ঢাকা ৭ বৈশাখ ১৪৩১, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

গ্রাম-শহরে স্থানান্তর বাড়ছে

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৮ পিএম
গ্রাম-শহরে স্থানান্তর বাড়ছে

দেশে এক বছরের ব্যবধানে জেলা থেকে জেলায় স্থানান্তরের হার বেড়েছে। একইভাবে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরও বেড়েছে। জেলা পর্যায়ে জনসংখ্যার অভিবাসন ও স্থানান্তরের হার বাড়া-কমার পরিসংখ্যান নিয়ে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের টানা ৫ বছরের চিত্র উঠে এসেছে বিবিএসের (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে। এর মধ্যে ২০২১-২০২২ সালের তুলনামূলক ব্যবধান বেশি দেখা গেছে।   
  
মানুষের পরিবারসহ স্থানান্তরের প্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, মূলত পুশ অ্যান্ড পুল ফ্যাক্টরের কারণে মানুষ নিজের বসবাসের জায়গা পরিবর্তন করে। সেটা হোক অভ্যন্তরীণ সীমানার মধ্যে কিংবা আন্তর্জাতিক  পরিসরে।

এর ব্যাখ্যা দিয়ে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন, যেখানে বসবাস করছেন সেখানে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটা উপার্জনকেন্দ্রিক, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কিংবা পরিবেশকেন্দ্রিক যাই হোক না কেন। ফলে ওই পরিস্থিতি থেকে তুলনামূলক ভালো কোনো অবস্থার আশায় মানুষ এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যায়।

বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২ সালের চিত্র অনুসারে প্রতি হাজার জনগোষ্ঠীর বিপরীতে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ (জেলা থেকে জেলা) স্থানান্তরের হার ৩০ দশমিক ৮। ২০২১ সালে এ হার ছিল যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৭। এর মধ্যে পুরুষ স্থানান্তরের হার নারীদের তুলনায় অনেক বেশি। যেখানে প্রতি হাজারে পুরুষ স্থানান্তরিত হয়েছেন ৩৩ দশমিক ৩ জন, সেখানে নারীদের স্থানান্তরের এ হার প্রতি হাজারে ২৮ দশমিক ৩ জন। 

অন্যদিকে গ্রাম অঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলের মানুষের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের হার ২ দশমিক ৫ গুণ বেশি। শহরাঞ্চলের মানুষের স্থানান্তরের প্রবণতাও গ্রামের জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি। প্রতি ১ হাজার জনগোষ্ঠীর বিপরীতে গ্রাম অঞ্চল থেকে স্থানান্তর হার ৫ দশমিক ১ জন। শহরাঞ্চলে প্রতি ১ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে এ বৃদ্ধি ঘটেছে ১৮ দশমিক ৯ জন হারে।

স্থানান্তরের কারণ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসংখ্যার একটি বিপুল অংশ তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাসের লক্ষ্যে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে (আগমন ও বহির্গমন উভয়ক্ষেত্রেই)। অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের প্রায় ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং বহির্গমনের প্রায় ৫১ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে আয়ের উদ্দেশ্যে এবং নারীদের ক্ষেত্রে বৈবাহিক কারণগুলো স্থানান্তর প্রক্রিয়ার দুটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এদিকে নারীদের মধ্যে স্থানান্তরের হার সবচেয়ে বেশি ১৫-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে। বয়সের এ ক্রমপর্যায়ে পুরুষদের স্থানান্তরের মাত্রা নারীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ০-৪ বছরের শিশুদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে, যার ফলে এ বয়সভিত্তিক শিশুদের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উচ্চ হার পরিলক্ষিত হয়। এ বিষয়টি ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

বিএসএসের করা একই প্রতিবেদনে জেলার সীমানার মধ্যে প্রতি হাজার পরিবারের মধ্যে অন্তর্মুখী স্থানান্তরের হারের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। ২০২১-২০২২ সালের তথ্যানুযায়ী, এক বছরে এই অন্তর্মুখী স্থানান্তরের হার হাজারে বেড়েছে ৫১ পরিবার। এতে, পল্লিমুখী স্থানান্তরের হার হাজারে বেড়েছে ২৯টি পরিবার এবং শহরমুখী স্থানান্তরের হার হাজারে বেড়েছে ১১৮টি পরিবার। তথ্যানুযায়ী একই জেলায় শহর থেকে গ্রামে স্থানান্তরের হার বেড়েছে ৭টি পরিবার এবং গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের হার বেড়েছে ২৬টি পরিবার। আবার, শহর থেকে শহরে স্থানান্তরের হার বেড়েছে ৯২টি পরিবার এবং গ্রাম থেকে গ্রামে স্থানান্তরের হার বেড়েছে ২২টি পরিবার।  

পক্ষান্তরে জেলার সীমানার মধ্যে প্রতি হাজার পরিবারের মধ্যে বহির্মুখী স্থানান্তরের হারে এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৬২ পরিবার। পল্লি থেকে বহির্গমনের হার হাজারে বেড়েছে ৫৯ পরিবার এবং শহর থেকে বহির্গমনের হার হাজারে বেড়েছে ৭১ পরিবার। 

নিবন্ধন নেই, ভ্যাটও নেই

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:১৫ পিএম
নিবন্ধন নেই, ভ্যাটও নেই

এবারে ঈদ ও পয়লা বৈশাখে রমরমা বাণিজ্য করলেও বড় মাপের অর্ধেকের বেশি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান একটি টাকার ভ্যাট জমা দেয়নি। এসব প্রতিষ্ঠান এখনো অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনই করেনি। তাই ভ্যাট জমা না দিলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নজরে আসছে না। ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তরের তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব জানা গেছে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, রমরমা বাণিজ্য করেও বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে চলেছে এমন প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে এবার রমজানের শুরু থেকেই মাঠে নেমেছেন ভ্যাট গোয়েন্দারা, যা ঈদুল আজহা পর্যন্ত চলবে।

আদায় করেও একটি টাকার ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি, হিসাবের চেয়ে কম পরিশোধ করেছে এবং অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করেনি এমন সব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে ভ্যাট গোয়েন্দারা বিশেষ নজরদারি করছেন। পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের নামিদামি বিপণিবিতানের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হবে। এ কাজে ভ্যাট গোয়েন্দারা ভ্যাটের অন্যান্য শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে তথ্যও নেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, মেট্রো, রাপা, রাজলক্ষ্মী, মিরপুর শপিংমল, অরচার্ড পয়েন্ট, মৌচাক মার্কেট, সীমান্ত স্কয়ার, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিপিংমলে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ভ্যাট গোয়েন্দারা বিনা নোটিশে হাজির হয়েছেন। ভ্যাট পরিশোধের তথ্য খতিয়ে দেখেছেন। এসব শপিংমলের অর্ধেকের বেশি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনই করেনি। রাজধানীর গুলশান-২-এ অবস্থিত পিংক সিটি শপিংমলে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, দুই শতাধিক দোকান ভ্যাট প্রদানে সক্ষম হলেও মাত্র ৬৪টি দোকান ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করেছে। এ শপিংমলের মাত্র ৪০টি প্রতিষ্ঠান সঠিক হিসাবে ভ্যাট পরিশোধ করলেও বাকিরা মিথ্যা তথ্যে পাওনা ভ্যাটের অতি সামান্য পরিশোধ করেছে। এ শপিংমলের বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৪১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। এসব শপিংমলের বাইরেও বড় বড় বিপণিবিতানেও ভ্যাট গোয়েন্দারা হাজির হয়ে ভ্যাট পরিশোধের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।

ভ্যাট গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভ্যাট নিবন্ধন না করলেও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সাধারণ ক্রেতার কাছ থেকে ঠিকই পণ্যের মূল্যের সঙ্গে হিসাব কষে কড়ায়-গণ্ডায় ভ্যাট আদায় করেছে। আদায় করা ভ্যাটের সবটা নিজের পকেটে রেখে দিয়েছে। ভ্যাট যোগ করায় পণ্যের মূল্য বেড়েছে। বেশির ভাগ ক্রেতা না জেনেই পণ্যের মূল্য হিসেবে ভ্যাট পরিশোধ করেছেন। ভ্যাট আদায় করলেও ক্রেতাকে ভ্যাট পরিশোধের চালান দেওয়া হয়নি। বড় বড় বিপণিবিতানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, নিরাপত্তা, মানসম্মত পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বাইরের বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম রাখা হয়।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারে রমজানের শুরু থেকেই ভ্যাট গোয়েন্দারা পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। সরেজমিনে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বেচাকেনার তথ্য সংগ্রহের পর ভ্যাট পরিশোধের তথ্য জানতে চেয়েছেন। কী দামে পণ্য কিনেছে, কী দামে বিক্রি করেছে এবং কতটা ভ্যাট পরিশোধ করেছে এসব সংগ্রহ করেছেন। অনেক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জাল বা ভুয়া ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর টাঙিয়ে রেখেছে। ভ্যাট গোয়েন্দারা অনলাইনে খতিয়ে দেখে ভ্যাট নিবন্ধনের জাল সনদ টাঙিয়ে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ভ্যাট আইন অনুসারে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে নিবন্ধিত ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করে রাখতে হবে।

গত বুধবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ভ্যাট গোয়েন্দারা প্রতিবেদনে বলেছেন, গড়ে বড় মাপের ৬৫ শতাংশ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখনো অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনই করেনি। এই ৬৫ শতাংশের মধ্যে ৩২ শতাংশ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান শোরুমে নকল ভ্যাট নিবন্ধনের জাল সনদপত্র টাঙিয়ে রেখেছে। অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই হিসাবের চেয়ে কম ভ্যাট পরিশোধ করেছে।

ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রউফ খবরের কাগজকে বলেন, অতীতে দেখা গিয়েছে ঈদ, পয়লা বৈশাখে ভালো বেচাকেনা করেও ঠিকমতো ভ্যাট পরিশোধ করেনি। এবারে রমজানের শুরু থেকেই রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের বড় বড় শপিংমল এবং ব্র্যান্ডের দোকানে ঈদ ও পয়লা বৈশাখে কেমন বেচাকেনা হয়েছে তার খোঁজ রাখা হয়। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুসারে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ভালোই বেচাকেনা হয়েছে। অথচ ভালো বেচাকেনা করেও অনেকে ঠিকমতো ভ্যাট পরিশোধ করছে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, ভ্যাট পরিশোধ তো দূরের কথা, অনেকে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনই করেনি।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সারা বছরের মধ্যে দুই ঈদ ও পয়লা বৈশাখে ভালো বেচাকেনা হয়। আমরা যারা সৎ ব্যবসায়ী তারা তো হিসাবমতো ভ্যাট পরিশোধ করছেন। অথচ অনেকে আছেন বিভিন্ন কৌশলে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন। এদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এনবিআর থেকে আরও নজরদারি বাড়ানো উচিত।’

অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি আটকে আছে

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি আটকে আছে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে তাদের যাতে সরকার থেকে নির্ধারিত ইউনিফর্ম দেওয়া হয়। সেই দাবি পূরণ হয়েছে অনেক আগেই। এর সঙ্গে দাবি ছিল, অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের ইন্সপেক্টর এবং সিপাইদের যেন অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ার কারণে এখনো অনুমোদন মেলেনি। প্রস্তাব আটকে আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে। ২০২০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনকালীন একাধিক দাবিসহ অস্ত্র ব্যবহারের দাবি তোলা হয়েছিল। 

অন্যান্য দাবি ছিল- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ইন্টারোগেশন ইউনিট স্থাপন, ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুকরণ, উন্নত গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি ক্রয়, মোবাইল ট্র্র্যাকার স্থাপন, মাদক শনাক্তকরণ যন্ত্রপাতি ক্রয়, নৌ ইউনিট স্থাপন, ডগ স্কোয়াড ইউনিট স্থাপন, ডিজিটাল ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন ল্যাব স্থাপনসহ অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি। 

এখন পর্যন্ত অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টির অনুমতি পাওয়া যায়নি। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে লাঠি হাতে নিয়ে মাদক উদ্ধার করা দুষ্কর। কারণ অনেক স্থানে অস্ত্র ছাড়া মাদক উদ্ধার করা জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় যখন কর্মকর্তারা মাদক উদ্ধার করতে যান, তখন দুর্বৃত্তরা কর্মকর্তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। দুর্বৃত্তদের সহযোগীরা মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেয়। এতে মাদক উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায় না। 

ফলে মাদকের বিস্তার যেমন বাড়ছে, তেমনি দুর্বৃত্তরা এই কারবারে আরও বেশি করে ঝুঁকছে। কর্মকর্তাদের কাছে অস্ত্র থাকলে এই ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে না। তারা আত্মরক্ষার পাশাপাশি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। শক্তি প্রয়োগের জন্য অস্ত্র ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। 

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা করছেন, তারা শিগগিরই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি পাবেন। এতে কাজের গতি আগের চেয়ে যেমন বাড়বে, পাশাপাশি মাদক উদ্ধারে দেশের যেকোনো স্থানে আগের চেয়ে বেশি অভিযান চালানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী জানান, ‌বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ে অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্ত্র উদ্ধার করতে অভিযান চালান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এতে তারা নানা বিড়ম্বনায় পড়েন। মাঠপর্যায়ে মাদক উদ্ধার করতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের লোকজন বিভিন্ন রকমে ভয়ভীতি দেখায়। কখনো শারীরিক আক্রমণেরও শিকার হতে হয়। এতে অনেক স্থানে মাদক উদ্ধারে জটিল আকার ধারণ করে। এমনও দেখা গেছে, অনেক স্থানে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে ডাকতে হয়েছে। পরে পুলিশ এসে মাদকসহ কারবারিকে থানায় ধরে নিয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর ও সিপাইদের হাতে অস্ত্র থাকলে এমন ঘটনা ঘটবে না। তারা নিজেরাই সব অভিযান চালাতে পারবেন। 

সূত্র জানায়, দেশের সীমান্ত এলাকা যেমন কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, যশোর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় প্রচুর মাদকসংক্রান্ত কারবার হয়ে থাকে। এসব জেলায় অভিযান চালাতে গেলে অস্ত্রের প্রয়োজন। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইন্সপেক্টরদের জন্য রিভলবার ও সিপাইদের জন্য শটগান চাওয়া হয়েছে। বড় অভিযান হলে সেখানে সিনিয়র কর্মকর্তারা যাবেন। সেই কর্মকর্তাদের যেসব দেহরক্ষী আছেন তাদের যাতে অস্ত্র দেওয়া হয়, সেই বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়া গেলে অধিদপ্তর তখন অস্ত্র কিনে কর্মকর্তাদের সরবরাহ করবে। তবে এই অস্ত্রের যাতে অপব্যবহার না হয়, সেই জন্য আলাদা নীতিমালা করেছে অধিদপ্তর। অধিদপ্তর আশা প্রকাশ করছে, তারা দ্রুতই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি পাবে।

গরম লোডশেডিংয়ে হাঁসফাঁস

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৬ পিএম
গরম লোডশেডিংয়ে হাঁসফাঁস
তাপপ্রবাহ থেকে রেহাই পেতে হেড আমব্রেলা নিয়ে সড়কে যাত্রীর অপেক্ষায় এক রিকশাচালক। শুক্রবার রাজধানীর দোয়েল চত্বর থেকে তোলা। ছবি : মাসুদ মিলন

চলতি এপ্রিল মাসের প্রতিদিনই বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের দিনের রেকর্ড হওয়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে সাড়ে ৪১ ডিগ্রি, যা ২০২৪ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা তাপপ্রবাহের কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাতাস। মাত্রাতিরিক্ত গরমে কাহিল জনজীবন। তাপপ্রবাহ থেকে সতর্ক থাকতে আবহাওয়া অধিদপ্তর সারা দেশে তৃতীয় দফায় হিট অ্যালার্ট জারি করেছে। বছরের উষ্ণ মাস হওয়ায় এপ্রিলজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শহরের তুলনায় এই দুর্ভোগ গ্রামে বেশি। অনেক এলাকায় ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো জানিয়েছে, ঢাকায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে না। কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৬ হাজার মেগাওয়াট। গত বুধবার দিনের বেলায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। ওই সময়ে সরবরাহ ঘাটতি ছিল ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি, যা লোডশেডিং দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। এদিকে তাদের ধারণা এ বছর চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক হিসাবে দেখা গেছে, সারা দেশে এক ঘণ্টা লোডশেডিং করা হলে ৯৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎসাশ্রয় হয়। এ হিসাবে ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির জন্য ২ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং করতে হয়। 

সারা দেশে ততৃীয় দফায় হিট অ্যালার্ট জারি
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির খবরের কাগজকে বলেন, ‘গরমের কারণে বাতাস উত্তপ্ত। এ কারণে অনুভূতিটা বেড়েছে। তাপমাত্রা কমে এলে তখন আরামদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমরা আবারও ৭২ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট দিয়েছি। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গায় এটি অব্যাহত থাকবে। এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম। এ কারণে টানা তাপপ্রবাহ থাকবে। যেসব এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে সেখানকার পরিবেশ সাময়িকভাবে সহনশীল হবে। কিন্তু খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ এপ্রিল মাসটা বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই বছর ধরেই গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংয়ে ভুগছে দেশবাসী। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। গরমে চাহিদা বাড়লেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। পাওয়ার সেলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ হাজার ৬৭ মেগাওয়াট। এটা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ। গত বছর ১৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। দেশে বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৬৬ লাখ। আর বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী শতভাগ।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ হোসাইন বলেন, বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহ হচ্ছে। প্রতিবছর এই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। সে হিসেবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সমস্যা হবে না। চাহিদা অনেক বাড়লে কিছুটা ঘাটতি হতে পারে।
পিডিবির পরিচালক (জনসংযোগ পরিদপ্তর) মো. হাসান জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ও ফ্যানের ব্যবহার বেড়ে গেছে। বৃষ্টি হলে বা তাপমাত্রা কমে গেলে বিদ্যুতের বাড়তি চাপও কমে যাবে। বিদ্যুতের উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার জন্য পিডিবি চেষ্টা করছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে দেশে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা কমে এলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

পিডিবির (উৎপাদন) বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়লা থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা হচ্ছে। এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে বিদ্যুৎ খাতে। তেলচালিত কেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করেন। 

তবে ঢাকার বাইরে শহর এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পিডিবি, নেসকো ও ওজোপাডিকো। ঢাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকায় লোডশেডিং নেই বলে জানিয়েছে ডেসকো ও ডিপিডিসি। কারিগরি কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। গতকাল দিনে ডেসকোর সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট ও ডিপিডিসির চাহিদা ছিল ১ হাজার ৮৫০ মেগাওয়াট। পুরোটাই সরবরাহ পেয়েছে তারা। সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং করছে দেশের অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। এ সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। গত বুধবার দুপুরে তাদের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। একই সময় তারা সরবরাহ পেয়েছে ৬ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। মানে ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে আরইবির এলাকায়। 

তবে বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, যেসব অঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বেশি, সেখানে সরবরাহ বেশি। এ কারণে বরিশাল অঞ্চলের গ্রাম এলাকায় লোডশেডিং নেই। সিলেটে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বেড়েছে লোডশেডিং। কয়েক দিন ধরে দিনে দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হলেও মঙ্গলবার থেকে দিনের বেলা গ্রামে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। 

তবে গ্যাসসংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না দেশে। বিদ্যুৎ খাতে দিনে গ্যাসের চাহিদা ২৩২ কোটি ঘনফুট। এবার গ্রীষ্মে পিডিবি অন্তত ১৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের দাবি জানিয়েছে। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। এতে সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। গত বুধবার দিনের বেলায় গ্যাস থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। আজ শনিবারের মধ্যে এটি চালুর কথা রয়েছে। এটি চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। 

কয়লা থেকে উৎপাদন সক্ষমতা সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট। সক্ষমতার প্রায় পুরোটা ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল বকেয়া থাকায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা আছে। বেসরকারি খাতের তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া জটিলতাও কাটেনি। জ্বালানি তেল আমদানির জন্য নিয়মিত ডলার পাচ্ছে না তারা। তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা আছে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। দিনের বেলায় এক হাজার মেগাওয়াটের কম উৎপাদন করা হচ্ছে। রাতে উৎপাদন হচ্ছে সর্বোচ্চ তিন হাজার মেগাওয়াট। 

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, গরমে যখন মানুষের বেশি করে বিদ্যুৎ দরকার; তখন বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। 

রাজধানীতে কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ
তীব্র গরমে ভোগান্তিতে আছে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ। তবে বেশি কষ্টে রয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের রোজগারে ব্যাপক টান পড়েছে। আয় নেমে এসেছে অর্ধেকে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন না থাকায় অফিসগামী মানুষেরও দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বাসে সিট না পাওয়ায় ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে গন্তব্য যেতে হচ্ছে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অতিরিক্ত ঘেমে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এয়ারপোর্ট রুটে চলা একটি পরিবহনের যাত্রী জামশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগে বাসে জানালার পাশের সিটে বসলে ঠাণ্ডা বাতাস লাগত। এখন গরম বাতাস আসে। মরুভূমির মতো হয়ে যাচ্ছে। 

গরমে ক্লান্ত থাকায় অনেকে ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে লেবুর শরবত বা ঠাণ্ডা পানীয় পান করতেন। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় সেসবের দামও বেড়ে গেছে। নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা রিকশাচালক হোসেন মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, সকাল বেলা রিকশা নিয়ে বের হতেই হাঁফিয়ে উঠি। তখন লেবুর শরবত খেলে ভালো লাগে। কিন্তু এখন সেটার দাম ১৫ টাকা হয়ে গেছে। বেশি গরম আবার ঠাণ্ডা খাওয়ার কারণে জ্বরও আসে। শরীর খারাপ থাকে বেশি।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় ছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেট ও কুমিল্লায়।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলসহ ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা-ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। 

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিরাজমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

যশোরে দাবদাহে রেণু উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০২ এএম
যশোরে দাবদাহে রেণু উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ছবি : খবরের কাগজ

মৎস্যপল্লি নামে খ্যাত যশোরের চাঁচড়ায় তীব্র দাবদাহে রেণু ও চারা মাছ উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। টানা এক সপ্তাহ প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড দাবদাহে মাছের হ্যাচারির পানি গরম হয়ে যাওয়ায় রেণু পোনা ও চারা মাছ মারা যাচ্ছে। এ কারণে কেউ কেউ উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। আবহাওয়ার এমন প্রতিকূল অবস্থা চলতে থাকলে রেণু পোনা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন মাছ চাষিরা।

হ্যাচারি মালিকরা জানান, দেশে রেণু পোনা উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। সাধারণত ফাল্গুন মাস থেকে শুরু হয় রেণু উৎপাদনের মৌসুম। এরপর রেণু পোনা উৎপাদন ও বিপণন চলে আষাঢ় মাস পর্যন্ত। আর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ হচ্ছে রেণু ও চারা মাছ উৎপাদনের ভরা মৌসুম। যশোরে গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে যাচ্ছে। এ তাপমাত্রায় চারা মাছ ও রেণু উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, রেণু পোনা উৎপাদনে যশোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেলায় ৩৬টি হ্যাচারিতে রেণু ও চারা মাছ উৎপাদন হয়। প্রতিবছর কার্প জাতীয় রেণু পোনা উৎপাদন হয় প্রায় ৬৫ টন। জেলায় রেণু পোনার চাহিদা ১৫ টনের একটু বেশি। বাড়তি ৫০ টন দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এ ছাড়া তেলাপিয়া পোনা, পাঙাশ রেণু, শিং, মাগুর, পাবদা, গুলসা, রুই, কাতলা, মৃগেল, বিগহেড, থাইসর পুটি, কৈ, থাই কৈ প্রভৃতি মাছের রেণু পোনা উৎপাদন হয় চাঁচড়াতে। হ্যাচারির পাশাপাশি যশোরে ৫ থেকে ৬ হাজার নার্সারি রয়েছে। জেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ মাছ উৎপাদন, চাষ এবং সংশ্লিষ্ট পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। 

মাছ চাষি আলাউদ্দিন হাসান বলেন, ‘তীব্র দাবদাহে হ্যাচারিগুলোতে রেণু ও চারা পোনা দিলে তা গরমে মারা যাচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছি আমরা।’

মাতৃ ফিশ হ্যাচারির মালিক জাহিদ গোলদার বলেন, ‘রেণু উৎপাদনের মৌসুম শুরু হয় ফাল্গুন মাস থেকে। রেণু উৎপাদন মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া বেশ ভালো ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ ধরে তীব্র দাবদাহে রেণু উৎপাদন একেবারে কমে গেছে। প্রচণ্ড গরমে রেণু মারা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হ্যাচারিগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।’ 

রূপালি ফিশ হ্যাচারি দেখাশোনা করেন মাসুদুল মণ্ডল। তিনি জানান, গরমে মাছের অক্সিজেন ফেল করছে। আমাদের যতগুলো মোটর আছে সবগুলো চালিয়েও পানি ঠাণ্ডা করা সম্ভব হচ্ছে না। এত গরমে রেণু পোনা বাঁচানো সম্ভব না। আর যা বাঁচবে তাতে খরচও উঠবে না। কয়েকদিনের গরমে আমাদের পরিশ্রমও বাড়াতে হয়েছে। 

রেণু উৎপাদনকারী নয়ন হোসেন জানান, চলতি সপ্তাহে ১২ কেজি রেণুতে মাত্র ২০ লাখ পোনা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলানায় অনেক কম। এভাবে কয়েক দিন গরম পড়লে রেণু পোনা প্রায় সব মারা যাবে।’ 

জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান গোলদার জানান, গত কয়েক দিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দাবদাহ এখানকার মৎস্য সেক্টরে প্রতিকূল প্রভাব ফেলছে।

হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, ‘তীব্র গরমে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মৎস্য উৎপাদনে জাতীয় বিপর্যয় দেখা দেবে।’

সহকারী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘যশোর অঞ্চলে বর্তমানে যে তাপমাত্রা বয়ে যাচ্ছে, তা মাছ চাষের জন্য অনুপোযোগী। এমন তাপমাত্রায় রেণু উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এ সময়ে আমরা রেণু উৎপাদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হলে বা তাপমাত্রা কমে গেলে রেণু উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

জেলা-উপজেলা হাসপাতালে কাজের পরিবেশ পান না চিকিৎসকরা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৩ পিএম
জেলা-উপজেলা হাসপাতালে কাজের পরিবেশ পান না চিকিৎসকরা
ছবি : সংগৃহীত

একদিকে অপর্যাপ্ত পরিষেবা কক্ষ, যথাযথ চিকিৎসাসরঞ্জামের স্বল্পতা, আবাসনের খারাপ অবস্থা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধার অভাব, স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব, ল্যাবরেটরি পরিষেবার অভাব, অতিরিক্ত কাজের চাপ, অন্যদিকে নিরাপত্তার অভাব এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের অযাচিত চাপ, উচ্চশিক্ষা, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতিসংক্রান্ত নীতির যথাযথ প্রয়োগের অনুপস্থিতি সরকারি পর্যায়ের উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে কর্মস্থলের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন স্ব স্ব জায়গায় কর্মরত চিকিৎসকরা।

গত বুধবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য গবেষণাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ল্যানসেটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্করণে এ-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে আসে।

এই গবেষক টিমের অন্যতম সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. খালেকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ ইনফরমেটিক্স বিভাগ ২০২১ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশের ১৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৯টি জেলা হাসপাতালের ৫১ জন চিকিৎসকের ওপর এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

ওই গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো ডাক্তারদের জন্য তাদের কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া দুর্বল অবকাঠামো, যথাযথ চিকিৎসা সরবরাহের স্বল্পতা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সীমিত সরবরাহ, ডায়াগনস্টিক সুবিধার অভাব, কর্মীদের অভাব এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ বড় সমস্যা তৈরি করে।

এতে বলা হয়, হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শ কক্ষ বা জরুরি কক্ষগুলো সাধারণত ছোট, যথাযথ প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব এবং সব সময় রোগীর বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপচে পড়া ভিড় থাকে। কখনো কখনো, দুই বা ততোধিক মেডিকেল অফিসারকে একই রুম ভাগ করে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে হয়। রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা যায় না। বসার এবং বিশ্রামের জায়গা অপ্রতুল।

এ ছাড়া রোগীদের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ চিকিৎসাসরঞ্জাম এবং প্রযুক্তির অভাব গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একইভাবে কিছু হাসপাতালে শুধু কয়েকটি সাধারণ ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করা হয়। অনেক হাসপাতালে ত্রুটিপূর্ণ আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, এক্স-রে মেশিন এবং প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের কথাও উঠে আসে এই গবেষণায়।

পাশাপাশি হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে কর্মীসংকট দেখা যায়। এতে ডাক্তার, নার্স, প্যাথলজিস্ট, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোনো হাসপাতালেই পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল অফিসার পাওয়া যায়নি। যেখানে রোগীর ভিড় অনুযায়ী নিয়োগ করা হয়নি, যার ফলে উপস্থিত জনবলের জন্য অতিরিক্ত কাজের চাপ ছিল। কিছু হাসপাতালে সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি ছিল কিন্তু উপযুক্ত সোনোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট এবং প্যাথলজিস্টের অভাব ছিল।

এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় সব চিকিৎসক অত্যধিক কাজের চাপের কথা বলেন। তারা যথাযথ বিরতি বা ডিউটি রোস্টার ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত কাজ করার কথা জানাতে গিয়ে উত্তেজিত ছিলেন। লোকবলের অভাবে অনেক ডাক্তার পরপর সকাল এবং সন্ধ্যা উভয় শিফটে কাজ করেন।

কোনো কোনো হাসপাতালে একজন ডাক্তার তিনজন ডাক্তারের সমান দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে, ডাক্তারদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব মোকাবিলা করতে হয়েছিল, যা তারা অত্যন্ত বিরক্তিকর বলে মনে করেছিল। তাদের দৈনন্দিন কাজের জীবনে অবাঞ্ছিত প্রভাবের পাশাপাশি, তাদের বর্তমান কাজের চাপও তাদের কর্মজীবনের অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ইত্যাদির সীমিত সুবিধা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন ঘটায় হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পানির সংযোগ থাকলেও তারা পানি ট্যাঙ্কে তুলতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহারে উচ্চ বিদ্যুতের বিলের ভয়ে ভীত থাকে। বিদ্যুতের বিলের উচ্চ ব্যয় তাদের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ ব্যবহার করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানীয়জলের অভাবও রয়েছে। 

যদিও বেশির ভাগ উত্তরদাতা হাসপাতালে ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহের কথা উল্লেখ করেছেন। তবুও তারা বলেছেন, সংকটে ওষুধগুলো সবসময় সহজলভ্য থাকে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিকূলতা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবের কারণে চিকিৎসকদের পেশাগত ঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেশির ভাগ উত্তরদাতা। প্রভাবশালীদের দাবির মধ্যে ছিল অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান, তাদের আত্মীয় ও বন্ধুদের জন্য প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনা করা এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করা।

রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সহায়ক কর্মী নিয়োগের বিষয়টিও কয়েকজন ডাক্তার উল্লেখ করেছেন। নিরাপত্তার অভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারদের সহিংসতার সমস্যাটি সব স্তরের উত্তরদাতারা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেন। তারা বেশ কয়েকবার রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে শারীরিক ও মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

চিকিৎসকদের ক্যারিয়ারের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গবেষণার প্রায় সব অংশগ্রহণকারীই সোচ্চার ছিলেন। উচ্চশিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত নীতিগুলোর প্রতি তাদের অসন্তোষ। উত্তরদাতাদের মধ্যে কয়েকজন কর্মক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগের অপর্যাপ্ততার কথা উল্লেখ করেছেন, যা তারা বিভিন্ন বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং কোর্স থেকে পেয়েছেন। পরিবর্তে, তাদের অন্য বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তাদের অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তারা পাননি।

উত্তরদাতারা বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রায় সব উত্তরদাতাই একমত যে, স্থানান্তরের সমস্যাটি রাজনৈতিক লবিং দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ক্যাডারের মধ্যে বৈষম্য, সমমানের গ্রেডে অন্যান্য বিসিএস ক্যাডারদের তুলনায় কর্মপরিবেশের বৈষম্য এবং পেশাগত বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে চিকিৎসকরা তাদের হতাশা প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, যোগদানের প্রথম দিন থেকেই তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। অনেক ডাক্তার উল্লেখ করেছেন যে, তারা ১০-১২ বছর সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ করার পরও পদোন্নতি পাননি, যেখানে অন্যান্য ক্যাডার পরিষেবাগুলোতে, তাদের নিয়মিতভাবে, প্রতি কয়েক বছর পরপর (ক্যাডার অনুসারে পরিসীমা পরিবর্তিত হয়) সময়সূচি অনুসারে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

এ ছাড়াও মেডিকেল অফিসারদের জন্য মানসম্মত বাসস্থানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

রাজধানী বা বড় শহর থেকে দূরে কর্মক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় তাদের সামনে আরেকটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, তাদের সন্তানদের জন্য মানসম্পন্ন স্কুলিং সুবিধা নিশ্চিত করা।