বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি মাত্র। এক দশক ধরে বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, এনটিআরসি শিক্ষক নিবন্ধন ও রেলওয়েসহ বিভিন্ন দপ্তরের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে চাকরির পরীক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি চাকরির পরীক্ষায় শুধু লাখো বেকার তরুণ-তরুণী অংশ নেয় না, অংশ নেয় পরিবার-সমাজের চাপ, বছরের পর বছর পড়াশোনা, আর্থিক ত্যাগ, নির্ঘুম রাত ও কঠোর পরিশ্রম। সব বোঝা মাথায় নিয়ে চাকরি প্রার্থীরা পরীক্ষার হলে বসেন। দুঃখজনক, পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে মেধাবীরা পরাজিত হচ্ছে অর্থ ও অসৎ চক্রের কাছে। তরুণদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ, ঘৃণা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায়, চাকরির বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রবেশ করায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতের দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর পেছনের দায়ী একটি সংঘবদ্ধ চক্র, প্রশ্ন প্রণয়নকারী, মুদ্রণকারী, পরিবহনকারী ও পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রশ্ন সুরক্ষায় যেখানে উন্নত এনক্রিপশন ব্যবস্থার কথা, সেখানে আমরা এখনো ফাঁস ঠেকাতে অক্ষম। এটি আসলে অযোগ্যতা নয়, বরং চরম অবহেলার ইঙ্গিত। এর সঙ্গে জড়িত দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব থাকায় বারবার একই ঘটনা ঘটছে। স্বচ্ছ ও আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার, পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সবার কঠোর জবাবদিহি ও দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে এ অপরাধ চলতেই থাকবে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বেকারদের সঙ্গে এ প্রহসনমূলক ব্যাধি নির্মূল করুন।
লোটাস জাহাঙ্গীর
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]