ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত
Nagad desktop

সরে দাঁড়িয়ে যা বললেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৯ পিএম
সরে দাঁড়িয়ে যা বললেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান
ছবি : সংগৃহীত

বিসিবির নির্বাচনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ঢাকা বিভাগ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান। তিনি জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হয়েছিলেন। নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ এনে তিনি নিজের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। অথচ তিনি প্রাথীতা ফিরে পেয়েছিলেন আপিল করে। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তিনি দাঁড়ালেও ব্যালট পেপারে তার নাম থেকে যাবে। তিনি সরে যাওয়াতে ঢাকা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। নির্বাচন থকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। তার বলা কথার উল্লেখযোগ্য অংশ খবরের কাগজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আপনারা জানেন, আগামীকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে বিগত সময়ে যা যা ঘটেছে, যত কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, যাই কিছুই ঘটুক, এগুলোর বিষয়ে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে চেম্বার জজের বিচারাধীন ছিল। রিট হয়েছিল, রিটগুলো বিচারাধীন ছিল। রায় আপনারা অবগত আছেন। আমি একজন প্রার্থী হিসেবে আমি বলতে চাই, আমি ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা এবং জেলা ক্রিকেট সংস্থা সমূহ থেকে আমি প্রার্থী ছিলাম। আপনারা জানেন, আমার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছিল। সেটিও আমি অনেক কষ্ট করে পুনর্বহাল করেছি। 

আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন আমি চাই, যে নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারি। কিন্তু আপনারা সবকিছুই দেখছেন, জানছেন। আপনাদের মাধ্যমেই আজকে আমারদেশ পত্রিকায় রিপোর্টটাও পড়তে পারেন। ওখানে হেডলাইন এসেছে, বিসিবির নির্বাচন সুসম্পন্ন। নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। আমি নির্বাচনী শিডিউল অনুযায়ী ১ তারিখে ই-ব্যালট, পোস্টাল ব্যালট দেওয়ার কথা ছিল। আমি নির্বাচন কমিশনের সাথে বহুবার দেখা করতে চেয়েছি, আমার সাথে দেখা করেনি। আমি দরখাস্তও দিয়ে দিতে চেয়েছিলাম যে, ই-ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট শুধু তাদেরকেই দিবেন যারা দেশের বাইরে অথবা হাসপাতালে রোগী হিসেবে আছেন। যারা সুস্থ, যারা ঘুরেফিরে খাচ্ছেন, যারা কাউন্সিলর হয়েছেন, যারা হোটেলে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন, তারা কেন ই-ব্যালটে ভোট দিবেন? ভোটটা কী? ভোট হলো একটি বন্ধন প্রক্রিয়া। 

সকল কাউন্সিলর এক জায়গায় আমরা আসবো, আমরা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করব। আপনার জেলার কী সমস্যা, আমার জেলার কী সমস্যা— মতবিনিময় করব, আমরা জানতে পারব। বছরে একটা দিন, সবসময় তো হয় না। সুন্দরভাবে ভোট দিব। যারা জিতবে, তাদের অভিনন্দন জানাব। যারা হারবে, তাদেরকে সমবেদনা জানাব। এই তো ভোট। কিন্তু ভোট কি এই হচ্ছে? আমি এখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজন প্রার্থী সম্পর্কে বলতে চাই। তারা একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটের লিজেন্ড। আমি লিজেন্ড হিসেবে উনাকে শ্রদ্ধা করি। এবং সারা বিশ্বে উনার খ্যাতি রয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেব। উনার উচিত হয়নি এই ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা থেকে প্রার্থী হওয়া। উনি কোনোদিনই ঢাকা বিভাগের কোনো জেলারই কোনো সদস্য ছিলেন না। কোনো জেলারই কোনো ক্রিকেট নিয়ে উনি কাজ করেননি। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি, আপনারা যদি দেখাতে পারেন— কোনো জেলার একটা ক্রিকেট নিয়ে উনি একদিন ঢাকা বিভাগের মতবিনিময় করে অতীতেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, যা বলবেন তাই মেনে নিব। 

আজকে দেখলাম উনি অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। এই ভালো কথাগুলি আগে বলা উচিত ছিল। আমরা এই ভালো প্রক্রিয়ায় সারাটা জীবন নিজেকে ব্যয় করে দিয়েছি আমার জেলায়, পার্শ্ববর্তী জেলা বা অন্য জায়গায়। খুঁজলে দেখবেন, সত্য না মিথ্যা। আমরা বলতে পারি না। উনি আরো দেখেন, যে অ্যাডহক কমিটির বাধ্যবাধকতা করেছে, সে অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন কবে? 

উনি যদি অ্যাডহক কমিটির সাথে কাজই করতে চাইতেন, মেম্বার উনি আগেই হতে পারতেন, ৫ তারিখের পরেই হতে পারতেন যে, ‘আমাকে ঢাকা বিভাগের অ্যাডহক কমিটির মেম্বার করা হোক, আমি ঢাকা বিভাগ নিয়ে কাজ করব।’ চাননি। মেম্বার হয়েছেন নির্বাচন শুরু হলে। একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন এবং কাউন্সিলর হয়েছেন। এবং উনি চিঠি দিয়ে সকল জেলায় অ্যাডহক কমিটির বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করেছেন। একই প্রকার নাজমুল আবেদিন ফাহিম। উনি গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। তখন আমি ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলাম। আমি সেই প্রসঙ্গে যাইতে চাই না। উনার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হওয়ার দেখেন— ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় উনি কবে, কোন সময়, কোন উপজেলায়, ঢাকার কোন বিট নিয়ে কোন সময় মেম্বার ছিলেন, কোন খেলা পরিচালনা করছেন— আমি একটু জানতে চাই। উনিও একই প্রক্রিয়ায় ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন। তাহলে অত্যন্ত সুকৌশলে সারা দেশের যোগ্য ক্রীড়া সংগঠকদের যারা যার যার জেলার ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকে, তাদেরকে বিদায় করে কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদেরকে ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর বানিয়েছেন। গেল? তারপর আমি বলব, ঢাকা বিভাগীয় কিছু কাউন্সিলর, আমি নাম ধরে বলতে পারি। রাজবাড়ী জেলার কাউন্সিলর, ফরিদপুর জেলার কাউন্সিলর, গোপালগঞ্জ জেলার কাউন্সিলর, গাজীপুর জেলার কাউন্সিলর— এরা বিগত কয়েকদিন যাবত হোটেল শেরাটনে অবস্থান করছেন। তাদের কি এতই পয়সা আছে? নিজের পয়সায় তারা হোটেল শেরাটনে অবস্থান করে ভোট পরিচালনা করছেন? এর নাম নির্বাচন? আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাহেবকে আমি এই নির্বাচন, উনি তো একজন ভোটার, আমি উনার কাছে ভোট চাইতে পারি। একটা দিন আমার ফোন রিসিভ করেননি উনি। একদিনও না। বা পালটা কোনো মেসেজও পাঠাননি যে, ‘আমি পরে আপনাকে ব্যাক করতেছি।’ করেননি। এটা তাহলে কিসের ভোট? আমি যদি একজন ভোটারের কাছে ভোটই চাইতে না পারি, কিসের ভোট? আমি চারজন কাউন্সিলরের ফোন নাম্বার এখন পর্যন্ত পাইনি। বিসিবি আমাকে দেয়নি। চারজন কাউন্সিলরের। তাহলে ভোট কি? তাহলে আমি কিভাবে ভোট করব? ভোটটা তো স্বচ্ছ না। 

আমি প্রমাণগুলি দিচ্ছি, আপনি প্রমাণ নেন। তারপরে আমি ই-ব্যালটের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে ১ তারিখে বললাম যে, ‘আপনারা আজকে ৪টা পর্যন্ত ই-ব্যালটের তথ্য দেওয়ার কথা আমি একজন প্রার্থী। আমাকে তথ্য দিন।’ আমি লিখিতভাবে জানাতে চাইলাম। অফিস বন্ধ। কিচ্ছু নাই। তারা কোথায় বসে? কোনো ঠিকানা নাই। নির্বাচন-এর কাজ থাকবে, নির্বাচন যতদিন চলমান থাকবে, নির্বাচন কমিশন অফিস সবসময় এখানে খোলা থাকবে। আমাদের নানান বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি। উনারা আসেননি। বহুবার ফোন করেছি, আমি ফোনের প্রমাণ দেখাইতে পারি। ফোন রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে আমি সিইওর সাথে কথা বললাম। সিইওকে বলার পর সিইও তাদের সাথে কথা বললো। তারা আমাকে তথ্য দিল ৪ তারিখে যে, ৬৩ জন ই-ব্যালট নিয়েছে। আমি বললাম, ‘আমার ৬৩ জন তো জানার দরকার নাই। আমার দরকার আমার বিভাগে কতজন নিয়েছে, কে কে নিয়েছে।’ ‘এই তথ্য তো আমি পেতে পারি।’ 

বলে, ‘এই তথ্য তো আমরা দিতে বাধ্য নই।’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই বাধ্য।’ তাহলে, ‘বলেন আমাকে, আমি নির্বাচন থেকে সরে যাই।’ ফোন রেখে দিল। ফোন আর ধরলেন না। পরবর্তীতে সিইওর মাধ্যমে জানতে পারি, ঢাকা বিভাগ থেকে ৭ জন ই-ব্যালট নিয়েছেন। আজকে পত্রিকার মাধ্যমে, আজকেও পর্যন্ত আমি নির্বাচনে ছিলাম। আজকেও আমি একজন ভোটারের কাছে, যাকে ফোন করে কোনোভাবেই ধরতে পারিনি। সেই গোপালগঞ্জের ভোটার। গোপালগঞ্জে আমি ভোরবেলা গিয়েছি, তার বাসায় গিয়ে যে, তাকে ধরেছি ভোট দিতে। সেও সেখানে ভয় পায় যে, ‘আমি আপনাকে কিভাবে ভোটটা দিব? আমার ভোটটা তো মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যেভাবে বলবে, আমি সেভাবে ভোট দিব।’

তো নির্বাচন কোথায় আছে? যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ক্রিকেট বোর্ডের আমিনুল ফাহিম সাহেবেরা প্লাস নির্বাচন কমিশন— বিনে সুঁতোর মালায় মালা গেঁথে ফেলেছেন। যে মালা আমার গলায় উঁশেনকালেও পরবে না। সুতরাং আমার আমি আজকে আপনাদের মাধ্যমে এই অস্বচ্ছ একটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। তবে ক্রিকেট থেকে নয়, স্পোর্টস থেকে নয়। আমি একজন ক্রীড়া সংগঠক। আমি আপাদমস্তক একজন ক্রীড়া সংগঠক। আমি গর্ব করে বলতে পারি, দুঃসময়ও আমি ক্রিয়ঙ্গলের পাশে থেকেছি, আছি, ভবিষ্যতে থাকব। এটা আমার নেশা, এটা আমার ধ্যানজ্ঞান। এটুকুই আপনাদের কাছে আমার বক্তব্য। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, এখন বলতে পারেন।

কথা বলেছেন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে। দিয়েছেন তাদের প্রশ্নের জবাব। পাঠকদের সুবিধার্থে সেটিও তুলে ধরা হলও...

প্রশ্ন: সবাই সরে গেলেন, এই যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেটা ইলেক্টেড হচ্ছে, এই ইলেকশন বোর্ডের, মানে ইলেক্টেড বোর্ডের সঙ্গে আপনারা কি ভবিষ্যতে কাজ করতে পারবেন? বা আপনাদেরকে জেলা থেকেও সরিয়ে দেবে কিনা— সেই বিষয়ে?

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা তো তাদের পরিকল্পনা, এই বলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলে ফেললেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় মনে হয় না নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে উনারা জেলার কাউকে চিনবেন। জেলার কোনো কাউন্সিলর আমার মনে হয় না ওই গেট পার হতে পারবে। এটা আমি বলতে পারি। জেলার পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন, আমি জানি না। কারণ আমি যতটুকু জানি, এই বিগত ৫ তারিখের পর আসিফ মাহমুদ ভুঁইয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর যেভাবে অ্যাডহক কমিটি সারা দেশে সাজিয়েছেন— খুঁজলে দেখবেন, জেলা প্রশাসকও, বিভাগীয় কমিশনারগুলো এই অ্যাডহক কমিটি নিয়েও বিরক্ত। তারাও চাচ্ছে না এই অ্যাডহক কমিটি দিয়ে স্পোর্টস রান করবার। স্পোর্টস বাংলাদেশে অলরেডি মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে জেলা-বিভাগের স্পোর্টস। সুতরাং এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে, আশা শুধুমাত্র ক্রিকেট দিয়ে যে বাংলাদেশকে বের করে নিয়ে আসবেন— উনারা তো পারবেনই না। আর উনাদেরকে কোনো জেলাও রিসিভও করবে না। উনারা জেলায়, আমি যদি একটা জেলার জন্য কাজ না করি, আমি হুট করে গিয়ে জেলায় হ্যান্ড করব, তেন করব, জেলা সেটা সেভাবে মেনে নেবে না। আমার মনে হয় না। ক্রিকেট দেখা যাক ভবিষ্যত কী হয়। তারপরও আপনারা জানেন, প্রত্যেকটা, যেটা আমি বলতে চাই না, বিগত সময়েও ঘটছে। যতই আমরা বলি, স্পোর্টস রাজনীতির বাইরে। আসলে কি তাই? অতীতে যে কোনো সময় কি আপনারা দেখেছেন কোনো রাজনৈতিক সরকার এসে তাদের লোক ছাড়া স্পোর্টস পরিচালনা করছে? সেরকম, আগামীতে যে নির্বাচন হবে, খুব বেশি না, খুব খুব কাছেই নির্বাচন। সেই নির্বাচন যে দল আসবে, সেই দল যে তার মত করে ক্রিকেট বোর্ড সাজাবে না, তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে? এই গ্যারান্টি উনারা দিতে পারবেন না, আমরা দিতে পারব না।

সাংবাদিক: ভাই, আপনার যেটা বললেন, সেটা হলো যে, ওনারা তো গঠনতন্ত্র চেঞ্জ করে ফেলবে। কারণ কাউন্সিলর উনাদের, সবকিছুই উনাদের। তারপর আগামী চার বছর তো আপনারা এখানে আসতেই পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনারা কি এইভাবে, বলেন।

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: পাপন সাহেব বিদায় নিয়েছেন, বলতে চাই না। উনার বিদায়টা পলাতক অবস্থার মধ্য দিয়ে হয়েছে। কিন্তু উনি সফল। উনি এমন একটা গঠনতন্ত্র লিখে গেছেন এই ক্রিকেট বোর্ডে, যেটা দিয়ে, যে গঠনতন্ত্র দিয়ে যে কোনো সরকার, যে কোনো ক্ষমতাসীন দল এবং রাষ্ট্র যা খুশি তাই করতে পারবে। আমরা এই গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন চাই। এমন একটা গঠনতন্ত্র চাই, যাতে করে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠকেরা তাদের মতামত বাস্তবায়ন করতে পারে, তারা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে, তারা ক্রিকেট বোর্ডে আসতে পারে। তৃণমূল পর্যায়ের যে ১০ জন পরিচালকের মধ্যে ঢাকা থেকে সবাই হবেন, হঠাৎ করে রাজ-নৈতিকের ছেলে হবেন, হঠাৎ করে অমুক হবেন, তমুক হবেন— এগুলো আমরা আশা করি না। আমরা চাই, যে জেলায় যারা কাজ করবে, তাদের মধ্য থেকেই আমরা যেটা বলেছিলাম, ২০১২ সালে আমি গঠনতন্ত্র কমিটির সদস্য ছিলাম। আমি বলেছিলাম, জেলার কাউন্সিলর হবে কমপক্ষে তাকে ওই জেলার সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে হবে এবং তাকে ওই জেলার কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক অথবা সাধারণ সদস্য মনোনয়ন দিবেন। যেটা ছিল সবচাইতে বাস্তবসম্মত, যেখানে কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। সেটাকে এই পাপন সাহেবরা বিগত সময়ে এই গঠনতন্ত্রটাকে ইচ্ছামত পরিবর্তন করে এই আজকের যে এই সংকট, এই সংকটের জন্য সুন্দর একটা জায়গা রেখে গেছেন। উনারা কিন্তু সফল সেদিক থেকে। আমি বলব। আরেকটা বিষয় আমি বলি। আজকে ১৩টি ক্লাব বা ১৫টি ক্লাব কোর্টের মাধ্যমে কাউন্সিলরশিপ ফিরে পেয়েছে। আমি একটু পিছনে যেতে চাই। বিগত ৯ বছর আমি ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। জাতীয় লিগে প্রত্যেকটি বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা খেলে। বিগত ৯ বছর আমি ৯০ বার ক্রিকেট বোর্ডে ধরনা দিয়েছি। ময়মনসিংহ বিভাগকে জাতীয় লিগে খেলতে দেওয়া হয় নাই। পাশাপাশি বিভাগের কাউন্সিলরশিপ তো দূরের কথা, বিভাগের কোনো কার্যক্রমে এই ক্রিকেট বোর্ড আমাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে নাই। সেই ক্ষেত্রে ১৫টি ক্লাব ঠিকই কাউন্সিলরশিপ পেয়েছে সেই সময়। তাহলে তাদের এই ক্রিকেটকে নষ্ট করার যে মূল অস্ত্র যেটা— গঠনতন্ত্র, সেটাকেই তো তারা নষ্ট করে গেছে।

সাংবাদিক: ভাই, তাহলে আপনি কি ভাবছেন যে এরকম একটা নির্বাচন... যে আইওয়াসটা সামনে আসছে।

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা আজকে যারা বক্তৃতা দিলাম, আমি একটু শুনছি, তা আমি অমুক করব, তমুক করব, আমি জেলা বিভাগে খেয়াল রাখব, আমি জেলা বিভাগের সংগঠকদের জন্য ভাবব— এটা আইওয়াশ। অতীতে আমরা দেখি নাই। আমি আমি ৪২ বছর যাবত ক্রিয়ঙ্গনে আছি, শুধু ক্রিকেটের নির্বাচন না। ফুটবলের নির্বাচন, অন্য সংগঠনের নির্বাচনও আমি সম্পৃক্ত থাকি, যেহেতু জেলার স্পোর্টস নিয়ে আমি কাজ করি। সেই ক্ষেত্রে আমি যা দেখেছি, যখনই কোনো ফেডারেশনে নির্বাচন হয়, তখন ওই জেলার জেলার কাউন্সিলরদের জামাই-আদর, খুবই যত্ন সহকারে ওই নির্বাচন চলাকালীন সময় ঢাকার সংগঠকেরা তাদেরকে গ্রহণ করে। যেই নির্বাচন শেষ, আর ফোন পর্যন্তও ধরে না।

সাংবাদিক: তাহলে বোঝাতে পারেন...

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: জি, কোনটা?

সাংবাদিক: এটা নির্বাচন... মানে আগেই হয়ে গেছে, জাস্ট আইওয়াস করতে পারে, ৬ তারিখে?

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: এটা আজকের পত্রিকাই প্রমাণ। ডেকে দেখবেন যে, ৩৫ জন কাউন্সিলরকে একটা কম্পিউটার এবং একটা স্ক্যানার মেশিন দিয়ে, দুইজন দুইজন করে ডেকে ভোট নিয়ে নিয়েছেন। যেটা আজকের আমারদেশ পত্রিকায় দেখেন। এটা তো পোস্টাল ভোটের সিস্টেম না। আপনি পোস্টাল ভোট দিবেন, আপনি নিজের মেইল থেকে। আপনি নিজে একা দিবেন। সেখানে কেউ থাকবে না। বা নির্বাচন কমিশন যদি পোস্টাল ব্যালট আপনাকে এলাও-ই করে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমাকে জানাবে, উনি পোস্টালে ভোট দিবেন। তাহলে আমি এজেন্ট চাইব যে, উনি কিভাবে ভোট দিবেন, এটা আমাকে জানতে হবে। এটা কিন্তু তারা করেনি। আজকে আমারদেশ পত্রিকার রিপোর্ট মিলাইয়া দেখেন, শেরাটন হোটেলের যারা অবস্থান করছে, তাদের মিলাইয়া দেখেন— একটা জায়গায় বসে থেকে ৩৫ জনকে ডেকে ডেকে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

সাংবাদিক: ভাই, আপনার সঙ্গে এটা রাতে হয়েছে। মানে রাতে...

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: রাতে, রাতে। রাতে। গত রাতে বা তার আগের রাতে। আমরা...

সাংবাদিক: রাতে জাতি...

আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: রাতের ভোট তো, তো মত ওরা ব্যালট বাক্স ভরছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা ব্যালট বাক্সেরও হার মানাই ফেলছে। হার মানাই ফেলছে। এবং এই অবস্থায় ক্রিকেটের স্বার্থে, আমার সর্বশেষ কথা, এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। এইসব থাকুক, আমরা চাই না। সকলকে নিয়ে এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন হোক। সেখানে যেই নির্বাচিত হবে, তাকেই স্যালুট দিব। ধন্যবাদ।

সাংবাদিক: নেক্সট টাইম।

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান: নেক্সট টাইম।

নিলয়/

দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয়

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয়
ছবি: সংগৃহীত

জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিরিজের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ১৩ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজ মেয়েরা। বাংলাদেশের পক্ষে মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির কীর্তি গড়েছেন দিলারা আক্তার।

এডিনবরায় বৃষ্টির কারণে ৮ ওভারে নেমে এসেছিল ম্যাচটি। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের পক্ষে ২ ছক্কা ও ৮ চারে ২৬ বলে ৫১ রান করেন দিলারা। ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি ২২ বলে। 

দিলারার বিধ্বংসী ইনিংসে ৮ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮ রানের পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৫ উইকেটে ৮৫ রানে আটকে যায় নেদারল্যান্ডসের মেয়েরা। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা হন দিলারা।

সালমান/

মেসির সামনে একগুচ্ছ রেকর্ড ভাঙার হাতছানি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
মেসির সামনে একগুচ্ছ রেকর্ড ভাঙার হাতছানি
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

আরও একবার বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু আঁকার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে পাড়ি জমিয়েছেন লিওনেল মেসি। এই শহরেই ১৬ জুন এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলটির অধিনায়ক ও সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির সামনে এবার একগুচ্ছ রেকর্ড ভাঙার হাতছানিও থাকছে।

এবারের বিশ্বকাপে কমপক্ষে পাঁচটি রেকর্ড ভেঙে সেখানে নিজের নাম খোদাই করতে পারেন মেসি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক রেকর্ডগুলো-

সর্বাধিক ম্যাচ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইতোমধ্যেই নিজের দখলে নিয়েছেন মেসি। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সাল মিলিয়ে ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড। এবার নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে সেই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নিতে পারবেন তিনি। এ রেকর্ডে তিনি চলে যেতে পারেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সর্বাধিক গোল
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজের। ১৬টি গোল করেছেন তিনি। মেসি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে গোল করেছেন ১৩টি। আর চারটি গোল করলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হবেন তিনি।

পাঁচ বিশ্বকাপে গোল
২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। শুধু ২০১০ বিশ্বকাপে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। এবার যদি গোল করেন, তাহলে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়বেন তিনি। এ কীর্তি আছে কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর।

সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট
বিশ্বকাপে সতীর্থদের দিয়ে আটটি গোল করিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ডটা এখন ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে যুগ্মভাবে মেসির দখলে রয়েছে। এ বিশ্বকাপে আর একটি গোল করালেই ম্যারাডোনাকে ছাপিয়ে যাবেন মেসি। আর দুটি গোল করালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টে তার নামে লেখা থাকবে।

অধিনায়ক হিসেবে কীর্তি
এখনও পর্যন্ত অধিনায়ক হিসাবে জোড়া বিশ্বকাপ কেউ জিততে পারেননি। মেসি যদি এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন, তাহলে অধিনায়ক হিসেবে একমাত্র তিনিই দুটি বিশ্বকাপ হাতে তুলবেন। যদি এবার আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠে তাহলে তিনিই হবেন প্রথম অধিনায়ক, যিনি বিশ্বকাপে তিন বার দলকে ফাইনালে তুলবেন। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে তার নেতৃত্বেই ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা।

তোফায়েল/নাঈম

বিসিবির নির্বাচনে নতুন মুখ ৩ দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্বাচন করছেন পাপ্পু

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
৩ দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্বাচন করছেন পাপ্পু
সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিসিবির সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। উদ্যোগ নিলেন গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের। দায়িত্ব দেওয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোটায় বিসিবির পরিচালক হওয়া নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে। তিনি গঠনতন্ত্র কাটা-ছেঁড়া করতে গিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে হাত দিলেন। ক্লাব কোটার সংগঠকদের আধিপত্য কমাতে চান! যেখানে ১২ জন পরিচালক ছিলেন, সেখানে ৪ জন করার প্রস্তাব দেন! এতে করে ফুঁসে উঠেন ক্লাব সংগঠকরা। ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে তারা নামেন আন্দোলনে। হোটেল পূর্বাণীতে সংবাদ সম্মেলন করেন। ঘোষণা আসে প্রস্তাবিত খসড়া গঠনতন্ত্র বাতিল না করা হলে তারা ঢাকার লিগ বর্জন করবেন। এতে টনক নড়ে বিসিবির।

সভাপতি ফারুক আহমেদ প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র স্থাগিতসহ গঠনতন্ত্র কমিটিও স্থগিত করেন। এই আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন ক্লাব ক্রিকেটের অতি পরিচিত মুখ তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। ক্লাবের সংগঠকদের একত্রিত করা, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা, উপস্থাপন করা সবই তিনি করেন।

ক্লাব ক্রিকেটে যখনই কোনো দুর্যোগ আসে, সমস্যায় পড়ে, তখনই এগিয়ে আসেন সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিসিবির নির্বাচনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ন্যক্কারজনক হস্তক্ষেপের কারণে বিএনপির ঘরনার ক্রীড়া সংগঠকরা নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে মেনে নিতে পারেননি নির্বাচন বর্জনকারী সংগঠকরা। নামেন আন্দোলনে। এখানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। এবার ঘোষণা আসে বুলবুলের নেতৃত্বে তারা সিসিডিএমের কোনো লিগে অংশগ্রহণ করবেন না। ৭৬টি ক্লাবের মাঝে ৪৪টি ক্লাবই এক ছাতার নিচে দাঁড়ায়। যথারীতি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা, সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা, এসব কাজে তিনিই ভূমিকা রাখেন। বুলবুলের কমিটির বিরুদ্ধে তারা বেশ কয়েকটি সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সব সংবাদ সম্মেলনে বুলবুলের কমিটির বিভিন্ন অনিয়ম-অসংগতি তুলে ধরা হয়। যা বেকায়দায় ফেলে বুলবুলের কমিটিকে। বিএনপি সরকার গঠনের পর বুলবুলের কমিটি ভেঙে দিয়ে সরকার বিসিবিতে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেয়। ৩ মাস মেয়াদের অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন দিয়েছে ৭ জুন। সেই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পরিচালক পদে লড়াই করছেন পোড় খাওয়া ক্রীড়া সংগঠক সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু।

বিসিবিতে সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু প্রথমবার নির্বাচন করাটা অনেকের কাছে অবাক করার মতোই! কারণ তিনি ক্রিকেট পাড়ায় অতি পরিচিত মুখ। অনেকে যেখানে ক্রিকেটের সঙ্গে কোনো রকম পূর্ব সম্পৃক্ততা ছাড়াই সরাসরি বিসিবির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, সেখানে তিন দশকের বেশি সময় ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার পর নির্বাচন করছেন সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু। এখানেই ব্যতিক্রম তিনি। অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করে তবেই লড়ছেন বিসিবির নির্বাচনে। বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই তিনি দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে সংগঠক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়ে ৬ বছর পর তিনি ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বড় পদ পাওয়ার পর তার দায়িত্বও বেড়ে যায়। ক্লাবটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্রত হন। সেখানে সফলও হন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব প্রথম বিভাগ ও প্রিমিয়ার লিগে জায়গা করে নেয়। বর্তমানে তিনি তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ক্লাবেরই কাউন্সিলর হয়ে বিসিবিতে পরিচালক পদে নির্বাচন করছেন।

সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু ১৯৯২ সালে ক্লাব সংগঠক হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর ১৯৯৬ সালে বিসিবির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে দায়িত্ব পালন করেন সিকিউরিটি কমিটির সদস্য হিসেবে। এরপর দায়িত্ব পালন করেন গ্রাউন্ডস কমিটিতে। তার সাংগঠনিক বিচক্ষণতার কারণে ২০০২-০৩ সালে তাকে লজিস্টিক অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির প্রথমে সদস্যসচিব, পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ক্লাব সংগঠক হিসেবে তিনি ২০০৫ সালে প্রথম বিসিবির কাউন্সিলর হন।

পর্যায়ক্রমে ২০০৮, ২০১৩, ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও কাউন্সিলর মনোনীত হন। দীর্ঘ পথ যাত্রায় নিজের অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করে আরও ব্যাপকভাবে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য নির্বাচন করছেন পরিচালক পদে। নির্বাচিত হলে তিনি সার্বিকভাবে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান।

তিনি বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় থেকে আমি ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত। নিজের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবার আমি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই। সার্বিকভাবে দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে চাই। দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে জেলা পর্যায়ে লিগ নিয়মিত আয়োজনের বিকল্প নেই। এই লিগ যাতে নিয়মিত হয়, এ নিয়ে আমি বিশেষ গুরুত্ব দেব। দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য তৃণমূলের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতেই হবে।’

 সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু কাউন্সিলরদেরও যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে চান। তিনি বলেন, ‘বিসিবির কাউন্সিলর হওয়া খুবই গর্বের বিষয়। এই কাউন্সিলররা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্রিকেটের জন্য কাজ করে যান। আমি তাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের জন্যও কাজ করে যাব।

নভেম্বরে ঢাকায় পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
নভেম্বরে ঢাকায় পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
ছবি: সংগৃহীত

বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা- এ বছর ঢাকায় বসবে পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল। নভেম্বরে মর্যাদার এই আসর আয়োজন করবে বাংলাদেশ।

বুধবার (৩ জুন) ভারতের গোয়ায় চলমান নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনাল শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাটেল। সেখানেই তিনি প্রতিযোগিতাটি ঢাকায় হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন।

আগামী ৪ নভেম্বর টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে চলবে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। খেলা হতে পারে ঢাকার দুই ভেন্যু জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। আর এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ‘ভিএআর’ প্রযুক্তি ব্যবহারের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পুরুষোত্তম কাটেল।

সবশেষ ২০২৩ সালে ভারতে বসেছিল পুরুষ সাফের ১৪তস আসর। ফাইনালে অতিথি দল কুয়েতকে হারিয়ে রেকর্ড নবমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। বাংলাদেশ কুয়েতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেরেছিল।

তোফায়েল/সালমান/

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বাস্কেটবল কোর্ট পরিদর্শনে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বাস্কেটবল কোর্ট পরিদর্শনে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির আন্তর্জাতিক মানের চমৎকার উডেন (কাঠের) বাস্কেটবল কোর্ট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভেন্যুটি পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মেজর মোহাম্মদ আতিকুল হাফিজ (অব.) এবং বাংলাদেশ জাতীয় বাস্কেটবল দলের প্রধান কোচ ম্যাকক্যামন উইলিয়াম ফ্রেজার।

পরিদর্শনকালে অতিথিদের স্বাগত জানান বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর মোহাম্মদ মহসিনুল করিম।

তিনি জানান, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াতে এই আধুনিক কোর্টটিকে নিয়মিত প্র্যাকটিস সেশনের জন্য ব্যবহার করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের কোচ ও ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক।

কোর্টের আধুনিক অবকাঠামো এবং বিশেষ করে এর আন্তর্জাতিক মানের চমৎকার উডেন ফ্লোর দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন অতিথিরা। এই ভেন্যুটি দেশের বাস্কেটবলকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

ভবিষ্যতে এই বিশ্বমানের ভেন্যুতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাস্কেটবল ফেডারেশন কর্মকর্তরা। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি/এসএন