্যাশা করব যে, শুধু ব্যক্তি নয়, ব্যক্তির জন্মদিন নয়, আমরা চেষ্টা করব তাঁদের কাজগুলোকে এ রকম একটি আলোচনার টেবিলে হাজির করা, যাতে আমরা কনটেন্টটা দেখতে পাই। শুধু ফর্ম না, কনটেন্টও দেখতে পাই।’ 

আমরা আমাদের দেশের শিল্প, সাহিত্য নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের পাশাপাশি পেশাগতভাবে যারা সমাজের জন্য দেশের জন্য কাজ করেছেন তাদের পিছে না লেগে, কীভাবে তাদের সম্মানিত করব, সেই চিন্তা করি। ফলে ধীরে ধীরে একটা সুস্থ জাতির জন্ম হবে। 

এই দায় আমাদের, আমাদের সন্তান বড় হবে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা অবদান রাখবে, সমাজের প্রতিটি কাজে তারা এগিয়ে আসবে। শুধু যারা মারা যাবে তার জন্য দায় থেকে আমরা কান্নাকাটি না করে বরং তাদের জীবন চরিত্র নিয়ে আলোচনা করব, তাদের কাজ নিয়ে আলোচনা করব এই হোক আমাদের প্রত্যাশা। 

রাষ্ট্রের ওপরে ছেড়ে না দিয়ে হোক না উদ্যোগ ব্যক্তি পর্যায়ে। আরও বেশি বেশি করে পত্রিকায় লেখা হোক, বের হোক ক্রোড়পত্র, টিভি চ্যানেলে হোক নানা ধরনের অনুষ্ঠান। এর ফলে আমাদের যারা ছেড়ে চলে গেছেন, তারা যেন আমাদের মেকি কান্না দেখে না বলেন ‘কান্দিস না আমার দায়’। 

আমাদের শিল্প ও শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখার দায় আমার আপনার সকলের।

অমিয়/

আত্মপরিচয়ের খোঁজে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
আত্মপরিচয়ের খোঁজে বিপন্ন ব্রহ্মপুত্র
অলংকরণ: মেহেদী হাসান

তিব্বতের মানস সরোবর থেকে হিমালয় হয়ে বাংলাদেশে আসা ব্রহ্মপুত্র নদের ইতিহাস এক বিশাল বাঁকবদলের গল্প। ১৭৮৭ সালের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে গতিপথ বদলে মূল স্রোত ‘যমুনা’ হয়ে গেলেও ময়মনসিংহের বুক চিরে থাকা অংশটি ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র’ নামে আপন পরিচয় ধরে রেখেছে। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও মানুষের লাগামহীন নিষ্ঠুরতায় সেই প্রমত্তা নদ আজ এক মরণোন্মুখ বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

নদীর এই করুণ দশার পেছনে জলবায়ুর চরম খামখেয়ালিপনা এবং মানবসৃষ্ট দূষণ সমানভাবে দায়ী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইডব্লিউএফএম (IWFM)-এর সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এক আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। তাদের জলবায়ু মডেলের হাইড্রোলজিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে এই নদের পানির প্রবাহ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে। ২০৩০ থেকে ২০৫৯ সাল পর্যন্ত হিমবাহ গলার কারণে সাময়িক পানি বাড়লেও, ২০৭০ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে এই অববাহিকায় তীব্র খরা ও ভয়াবহ পানিসংকট দেখা দেবে। 

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় দেখা যায়, অসময়ে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির কারণে উজান থেকে আসা পলি মাটির স্তরকে ধসিয়ে দিচ্ছে এবং নদীর তলদেশ ভরাট করছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্লাস্টিক ও পলিথিনদূষণ। নদের তলদেশে জমা হওয়া প্লাস্টিকের এই দুর্ভেদ্য স্তরটি মাটির ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জ বা পুনর্ভরণের প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদটি শুকিয়ে ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়, যা স্থানীয় মৎস্যজীবী, মাঝি ও কৃষকদের জীবন-জীবিকাকে চরম সংকটে ফেলছে। আবার বর্ষায় জলবায়ুর চরমভাবাপন্নতায় পানি উপচে দুই পাশের জনপদ ও ফসলি জমি গ্রাস করছে। 

ময়মনসিংহ শহরের গৃহস্থালি বর্জ্য, নর্দমার বিষাক্ত কালো পানি এবং পাড়ে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপরিশোধিত কেমিক্যাল সরাসরি নদে পড়ার কারণে এর বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) আজ ধ্বংসের মুখে, ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য।

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্থানীয় তরুণ সমাজ ও পরিবেশবাদীরা এখন নিয়মিত ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ ও সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। গবেষকদের মতে, ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ড্রেজিং বা খনন করা, শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ETP) বাধ্যতামূলক করা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও নদী দখল বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কমিউনিটি উদ্যোগের বিকল্প নেই। ব্রহ্মপুত্র শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মূল ধমনী; একে বাঁচানোই এখন আমাদের প্রধান জাতীয় দায়িত্ব।

লেখক: ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
[email protected]

মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার আলমবিদিতর গ্রামের আয়েশা বেগম (২৭) নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। একদিন হঠাৎ তার পেটব্যথা শুরু হয়। আয়েশা ভাবেন, তার প্রসববেদনা উঠেছে। তিনি বাড়িতে থাকেন এবং স্থানীয় দাই ডেকে কাঙ্ক্ষিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর তার যখন প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ শুরু হয় তখন তিনি বুঝতে পারেন না কি করবেন। তখন পরিবার ও দাই কেউই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এবং তাকে তারা হাসপাতালে নেননি। শেষ পর্যন্ত অবস্থা অনেক খারাপ হলে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তখন আয়েশা অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং সে মারা যায়।

সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ‘রক্তক্ষরণের সাথে সাথে আয়শাকে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। কেননা এ ধরনের সমস্যায় কী করতে হবে তা চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া রয়েছে। তারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের নানা জটিলতায় প্রসবকালীন সময় এবং এর পরবর্তীতে অনেক নারী মারা যাচ্ছে। সাধারণ কিছু বিষয়ে সচেতনতা থাকলে মায়েরা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা দেওয়ান বলেন, ‘মূলত দুটি কারণে মায়েরা মারা যান। প্রসবকালীন বা প্রসব পরবর্তী সময়ে সাধারণত খিঁচুনি এবং রক্তক্ষরণে বেশি মা মারা যায়। খিঁচুনি অনেক সময় ডেলিভারির আগে হতে পারে এবং পরেও হতে পারে। এজন্য গর্ভকালীন চেকআপ জরুরি। চেকআপের মাধ্যমে জানা যায় তার এ ধরনের সমস্যা হতে পারে কিনা এবং সেভাবে তাকে ওষুধ দেওয়া হয় কিংবা নিয়মকানুন জানিয়ে দেওয়া হয়। খিঁচুনির সম্ভাবনা যার থাকে অবশ্যই তার ডেলিভারি হাসপাতালে করানো প্রয়োজন। কেননা তার মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রক্তক্ষরণ গর্ভকালীন সময়ে হতে পারে বা প্রসবকালীন সময় বা তার পরেও হতে পারে। এজন্য বাড়িতে প্রসবের চেষ্টা না করে হাসপাতালে যেতে হবে। কেননা হাসপাতালে যখন চিকিৎসকরা ডেলিভারি করান তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমরা ডেলিভারির আগে একটা ইনজেকশন দেই যাতে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু বাড়িতে দক্ষ বা অদক্ষ দাই তা জানে না।’ তবে পরিস্থিতি যাই হোক মায়ের খিঁচুনি বা রক্তক্ষরণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই তাকে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে বাঁচানো সম্ভব বলে তিনি জানান।

ইউনিসেফের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার ২শ’ নারীর মৃত্যু হয় গর্ভকালীন, প্রসবকালীন এবং সন্তান জন্মের পর সৃষ্ট জটিলতায়। অধিকাংশ মায়েরই মৃত্যু ঘটে কোনো চিকিৎসক বা দক্ষ ধাত্রী ছাড়া বাড়িতে সন্তান প্রসবের সময়। এছাড়া গর্ভধারণকালে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে গিয়ে মাতৃত্বকালীন সেবা না নেওয়ার কারণেও অনেক মায়ের মৃত্যু হয়।

ইউনিসেফের কৈশোর ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু সাদত মো. সায়েম বলেন, ‘হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে একজন গর্ভবতী মা বা প্রসবকালীন মায়ের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও গ্রামাঞ্চলের অনেক নারী সেখানে যায় না বলে মার্তৃমৃত্যুর হার কমানো কষ্টসাধ্য থাকছে।’

সরকার এ বিষয়ে সচেতন এবং নানাভাবে কাজ করছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আজিজুল আলীম। তিনি বলেন, ‘মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সরকার স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সরকারের এ ধরনের সেবা রয়েছে। এজন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং বাড়িতে ডেলিভারি না করে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। কেননা সেখানে সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কয়েকটি সহযোগী পার্টনারের সাথেও কাজ করছি। তারা আমাদের কর্মীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয় এবং গবেষণার কাজগুলো করে। যেমন, কোনো মা প্রসবকালীন সময়ে মারা গেলে কেন তিনি মারা গেলেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জেনে তারা রিপোর্ট তৈরি করেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা নানা পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। কাজেই সরকার মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক এবং বাস্তবসম্মতভাবে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। এছাড়াও সরকার দরিদ্র ও দুস্থ মায়েরা যাতে গর্ভকালীন সময়ে ঠিকভাবে খেতে পারেন বা সেবা নিতে পারেন এজন্য ৫৬টি জেলায় প্রসবকালীন ভাতা দিচ্ছে।’

মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে শিশু জন্মের কয়েক মাস পর্যন্ত একজন মাকে নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে সংশ্লিষ্টরা এমন পরামর্শ দিয়েছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন: কলাম লেখক।

ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ
‎রিয়াজুল হক, লেখক

ছোটবেলায় কারক বিভক্তিতে পড়তাম, তাস খেলে কত ছেলে পড়া নষ্ট করে। একটা সময় ছিল, যখন 'জুয়া' শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠত লুডু-ক্যারাম কিংবা তাসের খেলায় পাড়ার ছেলেদের আড্ডা। তখন জুয়া ছিল নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং সমাজেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। কিন্তু প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগে এসে জুয়া পেয়েছে ভার্চুয়াল রূপ। এখন মোবাইল ফোনেই বাজি ধরা যায়, কয়েক ক্লিকেই হারিয়ে যায় হাজার হাজার টাকা, আর চোখের পলকেই কেউ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এই ভার্চুয়াল বা অনলাইন জুয়াই এখন বাংলাদেশে নতুন সামাজিক ব্যাধির চেহারা নিচ্ছে।

‎‎অনলাইন জুয়া বলতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বেটিং বা বাজির মাধ্যমে টাকা হারা কিংবা জেতাকে বুঝায়, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। অথচ বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া একটি নীরব মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে মধ্যবয়সি, চাকরিজীবী, প্রবাস ফেরত—অনেকেই এই জুয়ার কবলে পড়ে আজ সর্বস্বান্ত। কেউ পরিবার হারিয়েছেন, কেউ জেল খেটেছেন, আবার কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নিয়েছেন।

‎‎তথ্যমতে, দেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটগুলোতে ভিপিএন ব্যবহার করে সহজেই প্রবেশ করা যায়। আবার ব্যক্তিগতভাবে তৈরি কিছু মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশীয় তরুণদেরও এই জুয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে। অনেক সময় কোনো পরিচিত বন্ধু বা অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার প্রলুব্ধ করে এই ফাঁদে ফেলছেন।

‎‎প্রথমে ছোট একটি বাজি, সামান্য একশ বা দুইশ টাকার খেলা। এরপর একবার যদি বড় অঙ্কের টাকা জেতার স্বাদ মেলে, তখন সেটিই হয়ে ওঠে নেশা। এক পর্যায়ে মানুষ এটিকে আর খেলা মনে করে না, মনে করে আয়ের উপায়। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা যায়, লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয় বেশি। মজার বিষয় হলো, জুয়াড়িরা প্রায় সব সময় মনে করে, :একবার জিতলেই উঠে আসব', কিন্তু সেটি আর হয় না। এভাবেই চলতে থাকে অন্ধকারে নিমজ্জনের এক অন্তহীন যাত্রা।

‎‎অনলাইন জুয়ার আসক্তির সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর। অধিকাংশই পরিবারের কাছে লুকিয়ে খেলে থাকেন। দিনের পর দিন নিজের, পরিবারের সঞ্চয় শেষ করে দেন। দেখা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী টিউশনির টাকা কিংবা পরিবারের দেয়া পকেটমানি এই জুয়ায় ঢেলে দিচ্ছেন। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এর মানসিক দিকটাও ভয়াবহ। জুয়া খেলতে খেলতে যারা সব হারান, তাদের মধ্যে হতাশা, আত্মগ্লানি কিংবা আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা যায়। অনেকে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, প্রতারণা কিংবা মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আমরা যদি একটু গভীরভাবে দেখি, তাহলে দেখব যে, অনলাইন জুয়া এখন শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। 

‎‎এই সমস্যা নিরসনে অনলাইন জুয়াকে একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। সমাজের প্রতিটি স্তরে এ নিয়ে আলোচনা জরুরি। গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া এই ব্যাধি রোধ করা সম্ভব নয়।

‎‎সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২০ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি ও প্রচারণা চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য। এছাড়া, ২১ ও ২২ ধারায় জুয়া সংক্রান্ত লেনদেন, প্রতারণা বা জালিয়াতিকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ।

‎‎অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এই বিষয়ে রিপোর্ট, আলোচনা, টক শো এবং ডকুমেন্টারি প্রচার করা উচিত। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম চালু করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন নিরাপত্তা ও আসক্তির ক্ষতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি।

‎‎এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে কাউন্সেলিং বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এখন আসক্তদের সেবা দেওয়া হয়, কিন্তু অনলাইন জুয়ার জন্য আলাদা কোনো নিরাময় সেবা নেই। এই বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা অনলাইন আসক্তি বুঝে এর যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারেন।

‎‎মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা ছাড়া অনলাইন জুয়ার সাইটগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সাইটগুলো চিহ্নিত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যেতে পারে।

‎‎মনে রাখা দরকার, অনলাইন জুয়া নামক সমস্যা কোনো ব্যক্তির একার নয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। অনলাইন জুয়া শুধু একজনের জীবন ধ্বংস করছে না, পুরো একটি প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যদি এখনই আমরা সজাগ না হই, সচেতন না হই, তাহলে এক সময় এই ডিজিটাল ব্যাধি আমাদের সামাজিক ভিত্তিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে উন্নয়নের জন্য, ধ্বংসের জন্য নয়। মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটকে শত্রু নয়, বরং বন্ধু হিসেবে ব্যবহার করা শিখতে হবে। আর সেই শিক্ষাটা পরিবার, স্কুল, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দিতে হবে। আমরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করি, তাহলেই এই অনলাইন জুয়া নামক সামাজিক ব্যাধিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। নইলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ভয়ংকর মূল্য দিতে হবে।

‎রিয়াজুল হক: অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি
জার্মানির ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

ছোট্ট দেশ কুরাসাওকে ৭-১ গোলে পর্যুদস্ত করার পর জার্মানি ফুটবল দল নবীন প্রজন্মের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আসবেই তো। নবীনেরা ভালো খেলা আর গোলের বন্যা দেখতেই ভালোবাসে যে!

২০১৪-এ ফুটবল বিশ্বকাপ জয় করে জার্মানি। এর পর দুটো বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে তারা মোটোই ভালো করেনি। ফলে গত বারো বছর বিশ্বব্যাপী তেমন আলোচনাতেই ছিল না দলটি। ২০১৪ থেকে ২০২৬— এই একযুগে যে নবীন প্রজন্ম উঠে এসেছে, তাদের কাছে জার্মানি প্রায় অচেনাই। এই অচেনার আর একটি কারণ হলো, জার্মানি কথিত ‘স্টার’ নির্ভর দল নয়, ‘টোটাল টিম’ নির্ভর। ‘স্টার’ খেলোয়াড় দেখে লোকে যে দল চিনবে, এটাও হয়নি। জার্মানি ‘স্টার’ নির্ভর দল না হওয়ায় কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ছয়জনে সাত গোল দিয়েছে। অর্থাৎ যে-কেউ গোল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে এই দলে। তারপরও দল এপর্যন্ত ফ্রানৎস বেকেনবাওয়ার, গের্ড মুলার, লোথার ম্যাথিউস, মিরোস্লাভ ক্লোসের মতো বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড় গড়ে তুলেছে। কিন্তু বাজারমুখী প্রচারের আলোয় তাঁরা পেলে, দিয়াগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান, ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো, লিওনেল মেসি প্রমুখের কাছাকাছি আসতে পারেননি।

আমি জার্মানি ফুটবল দলের সমর্থক। ছোটো থেকেই। বুঝতে যখন শিখেছি, তখনই। এর দুটো কারণ। প্রথমত দলের ‘টিম স্পিরিট’; দ্বিতীয়ত বিশ্বসভ্যতায় জার্মানদের অবদান। আমার পছন্দের দ্বিতীয় কারণটি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফ্রান্স, গ্রিস, ইংল্যান্ড ইত্যাদির কথাও বলতে পারেন। কিন্তু আমি যখন জার্মানিকে সমর্থন করি, তখন কার্ল মার্কস, আলবার্ট আইনস্টাইন, জোহানেস গুটেনবার্গ, ইমানুয়েল কান্ট, ফন গ্যেটে, ভান বেটোফেন প্রমুখের কথাই মনে এসেছিল। অন্যদের মতো তাঁরাও আমার স্বপ্নজগতের নায়ক ছিলেন। বিশ্বসভ্যতাকে কতটা এগিয়ে দিয়েছিলেন এই মহাত্মাগণ, অনুসন্ধানীমাত্রেই জানেন।

সে যাহোক; প্রথম কারণটিই ফুটবল দলের মূলশক্তি: টোটাল টিম স্পিরিটে পাওয়ার ফুটবল খেলা। জার্মানি দল সেটাই করে আর এখন আমি এটাই উপভোগ করছি।

১৯৮২ সালে আমাদের বাড়িতে টেলিভিশন ছিল না। বাড়ির পাশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে গিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখেছি, সাদাকালো সেট। বড়োরা চেয়ারে বসে, আমরা ছোটোরা দাঁড়িয়ে। জায়গা নেই। তবু খেলা দেখব! আমার পক্ষপাত সমাজতান্ত্রিক পূর্বজার্মানির প্রতি। কিন্তু বিশ্বকাপে তাদের দল নেই। আমি যখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখি, তখন পশ্চিম জার্মানির খেলা আমার ভালো লেগে যায়। দারুণ খেলেও সেবার পশ্চিম জার্মানি ইতালির কাছে ৩-১ গোলে বিশ্বকাপ ট্রফি হারায়। আসলে ইতালির পাওলো রসি নামের এক স্টাইকারের দক্ষতার কাছে হার মানে জার্মানি। রসি গোল্ডেনবুট পেয়েছিলেন। এই হার আমাকে কষ্ট দিয়েছিল। তবু পশ্চিম জার্মানির খেলা আমার মন কাড়ে।

আমাদের বাড়ির কেউ ফুটবলের সমর্থক ছিল না। খেলাধুলোর চেয়ে শিক্ষাসংস্কৃতির দিকেই ঝোঁক দেখেছি বাবার। তাই খেলাধুলোয় পরিবারের কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি, এটা বলা যাবে না। নিজের কাছে যা ভালো মনে হয়েছে, সেটাই। আমাদের ছেলেবেলায় ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলই ছিল জনপ্রিয়। আমি নিজেও বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলেছি অনেক, ক্রিকেট খেলিনি। তাই ফুটবল ভালোবেসেছি গভীরভাবে। আমি আবাহনীর কী যে ভক্ত, তার প্রমাণ আছে এখনো। সালাউদ্দিন, আশিস, আসলাম, চুন্নু, এমিলিদের ভিউকার্ডগুলো দেখালেই বোঝা যাবে!

ছেলেবেলায় খেলার সময় আমাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ থাকত বন্ধুদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বন্ধুরা শরীরের গড়ন অনুসারে তিনটি ফুটবল দল করে: মোটা, চিকন, মাঝারি। তাদের মধ্যে ফুটবল খেলা হয়েছিল। সেই খেলায় মাঝারি দলের হয়ে গোল করেছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে ফুটবল ‘সঙ্ঘ খেলা’; ক্রিকেট ততটা নয়। ক্রিকেটে একজনই দলকে জিতিয়ে দিতে পারে, ফুটবলে তা খুব কঠিন, অনেক সময় অসম্ভবও। জার্মানি সঙ্ঘবদ্ধভাবে ফুটবল খেলে। ১৯৮২-এর পর, ১৯৮৬-এর বিশ্বকাপ। তখন ২০ বা ২৪ ইঞ্চি ন্যাশনাল আর ফিলিপ্স কোম্পানির সাদাকালো টেলিভিশন মধ্যবিত্তের ঘরে প্রচুর এসে গেছে, আমাদেরও। সে কারণে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ এর আগের যে কোনো বারের চেয়ে বেশি সংখ্যক বাঙালিরা দেখে। সে বারের খেলাতেও ভালো খেলল পশ্চিম জার্মানি। কিন্তু তারা ফাইনালে ম্যারাডোনার কৌশলের কাছে ৩—২ গোলে হেরে যায়। ম্যারাডোনা ঈশ্বরকে কৃতিত্ব দিলেন আর আমি পর পর দুবার ফাইনালে ওঠা জার্মানির ‘পরম ভক্ত’ হয়ে গেলাম। সবাই তখন ম্যারাডোনা আর আর্জেন্টিনা বলে চিৎকার করে; আমি জার্মানির জন্য কষ্ট পাই। দেখলাম, বন্ধুরা দলে দলে আর্জেন্টিনা হয়ে গেল। অনেকে ব্রাজিলের খেলারও হলো ভক্ত। আমি গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসালাম না।

এরপর চলে এল ১৯৯০-এর বিশ্বকাপ। তখন পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একত্রিত হবে বলে ঘোষণা এসেছে। বিশ্বরাজনীতিতে এসেছে পরিবর্তনও। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হবার পালা। মনে আছে, ফাইনালের সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, কোনো কারণে বাড়িতে অর্থাৎ শেরপুরে। শেরপুরের নিউ মার্কেট এলাকা তখন বেশ পরিচ্ছন্ন চত্বর। চত্বরের প্রেসক্লাব এলাকায় আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকরা আর আমরা পশ্চিম জার্মানির সমর্থকরা মিনতি স্টুডিও এলাকায় আলাদা করে কিন্তু উৎসবমুখরতায় খেলা উপভোগ করেছি; কোনো বিরোধ বা বিদ্বেষ ছিল না। মাইক বাঁধা হয়েছিল। মাইকে কথা বলার অভ্যাস অনেক আগে থেকেই। সেবার মাইক আমার হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছিল। খেলার আগে ও পরে মাইকে আমি কথা বলেছি দল সম্পর্কে। সে খেলাতে পশ্চিম জার্মানি আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যারাডোনা সেবারও খেলেছেন, তবে ঈশ্বরের হাত তার পক্ষে ছিল না। পশ্চিম জার্মানির আন্দ্রেস ব্রেহ্মে গোল করেন। আমরা সমর্থকরা খেলোয়াড়ের চেয়ে দলকেই পছন্দ করি, মনে রাখি।
 
এর পর পূর্ব ও পশ্চিম এক হওয়ার কারণে দলটি জার্মানি বলে পরিচিত হয়। দুটি ভিন্ন মতের দেশ এক দেশে পরিণত হতে সময় নেয়। খেলাতেও এর প্রভাব পড়ে। তাই  ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে জার্মানি যথাক্রমে ৫ম ও ৭ম হয়। কিন্তু এর পরেই ঘুরে দাঁড়ায় দেশটি। ফুটবলের জন্য পরিকল্পনা করে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে জার্মানি আবার রানার্সআপ হয়। ২০০৬ আর ২০১০ সালেও সেমিফাইনালে ওঠে এবং দুবারই ৩য় হয়। ২০১৪ সালে হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এরপর  ২০১৮-এর বিশ্বকাপে জার্মানি খুব খারাপ করে। বলা হয়, দল থেকে একঝাঁক খেলোয়াড় অবসরে যাওয়ায় এমনটি হয়। ২০২২ সালেও স্পেনের সঙ্গে গোল-ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় জার্মানি গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে পারে না। এবার, ২০২৬ সালে শুরুটাই করেছে ৭ গোল দিয়ে। দেখা যাক।

বিশ্বকাপ ফুটবলে কৃতিত্বের ধারাবাহিকতায়  জার্মানি দল এগিয়ে। নানা কারণে তারা দুটো বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। বাকি বিশ্বকাপে চারবার চ্যাম্পিয়ন, চারবার রানার্সআপ, চারবার ৩য়, একবার ৪র্থ হয়েছে। এই তেরোবার পজেশনে থাকা আর কোনো দল কি বিশ্বে আছে? ব্রাজিলের কথাই ধরি: তারা সবগুলো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন, দুবার রানার্সআপ, দুবার ৩য়, দুবার ৪র্থ হয়েছে। আর্জেন্টিনার রেকর্ড হলো:  তারা তিনবার চ্যাম্পিয়ন, তিনবার রানার্সআপ, একবারও ৩য় বা ৪র্থ হয়নি। ইতালি চারবার চ্যাম্পিয়ন, দুবার রানার্সআপ, একবার ৩য়, একবার ৪র্থ হয়েছে। ফ্রান্স দুবার চ্যাম্পিয়ন, দুবার রানার্সআপ, দুবার ৩য়, একবার ৪র্থ হয়েছে। 

আমি সব দিক থেকেই দেখেছি, জার্মানি ভালো খেলে, তারা ‘ওয়ান ম্যান শো’ দল নয়, ‘পাওয়ার ফুটবল’ তাদের অন্বিষ্ট, তারা টিমকে গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিকে নয়। আর সম্প্রতি তারা ‘পাওয়ার ফুটবল’-এর সঙ্গে ল্যাটিনের পাসজাদুকে যুক্ত করেছে; যার ফলও ফলতে শুরু করেছে। ২০১৪-তে তারা সাবেক চারটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিষয়টি অবজ্ঞা করার মতো নয়।
 
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির একটি খেলা দেখে মনে হলো, আবার দলটি আলোচনায় আসবে। দলের অধিনায়ক ও অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় জোশুয়া কিমিখের ক্ষিপ্রতা ও মাঠের ডানপ্রান্ত থেকে তিরবেগে এগিয়ে আসার ক্ষমতা অসাধারণ। তাকে দলের ‘নিউক্লিয়াস’ বলা হচ্ছে। জাদুকরি ড্রিবলিঙের স্রষ্টা জামাল মুসিয়ালা, গোলমেকার ও স্যুটারখ্যাত ফ্লোরিয়ান ভার্টজ, নিখুঁত হেডের কারিগর ও ‘ক্লোসা দ্য নিউবার্থ’খ্যাত কাই হাভার্টজ, ‘বার্লিন ওয়াল নিউ’খ্যাত ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার যদি ঠিকঠাক জ্বলে ওঠেন, তাহলে খেলা জার্মানির দিকে ঘুরে যাবে নিশ্চিত। অবশ্য, গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের দায়িত্ব একটু বেশিই। জার্মানি দল গোল খেতেও ভালোবাসে। যেমন, ব্রাজিল ও কুরাসাও-দুবারই হলো ৭-১। ঐ একটি করে গোল জার্মানির ‘গোলটেস্টে’র উদাহরণ। এর আগে তুরস্ককে ৭-২, অস্ট্রিয়াকে ৬-১ গোলে হারানোর ইতিহাসও আছে। নয়ার বা ব্যাক-আপ গোলরক্ষক ওলিভার বাউম্যানের দায়িত্ব এখানে অনেক বেশি: ‘গোলটেস্ট’ করা যাবে না। আইভরি কোস্ট ফুটবল দল কম শক্ত নয়। জার্মানি ফুটবল দলের সমর্থকেরা অপেক্ষায় আছি, আবার জ্বলে উঠবে আমাদের প্রিয় দল। এভাবে যদি তারা ফাইনাল পৌঁছে যায়, তাহলে তো: ‘ওয়াও!’

লেখক: অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; [email protected] 

ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ
অলংকরণ: মেহেদী হাসান

বাংলাদেশে গত এক দশকে তথ্যপ্রযুক্তির যে অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটেছে, তা আমাদের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে। পকেটে থাকা একটি স্মার্টফোন আজ কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং তা শিক্ষা, অর্থনীতি, বিনোদন এবং আত্মপ্রকাশের এক অবারিত দিগন্ত। এই ডিজিটাল রূপান্তর বাংলাদেশের নারীদের জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছিল। ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্সের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতপ্রকাশের সুযোগ নারীদের ক্ষমতায়নের পথকে প্রশস্ত করেছে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটি অত্যন্ত অন্ধকার ও কণ্টকাকীর্ণ। যে ইন্টারনেট নারীর মুক্তির পথ হওয়ার কথা ছিল, সেটিই আজ অনেক ক্ষেত্রে তাদের জন্য এক নতুন বন্দিশালা বা আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

অনলাইন হয়রানি মূলত ক্ষমতার এক নতুন ও বিকৃত রূপ। প্রথাগত সমাজে নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিদ্যমান ছিল, ডিজিটাল যুগে তারই আধুনিক সংস্করণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। ইন্টারনেটের এই বিশাল প্রান্তরে যখন একজন নারী সরব হন, তখন তা অনেক সময় সমাজের একটি নির্দিষ্ট রক্ষণশীল গোষ্ঠীর কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য সাহস’ হিসেবে গণ্য হয়। প্রযুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই গোষ্ঠী নারীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালায়। এই হয়রানির রূপ বিচিত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি পোস্ট করলে সেখানে অশ্লীল মন্তব্য করা, ইনবক্সে অশালীন প্রস্তাব পাঠানো কিংবা নারীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ চর্চা করা এখনকার ডিজিটাল সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া পরিচয় বা ফেক আইডি ব্যবহার করে ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হয়।

আমাদের সমাজে নারীর ‘সম্মান’ ও ‘নৈতিকতা’ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় এবং এই সম্মান প্রায়ই তার ব্যক্তিগত আচরণের চেয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বেশি নির্ভর করে। অনলাইন আক্রমণকারীরা এই সামাজিক দুর্বলতাকেই তাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয়। তারা খুব ভালো করেই জানে যে, একজন নারীর চরিত্র নিয়ে কোনো গুজব ছড়াতে পারলে বা তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের কোনো বিকৃত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে পারলে তাকে সহজেই কাবু করা সম্ভব। এই ‘সম্মান নষ্ট’ হওয়ার ভয় নারীর জন্য অফলাইন জীবনের চেয়েও অনেক সময় অনলাইনে বেশি ভীতিপ্রদ হয়ে ওঠে। কারণ ভার্চুয়াল জগতের এই কলঙ্ক নিমেষেই দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা নারীর পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং কর্মক্ষেত্রে তার অবস্থানকে চরম সংকটে ফেলে দেয়।

অনলাইন সহিংসতার এই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। সাইবার বুলিং বা হয়রানির শিকার নারীরা তীব্র উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং হতাশায় নিমজ্জিত হন। অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে আসা ঘৃণ্য মন্তব্য বা হুমকি একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তাদের কাছে অনলাইন জগৎটিই এখনকার সময়ে সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম। সেখানে যখন তারা অপমানিত হয়, তখন তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই সংশয়ে পড়ে যায়। এই মানসিক ক্ষতগুলো বাইরে থেকে দেখা যায় না বলে সমাজ একে গুরুত্ব দিতে চায় না, কিন্তু ভেতরের এই রক্তক্ষরণ একজন নারীকে তিল তিল করে ধ্বংস করে দেয়।

এই নিরবচ্ছিন্ন হয়রানির একটি নেতিবাচক সামাজিক ফল হলো ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক নীরবতা। অনেক নারী অনলাইনে আক্রমণের শিকার হওয়ার পর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছায় নীরব হয়ে যান। তারা নিজেদের ছবি পোস্ট করা বন্ধ করে দেন, কোনো বিতর্কিত বা সামাজিক বিষয়ে মতামত দিতে ভয় পান এবং ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কমিয়ে দেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি মনে হতে পারে যে তারা ঝামেলা এড়িয়ে চলছেন, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অত্যন্ত গভীর। বর্তমান যুগে অনলাইন উপস্থিতি কেবল অবসরের বিষয় নয়; এটি দক্ষতা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্কিং এবং ক্যারিয়ার গঠনের প্রধান মাধ্যম। নারীরা যখন ভয়ে এই প্লাটফর্মগুলো ছেড়ে চলে যান, তখন তারা বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল অর্থনীতির মূল ধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনলাইন হয়রানির প্রভাব বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল বাধা। বর্তমানে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূলে রয়েছে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, একদল সাইবার অপরাধী বা অসাধু মানুষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব নারী উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক পেজে অশালীন মন্তব্য করে বা ভুয়া রিভিউ দিয়ে তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু নষ্ট করার চেষ্টা করে। অনেকে আবার ইনবক্সে পণ্যের অর্ডার দেওয়ার নাম করে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করে। এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করতে না পেরে অনেক নারী তাদের কষ্টার্জিত ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

একইভাবে সাংবাদিকতা, সাহিত্য বা শিল্পকলা বিভাগে কাজ করা নারীরাও অনলাইনে ব্যাপক আক্রমণের শিকার হন। তাদের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা না করে আক্রমণ করা হয় তাদের লিঙ্গ পরিচয়কে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণও অনলাইন হয়রানির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেসব নারী মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার বা রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরব হন, তাদের দমানোর জন্য অনলাইন প্লাটফর্মকে যুদ্ধের ময়দান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে ‘ট্রোলিং’ করা হয়, এমনকি ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। যখন একজন প্রভাবশালী নারীকে অনলাইনে হেনস্তা করা হয়, তখন তা সাধারণ নারীদের মনেও ভীতির সঞ্চার করে।

এত বিশাল পরিসরে সহিংসতা চললেও বাংলাদেশে অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হার অত্যন্ত হতাশাজনক। অধিকাংশ নারীই অভিযোগ জানাতে চান না। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতা এবং সামাজিক লোকলজ্জার ভয়। আমাদের বিচার ব্যবস্থায় একজন ভুক্তভোগী নারীকে প্রায়ই দ্বিতীয়বার লাঞ্ছিত হতে হয়। পুলিশ স্টেশনে গিয়ে নিজের সঙ্গে ঘটা অশালীন ঘটনার বর্ণনা দেওয়া অনেক নারীর জন্য পাহাড়সম কষ্টের বিষয়। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জেন্ডার সংবেদনশীল নন। তারা উল্টো ভুক্তভোগী নারীকেই দোষারোপ করেন যে তিনি কেন এমন ছবি দিলেন বা কেন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বললেন।

এই অন্ধকার পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের বহুমাত্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কেবল কঠোর আইন করে বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে অনলাইন সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়, যদি না আমরা আমাদের সামাজিক মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে পারি। অনলাইন হয়রানিকে একটি ‘লঘু’ বিষয় হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। সমাজকে বুঝতে হবে যে ইন্টারনেটে কাউকে গালি দেওয়া বা কারো ছবি নিয়ে ব্যঙ্গ করা কেবল মজা নয়, এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবারের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে ‘সম্মতি’ বা কনসেন্ট এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

ডিজিটাল লিটারেসি বা ডিজিটাল শিক্ষা এ ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। নারীদের জানতে হবে কীভাবে অনলাইনে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং হয়রানির শিকার হলে কীভাবে আইনি সহায়তা নিতে হয়। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও আধুনিক ও জেন্ডার সংবেদনশীল করে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও এ ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই পূর্ণাঙ্গ হবে যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারীরা নির্ভয়ে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মানে কেবল নারীকে রক্ষা করা নয়, বরং একটি সভ্য, মানবিক এবং সমঅধিকারের সমাজ নিশ্চিত করা। এই অদৃশ্য শিকল ভাঙার লড়াইয়ে রাষ্ট্র, সমাজ এবং ব্যক্তি–প্রত্যেককেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: সমাজবিজ্ঞান ও উন্নয়নবিষয়ক কলাম লেখক ও গবেষক।