মো. রাকিবুল হাসান খান—মাকতাবাতুল হাসানের প্রকাশক। জন্মেছেন ঢাকার ওয়ারীতে। পড়াশোনার শুরু মতিঝিল মডেল স্কুলে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। এবারের বইমেলায় পাঠকের জন্য কোন ধরনের বই প্রকাশ করছেন, মানসম্মত বই প্রকাশে তার ভূমিকা, ইসলামি বইয়ের জাগরণের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, লেখক-প্রকাশকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এবং তিনি কেন প্রকাশক হলেন—এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ
খবরের কাগজ: আপনি প্রকাশক হলেন কেন?
মো. রাকিবুল হাসান খান: মানসম্মত ও মূল্যবোধসম্পন্ন বই প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে জ্ঞান ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রকাশক হয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, বই হলো জ্ঞানের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম—যা মানুষের চিন্তা ও আচরণকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ইসলামি সাহিত্য, গবেষণা ও সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক বই প্রকাশের মাধ্যমে আমরা সমাজে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে চাই।
খবরের কাগজ: এবারের বইমেলায় কোন ধরনের বই বেশি আনছেন? পাঠকদের জন্য কী চমক থাকছে?
মো. রাকিবুল হাসান খান: এবারের বইমেলায় মাকতাবাতুল হাসান ইসলামি সাহিত্য, ইতিহাস, শিশুতোষ বই এবং সমসাময়িক বিষয়ে গবেষণাধর্মী বই নিয়ে হাজির হচ্ছি। বিশেষ করে নতুন লেখকদের মানসম্পন্ন রচনা এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চাকে সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আমরা নানা চমক উপস্থাপন করছি। পাঠকদের জন্য থাকছে বিশেষ ডিসকাউন্ট, সাইন কপি এবং নতুন সিরিজের বই, যা তাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বইমেলায় পরিবেশ সচেতনতায় কাজ করছি আমরা। আমাদের স্টলে যে কেউ আসলে একটি গাছের চারা উপহার পাবেন।
খবরের কাগজ: মানসম্মত বই প্রকাশে আপনাদের ভূমিকা কেমন?
মো. রাকিবুল হাসান খান: মাকতাবাতুল হাসান সব সময় মানসম্মত বই প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা বই প্রকাশের আগে সম্পাদনা, ভাষা পরিমার্জনা, তথ্য যাচাই এবং মুদ্রণ মান নিশ্চিত করি। আমাদের লক্ষ্য হলো, পাঠকদের হাতে নির্ভুল, সুসংগঠিত ও উপকারী বই পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য আমরা অভিজ্ঞ সম্পাদক, গবেষক এবং লেখকদের সঙ্গে কাজ করি, যাতে প্রতিটি বই উঁচুমানের হয়।
আরও পড়ুন: ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামি বইয়ের জাগরণ সম্ভব
খবরের কাগজ: ইসলামি বইয়ের জাগরণের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?
মো. রাকিবুল হাসান খান: ইসলামি বইয়ের জাগরণের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা হলো—
- মানসম্পন্ন বই প্রকাশ: সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় ইসলামি জ্ঞানকে উপস্থাপন করা।
- মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার: ইসলামি বইয়ের প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ এবং ই-বুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা।
- বইমেলা ও সেমিনারের আয়োজন: ইসলামি বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বইমেলা, সেমিনার ও আলোচনাসভার আয়োজন করা।
- যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা: তরুণ প্রজন্মের জন্য ইসলামি বইকে আকর্ষণীয় ও প্রাসঙ্গিক করে তোলা।
- মূল্য সহনীয় রাখা: বইয়ের দাম সহনীয় রাখা, যাতে সবাই বই কিনতে পারে।
মাকতাবাতুল হাসান এর মধ্যে এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও ইসলামি সাহিত্যের প্রসারে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
খবরের কাগজ: লেখক-প্রকাশকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?
মো. রাকিবুল হাসান খান: লেখক ও প্রকাশকের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা উচিত। লেখক তার মেধা ও শ্রম দিয়ে বই রচনা করেন, আর প্রকাশক সেই বইকে পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। মাকতাবাতুল হাসান সব সময় লেখকদের সঙ্গে আন্তরিক ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখে। আমরা লেখকদের পরামর্শ দিই, তাদের কাজকে মূল্যায়ন করি এবং বই প্রকাশের প্রতিটি ধাপে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। আমাদের লক্ষ্য হলো, লেখক ও প্রকাশকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করা—যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
মাকতাবাতুল হাসান সব সময়ই পাঠক, লেখক এবং সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, বই হলো জ্ঞানের আলো, যা অন্ধকার দূর করে সমাজকে আলোকিত করে।