বিসিবির নির্বাচনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ঢাকা বিভাগ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান। তিনি জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হয়েছিলেন। নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ এনে তিনি নিজের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। অথচ তিনি প্রাথীতা ফিরে পেয়েছিলেন আপিল করে। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তিনি দাঁড়ালেও ব্যালট পেপারে তার নাম থেকে যাবে। তিনি সরে যাওয়াতে ঢাকা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। নির্বাচন থকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। তার বলা কথার উল্লেখযোগ্য অংশ খবরের কাগজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আপনারা জানেন, আগামীকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে বিগত সময়ে যা যা ঘটেছে, যত কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, যাই কিছুই ঘটুক, এগুলোর বিষয়ে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে চেম্বার জজের বিচারাধীন ছিল। রিট হয়েছিল, রিটগুলো বিচারাধীন ছিল। রায় আপনারা অবগত আছেন। আমি একজন প্রার্থী হিসেবে আমি বলতে চাই, আমি ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা এবং জেলা ক্রিকেট সংস্থা সমূহ থেকে আমি প্রার্থী ছিলাম। আপনারা জানেন, আমার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছিল। সেটিও আমি অনেক কষ্ট করে পুনর্বহাল করেছি।
আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন আমি চাই, যে নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারি। কিন্তু আপনারা সবকিছুই দেখছেন, জানছেন। আপনাদের মাধ্যমেই আজকে আমারদেশ পত্রিকায় রিপোর্টটাও পড়তে পারেন। ওখানে হেডলাইন এসেছে, বিসিবির নির্বাচন সুসম্পন্ন। নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। আমি নির্বাচনী শিডিউল অনুযায়ী ১ তারিখে ই-ব্যালট, পোস্টাল ব্যালট দেওয়ার কথা ছিল। আমি নির্বাচন কমিশনের সাথে বহুবার দেখা করতে চেয়েছি, আমার সাথে দেখা করেনি। আমি দরখাস্তও দিয়ে দিতে চেয়েছিলাম যে, ই-ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট শুধু তাদেরকেই দিবেন যারা দেশের বাইরে অথবা হাসপাতালে রোগী হিসেবে আছেন। যারা সুস্থ, যারা ঘুরেফিরে খাচ্ছেন, যারা কাউন্সিলর হয়েছেন, যারা হোটেলে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন, তারা কেন ই-ব্যালটে ভোট দিবেন? ভোটটা কী? ভোট হলো একটি বন্ধন প্রক্রিয়া।
সকল কাউন্সিলর এক জায়গায় আমরা আসবো, আমরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করব। আপনার জেলার কী সমস্যা, আমার জেলার কী সমস্যা— মতবিনিময় করব, আমরা জানতে পারব। বছরে একটা দিন, সবসময় তো হয় না। সুন্দরভাবে ভোট দিব। যারা জিতবে, তাদের অভিনন্দন জানাব। যারা হারবে, তাদেরকে সমবেদনা জানাব। এই তো ভোট। কিন্তু ভোট কি এই হচ্ছে? আমি এখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজন প্রার্থী সম্পর্কে বলতে চাই। তারা একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটের লিজেন্ড। আমি লিজেন্ড হিসেবে উনাকে শ্রদ্ধা করি। এবং সারা বিশ্বে উনার খ্যাতি রয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেব। উনার উচিত হয়নি এই ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা থেকে প্রার্থী হওয়া। উনি কোনোদিনই ঢাকা বিভাগের কোনো জেলারই কোনো সদস্য ছিলেন না। কোনো জেলারই কোনো ক্রিকেট নিয়ে উনি কাজ করেননি। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি, আপনারা যদি দেখাতে পারেন— কোনো জেলার একটা ক্রিকেট নিয়ে উনি একদিন ঢাকা বিভাগের মতবিনিময় করে অতীতেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, যা বলবেন তাই মেনে নিব।
আজকে দেখলাম উনি অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। এই ভালো কথাগুলি আগে বলা উচিত ছিল। আমরা এই ভালো প্রক্রিয়ায় সারাটা জীবন নিজেকে ব্যয় করে দিয়েছি আমার জেলায়, পার্শ্ববর্তী জেলা বা অন্য জায়গায়। খুঁজলে দেখবেন, সত্য না মিথ্যা। আমরা বলতে পারি না। উনি আরো দেখেন, যে অ্যাডহক কমিটির বাধ্যবাধকতা করেছে, সে অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন কবে?
উনি যদি অ্যাডহক কমিটির সাথে কাজই করতে চাইতেন, মেম্বার উনি আগেই হতে পারতেন, ৫ তারিখের পরেই হতে পারতেন যে, ‘আমাকে ঢাকা বিভাগের অ্যাডহক কমিটির মেম্বার করা হোক, আমি ঢাকা বিভাগ নিয়ে কাজ করব।’ চাননি। মেম্বার হয়েছেন নির্বাচন শুরু হলে। একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন এবং কাউন্সিলর হয়েছেন। এবং উনি চিঠি দিয়ে সকল জেলায় অ্যাডহক কমিটির বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করেছেন। একই প্রকার নাজমুল আবেদিন ফাহিম। উনি গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। তখন আমি ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলাম। আমি সেই প্রসঙ্গে যাইতে চাই না। উনার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হওয়ার দেখেন— ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় উনি কবে, কোন সময়, কোন উপজেলায়, ঢাকার কোন বিট নিয়ে কোন সময় মেম্বার ছিলেন, কোন খেলা পরিচালনা করছেন— আমি একটু জানতে চাই। উনিও একই প্রক্রিয়ায় ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন। তাহলে অত্যন্ত সুকৌশলে সারা দেশের যোগ্য ক্রীড়া সংগঠকদের যারা যার যার জেলার ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকে, তাদেরকে বিদায় করে কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদেরকে ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর বানিয়েছেন। গেল? তারপর আমি বলব, ঢাকা বিভাগীয় কিছু কাউন্সিলর, আমি নাম ধরে বলতে পারি। রাজবাড়ী জেলার কাউন্সিলর, ফরিদপুর জেলার কাউন্সিলর, গোপালগঞ্জ জেলার কাউন্সিলর, গাজীপুর জেলার কাউন্সিলর— এরা বিগত কয়েকদিন যাবত হোটেল শেরাটনে অবস্থান করছেন। তাদের কি এতই পয়সা আছে? নিজের পয়সায় তারা হোটেল শেরাটনে অবস্থান করে ভোট পরিচালনা করছেন? এর নাম নির্বাচন? আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেবকে আমি এই নির্বাচন, উনি তো একজন ভোটার, আমি উনার কাছে ভোট চাইতে পারি। একটা দিন আমার ফোন রিসিভ করেননি উনি। একদিনও না। বা পালটা কোনো মেসেজও পাঠাননি যে, ‘আমি পরে আপনাকে ব্যাক করতেছি।’ করেননি। এটা তাহলে কিসের ভোট? আমি যদি একজন ভোটারের কাছে ভোটই চাইতে না পারি, কিসের ভোট? আমি চারজন কাউন্সিলরের ফোন নাম্বার এখন পর্যন্ত পাইনি। বিসিবি আমাকে দেয়নি। চারজন কাউন্সিলরের। তাহলে ভোট কি? তাহলে আমি কিভাবে ভোট করব? ভোটটা তো স্বচ্ছ না।
আমি প্রমাণগুলি দিচ্ছি, আপনি প্রমাণ নেন। তারপরে আমি ই-ব্যালটের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে ১ তারিখে বললাম যে, ‘আপনারা আজকে ৪টা পর্যন্ত ই-ব্যালটের তথ্য দেওয়ার কথা আমি একজন প্রার্থী। আমাকে তথ্য দিন।’ আমি লিখিতভাবে জানাতে চাইলাম। অফিস বন্ধ। কিচ্ছু নাই। তারা কোথায় বসে? কোনো ঠিকানা নাই। নির্বাচন-এর কাজ থাকবে, নির্বাচন যতদিন চলমান থাকবে, নির্বাচন কমিশন অফিস সবসময় এখানে খোলা থাকবে। আমাদের নানান বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি। উনারা আসেননি। বহুবার ফোন করেছি, আমি ফোনের প্রমাণ দেখাইতে পারি। ফোন রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে আমি সিইওর সাথে কথা বললাম। সিইওকে বলার পর সিইও তাদের সাথে কথা বললো। তারা আমাকে তথ্য দিল ৪ তারিখে যে, ৬৩ জন ই-ব্যালট নিয়েছে। আমি বললাম, ‘আমার ৬৩ জন তো জানার দরকার নাই। আমার দরকার আমার বিভাগে কতজন নিয়েছে, কে কে নিয়েছে।’ ‘এই তথ্য তো আমি পেতে পারি।’
বলে, ‘এই তথ্য তো আমরা দিতে বাধ্য নই।’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই বাধ্য।’ তাহলে, ‘বলেন আমাকে, আমি নির্বাচন থেকে সরে যাই।’ ফোন রেখে দিল। ফোন আর ধরলেন না। পরবর্তীতে সিইওর মাধ্যমে জানতে পারি, ঢাকা বিভাগ থেকে ৭ জন ই-ব্যালট নিয়েছেন। আজকে পত্রিকার মাধ্যমে, আজকেও পর্যন্ত আমি নির্বাচনে ছিলাম। আজকেও আমি একজন ভোটারের কাছে, যাকে ফোন করে কোনোভাবেই ধরতে পারিনি। সেই গোপালগঞ্জের ভোটার। গোপালগঞ্জে আমি ভোরবেলা গিয়েছি, তার বাসায় গিয়ে যে, তাকে ধরেছি ভোট দিতে। সেও সেখানে ভয় পায় যে, ‘আমি আপনাকে কিভাবে ভোটটা দিব? আমার ভোটটা তো মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যেভাবে বলবে, আমি সেভাবে ভোট দিব।’
তো নির্বাচন কোথায় আছে? যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ক্রিকেট বোর্ডের আমিনুল ফাহিম সাহেবেরা প্লাস নির্বাচন কমিশন— বিনে সুঁতোর মালায় মালা গেঁথে ফেলেছেন। যে মালা আমার গলায় উঁশেনকালেও পরবে না। সুতরাং আমার আমি আজকে আপনাদের মাধ্যমে এই অস্বচ্ছ একটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। তবে ক্রিকেট থেকে নয়, স্পোর্টস থেকে নয়। আমি একজন ক্রীড়া সংগঠক। আমি আপাদমস্তক একজন ক্রীড়া সংগঠক। আমি গর্ব করে বলতে পারি, দুঃসময়ও আমি ক্রিয়ঙ্গলের পাশে থেকেছি, আছি, ভবিষ্যতে থাকব। এটা আমার নেশা, এটা আমার ধ্যানজ্ঞান। এটুকুই আপনাদের কাছে আমার বক্তব্য। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, এখন বলতে পারেন।
কথা বলেছেন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে। দিয়েছেন তাদের প্রশ্নের জবাব। পাঠকদের সুবিধার্থে সেটিও তুলে ধরা হলও...
প্রশ্ন: সবাই সরে গেলেন, এই যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেটা ইলেক্টেড হচ্ছে, এই ইলেকশন বোর্ডের, মানে ইলেক্টেড বোর্ডের সঙ্গে আপনারা কি ভবিষ্যতে কাজ করতে পারবেন? বা আপনাদেরকে জেলা থেকেও সরিয়ে দেবে কিনা— সেই বিষয়ে?
আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা তো তাদের পরিকল্পনা, এই বলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলে ফেললেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় মনে হয় না নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে উনারা জেলার কাউকে চিনবেন। জেলার কোনো কাউন্সিলর আমার মনে হয় না ওই গেট পার হতে পারবে। এটা আমি বলতে পারি। জেলার পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন, আমি জানি না। কারণ আমি যতটুকু জানি, এই বিগত ৫ তারিখের পর আসিফ মাহমুদ ভুঁইয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর যেভাবে অ্যাডহক কমিটি সারা দেশে সাজিয়েছেন— খুঁজলে দেখবেন, জেলা প্রশাসকও, বিভাগীয় কমিশনারগুলো এই অ্যাডহক কমিটি নিয়েও বিরক্ত। তারাও চাচ্ছে না এই অ্যাডহক কমিটি দিয়ে স্পোর্টস রান করবার। স্পোর্টস বাংলাদেশে অলরেডি মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে জেলা-বিভাগের স্পোর্টস। সুতরাং এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে, আশা শুধুমাত্র ক্রিকেট দিয়ে যে বাংলাদেশকে বের করে নিয়ে আসবেন— উনারা তো পারবেনই না। আর উনাদেরকে কোনো জেলাও রিসিভও করবে না। উনারা জেলায়, আমি যদি একটা জেলার জন্য কাজ না করি, আমি হুট করে গিয়ে জেলায় হ্যান্ড করব, তেন করব, জেলা সেটা সেভাবে মেনে নেবে না। আমার মনে হয় না। ক্রিকেট দেখা যাক ভবিষ্যত কী হয়। তারপরও আপনারা জানেন, প্রত্যেকটা, যেটা আমি বলতে চাই না, বিগত সময়েও ঘটছে। যতই আমরা বলি, স্পোর্টস রাজনীতির বাইরে। আসলে কি তাই? অতীতে যে কোনো সময় কি আপনারা দেখেছেন কোনো রাজনৈতিক সরকার এসে তাদের লোক ছাড়া স্পোর্টস পরিচালনা করছে? সেরকম, আগামীতে যে নির্বাচন হবে, খুব বেশি না, খুব খুব কাছেই নির্বাচন। সেই নির্বাচন যে দল আসবে, সেই দল যে তার মত করে ক্রিকেট বোর্ড সাজাবে না, তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে? এই গ্যারান্টি উনারা দিতে পারবেন না, আমরা দিতে পারব না।
সাংবাদিক: ভাই, আপনার যেটা বললেন, সেটা হলো যে, ওনারা তো গঠনতন্ত্র চেঞ্জ করে ফেলবে। কারণ কাউন্সিলর উনাদের, সবকিছুই উনাদের। তারপর আগামী চার বছর তো আপনারা এখানে আসতেই পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনারা কি এইভাবে, বলেন।
আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: পাপন সাহেব বিদায় নিয়েছেন, বলতে চাই না। উনার বিদায়টা পলাতক অবস্থার মধ্য দিয়ে হয়েছে। কিন্তু উনি সফল। উনি এমন একটা গঠনতন্ত্র লিখে গেছেন এই ক্রিকেট বোর্ডে, যেটা দিয়ে, যে গঠনতন্ত্র দিয়ে যে কোনো সরকার, যে কোনো ক্ষমতাসীন দল এবং রাষ্ট্র যা খুশি তাই করতে পারবে। আমরা এই গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন চাই। এমন একটা গঠনতন্ত্র চাই, যাতে করে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠকেরা তাদের মতামত বাস্তবায়ন করতে পারে, তারা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে, তারা ক্রিকেট বোর্ডে আসতে পারে। তৃণমূল পর্যায়ের যে ১০ জন পরিচালকের মধ্যে ঢাকা থেকে সবাই হবেন, হঠাৎ করে রাজ-নৈতিকের ছেলে হবেন, হঠাৎ করে অমুক হবেন, তমুক হবেন— এগুলো আমরা আশা করি না। আমরা চাই, যে জেলায় যারা কাজ করবে, তাদের মধ্য থেকেই আমরা যেটা বলেছিলাম, ২০১২ সালে আমি গঠনতন্ত্র কমিটির সদস্য ছিলাম। আমি বলেছিলাম, জেলার কাউন্সিলর হবে কমপক্ষে তাকে ওই জেলার সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে হবে এবং তাকে ওই জেলার কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক অথবা সাধারণ সদস্য মনোনয়ন দিবেন। যেটা ছিল সবচাইতে বাস্তবসম্মত, যেখানে কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। সেটাকে এই পাপন সাহেবরা বিগত সময়ে এই গঠনতন্ত্রটাকে ইচ্ছামত পরিবর্তন করে এই আজকের যে এই সংকট, এই সংকটের জন্য সুন্দর একটা জায়গা রেখে গেছেন। উনারা কিন্তু সফল সেদিক থেকে। আমি বলব। আরেকটা বিষয় আমি বলি। আজকে ১৩টি ক্লাব বা ১৫টি ক্লাব কোর্টের মাধ্যমে কাউন্সিলরশিপ ফিরে পেয়েছে। আমি একটু পিছনে যেতে চাই। বিগত ৯ বছর আমি ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। জাতীয় লিগে প্রত্যেকটি বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা খেলে। বিগত ৯ বছর আমি ৯০ বার ক্রিকেট বোর্ডে ধরনা দিয়েছি। ময়মনসিংহ বিভাগকে জাতীয় লিগে খেলতে দেওয়া হয় নাই। পাশাপাশি বিভাগের কাউন্সিলরশিপ তো দূরের কথা, বিভাগের কোনো কার্যক্রমে এই ক্রিকেট বোর্ড আমাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে নাই। সেই ক্ষেত্রে ১৫টি ক্লাব ঠিকই কাউন্সিলরশিপ পেয়েছে সেই সময়। তাহলে তাদের এই ক্রিকেটকে নষ্ট করার যে মূল অস্ত্র যেটা— গঠনতন্ত্র, সেটাকেই তো তারা নষ্ট করে গেছে।
সাংবাদিক: ভাই, তাহলে আপনি কি ভাবছেন যে এরকম একটা নির্বাচন... যে আইওয়াসটা সামনে আসছে।
আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা আজকে যারা বক্তৃতা দিলাম, আমি একটু শুনছি, তা আমি অমুক করব, তমুক করব, আমি জেলা বিভাগে খেয়াল রাখব, আমি জেলা বিভাগের সংগঠকদের জন্য ভাবব— এটা আইওয়াশ। অতীতে আমরা দেখি নাই। আমি আমি ৪২ বছর যাবত ক্রিয়ঙ্গনে আছি, শুধু ক্রিকেটের নির্বাচন না। ফুটবলের নির্বাচন, অন্য সংগঠনের নির্বাচনও আমি সম্পৃক্ত থাকি, যেহেতু জেলার স্পোর্টস নিয়ে আমি কাজ করি। সেই ক্ষেত্রে আমি যা দেখেছি, যখনই কোনো ফেডারেশনে নির্বাচন হয়, তখন ওই জেলার জেলার কাউন্সিলরদের জামাই-আদর, খুবই যত্ন সহকারে ওই নির্বাচন চলাকালীন সময় ঢাকার সংগঠকেরা তাদেরকে গ্রহণ করে। যেই নির্বাচন শেষ, আর ফোন পর্যন্তও ধরে না।
সাংবাদিক: তাহলে বোঝাতে পারেন...
আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: জি, কোনটা?
সাংবাদিক: এটা নির্বাচন... মানে আগেই হয়ে গেছে, জাস্ট আইওয়াস করতে পারে, ৬ তারিখে?
আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা আজকের পত্রিকাই প্রমাণ। ডেকে দেখবেন যে, ৩৫ জন কাউন্সিলরকে একটা কম্পিউটার এবং একটা স্ক্যানার মেশিন দিয়ে, দুইজন দুইজন করে ডেকে ভোট নিয়ে নিয়েছেন। যেটা আজকের আমারদেশ পত্রিকায় দেখেন। এটা তো পোস্টাল ভোটের সিস্টেম না। আপনি পোস্টাল ভোট দিবেন, আপনি নিজের মেইল থেকে। আপনি নিজে একা দিবেন। সেখানে কেউ থাকবে না। বা নির্বাচন কমিশন যদি পোস্টাল ব্যালট আপনাকে এলাও-ই করে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমাকে জানাবে, উনি পোস্টালে ভোট দিবেন। তাহলে আমি এজেন্ট চাইব যে, উনি কিভাবে ভোট দিবেন, এটা আমাকে জানতে হবে। এটা কিন্তু তারা করেনি। আজকে আমারদেশ পত্রিকার রিপোর্ট মিলাইয়া দেখেন, শেরাটন হোটেলের যারা অবস্থান করছে, তাদের মিলাইয়া দেখেন— একটা জায়গায় বসে থেকে ৩৫ জনকে ডেকে ডেকে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
সাংবাদিক: ভাই, আপনার সঙ্গে এটা রাতে হয়েছে। মানে রাতে...
আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: রাতে, রাতে। রাতে। গত রাতে বা তার আগের রাতে। আমরা...
সাংবাদিক: রাতে জাতি...
আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: রাতের ভোট তো, তো মত ওরা ব্যালট বাক্স ভরছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা ব্যালট বাক্সেরও হার মানাই ফেলছে। হার মানাই ফেলছে। এবং এই অবস্থায় ক্রিকেটের স্বার্থে, আমার সর্বশেষ কথা, এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। এইসব থাকুক, আমরা চাই না। সকলকে নিয়ে এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন হোক। সেখানে যেই নির্বাচিত হবে, তাকেই স্যালুট দিব। ধন্যবাদ।
সাংবাদিক: নেক্সট টাইম।
আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: নেক্সট টাইম।
নিলয়/