২৫ বছর- এই সময়কালে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠে। আর যাদের বয়স এখন ২৫ কিংবা তারও কম, কিন্তু হয়ে উঠেছে ফুটবলপ্রেমি তারা হয়তো কখনোই শুনি কভেন্ট্রি সিটির কথা। তবে শুনবে এখন থেকে, জানবে এবং দেখবে একটি শহর ও একটি ক্লাবের রূপকথার প্রত্যাবর্তন।
শুকবার রাতে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের মাঠে ১-১ কভেন্ট্রি ড্র দেখতে সাধারণ একটি ফলাফল। কিন্তু এই এক পয়েন্টই ইতিহাস লিখে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ববি থমাসের হেডে আসা সমতাসূচক গোল দুই যুগেরও বেশি সময়ের হতাশা ধুয়ে বইয়ে দেয় আনন্দের বন্যা। ইওউড পার্কে উপস্থিত হাজারও সমর্থক, আর দূরে বসে থাকা লক্ষ ভক্ত- সবাই একসঙ্গে উদযাপন করে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফেরার গৌরব।
১৯৬৭ সালে প্রমোশন পেয়ে টানা ৩৪ বছর ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে ছিল কভেন্ট্রি। কিন্তু ২০০০-০১ মৌসুমে অবনমন তাদের নামিয়ে দেয় এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে। এরপর শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও লড়াই করতে হয়েছে ক্লাবটিকে। আর্থিক সংকট, ২০১২ সালে তৃতীয় স্তরে অবনমন, এমনকি নিজস্ব স্টেডিয়াম ছেড়ে অন্য শহরে গিয়ে ম্যাচ খেলার মতো কঠিন বাস্তবতাও দেখেছে ক্লাবটি। ২০১৭ সালে চতুর্থ স্তরে নেমে যাওয়া ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। তখন অনেকেই ভেবেছিল এই ক্লাব হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই এখানেই- এখানে শেষ বলে কিছু নেই। ধীরে ধীরে নিজেদের পুনর্গঠন করে কভেন্ট্রি। ২০২২-২৩ মৌসুমে প্লে-অফ ফাইনালে পৌঁছানো, পরের মৌসুমে সেমিফাইনাল, সবই ছিল বড় মঞ্চে ফেরার ইঙ্গিত। এই পুনর্জাগরণের অন্যতম নায়ক ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। ২০২৪ নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দলটিকে শুধু কৌশলগতভাবেই নয়, মানসিকভাবেও বদলে দেন। সাবেক চেলসি কিংবদন্তির নেতৃত্বে দলটি বিশ্বাস করতে শেখে ‘তারাও পারবে’। ল্যাম্পার্ড নিজেও এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত। খেলোয়াড়ি জীবনে বহু শিরোপা জিতলেও, একজন কোচ হিসেবে এটি তার প্রথম প্রমোশন এবং সম্ভবত সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া অর্জন।
প্রিমিয়ার লিগে ওঠা মানে শুধু মর্যাদা নয়, বিশাল আর্থিক পরিবর্তনও। সম্প্রচার আয়সহ বিভিন্ন খাতে কয়েক মৌসুমে প্রায় ১২০ থেকে ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। একটি ক্লাব, যা একসময় টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করেছে, সেই কভেন্ট্রির উন্নত ভবিষ্যতের দরজা এখন উম্মুক্ত। চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৩ ম্যাচে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা কভেন্ট্রি শুধু একটি দল নয়, তারা অনুপ্রেরণার আরেক নাম। ল্যাম্পার্ডের কথায়, ‘থমাস যখন গোল করল, মুহূর্তটা ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা জানতাম আমরা খুব কাছাকাছি, কিন্তু ২৫ বছর পর লক্ষ্যটা অর্জন করা অসাধারণ! সমর্থকদের যা সহ্য করতে হয়েছে, এটা তাদের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি বড় ক্লাব। এই ছেলেরা অসাধারণ কিছু অর্জন করেছে। আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত এটি। আমি চেলসির হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছি, কিন্তু এটাও আমার জন্য সমান গর্বের।’
অনিক/