ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

নির্বাচনি সহিংসতা দেখা যাচ্ছে

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
নির্বাচনি সহিংসতা দেখা যাচ্ছে

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে নানারকম জল্পনা-কল্পনার পাশাপাশি বাড়ছে উত্তেজনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিউজে উঠে আসছে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নির্বাচনি প্রচারে বাধা প্রদান, হত্যা, হুমকি-ধমকিসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে এক নতুন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে ভোট বঞ্চিত মানুষের মনে ভোট দেওয়ার আকুল আগ্রহ তাই থমকে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মাথায় এখন একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, ‘১২ তারিখ সুষ্ঠুভাবে ভোটদান করতে পারব তো? নাকি স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার শাসনামলের মতো সহিংসতার রাজনীতি ও ড্যামি ভোট অনুষ্ঠিত হবে?’ এমতবস্থায়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ১২ তারিখ জনগণের একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

মো. আরাফাত হোসেন
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন 
দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ

১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম। যারা আগে কখনো রিটার্ন দাখিল করেননি, অর্থাৎ নতুন ও প্রথম রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তিদের উচিত সম্পত্তি ও সোনার মূল্য সঠিকভাবে প্রেজেন্টশন করা। একজন কর আইনজীবী হিসেবে এর তিনটি লজিক্যাল কারণগুলো আমি তুলে ধরার চেষ্টা করছি: প্রথমত, আপনি যদি সম্পত্তি বা সোনার মূল্য আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন না করে মূল্য অজানা বা মূল্য শূন্য লেখেন তাহলে ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তি বিক্রি করে নতুন সম্পত্তি সংযোজন করার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস-সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়ত, আপনি যদি সম্পত্তি বা সোনার সঠিক মূল্য আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন না করে মূল্য কম বা বেশি তথা অযৌক্তিক মূল্য লিপিবদ্ধ করেন তাহলে ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে মূলধনী আয় অর্থাৎ ক্যাপিটাল গেইন ক্যালকুলেশনে ঝামেলা সৃস্টি হবে। তৃতীয়ত, আপনি যদি সম্পত্তি বা সোনার মূল্য-সংক্রান্ত তথ্য অস্পষ্ট ও অস্বচ্ছ রেখে রিটার্ন দাখিল করেন তাহলে এনবিআর ভবিষ্যতে নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ও সারচার্জ-সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। সুতরাং, সম্পত্তি বা সোনার মূল্য লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ওই সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, বাজারমূল্য ও দলিলমূল্য সুনিপুণভাবে বিবেচনা করা এবং মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে  দক্ষ কর আইনজীবী বা কর অনুশীলনকারীর সঙ্গে কনসাল্ট করা প্রয়োজন। এ প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে অনেক কিছুই যাচাই করা যায়–এ কথা মাথায় রেখে নতুন ও প্রথম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি, হয়রানি ও বাড়তি করের বোঝা এড়ানো সম্ভব। স্বচ্ছতাই পারে জবাবদিহি রুখতে।

পলাশ কুণ্ডু
আয়কর আইনজীবী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকাভুক্ত 
সদস্য, নীলফামারী ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন
[email protected]

সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা

কুমিল্লার চান্দিনা সদর থেকে বদরপুর পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মাত্র ৭ কিলোমিটারের এই পথটুকুর জন্য সিএনজিচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করছে। ভোগান্তির মাত্রা আরও চরম আকার ধারণ করে সন্ধ্যার পর, যখন কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। দূরত্ব বিবেচনায় এই ভাড়া শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং চরম মাত্রার শোষণ। এখানে সিএনজিচালকরা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে এবং সম্পূর্ণ নিজেদের মনগড়া ভাড়া আদায় করছে। এই মাত্রাতিরিক্ত ভাড়ার কারণে প্রতিদিন সাধারণ যাত্রী, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের পকেট কাটছে। কোনো যাত্রী যদি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে যান, তবে চালকদের সিন্ডিকেটের হাতে তাকে নাজেহাল হতে হয়। ভাড়া নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত কথা কাটাকাটি, ঝগড়া এবং মাঝেমধ্যে মারামারির মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে, যা ওই সড়কের আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, এই রুটে সিএনজি ভাড়া অবিলম্বে সরকারি নির্ধারিত হারে পুনর্নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে চালকদের এ স্বেচ্ছাচারী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ভাড়ার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙানোর ব্যবস্থা করা হোক। আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জনসাধারণের এ দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করবেন।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]

নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার?

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার?

একটি খাল খননের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ছুটে এসেছেন। তাতেই নয়নের খালে পানির স্রোতধারা বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খালটি দখল ও দূষণের কবলে পড়ে তিলে তিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু একটি সংবাদ দেখে প্রধানমন্ত্রী এলজিইডি প্রতিমন্ত্রীকে খালটি খননের নির্দেশনা দেন। এমনকি দখলদারদের প্রতিও তিনি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপেও কি খালে পানি প্রবাহিত ধারা অব্যাহত থাকবে? খাল খননে দেখা যায়, যেখানে খাল রয়েছে ৪০ ফুট, সেখান থেকে মাত্র একটি নালাসদৃশ্য খনন কার্যক্রম করা হচ্ছে দেশজুড়ে। লোক দেখানো এ খাল খনন কর্মসূচি কি প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন? দেখা যায়, খননের কয়েক দিনের মধ্যে তা আবার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। তাতে জনগণের করের পয়সা এক শ্রেণির লুটেরাদের পকেটে ঢুকে থাকে। মুন্সিগঞ্জের বিনোদপুর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নয়নের খাল খননে এসে এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আবার দখলদারদের জন্য তদবির করবেন কি না? প্রতিত্তোরে স্থানীয় এমপি বললেন, আমি তদবির করব, তবে দখলদারদের রক্ষার জন্য নয়, দখল উচ্ছেদের জন্য। এ কথাটি অনেক ছোট একটি কথা কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের মর্মবাণী। তার কারণ যখনই স্থানীয় প্রশাসন কোনো উচ্ছেদ অভিযানে যায় তার আগেই তদবিরবাজরা এমপিকে ধরে তা ভাঙা বন্ধ করে দেয়। যে খালগুলো ছিল এক সময় প্রাণ-প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ তা এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে মানুষের জন্য দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। নয়নের খালের খনন কাজ শেষে পানির স্রোতধারা বয়ে সব জঞ্জাল দূরীভূত হোক, সে প্রত্যাশাই করছি রাষ্ট্রের কাছে।

হাজি মো. রাসেল ভূঁইয়া
খলিফাবাড়ি, সিপাহিপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
[email protected]

ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব

যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন, জাতিগত বৈষম্য, ধর্মীয় উগ্রতা, রাজনৈতিক দমনপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া কোটি কোটি মানুষের প্রতি মানবিক শ্রদ্ধা ও সংহতি প্রকাশের দিন এটি। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ বিশ্ববাসীকে কেবল সহানুভূতি নয়, বরং কার্যকর ও টেকসই মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

শরণার্থী কারা? শরণার্থী বা উদ্বাস্তু হলো এমন ব্যক্তি, যিনি জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশ ত্যাগ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা হারিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে হুমকির মুখে থাকেন, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাত থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যান, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর কারণে নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৫১ সালের জেনেভা শরণার্থী কনভেনশন শরণার্থীদের সংজ্ঞা, অধিকার ও সুরক্ষার আন্তর্জাতিক ভিত্তি নির্ধারণ করেছে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শরণার্থীসংকট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানবতার সংকট। ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেবে। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে মানবতা এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দায়িত্বশীল, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ অপরিহার্য। শরণার্থীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বিশ্বের মূল ভিত্তি।

ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ

হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

বর্তমান সময়ে আমাদের নাগরিক জীবনের অন্যতম বড় এক অভিশাপের নাম শব্দদূষণ, যার প্রধান উৎস যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত হাইড্রোলিক হর্ন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা শহরসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরে এই হর্নের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে বাস, ট্রাক এবং মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে বিনা প্রয়োজনে তীব্র শব্দে হর্ন বাজানোর এক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। মোড়ে মোড়ে যানজটে আটকে থেকেও চালকরা অবিরত হর্ন বাজিয়ে চলেন, যা কোনো বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না।

এই মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশু, গর্ভবতী নারী এবং রোগীরা। প্রতিনিয়ত কানের পর্দা ফাটানো এই শব্দের মধ্যে বসবাস করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা এবং চরম মানসিক অবসাদের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’ সাইনবোর্ড থাকলেও কেউ তা তোয়াক্কা করছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শিথিলতা এবং চালকদের অসচেতনতাই এ সংকটের জন্য দায়ী। এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে নাগরিকদের বাঁচাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না, তার কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারী চালকদের ভারী জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি। আমরা একটি শব্দদূষণমুক্ত, শান্ত ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা 
[email protected]