শহরকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও বাস্তবে শহরের অন্যতম গুরুতর সমস্যা বিশুদ্ধ পানির সংকট। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থনীতি ও টেকসই নগর উন্নয়নের প্রশ্ন। সমস্যাটির পেছনে একাধিক কারণ দায়ী। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি শহরের পানিব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। যে পানি সরবরাহব্যবস্থা সীমিত সংখ্যক মানুষের জন্য পরিকল্পিত ছিল, সেখানে বর্তমানে বহু গুণ মানুষ বসবাস করছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের অসমতা তৈরি হয়েছে। শহরের অধিকাংশ মানুষ সাপ্লাই পানির ওপর নির্ভরশীল। এ পানির মানও প্রশ্নবিদ্ধ। পুরোনো ও নষ্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানিতে জীবাণু মিশে যায়। কোথাও কোথাও পানির সঙ্গে দুর্গন্ধ বা ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। এ দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে শহরে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে ফুটানো পানি বা বোতলজাত পানি ব্যবহার করছে, যা অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে শহরে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো ভয়াবহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বস্তি ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকায় তারা দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই টেকসই নগর গঠনের স্বার্থে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]