অগ্নিদগ্ধ রোগীদের জন্য বিশেষায়িত বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল করার আগেই পাহাড় কাটছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চমেকের নিজস্ব জায়গায় চট্টেশ্বরী সড়কের গোয়াছিবাগান এলাকায় প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে ঢালু করছে কর্তৃপক্ষ।
চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চীন-বাংলাদেশ যৌথ অর্থায়নে নির্মিত ১৫০ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল করার জন্য পাহাড় কাটার অনুমোদন চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। পাহাড় কেটে ঢালু করা হচ্ছে, যাতে ধসে পড়ে হাসপাতালে ক্ষতি না হয়। পাহাড়ে কোনো স্থাপনা করা হচ্ছে না।
এদিকে বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চীনের প্রতিনিধিদল, পরিবেশবিদসহ স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। চমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, পাহাড়কে উচ্চতা ঠিক রেখে ঢালু করা হচ্ছে, যাতে ধসে না পড়ে।
তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘চট্টগ্রামে বড় বড় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অথচ চট্টগ্রামের অগ্নিদগ্ধ মানুষের জন্য বিশেষায়িত কোনো বার্ন ইউনিট নেই। চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ১৫০ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল করা হচ্ছে। এ হাসপাতাল হলে আর কোনো রোগীকে নিয়ে ঢাকায় যেতে হবে না।
পাহাড় কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ের নিচে সমতল জায়গাতেই বার্ন ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। পাহাড়ে কোনো স্থাপনা হবে না। কিন্তু পাহাড়কে একটু ঢালু করা হচ্ছে, যাতে ধসে না পড়ে। এটি পরিবেশ উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি। চীনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ কাজ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, পূর্ব অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে পাহাড় কাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের একটি দল গোয়াছিবাগান এলাকা পরিদর্শন করেছে। এ সময় একটি নোটিশ দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১৩ জানুয়ারি শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে পাহাড় কাটা বন্ধ রেখেছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোয়াছিবাগান এলাকায় রাস্তার পাশে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে পুরো প্রকল্পের কাজ। প্রবেশ গেটে লেখা রয়েছে, চীন অ্যাড প্রজেক্ট অব বার্ন ইউনিট অব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। পাহাড় থেকে সরিয়ে রাস্তায় এনে রাখা হয়েছে দুটি ভেকু। একটি বড় ব্যানারে প্রজেক্টের ছবি ডিসপ্লে করা আছে। তবে চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে চট্টেশ্বরী সড়কের চলাচলকারীরা বুঝতে পারছেন না, ভেতরে কী হচ্ছে। আড়াল তৈরি করে ভেতরে কাটা হচ্ছে পাহাড়।
জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক বেগম সোনিয়া সুলতানা খবরের কাগজকে বলেন, ‘চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমরা নোটিশ দিয়েছি। এখন পাহাড় কাটা বন্ধ রয়েছে। চমেক হাসপাতালকে আগামী ১৩ জানুয়ারি শুনানিতে অংশ নিতে বলেছি। কোনোভাবেই পাহাড় কাটার আইনি কোনো বিধান নেই। এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছিল চমেক হাসপাতাল। এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তারা ইআইএ (পরিবেশগত প্রভাব নিরীক্ষণ) জমা দেয়নি এখনো।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) ফিল্ড অফিসার ফারমিন এলাহী বলেন, ‘চট্টগ্রামের জন্য বার্ন ইউনিট হাসপাতালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। কিন্তু এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, পাহাড় না কেটে অবকাঠামো তৈরি করবে। বর্তমান কর্তৃপক্ষ বলছে, পাহাড়কে ঢালু করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে কী করা হবে, সেটি আগে জানানো উচিত ছিল। তাহলে এ বিতর্ক আসত না। এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে, কাজও বন্ধ আছে।’