এই কথাটি বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কিঞ্চিৎ বেড়েছে কিন্তু তাদের প্রতি হয়রানি ও অবমূল্যায়নের চিত্রটি আজও উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন স্তরে নারীর উপস্থিতি সংখ্যায় বেড়েছে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এ অংশগ্রহণের পথটি মোটেও মসৃণ নয়। রাজনীতিতে সক্রিয় বহু নারীকে প্রতিনিয়ত কটূক্তি, চরিত্রহনন, সামাজিক অপবাদ এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা রটানো, অশালীন মন্তব্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ এখন নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও নারীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে জীবনের নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। ফলে নারীদের দেশ সেবার প্রবল ইচ্ছা, সামর্থ্য থাকলেও নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। রাজনীতিতে নারীকে সব সময়ই পুরুষের পেছনের কাতারে রাখা হয়। নারীর ক্ষমতায়নের কথা আমরা রাষ্ট্রীয় নীতিতে, বক্তৃতায় ও দিবসকেন্দ্রিক আলোচনায় উচ্চারণ করি। কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভেতরে নারীর জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি। যার বাস্তব প্রমাণ আমাদের আসন্ন নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের এক তৃতীয়াংশেরও কম। নারীর জন্য কেবল সংরক্ষিত আসন বা সংখ্যাগত বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে কঠোর আচরণবিধি, হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আইন, দলীয় সংস্কার, নিরাপত্তা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এসব একসঙ্গে কাজ না করলে নারীর রাজনৈতিক হয়রানি কমবে না। নারীকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। তাই সমাজ, রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দল সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগেই রাজনীতিতে নারীর অবস্থানকে নিরাপদ ও সম্মানজনক করে তুলতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের প্রকৃত অগ্রগতি অধরাই থেকে যাবে।
সুলতানা ইয়াসমিন মনিষা
মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]