ইসরায়েল-ইরান পরিস্থিতি: সংকটের শঙ্কা বাংলাদেশেও । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

ইসরায়েল-ইরান পরিস্থিতি: সংকটের শঙ্কা বাংলাদেশেও

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৪ পিএম
ইসরায়েল-ইরান পরিস্থিতি: সংকটের শঙ্কা বাংলাদেশেও
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল এখনো বাংলাদেশসহ বিশ্ব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এমন একটি পটভূমিকায় আবারও মধ্যপ্রাচ্যে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের ব্যাপ্তি বাড়লে বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও মূল্য দিতে হবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বের মতো বাংলাদেশও ভুগছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছেন। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা নির্ভর করছে যুদ্ধ কতটা ছড়িয়ে পড়ে সেটার ওপর। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অন্যান্য দেশ এতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে নিঃসন্দেহে বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর উদ্বেগের ব্যাপার হবে। ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ করেছি তেলের দাম কিছুটা বাড়তি। সমুদ্রপথ যদি বিপদসংকুল হয়ে যায়, তাহলে জাহাজে করে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে তেলের দাম অবশ্যই বাড়বে। যুদ্ধ বাড়লে আমাদের জনশক্তি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সম্ভাব্য সংকট উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ে ঈদে স্বস্তি ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় অস্বস্তিতে আছি। কারণ আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব বাজারে পড়বে। এসব চ্যালেঞ্জ যাতে বাজারে না আসে, সেটা মোকাবিলা করতে হবে।’

যদিও অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত খবরের কাগজকে বলেন, ‘যতটা ভয়ের কারণ বলা হচ্ছে আমার মনে হয় না বেশি কিছু হবে। এই হামলা দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ইরান সীমিত আকারে কিছু অভিযান চালিয়েছে। ইসরায়েল হয়তো এর জবাব দেবে। কিন্তু খুব বড় ধরনের যুদ্ধ বেধে যাবে, এমন কিছু হবে না। বিশ্বের কোনো দেশ এই যুদ্ধ চাইবে না। আমার মনে হয় না উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু আছে। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তা হলে অর্থনীতির ক্ষতি তো হবেই, পাশাপাশি পুরো বিশ্বের অস্তিত্ব নিয়ে সমস্যা হবে। কারণ যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মুশকিল। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্বিগ্ন নই। সবাই বোঝে যে যুদ্ধ বেধে গেলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। এই ঝুঁকি কেউ নিতে চাইবে না। তবে আপাতত আমি ভয়ের কোনো কারণ দেখছি না।’ 

যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা 

ইসরায়েলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য খাদের কিনারে। এ অঞ্চলের মানুষ একটি পূর্ণমাত্রার ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মুখোমুখি। তারা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এখনই সময় তাদের খাদের কিনার থেকে ফিরিয়ে আনার। আর এ দায়িত্ব যৌথভাবে সবার।
ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের যুদ্ধবিষয়ক বিশেষ মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে। বৈঠকের পর তারা জানিয়েছে যে ইরানে পাল্টা হামলা চালাবে। 

মার্কিন প্রশাসন যদিও বলছে তারা ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানে হামলা চালাবে না, তার পরও আশঙ্কা কাটছে না। কারণ ইসরায়েলকে পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা দিচ্ছে দেশটি। ইতোমধ্যে ১৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ কংগ্রেসে পাস করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো পরাশক্তিগুলো ইসরায়েলের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশ তিনটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। 

গত শনিবার রাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ‘বিশাল ঝাঁক’ ছোড়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ৯৯ শতাংশ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। যদিও ইসরায়েলের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাদের হামলা শতভাগ সফল হয়েছে। 

এর আগে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করে ইসরায়েল। হামলার ব্যাপারে ইসরায়েল কিছু না বললেও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এই হামলা ইসরায়েল করেছে। নিহত ১১ জনের মধ্যে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কমান্ডারও রয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘যদিও আপাতত মনে হচ্ছে না যুদ্ধ বাড়বে, তার পরও এটা আমেরিকার নির্বাচনের বছর। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচার চালাতে পারেন যে জো বাইডেন মধ্যপ্রাচ্যে হেরে গেছেন। এ ধরনের একটা সিচুয়েশন তৈরি হলে বাইডেন যুদ্ধে জড়াতে পারেন। ইতোমধ্যে ১৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ পাস করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবই আমরা এখনো কাটাতে পারিনি, তারপর যদি এই যুদ্ধ বাড়ে তাহলে অবস্থা ভয়ানক হবে।’

ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের বাজারে মন্দাভাব শুরু

ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের বাজারে মন্দাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তেলের দাম কিছুটা বাড়তি। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানায়, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের বৃহত্তম জোগান আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। তাই ওই অঞ্চলে অস্থিরতা শুরু হলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ রুটে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। ফলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং সেই অস্থিতিশীলতার প্রাথমিক লক্ষণ হলো সোমবারের মন্দাভাব।

অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান গুরুত্বপূর্ণ বিক্রেতা দেশ। জ্বালানি তেলের উত্তোলন ও বিপণনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের অন্যতম এই সদস্যরাষ্ট্র নিজেদের খনিগুলো থেকে প্রতিদিন কমবেশি ৩০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করে।

জ্বালানি পণ্যের বাজার বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যানার্জি আসপেক্টসের কর্মকর্তা অমৃতা সেন বলেন, ‘যদি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা না কমে, তাহলে তার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে পড়বে- তা খুবই স্বাভাবিক… এবং এই প্রভাবের মাত্রা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও অনেক বড় হবে।’

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‌‘যুদ্ধ যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।  আগামী দিনগুলোতে নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব কতটুকু হবে সেটা যুদ্ধের ব্যাপ্তি কেমন হয় সেটার ওপরে নির্ভর করছে।  সেটার জন্য আমাদের আরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।  ইরানের মধ্যে সংযম দেখা যাচ্ছে।  যুক্তরাষ্ট্রও সংযত।  দেখা যাক কী হয়।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যদি পরিপূর্ণ যুদ্ধ লাগে তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে বিশ্বের তার শতগুণ বেশি ক্ষতি হবে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে।  সেই ক্ষতি সারা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও পোহাতে হবে। এখন পর্যন্ত যদিও মনে হচ্ছে না পরিপূর্ণ যুদ্ধ লাগবে কিন্তু এটা বলা মুশকিল।’ 

বাংলাদেশে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব হয়েছে সুদূরপ্রসারী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অস্থির হয়ে ওঠে জ্বালানি তেলের বাজার। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হতে থাকে। মূল্যস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম লাগামছাড়া হয়ে যায়। ঝুঁকিতে পড়ে যায় খাদ্যনিরাপত্তা। অবস্থা এমন হয় যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে সতর্ক করেন।  রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশ যেহেতু গমের বিশাল রপ্তানিকারক দেশ, তাই যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের গমের বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। ভারতও গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ ক্যালরি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রায় ৬৮ শতাংশ চালের ওপর নির্ভর করে এবং প্রায় ৭ শতাংশ জোগান আসে গম থেকে। যুদ্ধের আগে যে প্যাকেটজাত আটার দাম কেজিপ্রতি ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, সেটি বেড়ে হয়েছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা। 

শুধু গম নয়, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেলের বাজারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে বছরে ২০ লাখ টনের মতো ভোজ্যতেল লাগে। এর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন হয় দুই থেকে তিন লাখ টন। আর বাকিটা অর্থাৎ চাহিদার ৯০ শতাংশ পূরণ করতে হয় আমদানি করে। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কথা বলে ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার একটা বিষয় লক্ষ করা গেছে। এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গমের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের দামও প্রতিবেশী যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি হারে বেড়েছে। এই দাম বাড়ার কারণ চালের সরবরাহ ঘাটতি নয়। ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছেন বলেই আমার ধারণা। খাবারের দাম বাড়লেও মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে মানুষের জন্য জীবনধারণ ভীষণ কঠিন হয়ে পড়েছে।’

যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের মানুষের আমিষ গ্রহণের হার অনেক কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে মুরগির খাবারের দাম বাড়ানোকে দায়ী করা হচ্ছে। বাংলাদেশে মুরগির খাবারের ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উপকরণ হচ্ছে ভুট্টা। বিশ্ববাজারে ইউক্রেন ১৬ শতাংশ ভুট্টা সরবরাহ করে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে তীব্র সারের সংকট দেখা দেয়। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার কারখানাগুলোতে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটে। যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে তখন সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। তেলের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় একই পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বাড়তি ডলার খরচ করতে হচ্ছে অর্থাৎ আমদানি ব্যয় বেড়েছে।

কিন্তু সে তুলনায় রপ্তানি না বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এমনিতেই বাংলাদেশ রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি করে। যে কারণে ডলারসংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। 

এ ছাড়া হুমকিতে পড়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানি। যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের অর্থনীতিতে একটি মন্দাভাব চলে আসায় ইউরোপীয়দের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে বাংলাদেশে নতুন অর্ডারের হারও কমেছে।

রাজস্ব ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে আইএমএফ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১২:৪১ পিএম
রাজস্ব ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে আইএমএফ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে রাজস্ব ঘাটতির কারণ জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হলো না কেন সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছেও তার ব্যাখা দিতে হবে এনবিআরকে। 

এনবিআর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে, এমন অঙ্গীকার করেই আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। অথচ এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এনবিআরের সক্ষমতা না বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় প্রতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। রাজস্ব ঘাটতি থাকায় দেশে অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। 

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, এখানে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যারা আছেন তারা বাজেটের আকার বড় করে কাগজেকলমে হিসাব মিলাতে এনবিআরের অঙ্কের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেন। ঋণ পরিশোধের জন্যও এনবিআরের ওপর আদায় বাড়ানোর চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে শুধু লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেই হবে না। এনবিআরকে আদায়ের সক্ষমতা বাড়াতে মনোযোগী হতে হবে। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও ঘাটতি কমবে। অর্থনীতিতে ভারসাম্য আসবে। 

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারায় এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। 

এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন খাতের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে কমিয়ে আমদানি শুল্ক ৪৩ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা, আমদানি পর্যায়ের ভ্যাট ৫২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ১৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক ৬৩ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক ৪ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট ১ লাখ ৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ের সম্পূরক শুল্ক ৪১ হাজার ৬১ কোটি টাকা, টার্নওভার কর ৪৫ লাখ টাকা করা হয়। একইভাবে আয়কর কমিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা এবং ভ্রমণ কর কমিয়ে ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা করা হয়। 

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের গত ১০ মাসে যে সংশোধিত লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে ২৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা কম আদায় করতে পেরেছে এনবিআর। মূল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই আদায় ৪৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা কম। গত জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত সব মিলিয়ে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৩২১ কোটি টাকার শুল্ক কর আদায় হয়েছে। এই সময় সংস্থাটির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা।

আমদানি কর, ভ্যাট ও আয়কর- এই তিন খাতের মধ্যে কোনোটিই গত ১০ মাসে লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। এর মধ্যে আমদানি পর্যায়ে ৮২ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, ভ্যাটে ১ লাখ ১১ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা ও আয়করে ৯৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে এনবিআর। 

চলতি অর্থবছর শেষ হতে চলতি মে এবং জুন মাস বাকি আছে। এনবিআর থেকে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে এবং এনবিআরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এনবিআরের পরিকল্পনামতো বা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আদায় হলেও রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি এড়ানো যাবে না। বাকি দুই মাস মে ও জুনে এনবিআরকে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হলে এনবিআরকে আরও ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। যা অসম্ভব বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।     

ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করে আইএমএফের কাছে পাঠানো এনবিআরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অর্থবছরের শেষ মাসে আদায় বাড়ার সম্ভাবনা আছে। বিশেষভাবে উৎসে কর খাতে বড় ধরনের আদায় হবে। রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে এমন সব প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং শুল্ক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে  অভিযান চালানো হচ্ছে। আর এতেও বড় অঙ্কের অর্থ আদায় হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে রাজস্ব ঘাটতি কমবে বলে আশা করা যায়।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এনবিআরের সঙ্গে আইএমএফের বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জন্য আইএমএফ থেকে ৪ লাখ কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব ঘাটতির কারণ হিসেবে ডলারসংকটকে দায়ী করে এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। বিশ্বব্যাপী ডলারসংকট চলছে। ডলারসংকটের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক ধারা রয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে আয় বাড়েনি। বরং অনেকের আয় কমেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না। বেশির ভাগ শিল্প মুনাফা করতে পারছে না। নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ করেছে এমন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ডলারসংকটের কারণে সঠিক হিসাবে এনবিআরের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না। এতে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদায় হচ্ছে না। ফলে রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এনবিআরের অনেক খাতে প্রবৃদ্ধি আছে। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দেশে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা নেতিবাচক ধারা রয়েছে। তবে এনবিআর হতাশ না। যেকোনো পরিস্থিতির মধ্যেই রাজস্ব আদায় বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি ভালো ফল আসবে।    

এনবিআরের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের তাগিদ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১২:০৪ পিএম
এনবিআরের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের তাগিদ

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বছরের পর বছর পেট্রোবাংলা ও বিপিসির কাছে আটকে থাকা ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া রাজস্ব আদায়ে তিন চেয়ারম্যানকে নিয়ে বৈঠকে বসলেন অর্থ সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব। বৈঠকে ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম পেট্রোবাংলা ও বিপিসির কাছে বকেয়া রাজস্ব কত সময় থেকে পাওনা রয়েছে জানিয়ে তা চলতি অর্থবছরে পরিশোধের অনুরোধ জানান। কতবার এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পরিশোধে তাগাদা দেওয়া হয়েছে, তাও তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের শুল্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে কোন কোন খাতে রাজস্ব বকেয়া রয়েছে, তা তুলে ধরেন। তবে এনবিআরের দাবি করা রাজস্বের পরিমাণের সঙ্গে দ্বিমত করেন পেট্রোবাংলা ও বিপিসির চেয়ারম্যান। তারা এসব বকেয়ায় কিছু ছাড় পাবেন বলেন জানান। ফলে বকেয়ার পরিমাণ কমবে বলেও দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে আবারও হিসাব করা প্রয়োজন বলেও জানান তারা। 

বৈঠকে আগামী অর্থবছরে জ্বালানি খাতের ভর্তুকির পরিমাণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া আসছে বাজেটে জ্বালানি খাতের  শুল্ক কর ও ভ‍্যাট নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, এ বৈঠকে বকেয়া রাজস্ব পাওনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বকেয়া অবশ্যই পরিশোধ করা হবে। তবে যাদের কাছে পাওনা, তাদের কিছু বক্তব্য আছে। তা শোনা হয়েছে। বিষয়টি সমাধান করে চলতি অর্থবছরেই বকেয়া আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের এমন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, এনবিআর থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব দাবি করা হয়েছে তা বিপিসি ও পেট্রোবাংলার হিসাবের চাইতে কিছু বেশি। অর্থবছরের শেষ সময়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি আছে। এনবিআর সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখন দেখা যাক কতটা আদায় হয়। বছরের পর বছর এ বকেয়া আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন অজুহাতে বকেয়া পরিশোধ করছে না।

বৈঠকে উত্থাপিত এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়,‌ ‘পেট্রোবাংলা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত এনবিআরের পক্ষে রায় দেন। পরে ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সভায় বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে এই রাজস্ব পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রাহকের কাছ থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে ১৫ হাজার ৬৯৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আদায় করেও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বিধিবহির্ভূতভাবে সমন্বয় করা ১ হাজার ৭৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কর বাতিল করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই দুটি খাতে পাওনা হিসেবে ১৬ হাজার ৭৭৪ কোটি ২৩ লাখ বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো পরিশোধ করা হয়নি।’

বৈঠকের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, ‍‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্য খাত থেকে রাজস্ব আদায় করে এনবিআরের কাছে জমা দিয়ে থাকে। এর পরিমাণ মোট রাজস্ব আদায়ের প্রায় ১০ শতাংশ। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগে বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার বাকিটা আয়কর ও শুল্ক। এসআরও শর্ত প্রতিপালন, অতিরিক্ত রেয়াত গ্রহণ, গ্যাসের বর্ধিত মূল্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ না করা, গ্রাহক থেকে ভ্যাট আদায় করে পরিশোধ না করা, ভর্তুকি মূল্যের ওপর ভ্যাট পরিশোধ না করা, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে জেট ফুয়েল সরবরাহকে রপ্তানি হিসেবে গণ্য না করা, আয়কর অধ্যাদেশের ৮২সি ধারা বিতর্কসহ মামলা জটিলতায় এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া। 

২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পেট্রোবাংলার কাছে মোট পাওনা ২১ হাজার ৮০১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৭ কোটি আট ৮ টাকা। রেয়াত গ্রহণের শর্ত পালন না করায় পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা হয়। ২০২০ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা এলএনজি ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ এবং সুনির্দিষ্ট কর আরোপিত পণ্যে রেয়াত গ্রহণের সুযোগ না থাকায় ২ হাজার ১৯৪ কোটি ১২ লাখ টাকা ভ্যাট পাওনা রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্যাসের বর্ধিত মূল্যের ওপর অপরিশোধিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পাওনা হয় ১ হাজার ৮২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। 

উপজেলায় স্বজনরা প্রার্থী দ্বিতীয় ধাপেও থামানো গেল না মন্ত্রী-এমপিদের

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
দ্বিতীয় ধাপেও থামানো গেল না মন্ত্রী-এমপিদের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনেও থামানো গেল না মন্ত্রী-এমপিদের। আওয়ামী লীগের নির্দেশ অমান্য করে তাদের (মন্ত্রী-এমপির) পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নিয়ে দলটির হাইকমান্ড উদ্বিগ্ন। এদিকে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। 

মঙ্গলবার (২১ মে) দ্বিতীয় এবং ২৯ মে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টিআইবি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপির পরিবারের ১৭ সদস্য ও স্বজনরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ১৭ জন। এর মধ্যে ১২ জন নির্বাচিত এবং ৫ জন পরাজিত হয়েছেন। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মন্ত্রী-এমপির পরিবারের বিপুলসংখ্যক সদস্য ও স্বজন। গত ১২ মে এই নির্বাচনে (তৃতীয় ধাপ) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় অতিবাহিত হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি দলের একাধিক নীতি-নির্ধারক খবরের কাগজকে বলেছেন, মন্ত্রী-এমপিদের এই ভূমিকার কারণে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত হোঁচট খাচ্ছে। 

টিআইবি রবিবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে লড়ছেন মন্ত্রী-এমপিদের ভাই, চাচাতো ভাই, পিতা, ভগ্নিপতি, শ্যালক, চাচাশ্বশুর ও খালু। বিভিন্ন উদ্যোগ ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপির এই স্বজনদের থামাতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘যারা দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচন করছেন, সময় হলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যেকোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তাদের। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ পার পাবে না। এ বিষয়ে আগামীতে দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।’ 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী বৈঠকে দলের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তিনি জানান, নির্দেশ অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা চলছে। প্রত্যাহার না করলে কী করবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে ঘোষণা দিয়ে প্রার্থী যাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান, সে চেষ্টা করা হবে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি মন্ত্রী-এমপি এবং তাদের স্বজনদের নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন- নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুনের ছোট ভাই নজরুল মজিদ মাহবুব, লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলায় সাবেক মন্ত্রী ও এ আসনের এমপি নুরুজ্জামান আহমেদের ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ এবং ছেলে রাকিবুজ্জামান, কুমিল্লা সদরে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও এ আসনের এমপি আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাসের ছোট ভাই গোলাম সারওয়ার, জামালপুরের বকশীগঞ্জে এমপি নূর মোহাম্মদের ভাই নজরুল ইসলাম, রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি উপজেলায় রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের চাচাতো ভাই এহসানুল হাকিম সাধন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই বুলবুল আহমেদ টোকন, নড়াইলের লোহাগড়ায় এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজার চাচাশ্বশুর ফয়জুল হক রোম, চুয়াডাঙ্গা সদরে এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দারের ভাতিজা নঈম হাসান জোয়ার্দার, শরীয়তপুর সদরে এমপি ইকবাল হোসেন অপুর চাচাতো ভাই বিল্লাল হোসেন দিপু মিয়া, বগুড়ার আদমদীঘিতে এমপি খান মুহাম্মদ সাঈফুল্লাহ আল মেহেদীর পিতা সিরাজুল ইসলাম খান, নোয়াখালীর সেনবাগে এমপি মোর্শেদ আলমের পুত্র সাইফুল ইসলাম দীপু, ভোলার বোরহানউদ্দিনে এমপি আলী আজম মুকুলের ভগ্নিপতি মো. জাফর উল্লাহ, গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলীর বড় ভাই জামিল হাসান দুর্জয়, হবিগঞ্জের বাহুবলে এমপি আবু জাহিরের শ্যালক আক্তারুজ্জামান, পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এমপি মকবুল হোসেনের ছেলে গোলাম হাসনায়েন এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এমপি নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ। তারা প্রত্যেকেই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ছেলে হাসনাইন রাসেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সারা দেশের চিত্র আপনারা জানেন। এর আগে আমার ছেলে দুইবার পৌর মেয়র ছিল। সে পৌরসভাকে গুছিয়ে দিয়েছে। তাই স্থানীয় জনগণ জোর করে তাকে (ছেলেকে) প্রার্থী বানিয়েছে। তবে আমি বলেছি, ছেলের জন্য ভোট চাইতে পারব না। এমপি মকবুল হোসেন দাবি করেন, তার পরিবার ৮০ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এরই ধারাবাহিকতায় ছেলে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।’ 

অবশ্য এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বাকী বিল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, এমপি মকবুল হোসেন এবং তার ছেলে রাসেলের নির্দেশে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। তাই নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। 

এদিকে তৃতীয় ধাপে (২৯ মে) নোয়াখালী সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন লড়ছেন। এখানে ওবায়দুল কাদেরের আরেক ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুলকে প্রার্থী দিয়ে মাঠে আছেন।

নরসংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লার স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম শিবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরেক এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলামের ভাতিজা আমিনুল ইসলাম তুষার। কক্সবাজারের রামু উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের বড় ভাই সোহেল সরওয়ার কাজল। উখিয়া উপজেলায় মাঠে আছেন স্থানীয় এমপি শাহীন আক্তারের ভাই জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী।’

জাতীয় সংসদের হুইপ ও কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনে বড় ভাইয়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আমি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে চাই না। দল ও নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মেনে সে (সোহেল সরওয়ার কাজল) নির্বাচন করলে দল তাকে বহিষ্কার করতে পারে।’ 

নরসিংদীর শিবপুরে চেয়ারম্যান পদে স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা খবরের কাগজকে বলেন, ‍‘জনগণের আগ্রহের কারণে তার স্ত্রী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, এটা ঠিক চেয়ারম্যান প্রার্থী তার স্ত্রী, তবে জনগণ ভোট দিলে জনপ্রতিনিধি হতে তো আর বাধা নেই।’ 

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:৩৫ পিএম
ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও
হাইকোর্ট

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করার জন্য ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সাত বছরে মোট তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিগত ১০ বছরেও এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। মাঝেমধ্যে কিছু পুলিশি তৎপরতা দেখা গেলেও তদারকির অভাবে ক্রমান্বয়ে সড়ক-মহাসড়ক চলে গেছে তাদের দখলে। 

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এ ধরনের সব রিকশা বন্ধ করতে ২০১৪ সালে প্রথমবার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ২০১৭ সালে এসব পরিবহন বন্ধে আরেক দফা নির্দেশনা দেওয়া হয় হাইকোর্ট থেকে। এরপর ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ থ্রি-হুইলার ও ইজিবাইক বন্ধ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে অটোরিকশার আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়। এ আদেশের সংশোধন চেয়ে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আপিল বিভাগে আবেদন করে। আবেদনের শুনানি শেষে মহাসড়কে সব ধরনের থ্রি-হুইলার ও ইজিবাইক চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। 

আদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা সর্বত্র বন্ধের আদেশ বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। আদেশের ফলে ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলার গ্রামাঞ্চলের সাধারণ রাস্তায় চলাচলের সুযোগ পায়। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সারা দেশে সব মহাসড়কে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কয়েক দফা বিজ্ঞপ্তি জারি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। 

বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে সড়কে আজও কোনো শৃঙ্খলা ফেরেনি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন আইনজীবীরা। এ ব্যাপারে রিটের শুনানিতে অংশগ্রহণকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত খবরের কাগজকে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, বিদ্যুতের অপচয় রোধসহ বিভিন্ন কারণে ওই রিট দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শুনেছি নির্দেশনার আলোকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রত্যেকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে তদারকির প্রয়োজন, যা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।’

রিটকারীর আইনজীবী আতিক তৌহিদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত রিকশা কোনো অবস্থাতেই দেশের কোথাও চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের কোনো যানবাহন দেশের কোনো মহাসড়কে উঠতে পারবে না। কিন্তু অদ্যাবধি এ রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ রায় বাস্তবায়ন না করায় মূলত সর্বোচ্চ আদালতকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।’

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ চেয়ে ২০২১ সালে ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বাঘ ইকো মোটরস লিমিটেডের সভাপতি কাজী জসিমুল ইসলাম। এতে শিল্পসচিব, সড়ক পরিবহনসচিব, পরিবেশসচিবসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছিল। রিটে বলা হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক এবং এ ধরনের যানবাহনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এ জন্য বিদ্যুৎ খাত থেকে সরকার প্রয়োজনীয় রাজস্ব হারাচ্ছে। এগুলো পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। রুট পারমিট ছাড়াই রাস্তায় বেপরোয়া চলাচল করে। এতে দুর্ঘটনা বেড়েছে। মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাই এ ধরনের যানবাহন বন্ধ করা জরুরি। 

রিটের শুনানি শেষে ১৫ ডিসেম্বর এক আদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ। একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকসহ এ ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। শুনানিতে রিটের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট আতিক তৌহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ দেশের সব মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এসব নির্দেশনার আলোকে প্রথম দিকে পুলিশি তৎপরতায় মহাসড়কে এসব যান চলাচল কমে গিয়েছিল। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমতে থাকে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই মহাসড়ক আবার তিন চাকার গাড়ির দখলে চলে যায়। এর ফলে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার আবার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

>ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন গলার কাঁটা

ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন গলার কাঁটা

ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন গলার কাঁটা
ব্যাটারিচালিত রিকশা

ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রথম ঢাকা শহরে চালু হয় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) আমলে, ২০০৯ সালের শেষের দিকে। তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এগুলোকে বৈধতা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাদ সাধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সেই সময় ডিসিসি ও বিআরটিএর মধ্যে বিরোধ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন পিছু হটে ডিসিসি। 

তারপর থেকে অবৈধভাবেই বিকশিত হতে থাকে এই রিকশা। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ যেটাকে ‘বাংলার টেসলা’ বলছেন সেটাকেই এখন অবৈধ তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ করতে চাইছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরু থেকেই ক্ষমতাসীনরা না চাইলে তো এটি বিকশিত হতে পারত না। শুরুতেই যদি সরকার কঠোর হতো তাহলে আজ এই পরিস্থিতি দেখতে হতো না। এখন লাখ লাখ পরিবারের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর কঠোর সিদ্ধান্তে আসতে হবে। 

তখন অভিবক্ত ডিসিসি বৈধতা দিতে চাইলেও এখন বিভক্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) চায় না এই রিকশা চলাচল করুক। কারণ হিসেবে সংস্থা দুটি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলছে। 

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলছেন, সিদ্ধান্তে আসা দরকার যে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক চলবে না। এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলছেন, ভয়াবহ ব্যাপার, যখন ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা দুই পা ওপরে উঠিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালান। অনেক প্রতিবন্ধী চালক আছেন, যারা চোখে কিছুটা কম দেখেন, তারাও এই রিকশা নিয়ে নেমে পড়েন।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সভাপতি আবু নাসের খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রথম থেকেই এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হতো, তা যখন করা যায়নি তাহলে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তারপর কঠোর হওয়া দরকার।’

‘বাংলার টেসলা’ নিয়ে শুরুর মতবিরোধ চলছে এখনো
অবিভক্ত ডিসিসি ও বিআরটিএর সেই পুরোনো মতবিরোধ এখনো বিদ্যমান। সরকারের একটি অংশ মনে করছে এটি বিপজ্জনক। তাই চলতে দেওয়া যাবে না। আরেকটি অংশ বলছে, এটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও রয়েছে ব্যাপক উপযোগিতা। 

টেসলা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ কোম্পানি। ব্যাটারিচালিত রিকশাকে তাই বাংলার টেসলা বলে অভিহিত করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা হলো ‘বাংলার টেসলা’। এসব যান যতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, তার চেয়ে রিটার্ন অনেক বেশি। অথচ যেসব কথা বলে এখন এসব রিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে বিপুল বিদ্যুৎ খরচ হয়। 

রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান রিপন খবরের কাগজকে বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ব্যাটারিচালিত রিকশাকে বাংলার টেসলা বলেছেন। তিনি দ্রুত এসব রিকশার গতিসীমা ঠিক করে ও নীতিমালা প্রণয়ন করে লাইসেন্স দিতে বিআরটিএকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিদ্যুৎ অপচয় করছে। একটি বাসায় ৬ ঘণ্টা এসি চালাতে ১৬ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে; আর একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। এ ছাড়া আবাসিকের চেয়ে বহুলাংশে বিল দিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশামালিকরা। আমাদের দাবি হলো, মোটরযান গতিসীমা নীতিমালা সংশোধন করে দ্রুত লাইসেন্স দেওয়া হোক। ব্যাটারিচালিত রিকশা কিন্তু মূল সড়কে চলে না, চলে অলিগলিতে। হুট করে এসব রিকশা বন্ধ হয়ে গেলে নগরবাসী যে বিপাকে পড়বেন, তার দায় নিতে হবে বিআরটিএ ও সড়ক মন্ত্রণালয়কে। 

সম্ভাব্য রাজস্ব যাচ্ছে চাঁদাবাজদের পেটে
নিবন্ধন দেওয়া, না দেওয়া নিয়ে সরকারের ভেতরে মতবিরোধের মধ্যেই বেড়ে ওঠা এই খাত থেকে বিপুল রাজস্ব পেতে পারত সরকার। নিবন্ধন দিলে বছরে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ পুরোটা চলে যাচ্ছে চাঁদাবাজদের পকেটে। 

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ব্যাটারি অ্যান্ড মোটরচালিত অটোরিকশা অটোবাইক সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, আমদানিকারকরা বিভিন্নভাবে ইজিবাইক আমদানি করে রাস্তায় নামিয়েছেন। এর মাধ্যমে লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে অনেক শিক্ষিত বেকার রয়েছে। ২০১৬ সালে সারা দেশে ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা ছিল দুই থেকে আড়াই লাখ। বর্তমানে সেটি ৫০ লাখে উন্নীত হয়েছে। বিশাল সেক্টরের আয়ের সিংহভাগ চাঁদাবাজরা বিভিন্নভাবে আদায় করে নিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অটোরিকশার চাঁদার ভাগ পায় ট্রাফিক পুলিশ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কাউন্সিলররা। এ ছাড়া স্থানীয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পাড়ামহল্লার মাস্তানরাও চাঁদাবাজি করছে। বিনিময়ে এসব রিকশা চলতে দিচ্ছে তাদের এলাকায়। চাঁদা না দিলে অটোরিকশা চালকদের ধরে এনে নির্যাতন করে পুলিশ। এক হিসাবে রাজধানী ঢাকাতে টোকেনের নামে ৬০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হয় অটোরিকশা চালকদের। 

সূত্র জানায়, রিকশাপ্রতি রেকার বিল গুনতে হয় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। আবার কোনো রিকশা ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া হলে দিতে হয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত। মাসিক চাঁদার টাকা পরিশোধ করে রাস্তায় নামাতে হয় রিকশা। রাজধানী ঢাকায় অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। মাসে গড়ে রিকশাপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা টোকেন নিতে হয়। এই হিসাবে মাসে অবৈধভাবে আদায় করা হয় ৬০ কোটি টাকা।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি। কমিটির সভাপতি জামসেদ আনোয়ার তপন ও সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়ে বলা হয়, অবিলম্বে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে লাইসেন্স দিতে হবে বিআরটিএকে। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিরাপদ ও উন্নত করার একাধিক মডেলের প্রস্তাব দেশের অন্তত দুটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় করেছে। এই লোকায়ত প্রযুক্তিটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কষ্ট লাঘব ও কর্মের সংস্থান করেছে। একটি টেকসই ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদী ও আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে বারবার এসব শ্রমজীবী মানুষের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের মদদে ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের যৌথ অংশগ্রহণে ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে যারা এত দিন অবৈধ রুট পারমিট প্রদানের মাধ্যমে চাঁদাবাজি চক্র পরিচালনা করেছে তারাই গত দুই দিন ধরে গ্যারেজে গ্যারেজে হামলা চালিয়ে ব্যাটারিসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ আটকের নামে লুটতরাজ পরিচালনা করছে। কয়েকটি স্থানে সড়কে রিকশাচালকদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

অনড় অবস্থানে সরকার
গত বুধবার রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ ভবনে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় রাজধানীতে ব্যাটারি বা যন্ত্রচালিত কোনো রিকশা চলতে না দেওয়ার নির্দেশ দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওই সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানো যাবে না। এটা আগে কার্যকর করুন। এ ছাড়া ২২ মহাসড়কে রিকশা ও ইজিবাইক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেটা বাস্তবায়ন করুন। আর ঢাকা সিটিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা যাতে না চলে, সেই বিষয়ে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, এগুলো চলতে যাতে না পারে, সেটার ব্যবস্থা করুন।’

এর পরপরই এসব রিকশা নিষিদ্ধে তোড়জোড় শুরু করে প্রশাসন। বিআরটিএর এনফোর্সমেন্ট বিভাগসংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু ঢাকা নয়, দেশের সব মহানগরীর সড়ক থেকে ও ২২টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে গতকাল থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। মহানগর, জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। 

বিকল্প কর্মসংস্থান করে নিষিদ্ধের দাবি
যদি এসব রিকশা নিষিদ্ধই করতে হয় তাহলে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তারপর নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। না হলে লাখ লাখ মানুষের পথে বসার উপক্রম হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক রোকশানা আফরোজ আশা খবরের কাগজকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা নেওয়ার আগে ভাবা উচিত ছিল, এসব মানুষ যাবে কোথায়? বিকল্প ব্যবস্থা না করে গরিব মানুষের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না হলে এই রিকশাচালকদের কিছুই করা যাবে না।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আরমানা সাবিহা হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো যখন সড়কে নামানো হয়েছিল, তখনই কিন্তু ওদের চলাচলের এলাকা আর গতিসীমা নির্ধারিত করে দেওয়ার দরকার ছিল। শুধু নিরাপত্তার ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দিলে সড়কের সমস্যার সমাধান হবে না। এখানে অনেক শ্রমিকের রুটিরুজির ব্যাপার আছে। আর্থিক নিরাপত্তার দিক চিন্তা করে তাদের আগে পুনর্বাসন করা দরকার। ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়ক থেকে তুলে দিলে সেখানে বিকল্প পরিবহন কী হবে, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। 

>ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও