১. গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করতেন : ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা সুন্নত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও আজহার দিন গোসল করতেন।’ (বুখারি, ১/১৩০)
২. সুন্দর ও উত্তম পোশাক পরিধান করতেন : জাফর ইবনে মুহাম্মাদ তার পিতা থেকে, তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি ঈদে ডোরাকাটা পোশাক পরিধান করতেন।’ (বাইহাকি, ৬৩৬৩।)
৩. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খেতেন : আনাস (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে কয়েকটি খেজুর না খেয়ে বের হতেন না।’ (বুখারি, ৯০৫।) অন্য এক বর্ণনামতে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বিজোড় সংখ্যায় খেজুর খেতেন।’ (বুখারি, ৯৫৩।)
৪. হেঁটে ঈদগাহে যেতেন : কোনো অপারগতা না থাকলে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হেঁটে ঈদগাহে যেতেন এবং ঈদগাহ থেকে হেঁটে ফিরে আসতেন।’ (তিরমিজি, ৫৪১।)
৫. এক পথে ঈদগাহে যেতেন অন্য পথে ফিরতেন : ঈদগাহে যাতায়াতের রাস্তা পরিবর্তন করা সুন্নত। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন ঈদগাহে আসা-যাওয়ার রাস্তা পরিবর্তন করতেন।’ (বুখারি, ৯৮৬) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক পথে (ঈদগাহে) যেতেন এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরতেন।’ (তিরমিজি, ৫৪১।)
৬. ঈদগাহে যাতায়াতের সময় তাকবির বলতেন : জুহরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন তাকবির পাঠ করতে করতে ঈদগাহে যেতেন এবং নামাজ পড়া অবধি এ তাকবির জারি রাখতেন। নামাজ শেষ হলে তাকবির পাঠ বন্ধ করতেন। তাকবিরটি হলো- বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। বাংলা অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, তিনি ছাড়া সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আর সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র তাঁরই জন্য।’ (সিলসিলাতুল আহাদিস, ১৭১।)
৭. শিশুদের ঈদগাহে নিয়ে যেতেন : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় ফজল ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্বাস, আলি, জাফর, হাসান, হোসাইন, উসামা ইবনে জায়দ, জায়দ ইবনে হারিসা, আয়মান ইবনে উম্মু আয়মান (রা.) প্রমুখকে সঙ্গে নিয়ে উচ্চৈঃস্বরে তাকবির ও তাহলিল পাঠ করতে করতে ঈদগাহে যেতেন।’ (বাইহাকি, ৬৩৪৯।)
৮. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন : ঈদের দিন একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নত। জুবাইর ইবনে নুফাইর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবারা ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন, বাংলা উচ্চারণ- তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। বাংলা অর্থ- আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের পক্ষ থেকে সব নেক আমল কবুল করুন। (ফাতহুল কাদির, ২/৫১৭; মাজমাউজ যাওয়াইদ, ৩২৫৫) এ ছাড়া আরও কিছু বর্ণনায় এসেছে, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সাহাবিরা বলতেন, ‘ঈদুকুম সাঈদ’। অর্থ- তোমার ঈদ শুভ ও সুন্দর হোক।
৯. নামাজ শেষে খুতবা শুনতে বলেছেন : ঈদের নামাজ শেষে মনোযোগসহকারে খুতবা শোনা। আবদুল্লাহ ইবনে সায়িব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আমি ঈদগাহে উপস্থিত হলাম। এরপর তিনি আমাদের নামাজ পড়িয়ে বলেন, আমরা নামাজ শেষ করেছি। যার ইচ্ছা সে খুতবা শোনার জন্য বসবে, আর যার চলে যাওয়ার ইচ্ছা, সে চলে যাবে।’ (ইবনে মাজাহ, ১২৯০) তবে অধিকাংশ ফকিহর মতে, ঈদের নামাজের পর খুতবা শোনা ওয়াজিব। (বাদায়েস সানায়ে, ১/৬১৮।)
১০. ঈদের রাতের ইবাদত করতে বলেছেন : মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। রাতগুলো হলো- ১. জিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত। ২. জিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফার রাত)। ৩. ঈদুল আজহার রাত। ৪. ঈদুল ফিতরের রাত এবং ৫. ১৫ শাবানের রাত। (তারগিব, ৬৫৬।)
১১. বেশি বেশি দোয়া করতে বলেছেন : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাত- এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে, সে রাতে তার কোনো দোয়া-ই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (মুসান্নাফে আবদির রাজ্জাক, ৭৯২৭।)
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক